মাগুরার শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শুরু হবে

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার আগামী সাত দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম

ড. আসিফ নজরুল বলেন, শিশুটি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছে। এই ঘটনায় সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিশুটির মরদেহ হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং দাফন প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ১২-১৩ জনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে সাত দিনের মধ্যে বিচার শুরু করা সম্ভব হবে।

বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল

ড. আসিফ নজরুল বলেন, অতীতে ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। এবারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান সংযোজন করা হচ্ছে। এই আইনের অধীনে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের খসড়া অনুযায়ী,

  • ধর্ষণের মামলার তদন্তের সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে।
  • মামলার বিচার কাজ ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হচ্ছে।
  • তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা যাবে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করতে হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা নতুন আইন প্রণয়ন করছি, যা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে। এতে শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পারি, তাহলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব প্রমাণ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কেউ যেন রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যু

ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটি দীর্ঘ চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সিএমএইচে মারা যায়।

৫ মার্চ মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা সিএমএইচে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিকবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে শিশুটি মারা যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এই নির্মম ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মারা গেছেন ঢাবির সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৬ মার্চ, দুপুরে ঢাকা ক্লাবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিউরোসার্জন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের দায়িত্ব শেষ করে তিনি আবারও বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২০ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।

অবসরের পর, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই, তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকি প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর দুমকি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক বিশেষ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুমকি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুমকি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এশিয়ান টিভির উপজেলা প্রতিনিধি আবুল হোসেন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান খান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মুন্না জহির, পল্লী সেবা সংঘের পরিচালক হোসাইন আহমদ কবির হাওলাদার, দুমকি নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন মৃধা ও পিরতলা বণিক সমিতির সভাপতি বশির উদ্দিন হাওলাদার।

এছাড়াও ইফতার মাহফিলে দুমকিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা হয়। মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না : রহমাতুল্লাহ

বরিশালের সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল সদর উপজেলা শাখার ১ নম্বর সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর সদর রোডস্থ হোটেল কিং ফিশারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশালের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

ইফতার মাহফিলে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের নিয়ে ইফতার করার ইচ্ছে থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এবার সেই সুযোগ পেয়েছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ মুজিব তার শাসনামলে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। চারটি পত্রিকা বাদে বাকি সব বন্ধ করে দেন, যা ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করেন। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার আবারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে। সাংবাদিকদের হয়রানি, গুম, খুন ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে সমাজে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেই সমাজ গণতান্ত্রিক হতে পারে না। গণমাধ্যম কর্মীরা সব মানুষের খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।”

ইফতার মাহফিলে বরিশালের সিনিয়র ও নবীন সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, সমকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী, সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, পারভেজ রাসেল, অপূর্ব অপু, মুশফিক সৌরভসহ আরও অনেকে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বরিশালের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহর সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে তরুণী, অতঃপর…

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ এক ১৭ বছর বয়সি তরুণীকে উদ্ধার করেছে, যিনি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ঘটনাটি ঘটে ১২ মার্চ রাত ১১টার দিকে, যখন ওই তরুণীকে ভান্ডারিয়া উপজেলার বাঁশেরপুল এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তরুণী মঙ্গলবার তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। পরের দিন, বুধবার, নিজের বাড়িতে ফেরার কথা বলে সে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বের হয়। পথে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া এলাকায় গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে। তবে, প্রেমিক তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিরাশ হয়ে, ওই তরুণী রাতে গালুয়া থেকে ভান্ডারিয়া হয়ে কাঁঠালিয়া যেতে শুরু করেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে ভান্ডারিয়া থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পুলিশ জানায়, তরুণী রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল কারণ তিনি দীর্ঘ সময় খেতে পাননি এবং দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তদন্তের পর জানা যায় যে, তার সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ হওয়ার পর, তরুণীকে তার ঠিকানা সংগ্রহ করে পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে ফুলের চারা বিক্রিতে আয় শতকোটি টাকা!

