বরিশালে নারী মাদককারবারীকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিবি এএসআই বরখাস্ত

বরিশালে ডিবি পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আউয়াল হোসেন বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নগর গোয়েন্দা শাখার এএসআই আউয়াল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ আউয়াল হোসেন অনুমতি ছাড়াই গৌরনদী উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ৭৪ হাজার টাকাসহ আটক করেন। পরে ইয়াবা ও টাকা রেখে তাকে ছেড়ে দেন।

ঘটনার পর মিজানুর রহমান স্বয়ং নগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা শাখার ইনস্পেক্টর ছগির হোসেনও আউয়ালের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অভিযান চালানোর অভিযোগ আনেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার রিয়াজ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এএসআই আউয়ালকে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, আউয়াল হোসেন কনস্টেবল হিসেবে চাকরি শুরু করলেও পদোন্নতির পর এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বরিশালে কর্মরত ছিলেন। একই স্থানে দীর্ঘদিন থেকে তিনি নবগ্রাম রোডে কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, একাধিক জমি ও বিপুল ব্যাংক সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার স্ত্রীর নামেও রয়েছে সম্পদ।

এএসআই আউয়ালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত মাদকের চালান আটক করে মামলা না দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দিতেন এবং উদ্ধার হওয়া মাদক গোপনে বিক্রি করতেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই আউয়াল হোসেন তার মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা, ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

দীর্ঘ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলের পথে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বরিশাল নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে দেখা গেছে তীব্র প্রতিযোগিতা—কে আগে উঠবে, কে আগে ডেকে জায়গা রাখবে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দিনভর বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

তবে এবার ভিন্ন এক অভিযোগ তুলে ধরেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর লঞ্চে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত।

এক যাত্রী অভিযোগ করেন, “ঢাকা যাওয়ার জন্য গত বছর যে ভাড়া দিয়েছি, এবার তার চাইতে অনেক বেশি নিচ্ছে। আমাদের কোনো বিকল্প নেই, তাই বাধ্য হয়ে এই ভাড়া দিচ্ছি।”
আরেক যাত্রী বলেন, “ঈদের সময় এলে ভাড়া যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ দেখছে না আমাদের কষ্ট।”

অন্যদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানান, “আমরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি না। সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটাই নেওয়া হচ্ছে।”

তবে শুধু ভাড়া নয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগও করছেন অনেকে।

এক নারী যাত্রী বলেন, “লঞ্চে এত বেশি যাত্রী নিচ্ছে যে, ঠিকভাবে বসার জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।”

এক তরুণ যাত্রী বলেন, “এই ভিড়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, দায় কে নেবে?”

এ বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যাত্রীদের হয়রানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রী বহন সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সবশেষে, যাত্রীরা নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছাক, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গড়িয়ার দিঘি এখন বরিশালের স্বপ্নপুরী

দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বরিশালের ঐতিহ্যবাহী গড়িয়ার দিঘি এখন রূপ নিয়েছে এক আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে। নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় অবস্থিত এই দিঘি বর্তমানে পরিচিত ‘ক্যাফে গড়িয়া’ নামে, যা শুধু একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ নয়—বরং হয়ে উঠেছে নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য এক স্বপ্নময় গন্তব্য।

দিঘির মাঝখানে নির্মিত হয়েছে আকর্ষণীয় ভাসমান কাঠের রেস্তোরাঁ, যেখানে বাঁশ ও কাঠের তৈরি বসার জায়গা, চারপাশে স্বচ্ছ জলরাশি, মাঝেমধ্যে মাছের লাফ এবং ওপরে খোলা আকাশ—সব মিলে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে। দর্শনার্থীরা এখানে বসে খাবারের স্বাদ নিতে পারছেন, একইসাথে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

দিনের বেলায় প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর হলেও, রাতের আলোয় দিঘির সৌন্দর্য হয়ে ওঠে স্বপ্নিল। পানির উপর রঙিন আলো প্রতিফলনের ফলে সৃষ্টি হয় এক জাদুকরী দৃশ্য, যা যে কাউকে মোহিত করে।

‘ক্যাফে গড়িয়া’র স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান পনির জানান, বর্তমানে এখানে বার্গার, স্যুপ, অন্থুন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, লাচ্ছি, কোল্ড কফি ও সেট মেনু পরিবেশন করা হচ্ছে। অচিরেই এখানে যুক্ত হচ্ছে লাইভ বারবিকিউ কর্নার, যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেরা মাছ ধরে বারবিকিউ করতে পারবেন—যা বরিশালের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।

পটুয়াখালী থেকে আসা দর্শনার্থী তন্ময় ও সুস্মিতা জানান, “আমরা ফেসবুকে ছবি দেখে আগ্রহী হই। পরিবেশ অসাধারণ, তবে পানির গন্ধ ও স্বচ্ছতা আরও উন্নত হলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো।”

তারা আরও জানান, খাবারের দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশের দিক থেকে এটি খুবই চমৎকার একটি স্থান। দিঘির চারপাশে হাঁটার পথ নির্মাণ করলে এটি হতে পারে বরিশালের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।

দীর্ঘদিন অবহেলিত দিঘিকে কেন্দ্র করে এই আধুনিক আয়োজন নিঃসন্দেহে বরিশালের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকভাবে চালিয়ে গেলে ‘ক্যাফে গড়িয়া’ হয়ে উঠতে পারে বরিশালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিএনপির কর্মীসভায় উত্তেজনা, হাতাহাতিতে রূপ

বরিশাল নগরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কর্মীসভায় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়, ফলে সভা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে। ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সভা চলাকালীন সময়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলামের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

উত্তেজনার ফলে সাময়িকভাবে সভা স্থগিত হলেও, দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সভার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাটকা রক্ষায় অভিযানে জেলেদের হামলা, কোস্টগার্ড সদস্য আহত

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জেলেদের হামলায় কোস্টগার্ডের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে গুলি ছুড়তে হয়েছে। অভিযানে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার ও একটি পাইজাল জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হিজলা উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন হিজলা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিজলা এবং নৌ-পুলিশ হিজলা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালীন হঠাৎ ৪০-৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ৭-৮টি কাঠের নৌকা নিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা লাঠি, বাঁশ, ইট ও পাথর দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্য এম মনজুরুল এবি ডান হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত পেয়ে আহত হন।

পরে স্টাফ অফিসার (অপারেশনস) এর অনুমতি নিয়ে মাজহারুল ইসলাম এবি তার বহনকৃত ৭.৬২ মিমি সিএসএমজি অস্ত্র ব্যবহার করে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে একটি অবৈধ পাইজাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার জব্দ করা হয়।

আহত কোস্টগার্ড সদস্য মনজুরুলকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় কেউ আটক না হলেও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাটকা সংরক্ষণে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা চক্রের হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। অবৈধভাবে মাছ আহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হজযাত্রীরা ভাগ্যবান: ধর্ম উপদেষ্টা

হজ যাত্রা এক বিশেষ ভাগ্যের বিষয়, এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, শুধু টাকা বা বিত্ত-বৈভব থাকলেই হজ করা সম্ভব নয়। অনেকের টাকা থাকা সত্ত্বেও, তারা নানা কারণে হজে যেতে পারেন না। মানুষ যখন মায়ের পেটে থাকে, তখনই তার জীবনের সময়, রিজিক, সৎকর্ম এবং হজে যাওয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

আজ (৯ এপ্রিল) সকালে, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হজযাত্রী প্রশিক্ষণ ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, হজের জন্য অবশ্যই হালাল অর্থ ব্যবহার করতে হবে। হারাম অর্থ দিয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হবে না। তিনি বলেন, সমাজে অনেকেই সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে, কিন্তু এসব হারাম উপার্জিত অর্থ দিয়ে হজ করার কোনো লাভ নেই। তিনি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “কোনো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, সুদখোর বা ঘুষখোর যখন হারাম শরিফে গিয়ে বলেন ‘আল্লাহ, আমি হাজির’, তখন ফেরেশতারা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘তোমার হাজিরা কবুল হয়নি’।” তাই, সৎপথে উপার্জন করতে সকলকে উৎসাহিত করেন তিনি।

হজব্রতের শারীরিক কষ্ট ও অর্থব্যয়ের বিষয়েও আলোকপাত করেন ড. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, হজের পথে বিভিন্ন পরিবহন সেবা পাওয়ার অভাব থাকতে পারে, হাজিদের মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা হেঁটে যেতে হতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। হজযাত্রীদের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ মানুষকে কুশলী করে তোলে এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সহজে পালন করতে সহায়তা করে। তিনি হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণে মনোযোগী হতে অনুরোধ করেন।

কবুল হজের ফজিলত বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত। হাজিদেরকে আল্লাহতায়ালা সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ করে দেন।

হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। এছাড়া, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যেখানে ঢাকা জেলার বেসরকারি মাধ্যমে সাত শতাধিক হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কালিয়াকৈরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার হরতকীতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছাকাছি এলাকাতে এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দ্রুত খবর পেয়ে তিনটি দমকল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঝুটের গোডাউনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় আশপাশের এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ ঝুটের গোডাউনের পাশেই একটি গ্যাস সিলিন্ডার মজুতকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। সিলিন্ডারে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ফলে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানিয়েছেন, “অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লাখ টাকার ওপরে হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “ঝুট ও গ্যাস সিলিন্ডার উভয়ই অত্যন্ত দাহ্য, তাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।”

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এস এল টি “ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম, গাজীপুর




গাজীপুর সাফারি পার্কে প্রাণী নিখোঁজ, কঠোর অবস্থানে পরিবেশ উপদেষ্টা

গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সম্প্রতি কিছু প্রাণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কেউ এই ঘটনায় দায়ী হবে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, এমন শাস্তি দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গাফিলতি করার সাহস না পায়।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা বুধবার (৯ এপ্রিল) গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, তিনি পার্কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে অনুভব করেছেন যে, কিছু প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো পরিবেশে থাকলেও অনেক প্রাণীর জীবনমান পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে কিছু হাতি ও জাগুয়ারের আচরণগত অস্বাভাবিকতা তাকে উদ্বিগ্ন করেছে।

তিনি বলেন, সাফারি পার্ক শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের বিনোদনের স্থান হওয়া উচিত নয়, এটি প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক প্রাণী নিখোঁজের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি একটি লেমুর হারিয়ে যায়, তবে তা বুঝতে হবে যে ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার তদন্তের জন্য বন্যপ্রাণী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সিসিটিভি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “সরকারি প্রকল্প এলেই কাজ করবে—এমনটা হতে পারে না। সাফারি পার্ক একটি জাতীয় সম্পদ, এবং এর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত বরাদ্দ ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, হাতিদের কল্যাণে শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গাজীপুরের স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেন, “গাজীপুরে যারা বসবাস করছেন, তাদেরকেই প্রথমে দায়িত্ব নিতে হবে এই জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ, অবৈধ পাখি বিক্রি বন্ধ, এবং নিখোঁজ প্রাণী উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি।”

এরপর, তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন এবং বন অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, যেখানে গাজীপুর পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কাতার সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আগামী ২১ এপ্রিল কাতার সফরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত আর্থনা (আমাদের পৃথিবী) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সূত্রে জানা গেছে, কাতার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোহায় আগামী ২২-২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সম্মেলন। আয়োজকরা ইতোমধ্যেই ড. ইউনূসকে স্পিকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সম্মেলনে যোগ দিতে ২১ এপ্রিল কাতারের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।

এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হল কাতার ও অন্যান্য উষ্ণ দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন ও শুষ্ক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করা। আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে ড. ইউনূস ছাড়াও জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ইব্রাহিম থিওয়া, ইরিনার ডেপুটি ডিরেক্টর গৌরী সিং, এবং আইইউসিএন’র ডিরেক্টর জেনারেল ড. গ্রিথেল এগুইলারসহ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য দেবেন।

এর আগে ৩ এপ্রিল বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা, এবং ৪ এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা জেনারেল হাসপাতাল: চিকিৎসক-নার্স সংকটে সেবা ব্যাহত

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কারণ এখানে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য জনবল সংকট চলছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

ভোলা সদর উপজেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি ২০১৯ সালে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও, সেই ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে এখনো হাসপাতালটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ৬ বছরেও হাসপাতালটির শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি, ফলে জেলার কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, ভোলার মোট ১৭ লাখ মানুষের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল, তবে এখানে শূন্য রয়েছে ৩৭টি পদ। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সৃজনকৃত ৬০টি পদের মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়কসহ ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও, বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১৩৫টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩৬০ জন রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায়, অনেক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। একেক বেডে ৪-৫টি শিশু রাখা হচ্ছে। চিকিৎসক এবং নার্সরা এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ায় রোগীরা নতুন নতুন সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন।

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম জানিয়েছেন, “লোকবল স্বল্পতার কারণে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, তবে এই সীমিত জনবল দিয়েই আমরা সেবা প্রদান করছি।” তিনি আরও জানান, “আমরা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অবগত করছি।”

এদিকে, সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে হাসপাতালটির কার্যক্রম সচল করা সম্ভব হবে।”

এই পরিস্থিতিতে রোগীদের স্বজনরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল সংকট দূর করার দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের পরিবেশের প্রতি তাঁদের অভিযোগ, বিশেষত নতুন বহুতল ভবন থাকা সত্ত্বেও, এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম