“হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ, কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ”

বরগুনার আমতলী উপজেলায় তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অথচ কাজ শেষ হওয়ার কেবল কয়েকদিনের মাথায় হাত দিয়ে সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাইয়ের আস্তরণ। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
চাওড়া ইউনিয়নের লোদা সেতু থেকে প্রায় ৩ হাজার ১৬০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজটি পায় মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, যার মালিক শাহীন তালুকদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের মে মাসে কাজ শুরুর কথা থাকলেও শুরু করে এক মাস পরে এবং মেয়াদ শেষ হয় ৩০ নভেম্বর।
অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের প্রথম দুই কিস্তির অর্থ উত্তোলনের পর ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখেন। চলতি বছরের মার্চে আবার কাজ শুরু করে এবং ২২ মার্চ পিচ ঢালাই শেষ হয়।
কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী পাঁচ ইঞ্চি সাব-বেজ এবং এক ইঞ্চি পিচ ঢালাই থাকার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে তিন ইঞ্চি এবং আধা ইঞ্চি। বিটুমিনও ছিটানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি, সড়কের ওপর পা ঘষলেই পিচ উঠে আসছে বলে জানান কাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
একজন অটোরিকশাচালক বলেন, “পিচ ঢালাইয়ের তিন দিনের মাথায় চাকার ঘর্ষণে ঢালাই উঠে যাচ্ছে।” স্থানীয়দের অনেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ কেউ এমন কাজকে “প্রকাশ্য দুর্নীতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অভিযোগ বিষয়ে ঠিকাদার শাহীন তালুকদার বলেন, “কাজ ঠিকভাবে করেছি, তবে ভুল হলে সেটার জন্য ফাঁসি হবে না।”
এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরে সাংবাদিকের ফোন কেটে দেন। উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী জানান, সহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অভিযোগ যাচাই করা হয়েছে। ইউএনও আশরাফুল আলমও বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম“