ফুলের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরন্তন। তবে এখন ফুলের চারা শুধু সৌন্দর্য আর ভালোবাসারই প্রতীক নয়, এটি পিরোজপুরে একটি বিশাল ব্যবসা এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কাউখালী এবং সদরের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে চলছে ফুলের চারা উৎপাদন এবং বিক্রি, যা বছরে শতকোটি টাকার ব্যবসা করে থাকে।

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার অলংকার কাঠী গ্রামে আজকাল দেখা যায় বিভিন্ন প্রকারের ফুল ও ফলের বাহারি চারা। এখানকার নার্সারি গুলো পুরো গ্রামকে ফুলের গালিচায় ঢেকে দেয়, যা দেখতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা। অনেকেই ফুলের ছবি তুলে আনন্দিত হন, আবার কেউ নতুন ফুলের চারা কিনতে আসেন।

এছাড়া, স্বরূপকাঠি ইউনিয়নের অলংকার কাঠি গ্রামটি এখন ‘নার্সারি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার নার্সারিতে উৎপাদিত ফুলের চারার পাশাপাশি, ফল ও বনজ চারা বিক্রি হয় বারো মাস ধরে। বিশেষ করে, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব নার্সারির ফুলে ভরে ওঠে, যা দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এই ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই কাজে যুক্ত আছেন।

এখানকার নার্সারির মালিক ফজলুর শেখ বলেন, ‘প্রতিটি শীত মৌসুমে আমরা বিভিন্ন প্রকার ফুলের চারা খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করি। পিরোজপুরে নার্সারি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার, যারা এই ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, নার্সারি ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করার জন্য স্থানীয়দের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার নার্সারি গড়ে উঠেছে, যা প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ‘বায়তুল আমান’ মসজিদ,আকাশছোঁয়া মিনার ও অপূর্ব সৌন্দর্যের এক দৃষ্টান্ত

বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদ, যার আকাশছোঁয়া মিনার এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য সবার মন কাড়ে, এক অনন্য আইকন হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে গুঠিয়া ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি তার সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য সারা দেশের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদটির ১৯৩ ফুট উচ্চতার মিনার এবং ঐতিহ্যবাহী গম্বুজে শোভিত স্থাপত্য দর্শনার্থীদের এক মোহনীয় অনুভূতি দেয়।

বায়তুল আমান জামে মসজিদটি গুঠিয়া ইউনিয়নে ১৪ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু নিজের অর্থায়নে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির অভ্যন্তর এবং বাইরের স্থাপত্য এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন এটি এক নতুন দৃষ্টিনন্দন আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সাদা মার্বেল পাথর এবং গ্রানাইটের ব্যবহারে মসজিদটি আরও এক অনন্য রূপ পেয়েছে।

মসজিদের নয়টি গম্বুজের নিচে ঝুলছে নয়টি বিশাল ঝাড়বাতি, যা সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে। সেগুলোর আলো পুরো মসজিদকে এক অপূর্ব রূপে রাঙিয়ে তোলে, বিশেষ করে সন্ধ্যায় এর আলোকসজ্জায় মসজিদের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মসজিদের ভেতরে সুরা আর-রহমানের আয়াত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে উৎকীর্ণ করা হয়েছে, যা মসজিদের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গোলাম ফেরদৌস এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো এই মসজিদটি দেখে এর সৌন্দর্য এবং স্থাপত্যের প্রশংসা করেন।

মসজিদটির সামনে রয়েছে একটি মনোমুগ্ধকর দিঘি এবং শানবাঁধানো ঘাট, যা গোটা পরিবেশের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি বিশাল ঈদগাহ মাঠ, খতিব ও মুয়াজ্জিনের বাসস্থান, কবরস্থান, ডাকবাংলো, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিং, এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মতো নানা সুবিধা রয়েছে। বিশেষত, এখানে নারীদের জন্য পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আরও এক বিশেষ উদ্যোগ।

বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদে দিনের বেলায় যেমন এক অসাধারণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তেমনি রাতে এর আলোকসজ্জায় মসজিদটি এক নতুন চেহারা নেয়। চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসান জানিয়েছেন, রাতের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে, যখন আলোকসজ্জার রোশনাই অন্ধকার ভেদ করে মসজিদটির সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়।

