ভোলায় বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১১

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে ২৩ মার্চ ২০২৫, রোববার দুপুরে মনপুরা উপজেলার বাংলাবাজার সংলগ্ন ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ইউপি প্রশাসকের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গরিব-দুস্থদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ইউপি পরিষদে বিতরণের সময় পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। এই অভিযোগ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হলে, তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ঘটনায় আহত ১১ জনের মধ্যে আছেন- মো. নোমান, রাসেল, কাওছার, মহিউদ্দিন, রাফি, আব্বাস, রুবেল, মিজান, সাব্বির, রুবেল ও মামুন। আহতদের মধ্যে কিছুজনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মনপুরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান কবির জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মনপুরা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের জন্য ১৫০০ হতদরিদ্র মানুষের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নানা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরের পর থেকে আবারও চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,




বাউফলে ভিজিএফের চাল বিতরণে জেলেদের ওপর হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় জেলেদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন, যার মধ্যে আল-আমিন (৩৫) নামের এক জেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় এক সংবাদকর্মী ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সকাল ৯টা থেকে নিবন্ধিত ১ হাজার জেলের মধ্যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়। দুপুরের দিকে আল-আমিনসহ কয়েকজন চাল আনতে গেলে তাদের প্রত্যেককে ৫০ কেজির একটি বস্তা দেওয়া হয়। তারা ৮০ কেজি দাবি করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাঈম সিকদার তারেকের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন জেলেদের ওপর হামলা চালায়।

আহত আল-আমিন জানান, চাল বিতরণের খরচের নামে প্রতিটি জেলের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের মাধ্যমে আদায় করা হয়। তিনি দাবি করেন, প্যানেল চেয়ারম্যান জহির উদ্দিনের নির্দেশেই এই টাকা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন বলেন, পরিষদের সামনে হয়তো ব্যক্তিগত কোনো কারণে মারামারি হয়েছে, তবে চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। বরাদ্দকৃত চাল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে, আর জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাঈম সিকদার তারেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলেরা নিজেরাই মারামারি করেছেন।”

সাংবাদিকের মোবাইল নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সেটি দুষ্টামির ছলে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, “আমি চাল বিতরণের সময় সেখানে ছিলাম, কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক প্রতিমন্ত্রী চুমকির ফ্ল্যাট ক্রোক ও ২ কোটি টাকা ফ্রিজ




স্ত্রীসহ সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শেখরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা




ঢাকাস্থ দুমকীবাসীর দুই সমিতির ঐক্য, বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি

দীর্ঘ বিভেদের অবসান ঘটিয়ে একত্রে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করলো ঢাকাস্থ দুমকী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি।

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে দীর্ঘদিনের বিরোধ ভুলে সবাই একসঙ্গে বসেন। সাধারণ সদস্যরা জানান, এতদিন বিভাজনের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, কিন্তু এবার তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরে আনন্দিত। যারা এবার অংশ নিতে পারেননি, তারাও ভবিষ্যতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা রুহুল আমিন। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল ইসলাম বাদল।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আজমাত গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোঃ আতহার উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক যুগ্ম সচিব এ. কে. এম. জব্বার ফারুক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার সামিমুজ্জামান ফিরোজ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনিসুর রহমান, নিউ ভিশনের এমডি ও নির্বাচন কমিশনার মো. তারিকুল ইসলাম মনির, বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মেজর ওহাব মিনার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এম এ রব হাওলাদার, রেডিসন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান।

এছাড়া ইফতার মাহফিল আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম জাহিদ, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী গোলাম মোস্তফা সহ ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ৫৮ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রিয়াল চুরি, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় আলোচিত স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা চুরির মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে গলাচিপার শাখারিয়া-আমখোলা রোড থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, চম্পা বেগম তার সৌদি প্রবাসী মেয়ের বাসায় থাকতেন। তার দ্বিতীয় স্বামী নাসির উদ্দিন মাঝে মাঝেই সেখানে আসতেন ও অবস্থান করতেন। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর তিনি বাসায় আসেন এবং কয়েকদিন থাকার পর ২৬ নভেম্বর চলে যান। তার চলে যাওয়ার পর চম্পা বেগম দেখতে পান, আলমারির ড্রয়ার ভাঙা এবং সেখান থেকে স্বর্ণালংকার, ডায়মন্ড গয়না ও ৪০ হাজার সৌদি রিয়াল চুরি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫৮ লাখ টাকা।

পরবর্তীতে চম্পা বেগম বিষয়টি তার মেয়েকে জানালে, তিনি নাসির উদ্দিনকে ফোন করেন। তখন নাসির চুরি করা স্বর্ণ ও রিয়াল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা আর ফেরত দেননি। এ ঘটনায় চম্পা বেগম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৮/২০২৪)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে র‍্যাব-৮ অভিযানে নামে এবং নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। র‍্যাব-৮ জানায়, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চুরির মামলা ছিল। আমরা দ্রুততম সময়ে তদন্ত করে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”

**”মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”**

 




পটুয়াখালীতে ৪ বছরের শিশুর ওপর বর্বরতা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় চার বছরের এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে অভিযুক্ত চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শুক্রবার রাতে শিশুটির মা থানায় উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। রাতেই শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং মামলার পর পরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েকদিন আগে তাদের বাসায় বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শিশুটির মা তাকে বাসায় রেখে বাজারে যান। এ সময় শিশুটির চাচাতো ভাই তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা ফিরে এসে দেখেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জবরদস্তি করছে। তখনই তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

এরপর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার দুপুরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে শহর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।

 

**”মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”**

 




মতভিন্নতা থাকলেও যে কোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে : তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মতভিন্নতা থাকলেও যে কোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (২২ মার্চ) ১২ দলীয় জোটের ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে যে কোনো মূল্যে ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। মত-ভিন্নতা থাকবে, আমরা বসব, আলোচনা করব। এমন কিছু বলব না এবং এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকব যাতে করে কোনোভাবেই স্বৈরাচার বা তার প্রেত্মাতারা আবার এদেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসতে পারে।

‘বিএনপির ২ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে’
আন্দোলনে সহকর্মী ও আপনজনদের হারানোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আসুন, যে ঐক্যকে নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম, সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখি। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আগামী দিনে এই ঐক্যকে বজায় রেখে, এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত সংস্কার প্রক্রিয়া আমরা সকলেই মিলে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব।

সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো দুঃখজনক

আড়াই বছর আগে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয় উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে যেখানে সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র বলতে সাধারণ মানুষের কাছে কি বুঝা যায়? সাধারণ মানুষের কাছে এটি নির্বাচন, নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সিস্টেম যা আমরা গণতন্ত্র বলি।

তারেক রহমান বলেন, কেউ কেউ বলছেন যে সংস্কার শেষ হবে তারপর নির্বাচন হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যেটা শেষ হয়ে যায় সেটা তো সংস্কার হতে পারে না। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে গাফেলতিগুলো আছে, তা সংস্কার করব এবং সময়ের সঙ্গে আরও ভালো ব্যবস্থা করব। দেশের মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা এখানে আছি, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্নমত আছে, আদর্শ সবার এক নয়, কিন্তু একটি জায়গায় আমরা সবাই এক—তথা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ ও গণতন্ত্র। এখানে কোনো বিভেদ নেই।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং মুখপাত্র জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদার সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সেলিমা রহমান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের ফারুক হাসান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কাজী নাহিদ।




১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আজকের পরিস্থিতি: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “আমরা ১৬ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আজকের এই পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি। কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস আমরা নিতে পারছি।”

শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত রুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রদল (রুয়েট এক্স-জেসিডি অ্যাসোসিয়েশন) নেতাদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী আরও বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন আরও বেশি স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারি এবং এটি যেন চিরস্থায়ী হয়। এজন্য অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা, অর্থাৎ গণতন্ত্রের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “স্বস্তির নিশ্বাস দীর্ঘ করতে হলে সামনে কিছুটা পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে। সেই পথ যাতে নির্বিঘ্নে পার করতে পারি, সেই প্রচেষ্টা আমাদের নিতে হবে। তা না হলে আমাদের মনে রাখতে হবে, পরাজিত স্বৈরাচারের দানব ঘুমিয়ে থাকলেও মাঝে মাঝে জেগে ওঠার চেষ্টা করে।”

রিজভী বলেন, “এই ঘুমন্ত দানবের যাতে প্রত্যাবর্তন না ঘটে এবং নব্য বাকশাল বা অগণতান্ত্রিক শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য আমাদের সকল মতপার্থক্য সত্ত্বেও সাধারণ ঐক্যের মধ্যে থাকতে হবে।”

রুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাবের সাবেক মহাসচিব প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ, প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক রুহানি, শামীম রাব্বী সঞ্চয়, আব্দুল মোমিন তালকুদার প্রিন্সসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




রাজাপুরের হাজিবাড়ি মসজিদ: নান্দনিক স্থাপত্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় কানুদাসকাঠি গ্রামে অবস্থিত মনিরা হারুন জামে মসজিদ, স্থানীয়ভাবে হাজিবাড়ি মসজিদ নামে পরিচিত, বর্তমানে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী এবং চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের কারণে মসজিদটি শুধু স্থানীয় মুসল্লিদেরই নয়, দূরদূরান্তের মানুষদেরও মুগ্ধ করছে।

১৯৮১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের বাবা মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন, এবং ২০২১ সালে নিজের অর্থায়নে এটি পুনর্নির্মাণ করেন। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়ায় মসজিদটির গম্বুজ, মিনার এবং খোদাই করা নকশা সকলকে মুগ্ধ করে। মসজিদের ছাঁদে একই সাইজের চারটি মিনার এবং এক বড় গম্বুজ রয়েছে।

এটি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত মনোরম এবং আকর্ষণীয়। গম্বুজের সৌন্দর্য, সুদৃশ্য মিনার এবং কারুকার্যপূর্ণ কাজ দর্শকদের মুগ্ধ করে। মসজিদের নকশায় আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যকে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা এটিকে অন্য যেকোনো মসজিদের থেকে আলাদা এবং অনন্য করে তুলেছে। নির্মাণের পর থেকেই মসজিদটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং এখানে প্রতিদিন বহু মানুষ নামাজ পড়তে আসছেন।

স্থানীয় মুসল্লি মো. সিদ্দিক মুনশি বলেন, “আগের মসজিদটি ছোট ছিল, জায়গা সংকুলান হতো না। এখন আল্লাহর রহমতে একটি সুন্দর ও প্রশস্ত মসজিদ পেয়েছি, যেখানে অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসে নামাজ আদায় করছেন।”

দর্শনার্থী মাহিন খান রোমান জানান, “ফেসবুকে দেখে এখানে এসেছি। সত্যিই মসজিদটি অসাধারণ! এত সুন্দর মসজিদ আগে কখনো দেখিনি। এখানে এলে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।”

মসজিদের সভাপতি মাওলানা মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান, “মরহুম মাওলানা আবদুর রব প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তার ছেলে ২০২১ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করেছেন, যাতে আধুনিক স্থাপত্যের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে।”

এই মসজিদটি দক্ষিণ অঞ্চলের ইসলামি স্থাপত্যের একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শনও। যারা সৌন্দর্য ও প্রশান্তির সন্ধানে আছেন, তাদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম