জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গড়তে হবে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা জনগণের চাওয়া এবং লক্ষ্য বুঝে কাজ না করি, তবে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।”

রবিবার (২৩ মার্চ) রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরে ফারস হোটেলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “পলাতক স্বৈরাচার দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেগুলো পুনরায় মেরামত করতে হবে। আমাদের রাজনীতি যদি দেশের জনগণের চাওয়া অনুযায়ী না হয়, তবে এই দেশকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।”

তিনি যোগ করেন, “জুলাই-আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের সমর্থন ছিল, বলেই পলাতক স্বৈরাচারের মতো একজন মাফিয়াকে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব হয়েছে। জনগণ রাজপথে নেমে এসে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল।”

এছাড়াও, তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বলেন, “যতই সংস্কারের কথা উঠুক না কেন, আমাদের সবচেয়ে বড় পুঁজি হচ্ছে জনগণ। তাদের সমস্যাগুলি নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত এবং তা সমাধান করতে হবে।”

এফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা, এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের জনবান্ধব ইউএনও

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম মশিউর রহমান, তার কার্যকালে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি সর্বোচ্চ দরদাতার পরিবর্তে সর্বনিম্ন দরদাতাকে খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ২৩টি খেয়াঘাটের ইজারা দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এখানে, খেয়াঘাটের নির্ধারিত সম্ভাব্য মূল্য ছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু, সর্বোচ্চ দরদাতা জুয়েল মৃর্ধা ১২ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে এই খেয়াঘাট ইজারা পাওয়ার প্রার্থী ছিলেন। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে তাকে ইজারা দেওয়া হয়নি, এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর, জুয়েল মৃর্ধা তার অভিযোগ প্রকাশ করতে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ইজারা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তবে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে, তিনি আরও জানান যে, যদি তাকে ইজারা দেওয়া হতো, তবুও সাধারণ মানুষের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়ত না। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত সত্যিই সাধারণ মানুষের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, যদি খেয়াঘাট ইজারা তিন গুণ বেশি দামে দেওয়া হতো, তবে তার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ত। তারা আরো বলেন, এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিনই ইজারাদারদের সঙ্গে বিবাদ হতে পারতো, যা মানুষকে আরও বেশি সমস্যায় ফেলত।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত জানান, যদিও সরকারি নীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার নিয়ম, তবুও এখানে প্রশাসন স্থানীয় জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, প্রভাবশালীরা প্রায়ই সরকারি নীতি অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মেহেন্দীগঞ্জের বন্দর বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন স্বপনও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে হতে পারে। তাই, সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়া ছিল বাস্তবসম্মত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এম এম মশিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হওয়ার কথা ছিল, তবে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী তিনজনই বিধি অনুসরণ করে বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই, সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও তারা যোগ্যতা হারিয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীর্ষ বিনিয়োগ সম্মেলনে থাকবে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বুথ

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আগামী এপ্রিল মাসে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শীর্ষ বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা দেশের প্রকৃত চিত্র ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।

সম্মেলনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের আলাদা বুথ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)সহ বিভিন্ন পলিসি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকবে বিশেষ স্পেস। তবে, সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, সম্মেলনে তিনটি রাজনৈতিক দলের বুথও থাকবে, যা পরস্পরকে সংলাপের সুযোগ দিতে পারে।

এই রাজনৈতিক দলগুলো হচ্ছে – বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসব দলের বুথের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা ও মতামত জানাতে পারবেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে তারা আমাদের দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। সম্মেলনে পলিসি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে।”

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সহ অন্যরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে: বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সরোয়ার

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং এদেশের আলেম-ওলামাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা দমন করা হয়েছে, কেউ মুখ ফুটে কথা বলতে পারেনি, সবাই অত্যাচারের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।” গণতন্ত্র রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই, আমাদের সকলকে এক হয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করতে হবে।”

আজ রবিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর হোটেল সেডোনায় গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগর শাখার আয়োজনে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সভাপতিত্ব করেন, এবং প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মুন্না। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের এইচ এম শামীম রেজা, ফরহাদ হোসেন তালুকদার, জামাত নেতা মতিউর রহমান, গণধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগর মোঃ ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফয়সাল, জেলা সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাসান সহ অনেকে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলানো হতে পারে: ফারুকী