মসজিদে একসাথে ১,৩০০ জন মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, এবং খোলা চত্বরে আরও ৪-৫ হাজার মুসুল্লি জায়গা পেয়ে থাকেন। মক্কা, মদিনা, বাগদাদ শরিফ ও জেদ্দার পবিত্র মাটি এখানে সংরক্ষিত রয়েছে, এবং প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন।

বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদ তার বিশাল স্থাপত্য, আধুনিক ডিজাইন এবং মসজিদের অপূর্ব সৌন্দর্যের জন্য দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইসলামিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু বরিশালেই নয়, পুরো দেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা সংকটে, মহা বিপদে: অ্যাকশন এইড

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার সংকটকে মহা বিপদ বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের জীবনের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে অ্যাকশন এইড জানায়, জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে সফরকালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশেষ করে নারী ও মেয়েশিশুদের তীব্র মানবিক সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাসিক খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার খাদ্য সহায়তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। ডব্লিউএফপি’র মতে, খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেকে কমানো হলে শরণার্থীদের জীবনধারণের ন্যূনতম সীমার নিচে চলে যাবে, যার ফলে অপুষ্টি ও স্বাস্থ্য সংকট আরও বেড়ে যাবে।

একমাত্র খাবারের অভাবে নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো মা, কিশোরী এবং শিশুরা ইতোমধ্যে তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। খাদ্য সংকটের কারণে পারিবারিক সহিংসতা ও শোষণের মত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে।

গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য রেশন কমানোর খবরে রোহিঙ্গা শিবিরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করতে পারে। এই পরিস্থিতি নারী ও কিশোরীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি শিকার হয়।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি তহবিল প্রদান ও নারী ও কিশোরীদের অগ্রাধিকার দিয়ে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। একইসাথে, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে পটকা মাছ খেয়ে শিশুর মৃত্যু, ৪ জন অসুস্থ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৪ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার রাতে উপজেলার চিরাপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিরাপাড়া গ্রামে ভূমিহীন চরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম ফাতেমা আক্তার (৫)।

শিশুর নানা হানিফ সরদার জানান, রাতের খাবারের মধ্যে নদী থেকে শিকার করা অন্যান্য মাছের সঙ্গে পটকা মাছও খাওয়া হয়েছিল। পরে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাদের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ফাতেমা আক্তার মারা যান। তার মা সাবিনা আক্তার (২০), খালা সিমা (১৮), সুমনা (১৩) এবং বৃদ্ধা আকলিমা (৫৫)-কে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুব্রত কর্মকার জানান, রাত ২টার দিকে পটকা মাছ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাঁচ রোগী হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার হাসপাতালে আসার আগেই মারা যান। অন্যান্য রোগীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে চিরাপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান তালুকদার মিন্টু এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাগুরায় শশিু আছয়ার মৃত্যুর পর ২ দফা জানাজা, শায়িত হলেন চরিনদ্রিয়ায়

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শশিু আছয়ার মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবা (১৩ মার্চ) মাগুরার নোমানী ময়দানে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খলফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজসি আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় একই দিন রাতে, সোনাইকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। পরে সোনাইকুন্ডি সম্মিলিত কবরস্থানে শশিু আছয়িকে দাফন করা হয়।

এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শশিু আছয়ার মরদেহ মাগুরা স্টেডিয়ামে আনা হয়। এই সময় শশিুর সঙ্গে ছিলেন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং শশিুর মা আয়শো আখতার। মাগুরা স্টেডিয়ামে মরদেহ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাহমুদা মনি।

শশিু আছয়া বুধবার (১২ মার্চ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে চারবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।

শশিু আছয়া ৫ মার্চ মাগুরার বোনের বাড়িতে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনায় শশিু আছয়ার মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় শশিু আছয়ার ভগ্নপতি সজবি (১৮), ভাই রাতুল (১৭), বাবা ময়িয়া (৪২) এবং মা জাবদো বেগম (৪০)কে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনার পর, মাগুরা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে এমন জঘন্য ঘটনা আর কোনো পরিবারে না ঘটে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম