যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা! পিরোজপুরের নান্না শিকদারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার হাবিবুর রহমান নান্না শিকদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মিরাজ শিকদার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন—নান্না শিকদার একজন স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন রাজাকার। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের প্রত্যয়নপত্রেও নান্নাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • ভুয়া সনদ: মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ০৬০৫০৫০৬৪ ব্যবহার করলেও নান্না কখনো যুদ্ধে যাননি।
  • অভিযোগের ভিত্তি: রাজাকার তালিকায় নাম থাকা, ১৯৭১ সালে ৭ জন হত্যার অভিযোগে মামলা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পত্তি লুটের অভিযোগ।
  • অতিরিক্ত সম্পত্তি: পৈত্রিকভাবে ১৩ কাঠা জমির মালিক হলেও বর্তমানে রয়েছে ৮০০ কাঠা জমি—যার উৎস সন্দেহজনক।
  • প্রশাসনিক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয় ইউএনও সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাচ্চুও জানান, নান্না শিকদারের যুদ্ধ করার কোনও প্রমাণ নেই বরং তার বাবা ছিলেন রাজাকার, যিনি জেলও খেটেছেন।

অভিযুক্ত নান্না শিকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” তবে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।

এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে সত্য উদঘাটনের আশা রয়েছে।




বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের 

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।

বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখকে ঘিরে হালখাতার প্রস্তুতি, ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে বৈশাখ মাস মানেই নতুন বছরের শুরু, পুরনো হিসাব-নিকাশ শেষ করে নতুন খাতা খোলার সময়। এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই হালখাতা নামে পরিচিত। বরিশালের ব্যবসায়ীরাও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে চৈত্র মাসের শেষ সময়টিতে হালখাতা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বরিশালের বাজার রোড, পোর্ট রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে তৈরি হচ্ছে হালখাতার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা—জবেদা, খতিয়ান, হাচ্ছিটা, চাপাটালি, বন্ডবুক, পাকাটালি ইত্যাদি। যদিও কাগজের মূল্য এবং শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে খাতার দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ব্যবসায়ীদের মতে এটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, “বৈশাখে হালখাতা খোলা বাঙালি ব্যবসায়ীদের শত বছরের ঐতিহ্য। প্রযুক্তির যুগে আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও হালখাতার গুরুত্ব অটুট। এটি ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনে।”

আরেক দোকান মালিক শাহ আলম জানান, “হালখাতা শুধু হিসাব রাখার খাতা নয়, এটি আমাদের সততা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার প্রতীক। কাগজের দাম বাড়লেও এর গুরুত্ব কমেনি।”

বাজার রোডের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সরকার হয়তো ডিজিটাল পদ্ধতিকে উৎসাহ দিচ্ছে, তবে আমাদের মাঝে এই ঐতিহ্য আজও জীবিত। হালখাতা শুধু হিসাব নয়, এটি আস্থা, সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির অংশ।”

এ বছর বরিশালে প্রায় ১০ হাজার হালখাতার চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতাব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নতুন খাতায় পুরনো দেনার হিসাব লিখে রাখার মাধ্যমে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা এবং সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব হয়।

হালখাতা এখন শুধু একটি হিসাব খাতাই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে বরিশালের ব্যবসায়িক সমাজের সংস্কৃতি, মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রেমিকের মৃত্যু

বরিশালে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে মাসুদুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর নতুন বাজার টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় বেকারী ব্যবসায়ী।

মাসুদের পরিবারের অভিযোগ, বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে মাসুদুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রেমিকা শান্তা ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত নারী
অভিযুক্ত নারী : ছবি চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 

নিহতের ভাই মাহফুজুর রহমান জানান, মাসুদের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি কলেজ রোড এলাকার শওকত মোল্লার মেয়ে শান্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বুধবার বেকারির মালামাল আনতে মাসুদুর রহমান দুই লাখ টাকা নিয়ে বের হলে শান্তা তাকে ফোন করে বাসায় ডেকে নেন। পরে শান্তা ও তার ভাই লোকমান হোসেন টাকা নিতে চাপ দিলে মাসুদ তা দিতে অস্বীকার করেন। তখনই শান্তা মাসুদের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মাসুদুর রহমানের সঙ্গে শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিটনেসবিহীন বাসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বিআরটিসির ফিটনেসবিহীন, পুরনো ও ভাঙাচোরা বাস। বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর আওতাধীন এসব বাসের অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হলেও নিয়মিত সড়কে চলছে, যার ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াত বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বাসের মান। বরং যাত্রী চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ রাস্তায় নামিয়েছে বছরের পর বছর পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ বাস। অনেক বাসের দরজা-জানালা ভাঙা, কোথাও পলিথিনে মোড়া, এমনকি এসি বাস হলেও এসি ও ফ্যান অকেজো। এতে পরিবার নিয়ে যাতায়াত করাও হয়ে উঠছে কঠিন।

এমনকি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত একটি দোতলা বিআরটিসি বাসও এখন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব বাস লোকাল বাস থেকেও নিন্মমানের।

একজন ভুক্তভোগী যাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, “বাসে উঠলেই মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। দরজা ঠিকমতো খোলে না, জানালা বন্ধ করা যায় না, আর গরমে তো শ্বাস নেয়াই কষ্ট। এসি বাসে এসি চলে না, ফ্যানও চলে না। এটা কীভাবে সরকারি সেবা?”

অন্য যাত্রী ইলিয়াস হাওলাদার অভিযোগ করেন, “প্রতিবছর সরকার গাড়ি মেরামতের জন্য বাজেট দেয়। কিন্তু তার কোনো বাস্তব প্রয়োগ দেখি না। সামান্য মেরামত দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মোঃ জামিল হোসেন বলেন, “২০১৯ সালের পর নতুন কোনো বাস বরাদ্দ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে পুরনো বাসগুলোই মেরামত করে চালানো হচ্ছে।”

তবে যাত্রীদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। তারা দ্রুত নতুন, ফিটনেসযুক্ত ও নিরাপদ বাস সরবরাহের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে ১৫টি তরুণ সংগঠনের শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তরুণদের ১৫টি সামাজিক ও পরিবেশ সচেতন সংগঠন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলা শহরের ঝাউতলা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকালে জেলা শহরের ঝাউতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার সচেতন নাগরিকরাও এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনে এখানকার কৃষি, বাসস্থান এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

পটুয়াখালী ভলান্টিয়ারর্সের প্রতিনিধি রুবাইয়েত হক মেহেদীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ব্রাইটার্স অব বাংলাদেশ-এর খাইরুল ইসলাম মুন্না, এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, গ্রিন পিপল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আরিফুল ইসলাম, তারুণ্যের আউলিয়াপুর-এর মো. সোহাগ, পটুয়াখালী ব্লাড এজেন্সির মো. আসিফ, লাল সবুজ সোসাইটির শাহরিয়ার মাহমুদ, ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালী-এর মো. জাহিদ, ধুমকেতুর মো. কাওসার, তারুণ্যে সংগঠন বাংলাদেশ-এর মো. হাসিবুল ইসলাম, প্রাউড অফ পটুয়াখালীর মো. রায়হান, ইয়ুথ ফর পলিসির আসাদুল ইসলাম, দক্ষিণ বাংলার মো. রাজু এবং বিডি ক্লিন-এর আতিকুর রহমান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে পাঁচ মিনিটের প্রতীকী সড়ক অবরোধের মাধ্যমে ধর্মঘট কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কারা হেফাজতে নিহত ছাত্রদল নেতা মিলনের পরিবারের খোঁজ নিলেন তারেক রহমানের প্রতিনিধি

কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন-এর পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও ‘দেশমাতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সায়েম

আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১১টায় গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার মাজুখান গ্রামে গিয়ে মরহুম মিলনের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন—আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব ও দেশমাতা ফাউন্ডেশন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর নির্বাহী সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ

ব্যারিস্টার আবু সায়েম জানান,তারেক রহমান চাচ্ছেন মিলনের পরিবারের সন্তানদের যেন কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। দেশমাতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শহীদ মিলনের দুই কন্যাকে নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন জাকির হোসেন মিলন। অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগ থানায় আটক অবস্থায় তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং ১২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাটি এখনো ‘কারা হেফাজতে মৃত্যুর’ একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে বারবার বিচার দাবি করা হলেও আজও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবির পর মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ হিসেবে দাবি করায় হাবিবুর রহমান (৩৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে জনতার হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম মাহদী’ পরিচয় দিয়ে জনসমক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গলাচিপা এনজেড দাখিল মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পরে খবর পেয়ে গলাচিপা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

আটক হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পশ্চিম শাহপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকার মো. আমানত উল্লাহর ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার পর মাদ্রাসার সুপার মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আসছিলেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলো ‘মাহদীয়া’ নামে কুরআনের ১১৫তম সূরা হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুন থেকে দুর্ভিক্ষ শুরু হবে, এবং আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাকে এসব তথ্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, এবং তার মা ও চাচি ‘জাহান্নামী’, আর তাকেই জান্নাত দান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব তাওহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এই কথাগুলো পুনরায় বলেন এবং তা জনসম্মুখে প্রচার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধরে ফেলে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে বিএনপির দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১০ জন আহত, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় এক বিএনপি নেতাসহ দুজনকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মৈশাদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদার (৪৫)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। বুধবার একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হান্নানপন্থী কর্মীরা মফিজকে মারধর করলে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের স্ত্রীর বড় ভাই ও কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের (৬০) নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় জনতা বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন ও তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) কে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন চালায়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে গুরুতর আহত জহির উদ্দিন, তানভীর ও ফকরুল ইসলামকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া কবির হোসেন নামের একজনকে ভর্তি করা হয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নামাজরত নারীর গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণ ও টাকা লুট, আতঙ্কে বানারীপাড়া

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাগরিবের নামাজরত এক নারীর গলায় ছুরি ধরে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ তিন লাখ টাকা লুট করেছে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্দার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গৃহকর্তা আ. সত্তার মোল্লা নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে গেলে, তার স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০) ঘরে মাগরিবের নামাজে মগ্ন ছিলেন। সে সময় মুখোশ পরা তিনজন দুর্বৃত্ত টিনশেড ঘরে ঢুকে তাকে জবাই করে হত্যার ভয় দেখিয়ে গলায় ছুরি ধরে, মুখ চেপে ধরে কাঠের বাক্স থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে নেয়।

ঘটনার সময় ঘরের অন্য একটি কক্ষে গৃহিণীর ছয়জন নাতি-নাতনি অবস্থান করলেও তারা কিছু বুঝতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে স্বামী আ. সত্তার মোল্লা তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। জ্ঞান ফিরে এলে তহমিনা বেগম ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। ছুরির চাপে তার গলায় ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান,“ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে শিশুরাও ছিল, অথচ তারা কিছু টের পায়নি। বিষয়টি ঘোলাটে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম