বরিশালে বৈশাখী মেলার অনুমতি নেই, তবুও চলছে প্রস্তুতি

বরিশালে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবছর বৈশাখী মেলার অনুমতি দিচ্ছে না নগর পুলিশ। তবে জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী জানাচ্ছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেলার প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে।
শহরের বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজনের কথা জানিয়েছে উদীচী বরিশাল জেলা সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাশ মুন্সি বলেন,আমরা বৈশাখী মেলা করতে চাই এবং সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
তবে,ভিন্ন কথা জানালেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন,আমি কোন অনুমতি দিবো না। শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, ঘোড়া, হাতি তৈরির কাজ চলছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উপকরণ ও উপস্থাপনায় কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈশাখ ঘিরে বরিশালের ইলিশের বাজারে আগুন। শহরের পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও, মাছের দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকায়, দেড় কেজির মাছ ৪০০০ টাকা, আর ছোট ইলিশ (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ২৭০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা অনেক, তবে সরবরাহ কম। এই সুযোগেই দাম বাড়াচ্ছে কিছু সিন্ডিকেট। ক্রেতাদের অভিযোগ, পালাপার্বণে বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়।
বর্ষবরণে মেলা হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকলেও বরিশালের মানুষ প্রস্তুত নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। এখন দেখার বিষয় উদযাপন কতটা পূর্ণতা পায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আলোকে।
“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”










