ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২১ জনের মৃত্যু

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল মারাত্মক। ঈদ যাত্রার ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত এবং ৮২৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং নৌপথে ৪টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছে। সর্বমোট সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৪০টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত এবং ৮৩৫ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত এবং ৮২৬ জন আহত হয়েছেন। এতে গড়ে প্রতিদিন ২১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এ বছরের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত এবং ১৩৯৮ জন আহত হয়েছিল। এবারের দুর্ঘটনা, প্রাণহানি এবং আহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ২১.০৫%, ২০.৮৮% এবং ৪০.৪১% কমেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ঈদযাত্রা এবার কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে, কারণ দীর্ঘ ছুটির কারণে ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তাতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি ছিল। মোট ১৩৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত এবং ১৫৫ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪২.৮৫%, নিহতের ৪৬.৮৯% এবং আহতের ১৮.৭৬% মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটেছে।
দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অটোরিকশার মতো যানবাহন অবাধে চলাচল করছিল। এছাড়াও সড়কে অনেক রোড সাইন, সড়কবাতি এবং ডিভাইডার ছিল না, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি সুপারিশও করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানি বন্ধ করা, সড়কগুলোর আলোকসজ্জা বাড়ানো, এবং আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম









