চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে: রাশেদ খান

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম রাশেদ খান বলেছেন, “চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এইবার যদি আমরা গড়তে না পারি, তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান অতীতের বিপ্লবের মতো ব্যর্থ হবে।” তিনি আরও জানান, একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশকে কোনোভাবেই তুলনা করা যাবে না।

রাশেদ খান বুধবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি যোগ করেন, “একাত্তর আমাদের স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছে, এবং এই স্বাধীনতাকে অন্য কোনো বিপ্লব বা আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। একাত্তরের শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে আমরা অন্যান্য আন্দোলন করার সাহস পেয়েছি।”

রাশেদ খান চব্বিশের আন্দোলন নিয়ে আরও বলেন, “চব্বিশে আমরা সর্বশেষ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এই লড়াই সবে মাত্র শুরু হয়েছে। হাসিনার পতন হয়েছে, কিন্তু তার ফ্যাসিবাদী শাসন এখনো শেষ হয়নি। এখনো সচিবালয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সহ সকল বাহিনীতে আওয়ামী লীগের প্রেত্মাতারা রয়েছেন।”

তিনি শেষ করেন, “আমাদের লড়াই তখনই শেষ হবে, যখন আমরা আওয়ামী লীগের সাম্রাজ্যকে ভেঙে চুরমার করে ফেলতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আলেম-ওলামাদের সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে: হাসনাত

গত দেড় দশক ধরে মাদরাসাগুলোর ইসলামিক পড়াশোনাকে দ্বিতীয় গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আলেম-ওলামাদের সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন আলেমরা।

এ কথা তিনি বুধবার (২৬ মার্চ) দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র ইফতার মাহফিল, হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তৈরি করতে পেরেছি। দেশে ও বিদেশে ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকলেও আমরা আমাদের ধর্মীয় জনগণের সঙ্গে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। সাম্প্রদায়িক উসকানি আমাদের প্রতি দেওয়া হয়েছে, আমাদের সিলেটের এক ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও এ পথ অনুসরণ করব।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ দেবীদ্বারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন এবং বলেন, “আমরা দেবীদ্বারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির একক আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। গত ৭ মাসে এখানে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং ভবিষ্যতেও আমরা আরও সৃষ্টিশীল উন্নয়ন সাধন করব। জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশকে ন্যায়, সাম্য এবং সামাজিক সুবিচারের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।”

হাসনাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম রাম্পুর মাদরাসার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা লোকমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলাম, বিএনপি কুমিল্লা (উ.) জেলা সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী, অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা তাদের মারধর করার পাশাপাশি ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা সোহেল রাঢ়ির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে, যখন স্থানীয় সংবাদপত্রের সাংবাদিক এন আমিন রাসেল ও মনিরুল ইসলাম বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলার তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।

সাংবাদিক এন আমিন রাসেল জানিয়েছেন, “আমরা যখন মোটরসাইকেলে বের হচ্ছিলাম, তখন সোহেল রাঢ়ির নেতৃত্বে একদল যুবক আমাদের ওপর চড়াও হয়। তারা আমাদের মারধর করে এবং আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে হামলা চালায়। পরে আমাদের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।”

সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম জানান, “তাদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তারা আমাদের গালিগালাজ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে আমাদের বেধড়ক মারধর করে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চাই।”

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকলে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমও থাকবে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।”

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রাঢ়ি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এটি আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আমরা ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে সাংবাদিকরা অবরোধ তুলে নেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




বাউফলে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে গণপিটুনি, পরে মুক্তি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ডাকাতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আজ বুধবার দুপুরে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিলদি গ্রামের মো. ইয়াছিন মাঝি (৬৫) ও তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মাঝি (৩০), একই উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের মো. রুবেল (২৯) ও মো. সিয়াম (২২) এবং দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর গ্রামের মো. রাকিব (১৯)।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নের কালিশুরী বন্দর এলাকায় স্থানীয়রা তাদের ডাকাত সন্দেহে আটক করে পিটুনি দেয়। এর আগে, পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থান নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকরা পণ্য পরিবহনের কাজে একটি ট্রলারে করে ভোলা থেকে বাউফলের বগার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ডাকাতির গুজবে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা টর্চলাইট ও লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তায় বের হয়ে আসেন। ট্রলারটি কালিশুরী এলাকায় পৌঁছালে “ডাকাত ডাকাত” বলে মাইকিং শুরু হয়। আতঙ্কে শ্রমিকরা ট্রলার নিয়ে স্থানীয় খালে আশ্রয় নেন। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায় এবং তাদের ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।

বাউফলের মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী শংকর পাল বলেন, “ভোলার ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বাউফলের বগা ও কনকদিয়া থেকে মাটির পণ্য ক্রয় করেন। রাজ্জাক ও তার বাবা ইয়াছিন মাঝি বছরব্যাপী এই পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। ঈদ ও তরমুজ মৌসুমে ব্যস্ততা থাকায় তারা রাতে বগায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটে।”

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, “আমরা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই শ্রমিক। তাই মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী শংকর পালের জিম্মায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার তেগাছিয়া-সোনাতলা খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গণঅভ্যুত্থানের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখানকার যাত্রীদের জিম্মিদশার অবসান হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রতি পাঁচ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও দিনে কমপক্ষে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। রাতের বেলায় সেই ভাড়া আরও দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত নেওয়া হয়। মোটরসাইকেল পারাপারের ক্ষেত্রে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

খেয়ার চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৫০০ যাত্রী এ ঘাট দিয়ে পারাপার হন। অতিরিক্ত ভাড়া হিসাবে দৈনিক অন্তত আড়াই হাজার টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। ফলে মাসে ৭৫ হাজার এবং বছরে প্রায় ৯-১০ লাখ টাকা চাঁদার মতো আদায় করছে একটি চক্র।

ভুক্তভোগীরা এই পরিস্থিতির অবসান চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা টানানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় পার হতে পারেন।

এ বিষয়ে খেয়া আদায়কারী সজিব বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন নেই, তাই এখন অন্যরা খেয়াঘাটের টাকা তুলছেন।”

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৌরভ বশার বুধবার (২৬ মার্চ) রাতে বাউফল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ব্যবসায়ী সৌরভ বশার তাঁর পেট্রোলবাহী লরি (ঢাকা মেট্রো ঢ-৪২-০০২৫১) নিয়ে বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় খন্দকার এন্টারপ্রাইজের মালিক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন খন্দকার বাকিতে পেট্রোল চান। সৌরভ বশার তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে বলেন, এলাকায় পেট্রোল বিক্রি করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সৌরভ বশারের কাছ থেকে ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ভর্তি একটি কালো ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাঁর লরিতে থাকা ৪০০ লিটারের দুই ব্যারেল পেট্রোল এবং ম্যাক্স-প্রো ব্র্যান্ডের ২৪টি মবিল জোরপূর্বক নামিয়ে রাখা হয়। বাধা দিতে গেলে সৌরভ বশারকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

এসময় তাঁর সঙ্গে থাকা গাড়িচালক মো. নুর হোসেন (৩২) এবং সহকারী মো. জনি এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে সৌরভ বশার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে লিটন খন্দকার বলেন, “আমি নিয়মিত সৌরভ বশারের কাছ থেকে পেট্রোল কিনি। ঘটনার দিনও দুই ব্যারেল পেট্রোল কিনেছি, তবে প্রতিটি ব্যারেলে ১২-১৪ লিটার করে কম ছিল। আমি এ নিয়ে আপত্তি জানালে সৌরভ বশার রেগে যান এবং আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তখন স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতি রিমন সিকদার এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে টাকা ছিনতাই বা পেট্রোল জোর করে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “সৌরভ বশার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভুয়া সেনাসদস্য সেজে প্রতারণা, পটুয়াখালীতে যুবক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সেনাসদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকান থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম কামরুল ইসলাম (১৯)। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত মুনসুর আলী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম প্রায় এক মাস ধরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার পর তিনি উপজেলার নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে যান এবং শেফা কসমেটিকস অ্যান্ড গার্মেন্টস নামের একটি দোকানে ঈদের পোশাক কিনতে ঢোকেন।

পোশাক পছন্দ করার সময় তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে দোকানের মালিক মো. নাসির হাওলাদারের ভাই, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মিজান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কামরুল ইসলামের কথাবার্তায় সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিস্তারিত জানতে চান।

মিজানের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তিনি বিষয়টি মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কামরুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ জানান, সেনাসদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে জড়িত : প্রধান উপদেষ্টা




কৃষকের তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন পাইকারি আড়তদাররা

ভোলার চরাঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকেরা পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য। আড়তদার ও পাইকারি সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা বিপদে পড়েছেন। তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন পাইকারি আড়তদাররা, যাদের কারণে কৃষকদের লাভের পরিমাণ কমছে।

এ বছর ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কৃষকরা যখন তাদের তরমুজ বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে আসেন, তখন তাদের সাথে পাইকারি আড়তদার ও সিন্ডিকেটরা চুক্তি করে। এই চক্রে কৃষকরা কম দামেই তরমুজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোলা, বরিশাল এবং ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোতে আড়তদাররা আগে থেকেই দাম নির্ধারণ করে নেন এবং কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে তরমুজ কিনে তা বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি করেন।

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুন ও মো. রফিজল জানান, তাদের তরমুজ বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তবে পরিবহন খরচ বাদে প্রতি পিস তরমুজে তাদের লাভ থাকে মাত্র ২৫-৩৫ টাকা।


তরমুজ নিয়ে ভোলা, বরিশাল এবং ঢাকার পাইকারি বাজারে গিয়ে ট্রাক ও ট্রলারে পরিবহন খরচ বহন করতে হয় কৃষকদের। যদি তরমুজ বিক্রি না হয়, তবে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ গুনতে হয়। কৃষকরা বলেন, যদি বাজারে সিন্ডিকেট না থাকত, তবে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন এবং ভবিষ্যতে তরমুজ চাষ আরও বৃদ্ধি পেত।

ভোলার পাইকারি আড়তদার মো. আব্দুল বাশার কামরুল জানান, তাদের কাছে তরমুজ এনে কৃষকরা নিলামে অংশ নেন। প্রথম দাম নির্ধারণ করে আড়তদাররা, এবং যার বেশি দাম হয়, সেই কিনে নেয়। তিনি দাবি করেন যে, বাজারে কোন সিন্ডিকেট নেই। তবে আড়তদারেরা বিক্রির ১০ ভাগ কমিশন নেন।

ভোলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন জানান, তারা নিশ্চিত করছেন যে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে এবং বাজারে তরমুজের দাম বাড়ানো না হয়। যদি কেউ অতিরিক্ত দাম নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় ১৩,৬১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামীতে কৃষকদের আরও বেশি সহযোগিতা দেয়া হবে, যাতে তরমুজের আবাদ আরও বৃদ্ধি পায়।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশ ও ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা ট্রাম্পের, সম্পর্ক জোরদারের বার্তা