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলানোর চিন্তা চলছে। তিনি বলেন, নতুন নাম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার (২৩ মার্চ) সচিবালয়ে জাতীয় নববর্ষ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফারুকী বলেন, “এবারের শোভাযাত্রায় বিভিন্ন জাতিসত্তার অংশগ্রহণ থাকবে, এবং নতুন রঙ, গন্ধ ও সুর পাওয়া যাবে। চারুকলা থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রায় অনেক নতুনত্ব দেখতে পাবেন, যা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তনের প্রতিফলন হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি সারপ্রাইজ হবে। এটি একটি টিজার—যারা এতে অংশগ্রহণ করবেন, তারা নিজেরাই চোখে দেখবেন কীভাবে পরিবর্তন ঘটছে।”

ফারুকী আরও জানান, শোভাযাত্রার নতুন নাম কী হবে, তা আগামীকাল ঢাবিতে আয়োজিত সভায় নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, “এটি প্রথমে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শুরু হয়েছিল, পরে তা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। যে নাম একবার পরিবর্তিত হয়েছে, তা আবারও পরিবর্তিত হতে পারে যদি সকলেই সম্মত হন।”

তবে, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই সম্মত না হলে তা না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপদেষ্টা ফারুকী বলেন, “এবারের শোভাযাত্রা শুধু বাঙালিদের নয়, বরং চাকমা, মারমা, গারোসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীরও হবে। তাই এমন একটি নাম দেওয়া হবে যা সকল জাতিসত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং কারও ব্র্যাকেটের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে: চিফ প্রসিকিউটর

সাভারের আশুলিয়ায় ছয়টি লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রবিবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, “আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও তিন থেকে চারটি মামলার তদন্তের ফিনিশিং টাচ চলছে। আশা করছি, ঈদের পর-পরই এসব রিপোর্ট আমাদের হাতে আসবে। রিপোর্ট আসলেই আমরা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করব। এরপর চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হবে।”

এছাড়া, লাশ পোড়ানোর ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যার পর, পুলিশ ভ্যানে রেখে তাদের মরদেহে আগুন দেয়া হয়েছিল। হত্যার শিকার এক ব্যক্তি তখন জীবিত ছিলেন, তাকে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় আগুন দেয়া হয়।”

এদিকে, এই ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দুইটি অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে একটি মামলা চলমান রয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলায় সাইফুল ইসলাম পলাতক থাকলেও, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন ওসি এ এফ এম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এই ঘটনার সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে, তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক বড় রূপ নেয়। এ আন্দোলনকে দমন করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করা হয়।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলমান রয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম শেষ হলে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থান জানলেও ভারতের কিছু করার ছিল না: জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে হাসিনাবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি ভারতের কাছে পরিচিত ছিল, তবে সে সময় ভারত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম ছিল না। তিনি বলেন, ভারত সরকারের শেখ হাসিনার ওপর যথেষ্ট প্রভাব ছিল না, তাই শুধু পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ ছিল।

শনিবার (২৩ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারত এ বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল, কিন্তু সেসময় আমাদের অবস্থান এমন ছিল না যে আমরা কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব। আমাদের শেখ হাসিনার ওপর যথেষ্ট প্রভাব ছিল না।”

বৈঠকে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি—বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান—নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর তার বক্তব্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তুর্ক সম্প্রতি বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিল, যাতে তারা দমন-পীড়নে জড়িত না হয়, না হলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে তারা বাদ পড়তে পারে।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন, এবং এখনও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকায় সুলতানি আমলের মতো ঈদ মিছিলের আয়োজন: আসিফ মাহমুদ

ঢাকায় ঈদ আনন্দের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সুলতানি আমলের ঐতিহ্যবাহী ঈদ মিছিল আয়োজন করতে যাচ্ছে।

রবিবার (২৩ মার্চ) এক ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমাদের ঈদ উৎসবে এখন আর সেই পুরোনো আনন্দ নেই। ঈদের জামাত ছাড়া সমাজে কোনো বড় আয়োজন বা কমিউনিটি ভিত্তিক অনুষ্ঠান চোখে পড়ে না। আমরা সেজন্য ঈদকে নগরবাসীর জন্য আরো বিশেষ করে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “ঈদে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মিছিল ছিল সুলতানি আমল এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে, যা ঢাকাবাসীর মাঝে আনন্দ এবং একত্রিত হওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম ছিল। এবার থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে।”

এবার ঈদের জামাতের আয়োজন হবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে (বাণিজ্য মেলার পুরাতন মাঠ) এবং এই এলাকায় একটি দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবে, ঠিক যেমন গ্রামের ঈদগাহের পাশে মেলা বসে। জামাতের পর, ঐতিহ্য অনুযায়ী, এক বর্ণাঢ্য এবং আনন্দপূর্ণ ঈদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। মিছিলটি জামাতের স্থান থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকার সকল নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে আমাদের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন। এবারের ঈদ যেন একসাথে উদযাপনের উৎসবে পরিণত হয়। নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই আয়োজনের সফলতা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




মার্চের ২২ দিনে এল ২৪৩ কোটি ডলার

প্রবাসীদের ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মার্চের ২২ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ২৪৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। প্রতিটি ডলার ১২৩ টাকার ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ডলার বা এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকা।

রবিবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

এছাড়াও, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবর ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার, জানুয়ারিতে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রমজানে নেক আমল ও সমাজসংস্কার

পবিত্র রমজান মাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধি ও আত্মোন্নতির সময় নয়, বরং এটি সমাজকে পরিশুদ্ধ এবং উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে এমন কিছু আমলের গুরুত্ব রয়েছে, যা পুরো সমাজকে একত্রিত করে, সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। নিম্নলিখিত আমলগুলো তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে:

হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে বন্দি রাখেন, ফলে পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা সহজ হয়। সুতরাং, রমজানে যদি কেউ অন্যায় কাজ করে, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত। তবে, এই প্রতিবাদ কখনো রাষ্ট্রীয় আইন বা সামাজিক শান্তি বিপর্যস্ত করার কারণ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)

সমাজে অশান্তির একটি বড় কারণ হলো অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা। রমজান মাসে আমাদের উচিত, আমরা যদি পূর্বে কোনো কারণে অন্যের অধিকার হরণ করে থাকি, তা ফিরিয়ে দেওয়া। নবী (সা.) বলেছেন, “যার কাছে তার ভাইয়ের কোনো অধিকার থাকে, সে যেন আজই মিটিয়ে ফেলে, যেদিন কোনো টাকা-পয়সা থাকবে না, বরং সে দিন তার নেকি থেকে অধিকারীদের নেকি নিয়ে নেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)

রমজান মাসে পরনিন্দা, পরচর্চা ও বিবাদ থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ, এবং যে ব্যক্তি রোজা রাখে তাকে গালি দেওয়া বা মারামারি করার চেষ্টা করলে, সে যেন শুধু বলে, আমি রোজা আছি।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১)

আধুনিক সমাজে আত্মীয়তা অনেক সময় অবহেলিত হয়, কিন্তু ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করার গুরুত্ব দিয়েছে। রমজান মাসে এই সম্পর্কগুলো আরও শক্তিশালী করা উচিত। নবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন, কিন্তু কিছু মানুষের জন্য ক্ষমা নেই, যারা মা-বাবার অবাধ্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বিদ্বেষ পোষণ করে।” (শুআবুল ঈমান, ৫/২৭৭)

হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত ও দোয়াকে নিষ্ফল করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৯৩)

প্রদর্শন ও খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা নেক আমলের সুফল ধ্বংস করে। রমজান মাসে কোনো ভালো কাজ করলে তা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করতে হবে, এবং প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নেক কাজ করুন, এবং লোক দেখানো কাজ পরিহার করুন।” (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৩১৪০)

সমাজ গঠনে প্রথমে ব্যক্তির চরিত্রের উন্নয়ন অপরিহার্য। রোজা হলো সংযম ও সাধনার মাধ্যমে নিজের কুপ্রবৃত্তি দমনের হাতিয়ার। নবী (সা.) বলেছেন, “একজন মুমিন তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে রোজা রাখার মতো মর্যাদা লাভ করে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৯৮)

রমজান মাসে এসব নেক আমলগুলো পালন করে আমরা শুধু নিজেদেরই পরিশুদ্ধ করতে পারি না, বরং পুরো সমাজকেও একটি আদর্শ সমাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম