আজকের সুরক্ষা, আগামী প্রজন্মের ইলিশ ভান্ডার: ফরিদা আখতার

জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জাল ভরে এই আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর উৎপাদন বাড়াতে হলে জাটকা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি-বেসরকারি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাটকা সংরক্ষণ সম্ভব। আমরা যদি আজ সচেতন হই, আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ ইলিশ ভান্ডার।

মঙ্গলবার ( ৮ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বেলস্ পার্কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৫ -এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী, এ বছর জাটকা নিধন রোধে মানুষ আরও বেশি সচেতন হবে। যদি কোনো জেলে কিংবা অন্য কোনো পেশার ব্যক্তি জাটকা আহরণ, বিক্রয় বা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে। এ ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন,মাছ ধরার পাশাপাশি আমাদের ভাবতে হবে মাছ বাঁচানোর কথাও। নিয়ম মেনে মাছ ধরলে উপকৃত হবে দেশের মানুষ, উপকৃত হবে আমাদের নদী ও পরিবেশ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুর রউফ,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ
পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, খুলনা নৌ অঞ্চল পিএসসি, বিএন,চীফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন এম জিল্লুর রহমান (ট্যাজ), বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জোনাল কমান্ডার, দক্ষিণ জোন, (ভোলা)বিসিজিএম, পিএসসি, বিএন, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমাম হাসান আজাদ (সি), বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বরিশাল পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন, বরিশাল অঞ্চল নৌ পুলিশ পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক,

আলোচনা শেষে বেলস্ পার্ক থেকে এক বর্ণাঢ্য নৌ-র‍্যালি বের হয়ে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে যাওয়া হয়, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে নিহত কিশোর হৃদয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

পটুয়াখালীর বাউফলে জুলাই মাসের গণআন্দোলনে নিহত কিশোর আশিকুর রহমান হৃদয়ের শোকাহত পরিবারের খোঁজ নিতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে তিনি পশ্চিম যৌতা গ্রামে পৌঁছে নিহত হৃদয়ের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

জেলা প্রশাসক হৃদয়ের পিতা রিকশাচালক আনসার হাওলাদারের হাতে একটি নতুন অটোরিকশা তুলে দেন, যাতে তিনি পরিবারকে কিছুটা হলেও সহায়তা করতে পারেন। এসময় হৃদয়ের বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জেলা প্রশাসক তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “আপনার কষ্ট আমরা বুঝি, পাশে আছি সবসময়।”

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে হৃদয়ের মাথায় তিনটি গুলি লাগে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘ আট মাস যন্ত্রণা ভোগের পর গত শুক্রবার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। পরদিন সকালে তাকে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জেলা প্রশাসক জানান, “এই তরুণ একটি সময় গণতন্ত্রের জন্য গলা তুলেছিল, সাহস দেখিয়েছিল। তার মৃত্যু আমাদের নাড়া দিয়েছে। সরকার তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।” তিনি হৃদয়ের আরেক আহত ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য নগদ সহায়তা প্রদান করেন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন।

হৃদয়ের ভাই সোহাগ ইসলাম আনিস জানান, “ভাইয়ের মাথায় গুলি লাগার পর অনেকদিন ধরে আমরা তাকে গোপনে চিকিৎসা দিয়েছি। সরকারের পতনের পর মেডিকেলে কিছু চিকিৎসা হলেও সে আর স্বাভাবিক হতে পারেনি।”

এছাড়াও পরিবারটি জানান, কিছু স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রশাসনের সদস্যরা হৃদয়ের চিকিৎসা ও দাফন কাজে সহযোগিতা করেছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকীতে গ্রাম পুলিশদের জন্য মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে এক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর আয়োজনে এবং দুমকী উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী ঘোষণা দেন এনআইএলজি’র মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মো. আব্দুল কাইয়ুম।

দুমকী প্রান্তে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, “গ্রাম পুলিশের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক, এনআইএলজি’র সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক এবং দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন।

ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে ৪০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক শেখানো হবে।

স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় অবহেলিত কচ্ছপখালী খাল পরিষ্কারে নামলেন জেলা প্রশাসক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বহুদিনের অবহেলিত কচ্ছপখালী খাল অবশেষে সংস্কারের আওতায় এসেছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় খালটির পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু হাসানাত মোহাম্মদ আরেফিন।

এক সময় শহরের জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বহুদিনের অব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের ফলে খালটি প্রায় অচল অবস্থায় চলে যায়। এতে শহরের বাসিন্দারা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, “খাল শুধু জলপ্রবাহের পথ নয়, এটি একটি শহরের জীবনরেখা। নাগরিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।”

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক। তিনি জানান, “এটি একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। কচ্ছপখালী খালের পর পৌর এলাকার অন্যান্য খাল, ড্রেন ও জলাধারগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবির, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। কেউ কোদাল হাতে মাটি তোলেন, কেউ খাল থেকে ময়লা সেচে তোলেন। স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “অনেকদিন পর কচ্ছপখালী খাল পরিষ্কার হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। শহরের জলাবদ্ধতা রোধে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে ‘দাগি’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী

রাজধানীর একটি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দাগি’ সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী, যেখানে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছেন দেশের শীর্ষ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক’ কর্মসূচির সমর্থনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এতে অংশ নিয়েছিলেন সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং সাংবাদিকরা। উপস্থিত ছিলেন ‘দাগি’ সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহেন্দ্র সোনি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল, সহ-প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির সিইও রেদওয়ান রনি, পরিচালক শিহাব শাহীন, নায়ক আফরান নিশো, নায়িকা তমা মির্জা, সাহিত্যিক সাজ্জাদ শরিফ এবং সাংবাদিক আনিসুল হকসহ আরো অনেকে।

সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সবাই ‘দাগি’ সিনেমার প্রশংসা করেছেন। সংগীতশিল্পী মাশা ইসলাম জানান, “গল্পের সাথে গানের সংযোজন খুবই সুন্দরভাবে হয়েছে। গানগুলোর ব্যবহার গল্পের সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে।” সিনেমার দর্শকরা এবং শিল্পীরা একে একটি অসাধারণ নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে আফরান নিশোর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকী, গাজী রাকায়েত, সুমন আনোয়ার, সুষমা সরকারসহ আরও অনেক শিল্পী এই বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। সিনেমার প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি এবং পরিচালক শিহাব শাহীন তাদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু দর্শকদের উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহে চলছে ‘দাগি’ সিনেমার প্রদর্শনী, যেখানে দর্শকরা ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। বিশেষ প্রদর্শনী শেষে শিহাব শাহীন জানান, “এই সিনেমা দর্শকদের মাঝে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও বর্বরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার প্রতিবাদে সোমবার সারা দেশ বিক্ষোভ ও সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক, পেশাজীবী, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এই প্রতিবাদগুলোতে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ডাক এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লড়াইয়ের আহ্বান জানানো হয়।

ঢাকায়, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। তারা ‘ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন’, ‘ইসরাইলের বন্ধুরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘বয়কট ইসরাইল’সহ বিভিন্ন স্লোগান তুলে প্রতিবাদ করেন। রাজু ভাস্কর্য, বায়তুল মোকাররম, মার্কিন দূতাবাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এদিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বব্যাপী ঘোষিত ‘দি ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

সারা দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন কুমিল্লা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা এবং কিশোরগঞ্জসহ আরও অনেক জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষার্থীরা ইসরাইলি পণ্য বর্জন এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তোলেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনগুলোও তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে। তারা ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা এবং দখলদারির প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন, এই হত্যাযজ্ঞের নেপথ্য কারিগর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, মুসলিম দেশগুলোর একত্রিত কর্মসূচি ছাড়া এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, এমনকি কিছু এলাকাতে ইসরাইলি পণ্য বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা ও ভাঙচুরও হয়।

এছাড়া, ছাত্রদল এবং ‘আজাদ ফিলিস্তিন’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নববর্ষকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এ বছর বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকা সহ সারাদেশে উৎসব কেন্দ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নববর্ষ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে যা কিছু প্রয়োজন তা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য আমরা সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বাটাসহ দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সারাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব, এবং যারা এসব ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়াও, এবারের উৎসবে ব্যাপক জনসমাগম হবে এবং ২৬টি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে, যা একটি বড় মাইলফলক বলে জানান তিনি।

এদিকে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০ এপ্রিল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আজকের আলোচনায় নাম পরিবর্তন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীর উদ্দিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ক চিঠির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। তিনি বলেন, “আমাদের মূল বিষয় হলো বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।”

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শুল্ক আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাঠানো চিঠির প্রতিক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, “না, আমরা এখনো কোনো রেসপন্স পাইনি।” তবে তিনি এও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ বশীর উদ্দিন আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে শুল্ক আরোপের ফলে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমাদের কার্যকরী ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্লেষণ করে দেখছি কীভাবে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারি।”

তিনি জানান, “ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চীনের উপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও পরিবর্তনশীল করে তুলেছে। এ ধরনের অবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সত্যিই জটিল।”

এদিকে, ১০০ পণ্যকে শুল্কমুক্ত (জিরো ট্যারিফ) করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “অবশ্যই, আমরা আশা করছি যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা চেষ্টা করছি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য সঠিক পথ খুঁজে বের করতে।”

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “প্রধান উপদেষ্টা গতকালই ট্রাম্প প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে। আমরা রেসপন্স পেয়েছি এবং আমরা পজিটিভ কিছু প্রত্যাশা করছি।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি উইন-উইন অবস্থা হবে, যেখানে আমাদের এবং তাদের উভয়েরই লাভ হবে।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, “আজ আমরা মসুর ডাল, চাল, এলএনজি এবং তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছি। এই ক্রয়ের অর্ডারগুলো আগের তুলনায় কম দামে পেয়েছি, কারণ এখন প্রতিযোগিতা বেড়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু, আহত ২

ভোলা সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. হুমায়ুন কবির (৫০)। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

আজ, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকার হেতনারহাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দৌলতখান থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হুমায়ুন কবির ছিলেন দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হুমায়ুন কবিরসহ তিনজন বরিশালে মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ি থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময়, লঞ্চঘাটের কাছাকাছি হেতনারহাট বাজারের কাছে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় স্থানীয়রা মোটরসাইকেলে থাকা হুমায়ুন কবিরসহ তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুন কবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা বাকি দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মামুন জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-লুটপাটে জড়িত ৪৯ জন গ্রেফতার

গতকাল সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৪৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সংঘটিত হয়।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর জানান, সোমবার সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এআইজি ইনামুল হক সাগর আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং অতিদ্রুত গ্রেফতার করা হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে জানান, সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, “এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের প্রতি চরম অবমাননা।” পুলিশ এই অভিযান অব্যাহত রাখবে যতক্ষণ না সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম