কুয়াকাটায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা: ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সমাজ সংস্কৃতির প্রতি নতুন উদ্দীপনা

কুয়াকাটায় কোরআনের পাখি হাফেজদের এবং বয়স্কদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কুয়াকাটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুয়াকাটা উপকূলীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা।

সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাওলানা মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন, খতিব কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা এসি মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম, কুয়াকাটা ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার সৈয়দ মুহাম্মদ ফারুক মীর, জামায়েত ইসলামি কুয়াকাটা পৌর শাখার আমির মো. শহিদুল ইসলাম, কুয়াকাটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর ব্যবস্থাপক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক হোসাইন আমির, জামায়েত ইসলামি কুয়াকাটা পৌর শাখার সেক্রেটারি মো. আল আমিন, পেশ ইমাম কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হাফেজ মোহাম্মদ মুবাশ্বের হোসেন, সাংবাদিক জনী আলমগীর, জাকারিয়া জাহিদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন, ইমাম ও খতিব আলীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, হাফেজ মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, পরিচালক তারবিয়াতুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসা, কলাপাড়া, ক্বারী নজরুল ইসলাম, ইমাম, কুয়াকাটা এসি মসজিদ, মো. শহিদুল ইসলাম, শিক্ষাক, চরপাড়া হাফিজি মাদ্রাসা, চর চাপলী।

বক্তারা বলেন, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রজন্মকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে এবং আগামীতে এই ধরনের অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এছাড়া, আয়োজক পরিচালনা কমিটি জানায়, উক্ত প্রতিযোগিতায় ২০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২০ জনের অধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় মূল্য তালিকা না থাকায় চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মূল্য তালিকা না থাকা এবং পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না থাকার কারণে চার ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পটুয়াখালী জেলার উপ-পরিচালক শাহ মো. সোয়াইব মিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে সহযোগিতা করেন কলাপাড়া উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা মৃণাল চন্দ্র দেবনাথ ও পুলিশ সদস্যরা

পটুয়াখালী জেলার উপ-পরিচালক শাহ মো. সোয়াইব মিয়া জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে পুলিশ ফাঁড়ি পুনঃস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে পুলিশ ফাঁড়ি পুনঃস্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় কালিশুরী বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

বক্তব্য ও দাবিদাওয়া
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাজার কমিটির সভাপতি ফয়সাল মোল্লা। বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন মোল্লা, ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া ও ছিদ্দিকুর রহমান

বক্তারা জানান, সম্প্রতি বাজারে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কয়েক বছর আগে কালিশুরী বাজারে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল, তখন বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু ফাঁড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে চুরি ও বিভিন্ন অপকর্ম বেড়ে গেছে

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ ফাঁড়ি পুনঃস্থাপন করা হলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং জননিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মহাসড়কে সিটি কর্পোরেশনের ‘মরণফাঁদ’: অপসারণের দাবি

বরিশাল শহরের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া দেশের ৮নম্বর জাতীয় মহাসড়কের পাশে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত একটি অবৈধ দ্বিতল ভবন এখন ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এটি অপসারণে আইনগত ও আর্থিক জটিলতা রয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত এই অবকাঠামোটি মূলত সিএন্ডবি রোডে মহাসড়কের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজ শুরু হলেও, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ভবনটি অসমাপ্ত অবস্থায় প্রায় তিন বছর ধরে পড়ে আছে। ভবনটির ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ করা হলেও, এখন তা জাতীয় মহাসড়কের পাশে ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ এই ভবনটি নির্মাণ করেন, তবে বর্তমান মেয়র কিংবা প্রশাসন সেই সময়ের এই অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেননি। বিশেষত, সরকারের পরিবর্তনের পর সিটি কর্পোরেশন বিলুপ্ত হলে, বরিশাল নগর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিভাগের কমিশনার রায়হান কাওসার। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এসব অবকাঠামো নির্মাণের কোন বৈধতা ছিল না, এবং এসব অপসারণের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

এছাড়া, ছাত্র-জনতার প্রতিবাদে এসব অবকাঠামোর কয়েকটি অংশ ভাঙচুরও হয়েছে। এখনো এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং এটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান প্রশাসন বলছে, এসব অবকাঠামো অপসারণের জন্য বাজেট প্রাপ্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে, সঠিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সড়ক অধিদপ্তরও এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল এখনও নিশ্চিত হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কোরআনের আলোকেই মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াতের আমীর

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, “কোরআনের আলোতে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।” তিনি বলেন, “ঘরে ঘরে আওয়াজ তুলতে হবে, কোরআনের আইন চাই।”

আজ, সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে বরগুনার টাউনহল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “সৎ পথে আন্দোলনের কারণে আজ আমরা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করছি। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হল নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

এছাড়া, বরগুনা জামায়াতে ইসলামী জেলা আমীর মাওলানা মোঃ মহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জাম হোসাইন হেলাল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাযী। পথসভাটি উপস্থাপন করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ আসাদুজ্জামান আল মামুন।

এর আগে, ড. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে অবতরণ করেন। এরপর তিনি মেয়ে ধর্ষণের শিকার মন্টু দাসের বাড়িতে যান এবং নিহতের পরিবারকে নগদ অর্থ, কাপড়চোপড় ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর এই ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “মন্টু দাসের পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। শিশুর সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও বলেন, “মন্টু দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। তার পরিবারের তিন শিশুর দায়িত্ব আমরা নেবো। তারা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত তাদের পাশে থাকবে এবং তাদের পড়াশোনার খরচসহ সাধারণ জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।”

এদিকে, ড. শফিকুর রহমান বলেন, “মামলার বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গ্রহণ করেছেন এবং আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিবারকে আইনি সহযোগিতা প্রদান করবে।”

পরবর্তীতে, ড. শফিকুর রহমান বরগুনা শহীদ মিনারে এক পথসভায় অংশগ্রহণ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের মেয়ে বিয়ে করলেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাফি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ, তালাত মাহমুদ রাফি, আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিয়ের খবর জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে নতুন জীবনের শুরু ঘোষণা করেন।

স্ট্যাটাসে রাফি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। নতুন যাত্রায় আপনাদের দোয়া একান্ত কাম্য।” রাফি তার স্ত্রীর নামও জানিয়েছেন, জান্নাতুল ফেরদাউস মিতু। ফেসবুকে মিতুর বাড়ি বরিশাল উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তিনি পড়াশোনা করেছেন বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজে।

ফেসবুক পোস্টে রাফি তার স্ত্রীকে ট্যাগ করেছেন, এবং সেখানে তাদের একসঙ্গে ছবি দেখানো হয়েছে, যা বিয়ের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে।

রাফির বিয়ের খবর প্রকাশের পর, তার বন্ধু, সহযোদ্ধা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

এদিকে, রাফি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের (২০২২-২৩) শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

ট্যাগ: #বরিশাল #বিয়ে #রাফি #চট্টগ্রাম #জুলাইআগস্টআন্দোলন #নতুনজীবন #শুভেচ্ছা #ফেসবুক #মিটু #বৈষম্যবিরোধী #নাট্যকলা




বরিশালে ঈদের কেনাকাটায় বাজারে জমে উঠেছে ভিড়

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা শহরের বাজারগুলোতে ঈদের কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে, বরিশালের প্রধান মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিক্রেতারা বলছেন, এই সময়ে বাজারে ভিড় বাড়ার ফলে তারা বেশ আনন্দিত হলেও, কিছু ক্রেতা দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট।

আজ, সোমবার (১৭ মার্চ), বরিশালের বিখ্যাত পার্ক মার্ট এবং টপটেনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। অনেকেই তাদের পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের সঙ্গে মার্কেটে এসেছেন। এছাড়া, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা এবং ঝালকাঠি জেলা শহরের বাজারগুলিতেও ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়েছে।

এমনকি, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কেটগুলোতে ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তবে কিছু ক্রেতা দাম নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন, বিশেষত পোশাকের দাম কিছুটা বেশি হওয়া নিয়ে।

এই ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় অরগেনজা, মেঘা, চান্দ্রিয়া, জয়পুরী এবং পাকিস্তানি সারারা গারারা। এছাড়া, কাতান, বাড়িস, কারচুপি, বালাহার, মটকা এবং কাশ্মীর কাতান থ্রি পিসের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শাড়ি মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বি প্লাশ খাড্ডি বেনারসি, চেন্নাই সিল্ক, বুটিক, ক্রেসপি, মান্দানি এবং জামদানি। ছেলেদের পাঞ্জাবি, টুপি এবং প্যান্টও বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। কসমেটিক্স পণ্যের চাহিদাও রয়েছে।

বরিশালের পার্ক মার্টে কেনাকাটা করতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাচ্চু (৫২) বলেন, “দুপুরের পর এসেছি। পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেছি, আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও কিনেছি। অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করছে।”

ক্রেতা নাজমিন জামান মুক্তি জানান, “বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করতেই টপটেনে এসেছি। প্রতিবছর এখানে এসে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করি, এবারও তেমনটাই করেছি। রোজা রেখে কেনাকাটা করতে কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও, এই মুহূর্তগুলো আনন্দদায়ক।”

মার্কেটে আসা আসাদুজ্জামান সোহাগ বলেন, “কাপড়চোপড় ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে হলেও, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের হাতে টাকা না থাকায় মার্কেটে ভিড় কম। আমি প্রয়োজনীয় কিছু কিনতে এসেছি, দুই মেয়ের জন্য ড্রেস নিয়েছি। স্ত্রী জন্য এখনো কিনতে পারিনি।”

বিভিন্ন বিপনি-বিতান মালিকরা বলছেন, “ক্রেতারা প্রায়ই আমাদের সঙ্গে দাম নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান। যখন বেশি দামে পোশাক ক্রয় করি, তখন বিক্রিও বেশি দামে করতে হয়। তবে, পোশাকের গুণমানের ওপরই দাম নির্ভর করে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খাদ্য সহায়তা না পেয়ে বিপাকে বাউফলের জেলেরা

বেসরকারি একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জাল কিনেছেন বাউফলের জেলে আবুল রাঢ়ী ও সহিদ খাঁ। প্রতি সপ্তাহে চার হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়, অথচ মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ। তারা বলেন, “আগে ১৬০ কেজি চাল পেতাম, এখন শুনি আসতে দেরি হবে। পেট তো দেরি মানে না! সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিন্তু খাওনের ব্যবস্থা করে না। বাধ্য হয়েই নদীতে জাল ফেলি, আর তখনই পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।”

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আওতায় রয়েছে বাউফলের চররুস্তম থেকে ভোলার চরভেদুরিয়া পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার তেঁতুলিয়া নদীর এলাকা। বাউফল উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৫২১, তবে বেসরকারি হিসাবে তা প্রায় ১০ হাজার। প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতি জেলে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল পান। কিন্তু এবছর ১৫ দিন পার হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তা আসেনি।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে রুহুল আমিন বলেন, “নদীতে এমনিতেই মাছ কম। ধারদেনা করে সংসার চালাই। ভেবেছিলাম, সরকারি সহায়তা পেলে কষ্টের সময়টা কেটে যাবে। কিন্তু কিছুই পাইনি।”

খাদ্য সহায়তা না পেয়ে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে জাল ফেলছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজারে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। এতে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।

গলাচিপা, দশমিনা, রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন উপজেলার অসাধু ব্যবসায়ীরা কাশিপুর, বগা ফেরিঘাট ও যাত্রীবাহী বাসে করে জাটকা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। সম্প্রতি একটি বাস থেকে大量 জাটকা জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “জেলেদের খাদ্য সহায়তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।” তবে কবে নাগাদ সহায়তা পৌঁছাবে, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনে গেজেট প্রকাশ বৃহস্পতিবার

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০৯ সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশ করা হবে, জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

সোমবার (১৭ মার্চ) উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি ডিএনএ পরীক্ষাগার (ল্যাব) স্থাপন করা হবে।”

তিনি আরও জানান, “শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।”

আসিফ নজরুল বলেন, “বিয়ের আশ্বাসে সম্মতি নিয়ে ধর্ষণের ক্ষেত্রে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি, সম্মতি ছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় শুধু পুরুষ নয়, যে কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সংঘটিত ধর্ষণকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আদালত চাইলে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই মেডিকেল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার করতে পারবেন। তবে মিথ্যা মামলা হলে বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনের সংশোধনীগুলো বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়া সম্ভব নয়” – প্রধান উপদেষ্টা

 “পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়া যাবে না,” বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুলিশ বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যদি আমরা আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারি, তবে যে কোনো যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব। আইন না থাকলে সরকার, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার—কিছুই টিকে থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ বাহিনীকে এখন আলোর পথে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতে পুলিশ খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিল, কিন্তু এখন তাদের ভূমিকা বদলাতে হবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনার দেশ, কিন্তু আমরা এখনো তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে দেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে পৌঁছানোর সুযোগ আছে বাংলাদেশের, তবে তা অর্জনে সুশৃঙ্খল আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রয়োজন।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
  • স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি
  • পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম

এছাড়াও, মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:

  • চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ
  • রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ফারজানা ইসলাম

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম