নৌকা প্রতীকে নিবন্ধন চেয়ে ইসিতে আবেদন




বাংলাদেশে এখনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি




বন্ধ হয়ে যাবে হাজার হাজার ট্রাভেল এজেন্সি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ‘গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধের’ নামে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি খসড়া পরিপত্র তৈরি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এই খসড়া পরিপত্র হিসেবে জারি হলে বন্ধ হবে দেশের হাজার হাজার ট্রাভেল এজেন্সি, বেড়ে যাবে গ্রাহক হয়রানি।

পরিপত্রের খসড়ার (ণ)- ধারাতে লেখা হয়েছে, ‘এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করিতে পারিবে না।’

খসড়া পরিপত্রের এই ধারার বিরোধিতা করে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বলছে, বিশ্বব্যাপী ট্রাভেল ব্যবসায় এজেন্ট টু এজেন্ট (বি-টু-বি) মডেল প্রচলিত, যেখানে এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করতে পারে। বাংলাদেশে এই নিয়মের ব্যত্যয় হলে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না। পাশাপাশি এই সেক্টরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দেশে বর্তমানে ৫৭৪৬টি লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৯৭০টি ট্রাভেল এজেন্সি আয়াটার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ৯৭০টির মধ্যে কেবল ৩৫০টি ট্রাভেল এজেন্সির কাছে এমিরেটস এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সসহ বড় বড় এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির অনুমতি (ক্যাপিং) আছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির অথোরিটি পেতে হলে আয়াটাসহ সবমিলে ৪০ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। এছাড়াও এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, সালাম এয়ার, জাজিরা এয়ারওয়েজের মতো বাজেট এয়ারলাইন্স রয়েছে যাদের টিকিট আয়াটাতে পাওয়া যায় না।

ফলে দেশের ৫ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি টিকিট সংগ্রহের জন্য এই ৩৫০টি ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল। যদি সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারে সেক্ষেত্রে এই ৫ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাঝারি ও ছোট পরিধির প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) আবদুস সালাম আরেফ বলেন, পরিপত্রের খসড়ার বিষয়টি বিমান মন্ত্রণালয় থেকে আটাবের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি। ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা নিয়ে মন্ত্রণালয় আটাবের সঙ্গে যে আলোচনা করেছিল সেখানে এই বিষয়টি (এক এজেন্সি অন্য এজেন্সিকে টিকিট বিক্রি করতে পারবে না) ছিল না। ব্যবসা করতে না পারলে সবার সমস্যা হবে। সব এজেন্সির কাছে সব এয়ারলাইন্সের টিকিট থাকে না। অনেক সময় ফান্ডের সংকট হয়, সেক্ষেত্রে এক এজেন্সিকে আরেক এজেন্সির সহযোগিতা নিতেই হবে। এই পরিপত্রে এমন বিষয় থাকলে ব্যবসায় অনেক সমস্যা হবে। এটা আমরা চাই না।




৭৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি মামলায় জাকিয়া সুলতানা বেবি ফের পটুয়াখালী আদালতে

পটুয়াখালী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, কাশিমপুর কারাগারে আটক, ৭৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি মামলার আসামি আলোচিত পটুয়াখালী আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী জাকিয়া সুলতানা বেবি ফের পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কারাগারে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের করা ৭৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির মামলার পাশাপাশি, জাকিয়া সুলতানা গংদের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে আরও একটি ঋণ খেলাপি মামলা দায়ের করা হয়, যা পটুয়াখালী টেক্সটাইল মিলস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ছিল। মামলার নম্বর ছিল ৬১৪। শেখ হাসিনার শাসনামলে, ক্ষমতার দম্ভে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ ঋণ কিস্তি পরিশোধ না করে ঝুলিয়ে রাখতেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০০৪ সালের মামলায় আদালত ঋণ আদায় আইন ২০০৩ এর ৩৪ (৭) ধারার বিধান অনুযায়ী ৬ মাসের দেওয়ানী আটক আদেশ প্রদান করেন।

এদিকে, আটক আদেশ প্রদান হওয়ার আগেই আসামি জাকিয়া সুলতানা বেবি দীর্ঘদিন ধরে ৭৭ কোটি টাকার মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দী ছিল। হঠাৎ কাশিমপুর কারাগার থেকে পটুয়াখালী আদালতে আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে, পটুয়াখালী সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই হুমায়ুন কবির বলেন, “যেহেতু আসামি আরেকটি মামলায় জেল হাজতে রয়েছে এবং নতুন করে তার বিরুদ্ধে সাজার ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাই এই মামলায় ওয়ারেন্ট দেখানোর জন্য কাশিমপুর কারাগার থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়।” তিনি আরও জানান, “এই মামলায় আগামী ২৫ মার্চ আসামিকে পুনরায় শুনানির জন্য পটুয়াখালী অর্থঋণ আদালত ও যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে সশরীরে হাজির করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”

 

মো:আল-আমিন




বাউফলে চাঁদার টাকা না পেয়ে তরমুজ চাষিকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে চাঁদার টাকা না পেয়ে জুয়েল মীর (৩৫) নামে এক তরমুজ চাষিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে হাজির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল মীর হাজির বাজার এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেন। তার বড় ভাই বাচ্চু মীর তরমুজ খেত দেখাশোনা করতেন।

চাষির অভিযোগ অনুযায়ী—
একই এলাকার আলমগীর গাজীর দুই ছেলে জাহিদুল (৩০) ও জামাল (২৮) তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
✔ উপায় না পেয়ে গত ১৯ মার্চ রাতে তারা ৫০ হাজার টাকা দেন।
২৩ মার্চ বিকেলে বাচ্চু মীর শ্রমিক নিয়ে তরমুজ কাটতে গেলে জাহিদুল ও জামাল বাধা দেন, এতে বিবাদের সৃষ্টি হয়।
✔ একপর্যায়ে জাহিদুল ও জামাল তাদের লোকজন নিয়ে বাচ্চু মীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল বলেন, “জুয়েল মীরের বাবা আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। তারা বিগত সময়ে আমাদের ওপর অনেক জুলুম করেছেন। আমরা কোনো চাঁদা দাবি করিনি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নজরুল ইসলাম খান রাজনকে ঘিরে উজ্জীবিত বরিশাল বিএনপি

জাকির নেগাবান ও এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন দলের অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রতীক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন। দীর্ঘদিন প্রবাসে চিকিৎসা ও রাজনৈতিক নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তিনি নতুনভাবে সংগঠনের কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার প্রত্যাবর্তন বরিশাল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দলীয় কোন্দল, নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক দুর্বলতার সময় তার সক্রিয় অংশগ্রহণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব এনে দিয়েছে।

বরিশাল বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক ভূমিকা :: ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে বরিশাল বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বর্তমানে বরিশাল বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করার প্রয়াসে তিনি ফের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তার নেতৃত্বে বরিশাল বিএনপি নতুন করে উজ্জীবিত হচ্ছে এবং দলীয় কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ :: বরিশালে ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। সম্প্রতি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

শনিবার (২২ মার্চ) রাত ৯টায় নগরীর স্ব-রোডের বাসভবনে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তারা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজন কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন,দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব।

দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের বিরুদ্ধে অবস্থান::
গত ১৬ মার্চ বরিশাল জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) পকেট কমিটি গঠনের প্রতিবাদে নজরুল ইসলাম খান রাজনের নেতৃত্বে একাংশ নেতাকর্মী নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল বরিশাল ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির বিভাগীয় মতবিনিময় সভা চলছিল। সভায় উপস্থিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিভাগীয় টিম প্রধান আবদুল আউয়াল মিন্টুর কাছে বিক্ষোভকারীরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বিক্ষোভের পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন,বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন হয়ে আসছে। কিন্তু এখন কিছু নেতা দলীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত করতে চাচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। কেন্দ্রও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নিশ্চয়তা দিয়েছে। অনিয়ম হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

একাধিক দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নজরুল ইসলাম খান রাজন।

এই আসনে মনোনয়ন পেতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন খানও দৌঁড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন। তবে রাজন বরিশাল বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা তাকে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

রাজনৈতিক হামলা ও ফিরে আসার সংগ্রাম::
২০১১ সালের ১১ মে ভোলায় বিএনপির সমাবেশ শেষে বরিশাল ফেরার পথে চরকাউয়া ফেরীতে আকস্মিক হামলার শিকার হন নজরুল ইসলাম খান রাজন।

হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চোখ উৎপাটনের চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ একযুগ পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি দেশে ফেরেন এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে মিছিল নিয়ে যোগ দেন। এরপর ১৮ ডিসেম্বর বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের টুমচর গ্রামে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত করেন।

বর্তমানে নজরুল ইসলাম খান রাজনের নেতৃত্বে বরিশাল বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি দলের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের একত্রিত করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। বরিশালে তার ফিরে আসা বিএনপির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বরিশাল অফিস /এসএলটি




জরুরি অবস্থা জারির গুজব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, দেশে জরুরি অবস্থা জারির গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ও পেট্রোলিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এসওপি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র সচিব এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অবসরপ্রাপ্ত) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “অনেকেই দালালের মাধ্যমে ঘরবাড়ি ও জমি বিক্রি করে অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এটি ঠেকাতে সরকার সক্রিয় হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এসওপি স্বাক্ষর করেছে।”

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় একটি ভিসা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা করছে দেশটি। তবে, অস্ট্রেলিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেননি স্বরাষ্ট্র সচিব।

ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির গুজব নাকচ করে তিনি বলেন, “ঈদের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি

আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না।

দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ বাণী প্রদান করবেন। সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি, হাডুডু ইত্যাদি খেলার আয়োজন করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম ও পথশিশুদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও চাঁদপুরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সন্দ্বীপে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা চালু, ‘লজ্জার বিষয়’: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে ফেরি চালু হওয়ায় এখন সবাই নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা শিশু, অসুস্থ বা বৃদ্ধ, তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। সন্দ্বীপ, যা বাংলাদেশের অন্যতম উপকূলীয় দ্বীপ, স্বাধীনতার অর্ধশতক পরেও এই দ্বীপের সঙ্গে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এটা একটা লজ্জার বিষয়, বলেন তিনি।

৫৪ বছর পর আজ চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে ফেরি চালু হওয়ার পর সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ৫০ বছর পার হলেও শহর-বন্দরসহ সব কিছু চললেও সন্দ্বীপবাসীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় যাতায়াত করতে হচ্ছিল। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ফেরি চালু হওয়ার মাধ্যমে সন্দ্বীপের মানুষ আর ভয় পাবে না। যাতায়াত সহজ হওয়ায় তারা এখন পরিবারসহ যেকোনো জায়গায় নিরাপদে যেতে পারবে। তিনি আরো বলেন, “সন্দ্বীপের লোক সারা পৃথিবী ঘুরে আসে, নিউ ইয়র্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সন্দ্বীপের অনেক মানুষ রয়েছে। গর্ব করার মতো বিষয় হলো, চট্টগ্রাম শহরের কিছু সুযোগ-সুবিধা সন্দ্বীপেও পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সন্দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা অনেক কঠিন ছিল। সেখানে সরাসরি যান চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না, যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে রোগীদেরও হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন ফেরি চালু হওয়ার ফলে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।

তিনি বলেন, “এছাড়া, সন্দ্বীপকে নৌবন্দর ঘোষণা, কুমিরা গুপ্তছড়া ঘাট উন্মুক্ত করা, ঢাকা-কুমিরা বাস চালু করা, ফেরিঘাট এলাকায় সড়ক নির্মাণ এবং নৌপথে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” এসব উদ্যোগ সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমিয়ে আনবে।

অবশেষে তিনি বলেন, সন্দ্বীপের মানুষ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এখন তাদের জীবনযাত্রা আরও উন্নত হবে। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য এবং এই মাইলফলক অর্জনে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে মহাসড়কের ফুটপাত দখলে দুর্ঘটনা, পথচারীরা বিপদে

ঝালকাঠি শহরে মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবাধ চলাচল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি ।

ঝালকাঠিতে মহাসড়কের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে, যা পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের বরিশাল-খুলনা অংশে সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখলের ঘটনা ঘটছে, যেখানে মানুষ হাঁটার জন্য জায়গা পায় না। নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি পার্কিং এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য ফুটপাত দখল করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সড়কের সংকীর্ণতা বাড়িয়ে যানবাহনের চাপ আরও বৃদ্ধি করছে, ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।

মগড় এলাকার বাসিন্দা সোবাহান জমাদ্দার জানান, “পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঝালকাঠি মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে, তবে রাস্তার প্রশস্ততা বাড়েনি। ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসা গড়ে ওঠায় পথচারীরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।”

সম্প্রতি মহাসড়কের ফুটপাতে রাখা নির্মাণ সামগ্রীর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠক সুভাষ বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।”

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানিয়েছেন, “জাতীয় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং অস্থায়ী ব্যবসা বন্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।”

এটি যে ঝালকাঠি শহরের সমস্যা, তা সবার কাছে স্পষ্ট। ঝালকাঠি থেকে খুলনা রুটে ৩৭ কিলোমিটার এবং কুয়াকাটা রুটে ৮ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে, যার অধিকাংশ স্থানেই ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, যা পথচারীদের চলাচলে বিশাল বাধা সৃষ্টি করছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম