আগুনে পুড়ে শেষ সম্বল, রহিম-লিপির চরম দুর্ভোগ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চর কুতুবনগর প্রকল্পের ৪৭ নম্বর ঘরে থাকা আব্দুর রহিম ও লিপি বেগমের সংসারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রান্নাঘরের আগুনে তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে গেছে, আর এখন তারা পথে বসার অবস্থায়।

রান্নাঘরের আগুনে পুড়ে যায় আব্দুর রহিম ও লিপি বেগম দম্পতির ঘরের সবকিছু। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজস্ব জমি না থাকার কারণে এই দম্পতির ঠাঁই হয়েছিল সরকারী প্রকল্পের একটি ঘরে। আব্দুর রহিম পেশায় গাড়িচালকের সহকারী হলেও বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কাজ করেন না। তবে সরকারের দেওয়া ঘরের সামনে একটি ছোট দোকান দিয়েছিলেন, যা থেকে তাদের সংসার চলত। কিন্তু আজকের অগ্নিকাণ্ডে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।

আজ শনিবার দুপুরে আব্দুর রহিমের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। যদিও প্রতিবেশীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু ওই ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে, অন্যান্য ঘরগুলো রক্ষা পেয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, দুপুরে ইফতার ও রাতের খাবার রান্না করার সময় রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের ঘরের তিনটি কক্ষসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ঘরটি ছাড়া তাদের শরীরে পরিহিত জামাকাপড় ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিপি বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে এই প্রকল্পের ঘরটিতে থাকতাম। আজ দুপুরে রান্না করার সময় হঠাৎ করে দমকা বাতাসের সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যে চাল কাল এনেছিলাম, তা-ও পুড়ে গেছে। এখন কী খাব, কোথায় থাকব, কিছুই বুঝে পাচ্ছি না।’

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘খবর পাওয়ার পর আমাদের টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু নদীপথের কারণে আমাদের পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাকি ঘরগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় সিন্ডিকেটের দাপটে ভোক্তারাও চড়া দামে কিনতে বাধ্য

বরগুনা জেলার কৃষি ক্ষেত্রে তরমুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক ফসল। তবে এবছর আবারও তরমুজ চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সিন্ডিকেটের গ্যারাকলে ভোক্তারা চড়া দামে তরমুজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে, রমজানের আগে আগাম তরমুজ চাষে উৎসাহী কৃষকরা এবারও সঠিক দাম পাচ্ছেন না, আর বাজারের দাম বেড়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত।

গত কয়েক বছরে বৈরী আবহাওয়া ও বাজারজাতকরণের সমস্যায় পড়ার পর, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হওয়ার আশায় চাষিরা আগাম তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি, কারণ তরমুজের দাম বাজারে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা যা ১৫০ টাকায় বিক্রি করছিলেন, তা খুচরা বিক্রেতারা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

সরজমিনে তদন্ত করলে জানা যায়, কৃষক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত ৪ হাত ঘুরে তরমুজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ১৫০ টাকায় তরমুজ বিক্রি করে থাকেন, আর সেই তরমুজ পাইকার ও আড়তদারের হাতে পৌঁছে গিয়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতা সেই তরমুজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এর ফলে, কৃষকরা তাদের স্বপ্নের লাভ থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছেন, আর ভোক্তারা অতিরিক্ত দাম দিয়ে তরমুজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বরগুনার তরমুজ চাষিরা বলছেন, তারা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পরও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। একজন চাষি জানান, “আমরা এখানে তিন থেকে চার মাস কঠোর পরিশ্রম করি। সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে, লেবার খরচও বেশি, অথচ পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে তরমুজ ৮০-১২০ টাকায় কিনে আবার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বলছেন, তারা বাজার মনিটরিং করছেন এবং নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। তবে তাদের মতে, খুচরা বিক্রেতারা নিয়মিত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

এদিকে কৃষি বিপণন কর্মকর্তার মতে, কৃষকদের লাভ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বরগুনায় এ বছর তরমুজের চাষ ১২,৩০০ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১,৭০০ কোটি টাকা হতে পারে। কৃষকদের আশা, তারা তাদের ক্ষতি পূর্ণ করতে পারবেন। তবে এই দামে যারা লাভবান হচ্ছেন তারা হচ্ছে পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতা, যারা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করছেন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বিশ্ব পানি দিবস: বাড়ছে পানির সংকট, ভোগান্তি তীব্র হচ্ছে

আজ ২২ মার্চ ‘বিশ্ব পানি দিবস’। প্রতি বছর এই দিনটি পৃথিবীজুড়ে পানি সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পানির সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে পালন করা হয়। এ বছর বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘হিমবাহ সংরক্ষণ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও নিরাপদ পানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা’। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো পানির সংকট এবং এর সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তবে, এই সময়ে কক্সবাজারে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। ৪০০ ফুট গভীর নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ পানির সংকটে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, এই পরিস্থিতি প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ইকোসিস্টেমে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে, বিশেষ করে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজার শহরের পানির সংকটের কারণ হিসেবে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনই ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের সংকটের কারণ। এছাড়া, মহেশখালী চ্যানেল ও বাঁকখালী নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শহরের কিছু এলাকায় পানি পানযোগ্য নয়।

কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা পৌরসভার পানি ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন। কিছু এলাকায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। পৌরসভার পানি সরবরাহের অবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ নলকূপের পানি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি সরবরাহের সমস্যা সমাধানে বাঁকখালী নদীর তীরে একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং শহরের পানির সংকট দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এদিকে, কক্সবাজার শহরের ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও, এটি কবে কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শহরের বাসিন্দারা এ প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে”: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, যাতে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি আমাদের কাঁধে চেপে না বসে।” তিনি আরো জানান, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১২ দলীয় জোট এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে সমস্যা সৃষ্টি হলে আলোচনা করে তা সমাধান করব। যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, যাতে স্বৈরাচারী শক্তি আমাদের পথ আটকে না দিতে পারে।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা দেশের মানুষের জন্য এক আদর্শে একসাথে আছি, আমাদের মূল লক্ষ্য দেশের কল্যাণ।”

তিনি বলেন, “যে ঐক্য নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছি, আসুন আমরা ঐক্য ধরে রাখি এবং জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।”

তারেক রহমান আরো বলেন, “এক উদ্ভব পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যেখানে সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। গণতন্ত্র মানে নির্ভয়ে নির্বাচন করা, কিন্তু বর্তমানে এটিকে সংস্কারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।”

তিনি গত ২ বছরে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত করার জন্য বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বিএনপির মূল লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ।”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্য, নাগরিক পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রাথমিক শিক্ষার মান না বাড়ায় উদ্বিগ্ন গণশিক্ষা উপদেষ্টা

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও, শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।”

শনিবার (২২ মার্চ) ময়মনসিংহের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণশিক্ষা উপদেষ্টা এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের প্রাথমিক স্কুলের বিকল্প না থাকলেও, এখন মানুষ কিন্ডারগার্টেন এবং মাদরাসায় শিশুদের পাঠাচ্ছেন। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, উপবৃত্তি, বেতনহীন শিক্ষা প্রদান করছে, তবুও অভিভাবকরা কেন তাদের শিশুকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নত, শিক্ষকরা দক্ষ, বেতন কাঠামোও ভালো, তবে সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা তাদের শিশুদের অন্য স্কুলে পাঠাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়।”

ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উল্লেখ করেন, মানসম্মত শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে এবং শিশুদের মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন করা নিশ্চিত করা উচিত। যদি শিশুরা মাতৃভাষায় দক্ষ হয়, তাহলে তারা অন্যান্য ভাষায়ও পারদর্শী হতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় বিভাগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন, যারা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। তিনি জানান, গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকতাকে সাংবাদিকবান্ধব করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মৃত সাংবাদিকদের পরিবার এবং অসুস্থ-অসচ্ছল সাংবাদিকদের মধ্যে কল্যাণ অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণ অনুদান দেওয়াকে একটি আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা করা যেত, তবে কল্যাণ অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, সাজিদ আরাফাত ও মীর মুশফিক আহসান বক্তৃতা দেন।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে ৩৭৪ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে এক কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সুন্দরবনের গহীনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও বনকর্মীরা

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও বনকর্মীরা, তবে পানির সংকটের কারণে তারা বেগ পেতে হচ্ছেন।

শনিবার (২২ মার্চ) বিকেলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে বনের টেপারবিল এলাকা থেকে প্রথমে ধোঁয়া উঠতে দেখে স্থানীয়রা।

ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস জানান, আগুন লাগা এলাকায় আশপাশে পানির উৎস নেই। খালের কাছ থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে গহীন বনের মধ্যে আগুন জ্বলছে। তবে খালে জোয়ার হলে নৌপথে পানির পাম্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু খাল থেকে আগুনের এলাকায় দূরত্ব বেশি হওয়ায় পানির উৎসের অভাবে আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা। আগুন যেন বনের ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে না যায়, সে জন্য আগুনের চারপাশে ফায়ার লাইন কাটা শুরু করেছেন বনরক্ষীরা।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, এবং রামপাল ও কচুয়া থেকে আরও দুটি ইউনিট রওনা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর আগুনের বিস্তৃতি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ভোলা খাল, উদ্ধারের দাবি

ভোলা শহরের প্রাণভোমরা ভোলা খাল, যা এক সময় বেতুয়া নদী নামে পরিচিত ছিল, বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। একসময় ঢাকা থেকে ভোলা রুটের লঞ্চ চলাচল করত এই খাল দিয়ে, কিন্তু আজ তা অবৈধ দখল, দূষণ ও পৌরসভার ভুল নীতির কারণে একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে।

১৯৪৫ সালে ৬০-৭০ ফুট প্রশস্ত ভোলা খালটি একসময় শহরের উন্নত পরিবহন ও কৃষকদের ফসল পরিবহন ব্যবস্থার অংশ ছিল। তবে বিগত কয়েক দশক ধরে খালটির ওপর অবৈধ দখল, দূষণ ও পৌরসভার ভুল পরিকল্পনায় এটি তার পূর্বের অবস্থান হারিয়েছে। বর্তমানে খালের পাড় দখল করে শতাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, এবং পৌরসভা এর ভাড়া আদায় করছে।

এছাড়া উন্নয়নের নামে খালের ওপর উঁচু সেতু ভেঙে নিচু কালভার্ট নির্মাণ করার ফলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে রিট করে, যার পর আদালত ভোলা পৌরসভাসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে খালটি দখল ও দূষণমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসক ১৫০ জন অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে খালটির সর্বোচ্চ প্রস্থ ৪০ ফুট এবং সর্বনিম্ন ১৮ ফুট, যা আগে ৬৫ ফুট পর্যন্ত ছিল। খালটি এক সময় শহরের প্রাণ ছিল, তবে বর্তমানে এর নাব্যতা হারিয়ে গেছে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খালটি খননের জন্য সার্ভে করা হয়েছে এবং ডিজাইন প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, শিগগিরই খালটি দখলমুক্ত করে খনন কাজ শুরু করা হবে।

ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, খালটি সচল করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি আরও বলেন, খালে ভাসমান রেস্টুরেন্টও অবৈধ এবং এটি উচ্ছেদ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে খালটি উদ্ধার করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন, ভোলা খাল শহরের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। এর দখল ও দূষণ বন্ধ করে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

বরিশালে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে হাসি এনেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হয়েছেন। যদিও একটি ভাইরাস কিছু ক্ষেতের তরমুজ নষ্ট করেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে লাভের পরিমাণ ভালোই রয়েছে।

বরিশাল খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর বরিশাল বিভাগে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৩৪৪ হেক্টর। কিন্তু বাস্তবে ৫৪ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ৩৯.১৫ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে, এবং কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই মৌসুম শেষে মোট উৎপাদন হবে প্রায় ১৮ লাখ ৮১ হাজার ১৭২ টন।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে মৌসুমি আড়তদার জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিদিন শতাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার পোর্ট রোডে আসছে, যেগুলোতে ১০ থেকে ১৫ কেজি ওজনের তরমুজ ভর্তি থাকে। সেখানে আড়তদাররা তরমুজ বিক্রি করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে। পাইকাররা বড় তরমুজের জন্য ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা শত হিসেবে প্রদান করছেন, এবং সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে তরমুজের ফলন বেশ ভালো হয়েছে, তবে ভাইরাসের কারণে কিছু তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোলার কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ শুরু করেছেন, এবং আশা করছেন, আগামীতে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বরিশালের পোর্ট রোডে তরমুজের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় নগরীর খুচরা বিক্রেতারা ৫০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করেন। তবে কৃষক জবেদ হাওলাদার জানান, জমির লিজ, শ্রম এবং অন্যান্য খরচ যোগ করে তরমুজ বিক্রিতে লাভ কম হয়। এর পাশাপাশি, আড়তদাররা দাম নির্ধারণ করেন, যার ফলে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাকি অংশে ভালো লাভ পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, তরমুজ চাষের ওপর কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, কারণ গত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর ফলন বেশি হয়েছে এবং কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। আগামী বছরে তরমুজের উৎপাদন আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত তরমুজ ব্যবসায়ী, আহত ৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে উপজেলার রুহিতারপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম (৪২) গাজীপুরের শ্রীপুর থানার খলারটেক এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একজন তরমুজ ব্যবসায়ী ছিলেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটি স্থানীয় একটি তেলের পাম্প থেকে পেট্রোল নেওয়ার জন্য প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই, একই দিক থেকে আসা একটি ভাঙারি বোঝাই ট্রাক সজোরে তরমুজ বোঝাই ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। ফলে তরমুজ বোঝাই ট্রাকটি সামনে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দুইটি ট্রাক আটক করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর সাইফুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম