ফরিদপুরে বাস খাদে পড়ে ৫ জন নিহত, আহত ৩৫

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা শরিফ জুটমিলের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ফরিদপুরগামী হাইডেক্স নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার খাদে পড়ে যায়।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বাসে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন, তাদের মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে জাটকাসহ ৫ জন আটক, আনসার সদস্য আহত

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মৎস্য অধিদপ্তর ও আনসার সদস্যদের অভিযানিক দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এক আনসার সদস্য আহত হয়েছেন এবং পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে মেঘনার শাখা নদী ও কালাবদর নদীর মোহনায় অবস্থিত বাখরজা, লালবয়া ও মালদ্বীপ চরের মাঝে এই ঘটনা ঘটে। অভিযানে অংশ নেয়া দলটি একটি ট্রলারকে থামতে ইশারা করেছিল, কিন্তু ট্রলারটির ভিতরে থাকা জাটকা পাচারকারীরা হঠাৎ আক্রমণ করে।

এই হামলায় এক আনসার সদস্য আহত হন, যাকে পরে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। আহত আনসার সদস্যের নাম মো. শাহীন ফরাজী, তিনি মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা গ্রামের কামাল ফরাজীর ছেলে।

অপরদিকে, অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং ১৪ ড্রাম জাটকা (প্রায় ১৪ মন) উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, ট্রলারটিও জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন:
১. মো. সাইফুল ইসলাম (আ. বারেক হাওলাদারের ছেলে, চানপুর ইউনিয়ন, ফুলচড়ি গ্রাম)
২. আবুল কালাম (হাশেম বেপারীর ছেলে, চরলোতা গ্রাম, ৫০ বছর বয়সী)
৩. মো. নাঈম (দড়িচর খাজুরিয়া গ্রামের, ৩৫ বছর বয়সী)
৪. মো. আজিজুল ইসলাম (দড়িচর খাজুরিয়া গ্রামের, জয়নাল মাতবরের ছেলে, ২২ বছর বয়সী)

স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা রক্ষায় চলমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জাটকা আহরণ ও পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করে আগামী জুন–জুলাইয়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার চিন্তা করছে সাংবিধানিক এই সংস্থা।

সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব ইসির। নির্বাচনের দিনক্ষণ তারাই ঠিক করে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচন কবে হবে—তা মূলত নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ ঠিক করা না হলেও প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসি মনে করছে, জুনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া একটি রূপ পাবে। তখন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা সহজ হবে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এর মতে, ডিসেম্বরকে টার্গেট (লক্ষ্য) করেই তাঁরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।

ইসির নিজস্ব প্রস্তুতির বাইরে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশসানের ভূমিকা। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইসির পক্ষ থেকে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে পুলিশ কী পরিমাণ জনবল নিয়োগ করতে পারবে সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, ডিসেম্বরে ভোট হলে তাদের সব জনবল পুরোপুরি সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো যাবে। ইসিও আশা করছে, ডিসেম্বরে ভোট হলে তার আগে পুলিশ ও প্রশাসনে পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থা চলে আসবে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল  বলেন, ডিসেম্বরকে টার্গেট (লক্ষ্য) করেই তাঁরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। এ জন্য তাঁরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে, আগামী জুন–জুলাই নাগাদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হতে পারে।




পর্যটনের নতুন ঠিকানা হতে পারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা বরগুনা

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বরগুনা—যেখানে প্রকৃতি তার অনন্য রূপে আহ্বান জানাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের। সমুদ্র, বন, বন্যপ্রাণী আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই জেলায় ছড়িয়ে আছে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা।

বরগুনার তালতলীর আশারচর, সোনাকাটা, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন, শুভ সন্ধ্যা সি-বিচ, পাথরঘাটার লালদিয়া চর, হরিণঘাটা, বিহঙ্গ দ্বীপ—প্রতিটি স্থানই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একেকটি রত্ন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটকের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।

টেংরাগিরি বনাঞ্চল ::

সুন্দরবনের অংশ হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি বন। প্রায় ১৩,৬৪৪ একর আয়তনের এই বনাঞ্চল ২০১০ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা পায়। এখানে রয়েছে হরিণ, শূকর, বানর, চিতাবাঘসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী। সখিনা বিটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি ইকোপার্কও।

সোনাকাটা ও আশারচর ::

টেংরাগিরি বনের পাশেই বঙ্গোপসাগরের কোলে বিস্তৃত সোনাকাটা ও আশারচর। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য, বালিহাঁস-গাঙচিলের কোলাহল আর শুঁটকিপল্লির জীবনচিত্র—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা।

শুভ সন্ধ্যা সি বিচ ::

টেংরাগিরির কোলঘেঁষা সৈকত ‘শুভ সন্ধ্যা সি-বিচ’-এ দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা যেন এক মুগ্ধতার মুহূর্ত। সমুদ্রের গর্জন আর বনের ছায়ায় ঘেরা এই সৈকত পর্যটকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে দ্রুত।

হরিণঘাটা বন ::

পাথরঘাটায় তিন নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে হরিণঘাটা বনাঞ্চল। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই ৫,৬০০ একর বন এলাকায় রয়েছে চিত্রল হরিণ, বানর, সজারু, শৃগাল, নানা প্রজাতির পাখি ও জীবজন্তু। রয়েছে ‘লালদিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইকো ট্যুরিজম প্রকল্প’-এর আওতায় ফুটট্রেল, ওয়াচ টাওয়ার, ঘাটলা ও অন্যান্য পর্যটন সুবিধা।

গোড়া পদ্মা ইকো ফরেস্ট ::

বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় গোড়া পদ্মা ইকো ফরেস্ট ও মোহনা পর্যটন কেন্দ্র নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ৪,৬০০ একর আয়তনের এই বনে গড়ে উঠেছে পিকনিক স্পট, গোলঘর ও ডাকবাংলো।

স্থানীয় উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, “বরগুনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় এখানকার পর্যটন শিল্প বিশাল অবদান রাখতে পারে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, “বরগুনার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যা পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করবে।”




 ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর রুটে চলাচল, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর নৌরুটের ডেঞ্জারজোনে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মেঘনা নদীর উত্তাল অংশে এসব নৌযান নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে যাত্রী পারাপার করছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার নদীপথে গত ১৫ মার্চ থেকে সাত মাসের জন্য শুরু হয়েছে ডেঞ্জার জোন মৌসুম, যেখানে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু নৌযান মালিক এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নৌযান চালাচ্ছেন, যার ফলে যাত্রীরা জীবনবিনাশী ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষ করে ঈদের পরবর্তী সময়, স্থানীয় কিছু নৌযান মালিক কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের জোরপূর্বক তাদের ট্রলারে উঠতে বাধ্য করছেন। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অবৈধ, অদক্ষ ও ফিটনেস বিহীন নৌযানে চলাচল করতে হচ্ছেন।

এ অঞ্চলে বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক পরিচালিত নিরাপদ নৌযান যেমন সি-ট্রাক চলাচল করার কথা, কিন্তু অধিকাংশ সি-ট্রাক মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে রয়েছে এবং এসব রুটে ছোট নৌযানগুলো চলাচল করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও, তাদের উপর নৌযান সংকটের চাপ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ভোলা অঞ্চলের বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন জানিয়েছেন, তারা প্রতিনিয়ত অবৈধ নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন, তবে যথেষ্ট জনবল ও নৌযানের অভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হচ্ছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান জানিয়েছেন, নৌ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অদক্ষ স্পিড বোর্ড চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আগেই এ ধরনের নৌযান বন্ধ করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ট্রাম্পকে তিন মাসের জন্য শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ ড. ইউনূসের

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (৭ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন সহজ করতে, মার্কিন পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা তিন মাসের জন্য স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে, অন্তর্বর্তী সরকারের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বাংলাদেশ মার্কিন তুলা, গম, ভুট্টা, সয়াবিন আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে মার্কিন কৃষকদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি হবে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য বাংলাদেশ অনেক বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, যা বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দেবে।

ড. ইউনূস চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ মার্কিন পণ্য যেমন গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের উপর শুল্ক আরও হ্রাস করবে। এছাড়া, বাজারে গতি বাড়াতে বাংলাদেশ একটি ডেডিকেটেড ডিউটি ফ্রি বন্ডেড গুদাম প্রতিষ্ঠা করবে।

চিঠিতে তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে বলেন, “বাংলাদেশ আপনার বাণিজ্য এজেন্ডাকে পূর্ণ সমর্থন দেবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিবে।”

অবশেষে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শীঘ্রই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশের পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে একটি আলাদা চিঠি পাঠাবেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

পিরোজপুর সদর থেকে রায়েরকাঠী হয়ে নাজিরপুর-শ্রীরামকাঠী সড়কটি বর্তমানে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদার রাস্তার কাজ না করেই টাকা তুলে নিয়েছে এবং বর্তমানে তারা পলাতক।

এ সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী এলাকা শ্রীরামকাঠী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এক সময় এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করত, তবে বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া কোন যানবাহনই চলাচল করতে সাহস পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রায়েরকাঠী এলাকার বাসিন্দা ফজলু শিকদার বলেন, “এই সড়কটির অবস্থা ছয় বছর ধরে খারাপ। আগে রাস্তাটি দিয়ে শত শত গাড়ি চলত, কিন্তু এখন রাস্তায় গাড়ি চলে না বললেই চলে। আমরা শুনেছি, ঠিকাদার রাস্তার কাজ না করেই টাকা তুলে নিয়েছে। এখন তারা পলাতক। আমরা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে আছি, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হোক।”

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল এই কাজের দায়িত্ব পায়, তবে তারা রাস্তার কাজ না করেই পুরো টাকা তুলে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলজিইডির পিরোজপুর অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত দে’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান জানান, “এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেও কাজ হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে ঠিকাদার টাকা তুলে নিয়েছে। এসব প্রকল্প আবার কীভাবে শুরু করা যায়, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

পিরোজপুর সদর উপজেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পাকা ও আধাপাকা সড়ক রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কিলোমিটারই বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনগণের অভিযোগ, যেহেতু এই সড়কগুলি মূল যোগাযোগের মাধ্যম, সেগুলি দ্রুত সংস্কার না হলে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বরিশাল

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আজ (৭ এপ্রিল) বরিশাল শহর উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধের ডাকে সাড়া দিয়ে বরিশালের ছাত্র-জনতা প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছেন। বরিশালে, গণহত্যার এই প্রতিবাদে একের পর এক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার ( ৭ এপ্রিল ) সকালে বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে মার্চ ফর প্যালেস্টাইন কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, স্থানীয় জনগণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গাজা এবং প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন এবং ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসন ও গণহত্যার নিন্দা জানান। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার টাউন হলে ফিরে আসে।

মিছিল শেষে, প্রতিবাদী বক্তৃতায় গাজা শহরের নিরীহ জনগণের উপর চলমান ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘‘গাজার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারের শিকার এবং তাদের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত না থাকায় তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা ইসরায়েলের গণহত্যার বিরোধিতা করছি এবং প্যালেস্টাইনের জনগণের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, অমৃত লাল দে কলেজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করবেন এবং কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না বলে জানানো হয়েছে।

বরিশালের ছাত্র-জনতার এই প্রতিবাদ শুধু গাজার জনগণের প্রতি সহানুভূতি জানানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সজাগ করা যে, ইসরায়েলের অপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন শিগগিরই বন্ধ হওয়া উচিত। বক্তারা বলেন, ‘‘প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা এবং তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমাজকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশে বসবাসরত প্যালেস্টাইন প্রবাসীদেরও সমর্থন আমরা তুলে ধরছি।

এছাড়া, বিকেল ৩টায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বরিশালে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছে। এই মিছিলে শহরের বিভিন্ন এলাকার জনগণ অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিবাদী অবস্থানগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা গাজার ওপর ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণ এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার।

বরিশালের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সমাবেশের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বাংলাদেশ জনগণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ এবং তারা প্যালেস্টাইনের জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ও চরসামাইয়া ইউনিয়নে আজ (৬ এপ্রিল) পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় এই প্রাণহানি ঘটে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানায়, শিশুদের মধ্যে চরসামাইয়া ইউনিয়নের মো. কামালের মেয়ে তামান্না (১৩) ও মো. মহিউদ্দিনের ছেলে তানজিল (৮) এবং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ফরাজিকান্দি গ্রামের মো. রুবেল চৌধুরীর ছেলে মো. জিসান (৬) পানিতে ডুবে মারা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তানজিল খেলা করতে গিয়ে স্রোতের মুখে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তামান্না ঝাঁপ দিয়ে ডুবে যায়। দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তামান্না সাঁতার জানত, কিন্তু তানজিল সাঁতার জানত না।

অন্যদিকে, ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ফরাজিকান্দি গ্রামের ৬ বছরের শিশু জিসান পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। তার বড় বোন চিৎকার করলেও শোরগোলের আওয়াজ পৌঁছাতে পারেনি, কারণ বাড়ির পাশে স মিল চালু ছিল। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এসব ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ দিনে নিহত ২৪৯ জন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় দেশের সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর ফলে ১১ দিনে (২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) ২৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মোট ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৫৩ জন, যদিও বাস্তবে আহতের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই ঈদের ২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৭১ জন, যাদের অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪২.৫৭%। এছাড়া, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৩৯ জন পথচারী এবং ৩২ জন যানবাহনের চালকসহ নিহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আরো ৬টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। রেলপথ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে, ৮৭টি (৩৩.৮৫%) জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮টি (৩৮.১৩%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৩টি (১৬.৭৩%) গ্রামীণ সড়কে এবং ২৯টি (১১.২৮%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনার বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে ঘটেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম