বাউফলে মারামারি মামলায় তরুণী সানজানা খান সিঁথি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার বাউফলে একটি মারামারি মামলায় সানজানা খান সিঁথি (২৪) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়। মামলার বাদি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খলিলুর রহমান।

এটি একটি মারামারি মামলার ঘটনা হলেও সানজানা খান সিঁথি এজাহারভূক্ত আসামী না হলেও, অজ্ঞাত আসামী হিসেবে তাকে বাউফল থানার পুলিশ শুক্রবার বিকালে পৌর শহরের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন তার বাবার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, সানজানা খান সিঁথিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি মারামারি মামলায়। তিনি বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ করেন।

এছাড়া, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সিঁথি তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানীকর পোস্ট দিয়ে আসছেন এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে চাঁদা না দেওয়ায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ

 টুয়াখালী জেলার বাউফলে চাঁদা না দেওয়ার কারণে এক পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দেওপাশা গ্রামে। আহত ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন হাওলাদার (৪৮), যিনি বরিশালের উজিরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার হিসেবে কর্মরত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে দেওপাশা গ্রামের এনামুল গং হেলাল উদ্দিনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় এনামুল গংরা হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি দোকানঘর ভাড়া দেয়া ব্যবসায়ী আনিস সিকদারকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ঘটনার রাতে হেলাল উদ্দিন তার বৃদ্ধ বাবা আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে চাচাতো ভাই মজনু হাওলাদারের বাসায় যাওয়ার সময় এনামুল গংরা আবারও চাঁদার টাকা দাবি করেন। এ সময় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে হেলাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, “ঈদের বেতন-বোনাসের প্রায় আড়াই লাখ টাকা পকেটে ছিল, যা মারধর করে এনামুল গংরা ছিনিয়ে নিয়েছে।” তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক বলেন, “আমার এবং হেলাল হাওলাদারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।”

বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে তিন শতাধিক ইমাম-মুয়াজ্জিনের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী বিতরণ

পটুয়াখালী পৌরসভার উদ্যোগে পৌর এলাকার ৩০০-এর বেশি ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী পৌরসভার নতুন ভবনে এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর প্রশাসক (উপসচিব) ও এলজিইডি পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক জুয়েল রানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান।

এবারের ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী হিসেবে ১২৬ জন ইমাম, ২৩৫ জন মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা. মুজিবুর রহমান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী এইচ এম সুলাইমানসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

সম্মানী বিতরণকালে পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকাদান, বাল্যবিবাহ রোধ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমামদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।”

২০২০ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ প্রথমবারের মতো পটুয়াখালী পৌর এলাকায় ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সম্মানী বিতরণ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও সমাজ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত রেখে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির আহ্বান

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

শনিবার (২৯ মার্চ) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (২৮ মার্চ) মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। একই ধরনের ভূমিকম্প বাংলাদেশেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা

ফায়ার সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ভবন নির্মাণ ও সংস্কার: বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ ও পুরোনো ভবন সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
  • অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা: বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ইউটিলিটি সেবা: গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, যাতে ভূমিকম্পের সময় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমে।
  • সচেতনতামূলক মহড়া: ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ভূমিকম্পকালীন করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত মহড়া আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • জরুরি টেলিফোন নম্বর সংরক্ষণ: ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসপাতালসহ অন্যান্য জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করা ও দৃশ্যমান স্থানে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে করণীয়

ভূমিকম্পের সময় জরুরি অবস্থায় কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

  • ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ: দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
  • জরুরি সরঞ্জাম সংরক্ষণ: বাড়িতে টর্চলাইট, রেডিও (অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ), বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, ফার্স্ট এইড বক্স ও শিশু যত্ন সামগ্রী সংরক্ষণ করতে হবে।
  • সরকারি সংস্থার সহযোগিতা: ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্প সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য ও জরুরি সহায়তার জন্য ০১৭২২৮৫৬৮৬৭ মোবাইল নম্বর ও ১০২ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ঈদযাত্রায় ফিরে এসেছে পুরানো দৃশ্য

বরিশাল নদী বন্দর এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঈদে ঘরে ফিরতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে বন্দরে ভোরে একে একে এসে পৌঁছেছে ১১টি লঞ্চ। শনিবার ভোর ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, ৭টি সরাসরি লঞ্চ এবং আরও ৪টি ভায়া পথের লঞ্চ বরিশালে পৌঁছায়।

পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নদী বন্দরে এমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে এবারের ঈদে সেই পুরানো দৃশ্য আবার ফিরেছে। যাত্রীদের পদচারণায় বন্দরের প্রতিটি জায়গা ছিল পূর্ণ, পন্টুনে কোনো জায়গা ছিল না।

বরিশাল নদী বন্দরের ভোরটা একেবারে অন্যরকম, কীর্তনখোলার বুকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার ভরা লঞ্চগুলোর আলোকসজ্জা দেখা যাচ্ছিল। প্রতি লঞ্চে ছিল মানুষের ভিড়, যার কোলাহলে বন্দরের বাতাস ছিল একেবারে জীবিত।

এবার ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিশেষ সার্ভিস চালু হয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সার্ভিসে অতিরিক্ত লঞ্চ সংযোজন করা হয়েছে, তবে লঞ্চ মালিকেরা এটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে মনে করছেন না। বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ এই সিদ্ধান্তকে অমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।

নদী বন্দরের কর্মীরা, হকাররা, ভাসমান দোকানিরা সকলেই ব্যস্ত। এক শ্রমিক জানান, “ঈদের সময়ই আমাদের কাজ হয়, আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি।” তিনি আরও বলেন, “এবার বাড়ি ফিরলে ঈদে আনন্দ হবে, যদিও আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে।”

লঞ্চগুলোর অভ্যন্তরীণ আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছিল—নদীর বুকে ছোট ছোট শহর। এমন দৃশ্য অনেক দিন পর দেখা গেছে। তবে এবার লঞ্চে কেবিনের সংখ্যা সীমিত, যাত্রীদের জন্য ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২,৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর এই নৌপথে যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে ঈদের সময়ে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঈদ উপহার দিতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বাসচাপায় দুই ভাইসহ যুবক নিহত

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঈদ উপহার দিতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বাসের চাপায় তিন সহোদর নিহত হয়েছেন। নিহতরা হচ্ছেন নাঈমুজ্জামান শুভ, শান্ত, ও নাদিম, যারা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া গ্রামের নাসির খানের ছেলে।

শনিবার (২৯ মার্চ) সকালে সাড়ে ৭টার দিকে পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া সড়কের রায়হানপুর ইউনিয়নের সোনারবাংলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ঈদের জন্য নতুন পোশাক পরে তিন ভাই মোটরসাইকেলে শুভর চাচা শ্বশুরের বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় রাজিব পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।

নিহত নাঈমুজ্জামান শুভ শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ হারান, তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই ভাই শান্ত ও নাদিম। নাসির খানের চার ছেলের মধ্যে তিনজনেরই প্রাণ গেল এই সড়ক দুর্ঘটনায়। অন্য একটি ছেলেও ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন, এ কথা জানান তাদের পরিবারের সদস্যরা।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক এবং সহযোগী পালিয়ে গেছেন, তবে বাসটি জব্দ করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

বরিশাল নগরীর বান্দরোড হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, নগরীর আমতলা মোড়ে বরিশাল ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদে ঈদের দ্বিতীয় জামাতও সকাল ৮টায় শুরু হবে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক নুরুল ইসলাম।

এছাড়া, নগরীর সদর রোডে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম, জামে এবাদুল্লাহ ও জামে কসাই মসজিদে দুটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বরিশালের অন্যান্য অধিকাংশ মসজিদেও সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

নুরুল ইসলাম জানান, বরিশাল জেলায় মোট ৮,৭৩৪টি মসজিদ রয়েছে, যার মধ্যে আট হাজার মসজিদেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে, এ ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা বা নির্দেশনা নেই।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল কাদের জানান, প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে, গির্জামহল্লার জামে কসাই মসজিদের খতিব মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান জানান, প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। চকবাজারের জামে এবাদুল্লাহ মসজিদেও একই সময়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি, তবে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সব জামাত শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এবার আরো ছোট হয়ে আসছে শেখ হাসিনার পৃথিবী!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কোন দেশ আশ্রয় দিতে রাজি নয় সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে নানা তথ্য বাতাসে ভেসে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কেউ রাজি হয় নি। ভারতও চেষ্টা করেছিল হাসিনাকে তৃতীয় কোন দেশে পাঠাতে।

কিন্তু ফিনল্যান্ড,যুক্তরাজ্য,সংযুক্ত আরব-আমিরাত কেউই রাজি হয় নি। এমন মূহর্তে ভারতেই থাকতে হচ্ছে হাসিনাকে। ভারতের ওপর চাপ ছিল ওয়াশিংটনের। চাপ ছিল ঢাকারও। ওয়াশিংটন দিল্লীর কাছে জানতে চেয়েছে,হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে ভারতে বসবাস করছেন?

অন্যদিকে ঢাকার দাবি ছিল হাসিনা ভারতে বসে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না।

গত ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতকে দাবি জানিয়ে আসছে হাসিনা যেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে।তারপরও যুক্তরাজ্যে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য দেন হাসিনা,যা ছিল ৮ ডিসেম্বরের ঘটনা।পরদিন ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী।

দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়,ভারতে বসে হাসিনার বক্তব্য পছন্দ করছি না আমরা। অবশেষে নয়া দিল্লীতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন,বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচুত্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাকে ভারত সমর্থন করে না,এবং এটি বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই ছোট বা ‍তুচ্ছ বিষয়।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন,শেষ পর্যন্ত ভারতও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন এ অবস্থায় আরো ছোট হয়ে আসছে হাসিনার পৃথিবী।




কুয়াকাটায় বিএনপি সভাপতির ছেলেদের দোকানে তালা: ব্যবসায়ীদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর দুই ছেলে সম্প্রতি সৈকতের পাশের শুঁটকি মার্কেটের ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঈদের আগে দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তাদের আশঙ্কা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে, অগ্রিম ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন ব্যবসায়ীরা। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং জমির মালিকানা দাবি করেন তিন ব্যক্তি—কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী, রাশেদুল-আফতাব এবং বেল্লাল মোল্লা।

বিপাকে পড়া দোকানিরা জানান, জমির মালিকানা নির্ধারণের জন্য একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরপর, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর ছেলে, লতাচাপলী ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসুল্লী দোকানিদের নতুন চুক্তি করতে চাপ দেন। তবে জমির মালিকানা স্থায়ী না হওয়ায় তারা এতে রাজি হননি। বৃহস্পতিবার সকালে, রিয়াজ মুসুল্লী এবং তার ভাই মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মুসুল্লী লোকজন নিয়ে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

দোকানিরা বলেন, “আমরা বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলাম এবং তাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলাম। এখন নতুন করে অন্য কারও সাথে চুক্তি করতে চাই না। আমাদের জীবিকা শুঁটকি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল।” ঈদের বাজার ধরতে না পারলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

বেল্লাল মোল্লা দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী উম্মে সালমার কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। তিনি জানান, জমির মালিকানা নিয়ে কিছুদিন আগেও কোনো বিরোধ ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করে রাশেদুল ও আফতাব জানান, ১৯৭০ সালে লাল মিয়া ৫ একর ৯৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যার ওয়ারিশরা তাদের আমমোক্তারনামা দিয়েছেন। বর্তমানে এ জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী মন্তব্য করেন, “আজিজ মুসুল্লীর দুই ছেলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই কাজ করেছে। এটা দলের জন্য বড় ক্ষতি।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী দাবি করেছেন, “জমির বৈধ মালিক আমি। যারা আমার সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা অবৈধভাবে জায়গা দখল করেছে।” তার ছেলে রিয়াজ মুসুল্লী বলেন, “এ জমি আমার বাবার। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু সমাধান না পেয়ে তালা দিতে বাধ্য হয়েছি।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনার পর, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন এবং ঈদের বাজারে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষতি

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌরসভার টল ঘরের মুদি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগার পর তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুজাফফর খন্দকার ও রবি পালের মুদি দোকান এবং মনোহারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে মুজাফফর খন্দকারের মালামাল বোঝাই গুদামও ভস্মীভূত হয়।

খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে শাহআলী প্যাদার মুদি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

মুজাফফর খন্দকারের ছেলে আতিকুর রহমান ও ভাগিনা মনির বলেন, “ভোররাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে ছুটে আসি। এসে দেখি সব পুড়ে যাচ্ছে, কোনো মালামালই বের করতে পারিনি। ঈদ উপলক্ষে দোকান ও গুদামে প্রচুর মালামাল ছিল, এতে আমাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এসময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুজাফফর খন্দকার ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, একই রাতে উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাসুদেব দাসের বাড়ি পুড়ে গেছে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের আসবাবপত্র, পোশাক ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়, যার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া একটি গাভীও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন সাব অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলাচিপা পৌরসভার মুদি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম