বরিশালে বৈশাখী মেলার অনুমতি নেই, তবুও চলছে প্রস্তুতি

বরিশালে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবছর বৈশাখী মেলার অনুমতি দিচ্ছে না নগর পুলিশ। তবে জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী জানাচ্ছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেলার প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে।

শহরের বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজনের কথা জানিয়েছে উদীচী বরিশাল জেলা সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাশ মুন্সি বলেন,আমরা বৈশাখী মেলা করতে চাই এবং সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

তবে,ভিন্ন কথা জানালেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন,আমি কোন অনুমতি দিবো না। শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, ঘোড়া, হাতি তৈরির কাজ চলছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উপকরণ ও উপস্থাপনায় কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশাখ ঘিরে বরিশালের ইলিশের বাজারে আগুন। শহরের পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও, মাছের দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকায়, দেড় কেজির মাছ ৪০০০ টাকা, আর ছোট ইলিশ (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ২৭০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা অনেক, তবে সরবরাহ কম। এই সুযোগেই দাম বাড়াচ্ছে কিছু সিন্ডিকেট। ক্রেতাদের অভিযোগ, পালাপার্বণে বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়।

বর্ষবরণে মেলা হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকলেও বরিশালের মানুষ প্রস্তুত নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। এখন দেখার বিষয় উদযাপন কতটা পূর্ণতা পায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আলোকে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বাউফলে আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মৈশাদি এলাকায় স্থানীয় দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে জহির মুন্সি (৬০), তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) এবং কর্পূরকাঠী গ্রামের মো. ফকরুল ইসলাম (৪৫) কে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত কবির হোসেন কিবরিয়াকে (৪৫) চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৈশাদি এলাকায় বিএনপিকর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) ও নওমালা ইউনিয়ন ওয়ার্ড শ্রমিকদল সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদারের (৪৫) মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার এক ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হান্নান হাওলাদারের অনুসারীরা মফিজ হাওলাদারকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের আত্মীয়, কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।

হঠাৎ এই হামলার ঘটনায় হান্নানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বেশ কিছুক্ষণ। সংঘর্ষ চলাকালে জহির মুন্সি ও মো. শাহাবুদ্দিনকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচি

ঝালকাঠিতে জলবায়ু সুরক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতের দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ফ্রাইডেস ফর ফিউচার-এর তত্ত্বাবধানে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (ইয়াস) এর নেতৃত্বে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেয় সহযোগী সংগঠন ব্রাইটাস, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল, এবং স্থানীয় যুব সংগঠনের সদস্যরা।

কর্মসূচির মূল দাবি:

  • জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ
  • নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারণ
  • টেকসই কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি

বক্তৃতায় অংশ নেন:

  • মাহিদুল ইসলাম রাব্বি (আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, ইয়াস)
  • সত্যবান সেনগুপ্ত (সভাপতি, সনাক)
  • সাজিদ মাহমুদ (জেলা সমন্বয়কারী, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল)
  • স্নিগ্ধা ভৌমিক
  • শাকিল হাওলাদার রনি (সাধারণ সম্পাদক, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট – বরিশাল বিভাগ)
  • সাব্বির হোসেন রানা (সাংগঠনিক সম্পাদক, ইয়াস)

বক্তারা বলেন:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়—এটা বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবতা। উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য সবকিছুই হুমকির মুখে।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ সমাজ একটি বৈশ্বিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—জলবায়ুর প্রশ্নে সময়ক্ষেপণের অবকাশ নেই। এখনই প্রয়োজন টেকসই সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




সহনশীলতার অনন্য নজির: হযরত মু‘য়াবিয়া (রা.) এর উদারতা

ইসলামের ইতিহাসে হযরত মু‘য়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন প্রজ্ঞাবান ও সহিষ্ণু শাসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর উদারতা, দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

একবার মদিনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর একটি ক্ষেতের পাশে ছিল মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর একটি ক্ষেত। হঠাৎ করে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর ক্ষেতের শ্রমিকরা ভুলবশত ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর জমিতে প্রবেশ করে। এতে ইবনু যুবাইর (রাযি.) ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি একটি চিঠি পাঠান মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর কাছে।

চিঠিতে তিনি লিখেন:“আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের পক্ষ থেকে কলিজা-খেকো হিন্দের সন্তান মু‘য়াবিয়ার নামে। পর সমাচার, তোমার শ্রমিকগুলো আমার ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। জলদি তাদের সরাও, নতুবা আল্লাহর কসম! যা হবার তা হবেই।”

চিঠি পড়ার পর তাঁর পুত্র ইয়াযিদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাহিনী পাঠিয়ে তাঁকে দমন করা উচিত।” কিন্তু মু‘য়াবিয়া (রাযি.) শান্ত কণ্ঠে বলেন, “না, বরং এমন কিছু করি যাতে আত্মীয়তাও বজায় থাকে এবং উত্তম পথও অবলম্বন হয়।”

এরপর মু‘য়াবিয়া (রাযি.) ইবনু যুবাইর (রাযি.) কে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লেখেন:“আল্লাহর কসম! যদি আমার ও তোমার মাঝে গোটা দুনিয়াও থাকতো, সেটিও আমি তোমাকে দিয়ে দিতাম। আমার ক্ষেত যদি মদিনা থেকে দেমশক পর্যন্ত হতো, তাও তোমার করে দিতাম। এখনই আমার ক্ষেত তোমার সঙ্গে মিশিয়ে নিও, এমনকি শ্রমিকরাও তোমার হয়ে গেল।”

চিঠিটি পেয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) আবেগে কেঁদে ফেলেন। পরে তিনি দেমশকে গিয়ে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর মাথায় চুমু দিয়ে বলেন:“আপনার এই মহত্ত্ব ও সহিষ্ণুতার কারণে আল্লাহ যেন আপনাকে তাঁর দয়ার দরজা থেকে বঞ্চিত না করেন। এটাই তো আপনার মর্যাদার আসল রহস্য।”

এই ঘটনা ইসলামি ইতিহাসে ক্ষমা, উদারতা ও আত্মমর্যাদাবোধের চমৎকার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডাকাতি: গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮, লুট ৮০ লাখ টাকার মালামাল

বঙ্গোপসাগরের ঢালচর ও হাতিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় বরগুনার চারটি মাছ ধরার ট্রলারে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী জলদস্যুদের হামলায় অন্তত আটজন জেলে আহত হয়েছেন, এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। ডাকাতরা প্রায় ৮০ লাখ টাকার জাল, মাছ, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলোতে একে একে হামলা চালায় প্রায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী জলদস্যু। তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং সবার হাতেই দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

লুটকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মাছ ধরার জাল, ২০-২২ লাখ টাকার মাছ, নগদ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা এবং জেলেদের ব্যবহৃত ৩০টি মোবাইল ফোন।

ডাকাতির সময় বাধা দিলে দস্যুরা সাত জেলেকে মারধর করে এবং একজনকে শটগান দিয়ে গুলি করে। ডাকাতির পর ট্রলারগুলোর ইঞ্জিন বিকল করে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়।

পরে কোস্ট গার্ডের পাথরঘাটা দক্ষিণ জোনের একটি দল চারটি ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুজন—বেল্লাল (৪০) ও মোস্তফা (৬০)—কে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেছি এবং জেলেদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে হামলার এলাকা অন্য থানার আওতায় হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ সরাসরি মামলা নিচ্ছে না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন লুকে বাংলাদেশ পুলিশ: লোগোতে শাপলা, ধান, গম ও পাটপাতা

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান লোগো পরিবর্তন করে এবার যুক্ত করা হয়েছে দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীকসমূহ—শাপলা ফুল, ধান ও গমের শীষ এবং পাটপাতা। পাটপাতার উপরে উজ্জ্বলভাবে লেখা হয়েছে ‘পুলিশ’ শব্দটি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাছিমা বেগম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, নতুন লোগোর নকশা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন কেবল প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায়। প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন লোগোটি দেশের সব পুলিশ ইউনিট, জেলা অফিস, ইউনিফর্ম, পতাকা, সাইনবোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীতে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই পুরো বাহিনীতে নতুন লোগো ব্যবহার কার্যক্রম একযোগে শুরু হবে।

নতুন এই লোগোতে ব্যবহার করা প্রতীকগুলো দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২৪ বছর পর ভালোবাসার জয়, ডেনমার্কের রোমানাকে ফের বিয়ে করলেন বরগুনার মান্নু

ভালোবাসা হারায় না এ কথার বাস্তব উদাহরণ হয়ে এলেন বরগুনার মাহবুবুল আলম মান্নু ও ডেনমার্কের রোমানা মারিয়া বসি। দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও এক হলেন এই দম্পতি। আর এই ঘটনা বরগুনায় এনে দিয়েছে এক অন্যরকম উন্মাদনা।

ডেনমার্কের নাগরিক রোমানা বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকায় পৌঁছে বিকেলে বাসে চড়ে বরগুনায় পৌঁছান প্রিয় মানুষ মান্নুর সঙ্গে। সন্ধ্যায় মান্নুর পরিবারের উপস্থিতিতে তারা দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রবাসে থাকাকালীন রোমানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মান্নুর। পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে বাংলাদেশে আসেন। তবে ২০০০ সালে রোমানা ফিরে যান ডেনমার্কে। মান্নুরও যাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০০৩ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের চাপে রোমানা পরবর্তীতে নতুন জীবন শুরু করলেও মান্নু আর কারও সঙ্গে জীবন শুরু করতে পারেননি। তিনি রোমানার জন্য অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়েছেন দুই যুগেরও বেশি সময়। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবারও একে অপরের খোঁজ পান। পুরোনো ভালোবাসা আবারও বাঁধে নতুন বন্ধনে।

পুনর্মিলনের খবরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। অনেকেই মান্নুর বাড়িতে ভিড় করছেন রোমানাকে এক নজর দেখার জন্য।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় ফার্নিচারের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ক্ষতি প্রায় ৫ লাখ টাকা

ভোলায় মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে একটি ফার্নিচার দোকানের গোডাউন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ভোররাতে শহরের যুগীরগোল ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ‘আল মদিনা ফার্নিচার’ নামের দোকানটির গোডাউনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের প্রস্তুতিকালে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা গোডাউনের আগুন দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করে এবং দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক হোসেন হাওলাদার বলেন—
“স্থানীয়রা আমাদের খবর দেওয়ার পর তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক তারের জটিলতার কারণে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

আগুনে দোকানটির ফার্নিচার, কাঠসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈশাখ সামনে, শীতল পাটি তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত ‘পাটিকর গ্রাম’

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কাঁঠালিয়া ও হেলেঞ্চা—এই দুই গ্রাম যেন এখন রঙিন শীতল পাটির উৎসবমুখর এক কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ব্যস্ত দেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প শীতল পাটি তৈরিতে। এসব পাটি ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

শীতল পাটি,বাংলার প্রাচীন কারুশিল্প। আবহমান বাংলার ঘর-সংসারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পাটি তৈরি হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখা ‘পাটিকর’ পরিবারের হাতে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া ও গারুড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে এখনো প্রায় ৩০০টির বেশি পরিবার পাটিকর পেশায় নিয়োজিত। তাদের গ্রাম দুটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পাটিকর গ্রাম’ নামে।

এই গ্রামগুলোতে যে পাটি তৈরি হয়, তা মূলত ‘পাইত্রাগাছ’ থেকে প্রাপ্ত বেতি দিয়ে বোনা হয়। ঘরের বারান্দা, উঠোনজুড়ে নারীরা হাতে বুনে চলেছেন রঙ-বেরঙের পাটি। কেউ কেউ আবার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করছেন। যদিও শীতল পাটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, তথাপি এই শিল্পীদের জীবনে নেই তেমন উন্নয়ন।

স্থানীয় পাটিকর সৃতি রানি বলেন,“একটি শীতল পাটি তৈরি করতে ৮০টি পাইত্রাগাছ লাগে। সেগুলোর দাম প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্ষায় চাহিদা কমে যায়, তখন খুচরা দামে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়। কিন্তু গরমে ভালো দাম পাওয়া যায়, ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও পাওয়া যায়। আমরা সরকারিভাবে সহায়তা পেলে আরও ভালোভাবে টিকে থাকতে পারতাম।”

পাটিকররা বলছেন, কাঁচামালের দাম বাড়া এবং পুঁজি সংকটে অনেকেই এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যদি সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, ঋণ ও বিপণনের সহায়তা পাওয়া যেত, তাহলে এই কুটির শিল্প আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠতে পারত।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন,“শীতল পাটি দেশের ঐতিহ্যবাহী গৃহায়ন শিল্প। পরিবেশবান্ধব এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নির্দিষ্ট হাট স্থাপন ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।”

বর্ষবরণ উৎসব যেমন আসছে নতুন পোশাক ও খাবারের রঙে, তেমনি আসছে বাংলার শেকড়-গাঁথা ঐতিহ্যের পরিপূরক শীতল পাটির ছোঁয়ায়। কাঁঠালিয়া ও হেলেঞ্চার পাটিকরদের হাতে তৈরি এই পাটিগুলো যেন বৈশাখী মেলার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। প্রয়োজন শুধু—যোগ্য স্বীকৃতি ও সময়োপযোগী সহায়তা।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় পহেলা বৈশাখের পান্তা-ইলিশ উৎসবে শঙ্কা

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এই উৎসব যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায় পান্তা-ইলিশ ছাড়া। কিন্তু চলতি বছর সেই ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়েই দেখা দিয়েছে শঙ্কা। দেশের প্রধান মৎস্য সম্পদ ইলিশের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ফলে বৈশাখের উৎসবে পান্তা-ইলিশ উপভোগ করা অনেকের জন্যই বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সারাদেশে মোট ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫.২৯ লক্ষ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন কম।
২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৫.৭১ লক্ষ মেট্রিক টন। গত ছয় বছরের পরিসংখ্যান বিবেচনায়, এটি একটি বড় ধস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিরোজপুরের বিএফআরআই রিভারাইন স্টেশনের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আবু কাওসার দিদার বলেন,“দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নদীর নাব্যতার ঘাটতি এবং অতিরিক্ত আহরণ ইলিশের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও সহনীয় পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে।”

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন,
“আমরা লক্ষ্য করছি, প্রধান মাইগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে আগের মতো ইলিশ আসছে না। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে।”

যদিও সরকার জাটকা সংরক্ষণে অভিযান চালাচ্ছে, তবে নদী ও মোহনায় এখনও অবৈধ জাল ব্যবহার ও জাটকা আহরণ থেমে নেই।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান,
“হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, ভোলা অঞ্চলে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে বাজারে সরবরাহ কম, দামও বেড়েছে।”

কুয়াকাটার জেলে ইব্রাহিম হাজী বলেন,“অনেক সময় খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। ধারদেনা বাড়ছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে হচ্ছে।” জেলেরা চাইছেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হোক।

বরিশালের পোর্ট রোড বাজারে আধা কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজি প্রতি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা, আর এক কেজি সাইজের ইলিশের দাম ৩,০০০ টাকারও উপরে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, “সরবরাহ কম, চাহিদা বেশি এতে দাম হুহু করে বাড়ছে। ঢাকার নামিদামি হোটেলগুলো অগ্রিম অর্ডার দিয়ে ইলিশ কিনে নিচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, জুন-জুলাই মাসে ইলিশের মৌসুম শুরু হলে উৎপাদন বাড়তে পারে। তবে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত সেই আশার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আবেগের প্রতীক ইলিশ এখন শুধুই চাহিদার পণ্যে পরিণত হয়েছে। বৈশাখী পান্তা-ইলিশ উৎসব কি তবে এবার শুধুই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নেবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম