যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা! পিরোজপুরের নান্না শিকদারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার হাবিবুর রহমান নান্না শিকদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মিরাজ শিকদার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন—নান্না শিকদার একজন স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন রাজাকার। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের প্রত্যয়নপত্রেও নান্নাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:
- ভুয়া সনদ: মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ০৬০৫০৫০৬৪ ব্যবহার করলেও নান্না কখনো যুদ্ধে যাননি।
- অভিযোগের ভিত্তি: রাজাকার তালিকায় নাম থাকা, ১৯৭১ সালে ৭ জন হত্যার অভিযোগে মামলা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পত্তি লুটের অভিযোগ।
- অতিরিক্ত সম্পত্তি: পৈত্রিকভাবে ১৩ কাঠা জমির মালিক হলেও বর্তমানে রয়েছে ৮০০ কাঠা জমি—যার উৎস সন্দেহজনক।
- প্রশাসনিক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয় ইউএনও সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাচ্চুও জানান, নান্না শিকদারের যুদ্ধ করার কোনও প্রমাণ নেই বরং তার বাবা ছিলেন রাজাকার, যিনি জেলও খেটেছেন।
অভিযুক্ত নান্না শিকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” তবে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।
এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে সত্য উদঘাটনের আশা রয়েছে।














