বরিশালে বাবুগঞ্জের আখের গুড়ের চাহিদা বাড়ছে রমজানে

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আখের গুড়ের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত রমজান মাসে। স্থানীয় আখচাষিরা বছরের পর বছর ধরে ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন করে আসছেন, যা স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে রমজান মাসে এই গুড়ের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা চাষিদের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের আখের গুড়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভেজালমুক্ত। চাষিরা ক্ষেত থেকেই আখ সংগ্রহ করে এবং তা মাড়াই করে রস সংগ্রহ করেন। এরপর মাটির চুলায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় এই গুড়। এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির কারণে গুড়ের স্বাদ এবং গুণমান থাকে অতুলনীয়।

এ সম্পর্কে চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালি গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি ৫০ বছর ধরে ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করছি। রমজান মাসে এ গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গত বছর প্রায় তিন লাখ টাকার গুড় বিক্রি করেছি, আর এবার প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে।”

আখচাষি সুলতান খা জানান, তাদের তৈরি গুড়ের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা রয়েছে কারণ এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত। তিনি আরও বলেন, “এই গুড় খাওয়ানো আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার, লাভের চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বড়।”

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, “আমরা আখচাষিদের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সহায়তা প্রদান করছি। কিছু চাষিকে ডিজেল ইঞ্জিনের মাড়াই মেশিনও দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন। আশা করছি, আগামী বছর এই অঞ্চলে আখ উৎপাদনে একটি বিপ্লব ঘটবে।”

মো: তুহিন হোসেন 
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৬ বাংলাদেশি

লিবিয়ায় আটকেপড়া ১৭৬ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, আগামী ১৯ ও ২৬ মার্চ আরও দুটি ফ্লাইটে তিন শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই ১৭৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএমের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন, আর ৭০ জন বিপদগ্রস্ত অবস্থায় স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিষেধাজ্ঞার ১২ দিনেও জেলেদের বাড়িতে পৌঁছায়নি সরকারি চাল

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের জন্য ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে, তবে ১২ দিন পার হলেও এখনও জেলেদের কাছে সরকারি বরাদ্দের চাল পৌঁছেনি। এর ফলে জেলেরা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন এবং কেউ কেউ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে ইলিশ ধরতে নামছেন।

সরেজমিনে ভোলা জেলার সদর উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া, ভেদুমিয়া ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুরসহ ইউনিয়নগুলোর মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে। শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর জেলে মো. জামাল মাঝি ও সুমন মাঝি জানান, “২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন হয়ে গেছে, এখনও আমরা সরকারিভাবে চাল পাইনি। কাজ-কাম নেই, সংসারে অনেক অভাব। রোজার মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে অনেক উপকার হতো।”

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মোশারেফ মাঝি ও ইলিশা ইউনিয়নের জাংশন এলাকার মেঘনা নদীর জেলে হানিফ মাঝি বলেন, “অভিযান চলাকালীন আমরা নদীতে নামি না, কিন্তু কাজকাম নেই। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আড়ৎদারদের থেকে টাকা ধার করে চাল কিনছি, কিন্তু যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে আরও ভালো হতো।”

এছাড়া, কিছু জেলে নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন যে, “নিষেধাজ্ঞার এই কয়েকদিন আমরা নদীতে নামিনি, কিন্তু ঘরের চাল কিনতে হতো, সংসার চালাতে হতো, এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছি।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন, “প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে ভোলার সাত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হবে।”

তিনি আরও জানান, “মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভোলা জেলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন জেলে থাকলেও ৮৯ হাজার ৬০০ জেলেকে ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হবে।”




বরিশালে সয়াবিন চাষ বাড়লেও তেল উৎপাদন কম

বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ শতাংশ বরিশালে আবাদ হয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে সয়াবিনের উৎপাদন ও ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। দেশের বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হলেও, তা মূলত হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বরিশালসহ সারাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ফলে দেশের মোট উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই বরিশাল অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১ লাখ টন ছুঁতে পারে এবং সমগ্র দেশে ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে, সয়াবিন চাষের মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। বরং ফিসফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানার ফড়িয়ারা মাঠ থেকেই সয়াবিন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ পোল্ট্রি ফিডের কারখানায় চলে যাচ্ছে এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ছে না।

সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। অন্যান্য শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ বেশি, যা অল্প খরচে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কৃষক আবদুল হাকিম জানান, “প্রতি বছর আমি কয়েক বিঘা জমিতে সয়াবিন চাষ করি, ফলন ভালো হয় কিন্তু লাভ ঠিকমতো হয় না। কারণ ফড়িয়ারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে সয়াবিন কিনে নেয়।” একইভাবে, হিজলা উপজেলার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সয়াবিন চাষে খরচ বাড়ছে, তবে দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। যদি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা ভালো দাম পেতাম।”

কৃষকরা আরো দাবি করেছেন যে, সরকার যদি উন্নত জাতের সয়াবিন বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করত, তাহলে তারা আরও বেশি সয়াবিন চাষ করতে পারতেন এবং লাভবান হতেন। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মরিয়ম বলেন, “সয়াবিন তেলবীজের যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশীয় ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামায়াত আমিরের সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি. খোজিন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “এটাই প্রথম যে, রাশিয়ান কোনো রাষ্ট্রদূত আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করলেন। আমাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং আছে, তবে অফিসিয়ালি এটি প্রথমবার রুশ রাষ্ট্রদূতের এখানে আসা।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

ডা. তাহের আরও বলেন, “বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থায়ন এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কী ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, এবং আমাদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বৈঠকে দুটি বিষয়ে একমত হওয়া হয়েছে: প্রথমত, বাংলাদেশে রাশিয়ার আর্থিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

বৈঠক থেকে একাত্তরের স্বাধীনতার যুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। যখন নির্বাচনের বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়, তাহের বলেন, “হ্যাঁ, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তিন দিন ধরে নিখোঁজ বরিশালের এডিসি

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলার আসামি। গত ৯ মার্চ দুপুর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ৯ মার্চ দুপুর ২টার দিকে বরিশালের শীতলাখোলা ট্রাফিক অফিস থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যান এডিসি রাশেদ। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলায় গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এডিসি রাশেদ ঢাকার রামপুরা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। পুলিশ অভিযোগ করেছে, ওই ঘটনায় তিনি কার্নিশে ঝুলতে থাকা এক আন্দোলনকারীকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে অফিসে আসেননি এডিসি রাশেদ। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাশেদ পালিয়ে গেছেন কিনা, তা নিশ্চিত নই। তবে গত তিন দিন তার কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “ঢাকার রামপুরা থানার মামলার ব্যাপারে আমরা রাশেদ নিখোঁজ হওয়ার পরেই জানতে পারি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তরমুজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

বরিশাল নগরীতে রমজান মাস উপলক্ষে তরমুজের সরবরাহ বেড়েছে, তবে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পেশাদার ফল বিক্রেতাদের পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও তরমুজ বিক্রি করছেন, তবুও দাম কমছে না, যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত কয়েকদিনে তরমুজের আমদানি বেড়েছে, কিন্তু বাজারে দাম সুলভ হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা আরো বেশি হয়ে গেছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সরবরাহ ভালো হওয়ার পরেও দাম কমানো হয়নি।

পোর্টরোডের আড়তদার শাকিল সিকদার জানান, মৌসুম শুরুতে তরমুজের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, তবে এখন দাম কিছুটা কমেছে। তবে তরমুজের দাম ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে, যার কারণ হিসেবে আকারভেদে দাম বাড়ানো হচ্ছে। খুচরা বাজারে কেজি দরে বিক্রির কারণে দাম আরো বেড়ে যাচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও তারা দাম বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সাগরদি হাউজিং এলাকার ফল বিক্রেতা এলায়েত শেখ বলেন, “পাইকারি বাজারে দাম কমলে তবেই খুচরা বাজারে সস্তা বিক্রি করা সম্ভব, কিন্তু এখন দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।” এছাড়া, কেজি দরে বিক্রির বিষয়টিকে ভুল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এক সাধারণ ক্রেতা জালাল তালুকদার বলেন, “বাজারে তরমুজের পরিমাণ বাড়লেও দাম কমা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে দাম নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা উচিত।”

বরিশাল অঞ্চলের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর উৎপাদন বাড়ছে। এবারের সিজনে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ৪৯ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩% বেশি। সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়, যেখানে ২৭ হাজার ৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, তরমুজের বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা আরো কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় চিংড়ির রেনু পোনা পাচারে সক্রিয় সিন্ডিকেট

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় চলছে চিংড়ির রেনু পোনা পাচারের এক বৃহৎ সিন্ডিকেট। অবৈধভাবে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে গজারিয়া খালগোড়া ঘাট থেকে ট্রলারে করে এসব রেণু পোনা পাচার করা হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের দিকে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৩৩ ব্যারেল রেণু পোনা পাচার হয়েছে। এই পাচার চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু লালমোহন, চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলাগুলো, যেখানে চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নসু মিয়া। তার তত্ত্বাবধানে বোরহানউদ্দিনের শিপন মাঝির ট্রলারে নিয়মিত রেণু পোনা পাচার হয়ে আসছে।

লালমোহনে নসু মিয়ার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে মামুন ও মতিন নামের দুই ব্যক্তি, যারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে পাচারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। চক্রটি প্রথমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বিহুন্দি জাল দিয়ে বাগদা রেণু পোনা সংগ্রহ করে। পরে এসব রেণু পোনা প্লাস্টিকের ব্যারেলে করে গজারিয়া খালগোড়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়। গভীর রাতে, নসু মিয়ার লোকজন ট্রলারে করে রেণু পোনা পাচারের জন্য খুলনা দিকে নিয়ে যায়।

প্রতি ট্রিপে কমপক্ষে ২০ ব্যারেল রেণু পোনা পাচার করা হয়। গজারিয়া খালগোড়া ঘাটে স্থানীয় নিয়ন্ত্রকরা প্রতি ব্যারেল পাচারের জন্য ৩০০ টাকা করে নেয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই পাচারের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই পাচার অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, রেণু পোনা ধরতে গিয়ে অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণির ক্ষতি হচ্ছে, ফলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার এরই মধ্যে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পূর্বে মৎস্য বিভাগের অভিযানে ২২টি ব্যারেল রেণু পোনা জব্দ করা হয় এবং দুইজনকে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে, পাচার এখনও বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, “যদি আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে, তবে অভিযান চালানো হবে।” তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই পাচার চক্র বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মহাসড়কে বাধা সৃষ্টি করে জনগণের অসুবিধা করা যাবে না: পুলিশ প্রধান

ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য মহাসড়কে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, এমন মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টায় গাজীপুর শিল্প পুলিশ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “ঈদের আগে বেতন, বোনাসসহ অন্যান্য অধিকার শ্রমিকদের থাকে, এবং যেসব কারখানা বেতন বা বোনাসের বিষয়ে গড়িমসি করে, তাদের আমরা সতর্ক করি। কিন্তু শ্রমিকদের যদি হুটহাট সড়কে নেমে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আইনেও রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা, এবং পুলিশ বারবার সেটাই মনে করিয়ে দেয়।”

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে আমাদের জানান, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন, আশা করি সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, “পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে দেশের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।”

ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, “ঈদের সময় ঢাকাসহ আশপাশের জেলা ফাঁকা হয়ে যায়, এ সময় চুরি ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধের আশঙ্কা থাকে। তাই পুলিশ বাহিনী ঈদের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।” তিনি জানান, “এছাড়াও, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ডা. জাবের সাদিক, শিল্প পুলিশ সুপার একে এম জহিরুল ইসলাম এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নাজমুল কবীরসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আরও দুই মাস বাড়ল সেনা কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা