গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ১০টি দোকান, ক্ষতি ২০ লাখ টাকার বেশি

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল ফলের দোকান, মুদি, সেলুন, বাস কাউন্টার, স্টেশনারি, খাবার ও চায়ের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গলাচিপা সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে কলেজ রোডসংলগ্ন দোকানগুলোতে প্রথমে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেলেও আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসিম রেজা। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুতই সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন।

 




পটুয়াখালীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে একটি তালাবদ্ধ বসত ঘর থেকে মো. আলমগীর তালুকদার (৫০) নামের এক ব্যক্তির পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আলমগীর তালুকদার ওই গ্রামের মৃত মো. কাসেম সিকদারের মেয়ে জামাই। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় চাকরির সুবাদে অবস্থান করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, আলমগীর ঠ্যাংগাই কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও শ্বশুরের দেওয়া জমিতে আউলিয়াপুর গ্রামে একাই বসবাস করতেন। আশেপাশে বাড়িঘর না থাকায় কেউ ঘরে কী ঘটেছে তা টের পাননি।

আলমগীরের ছেলে রিয়াজ তালুকদার জানান, “আমরা সবাই ঢাকায় থাকি। বাবার কোনো শত্রু ছিল না। এক আত্মীয়ের বিয়ের কারণে কিছুদিন আগে আমরা গ্রামে এসেছিলাম। এরপর থেকে বাবার ফোন বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।”

পটুয়াখালী সদর থানার এসআই মোবাইদুল ইসলাম জানান, “সকাল ১০টায় স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আমাদের কাছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মো: আল-আমিন

 




“সংস্কার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়”: মুফতি ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, “সংস্কার ছাড়া যেকোনো জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।”

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর বাসটার্মিনালে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যারা আজ প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, প্রশ্ন হলো—প্রশাসনের কি সংস্কার হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ কীভাবে হবে? আমরা এমন নির্বাচন চাই না যেখানে দখলবাজি, খুন-খারাবি, জালিয়াতি হবে। আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তাদের অতীত কী ছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে। চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও ধর্ষকদের আর ক্ষমতায় দেখা যাবে না। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে আদর্শবান, নীতিবান ও যোগ্য মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে।”

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “মানুষ বারবার আন্দোলন করেছে, সর্বশেষ জুলাই মাসের আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। এখন যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

পাল্লা দিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আর কোনো বৈষম্য দেখতে চাই না। দেশ থেকে এই সংস্কৃতি মুছে ফেলতে হবে।”

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ফিলিস্তিন ও গাজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে যা হচ্ছে তা মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্যতম অপরাধ। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ এখনই বন্ধ করতে হবে। জাতিসংঘ, ওআইসি, আরবলীগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন থানা সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—লক্ষ্মীপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন, জেলা প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ইলিশের দাম চরমে, কেজিপ্রতি ৪ হাজার টাকা

পহেলা বৈশাখ ঘিরে ইলিশের বাজারে আগুন! বরিশালের পোর্ট রোড বাজারে এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সোনার দামে কেজিপ্রতি ৪ হাজার টাকা।

স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা মাসুম মৃধা জানান, বাজারে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বহুদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে না। এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের কিছু ইলিশ মিলছে, যার দাম আকাশছোঁয়া। শুক্রবার পর্যন্ত এই সাইজের ইলিশের কেজি ছিল ৩,৭৫০ টাকা, শনিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজারে—মানে এক মণ ইলিশের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা!

বাজারে আরও দেখা যায়, এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ১ লাখ ৮ থেকে ১০ হাজার, আধা কেজির ইলিশ ৬৫-৭০ হাজার, ৪০০ গ্রাম সাইজের ৫৫-৬০ হাজার এবং সবচেয়ে ছোট ৩০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা মণে।

খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি। ফলে অনেক ক্রেতাই হতাশ হয়ে মাছ না কিনেই বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন। উজিরপুরের ধামুরা থেকে আসা মো. আল আমিন বলেন, “ইলিশ এখন সোনার চেয়েও দামী। দুই দিন আগে দেড় কেজি ওজনের দুইটি মাছ ১২০০ টাকা কেজিতে কিনেছিলাম। আজ সেই সাইজের মাছের দাম শুনেই কেনার ইচ্ছে চলে গেছে।”

মৎস্য ব্যবসায়ী হৃদয় হাওলাদার জানান, মাছের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ—পহেলা বৈশাখে চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে, তাই কিছু ট্রলার মাছ নিয়ে ফিরলেও বড় সাইজের মাছ ধরা পড়ছে না।

নিপা-২ ট্রলারের জেলে মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত ৮ দিনে ৩০ মণ মাছ ধরেছি, কিন্তু বড় কোনো ইলিশ পাইনি। সব ৩০০-৪০০ গ্রামের সাইজের। তা দিয়েই ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে।”

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, “১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় নদী ও সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এবার তা কঠোরভাবে মানানো হচ্ছে। ফলে ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে। তবে এর সুফল মিলবে অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে।”

বরিশালের মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, পহেলা বৈশাখ পার হলে এবং সমুদ্র থেকে বড় ট্রলারগুলো ফিরে এলে দাম কিছুটা কমে আসবে। তবে আপাতত ইলিশ যেন ‘রূপার নয়, সোনার মাছ’ হয়ে উঠেছে—এমনটাই বলছেন ভোক্তারা।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. অহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত মো. অহিদুল ইসলাম পেশায় একজন জেলে। তিনি উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ভরতকাঠী গ্রামের মো. আজিজ তালুকদারের ছেলে।

স্কুলছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাড়ির পাশে একটি প্রাইমারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। বুদ্ধি কম থাকায় বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে রাস্তা দিয়ে পার্শ্ববর্তী নানা বাড়ি যাওয়ার সময় মো. অহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক ধরে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় তার পায়জামা খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে সে ভয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোক গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এই অন্যায়ের বিচার চাই।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিয়ে আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইতে গেলে আজকাল করে আমাদের ঘুরাচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় একটু ঘর বানিয়ে থাকি। আমাদের ঘরবাড়ি নেই। তাই কেউ সহযোগিতা করে না। শুক্রবার বিচার পাওয়ার আশায় থানায় অভিযোগ দিয়ে এসেছি।

গ্রাম চকিদার সত্য রঞ্জন ব্যাপারী বলেন, বিষয়টি শুনে আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। প্রতিবন্ধী মেয়েটির মুখ থেকে সব শুনেছি। তাকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছি। মেয়েটির পরিবার গরিব ও সহজ সরল বলে থানায় যেতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাটিকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপুলিশ পরিদর্শক অমল কৃষ্ণ দে এর মাধ্যমে বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 




যেসব জেলায় টানা পাঁচ দিন ঝরবে বৃষ্টি

আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলবে টানা বৃষ্টিপাত। এর ফলে হ্রাস পেতে পারে তাপমাত্রা—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে দেশের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

🌧️ প্রতিদিনের সম্ভাব্য বৃষ্টি পূর্বাভাস:

📅 ১৩ এপ্রিল (রোববার):
রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি।

📅 ১৪ এপ্রিল (সোমবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে ঝড়ো হাওয়াসহ হতে পারে বৃষ্টিপাত।

📅 ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

📅 ১৬ এপ্রিল (বুধবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশালের কিছু স্থানে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

📅 ১৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার):
বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অন্য অংশে আবহাওয়া থাকবে আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক। তবে পুরো সপ্তাহজুড়েই বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে অধিকাংশ অঞ্চলে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রথম দিকে সামান্য বাড়লেও পরবর্তীতে তা কিছুটা কমে আসতে পারে।

এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতে জনজীবনে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হলেও কৃষি খাতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: তুহিন হোসেন,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে অপরাধের লাগাম টানছে না, বাড়ছে উদ্বেগ

বরিশাল বিভাগজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং নীরব চাঁদাবাজিও বেড়ে চলেছে। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় জেলায় ৪৮০টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। আর আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫—এই ছয় মাসে অপরাধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ৮১টি হত্যা, ১৪৬টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, ১৪টি অপহরণ, ২৬টি ডাকাতি, ২১টি দস্যুতা এবং ২৯২টি চুরির ঘটনা।

বরিশাল নগরীর কাশীপুরের ইছাকাঠী এলাকায় এক নারীর শরীরের সাতটি অংশ উদ্ধার হলেও এখনও ভিকটিমের পরিচয় মিলেনি। এরপর ঘাট ইজারা সংক্রান্ত বিরোধে চাচাকে খুন করে নদীতে ফেলে দেয় ভাতিজা।

সম্প্রতি ঝালকাঠির বাউকাঠী বাজারের ব্যবসায়ী সুদেব হত্যাকাণ্ড, গৌরনদীতে জমি নিয়ে বিরোধে এক শিশুর নির্মম মৃত্যু, বরিশাল নগরীতে যুবদল নেতাকে খুন, বানারীপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পুলিশকে। এতে করে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে, আর ভুক্তভোগীরা মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমান বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মধ্যে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা এসেছে, যা অপরাধীদের বাড়তি সুযোগ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “দিন দিন অপরাধ বাড়ছে—এটা খুবই বিপজ্জনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ব্যর্থতা সরকারের কাঁধে বর্তাবে।”

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেনের মতে, “পুলিশকে আরও পেশাদার হতে হবে এবং নিরপেক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তবে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর দাবি, “আমরা আগের যে ধীরগতির মধ্যে ছিলাম, তা কাটিয়ে উঠেছি। পুলিশ এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সামাজিক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সংগঠিত অপরাধ কেউ করে পার পাবে না।”

মো: তুহিন হোসেন,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিমানের নকশায় অভিনব নৌকা বানালেন বরিশালের মোস্তফা কামাল

বরিশালের বানারীপাড়ায় চৌমোহনা বাজারের ওয়ার্কশপ মালিক মোস্তফা কামাল ইঞ্জিন মেরামতের পেশার বাইরে গিয়ে এবার তৈরি করেছেন একেবারে ভিন্ন কিছু—বিমানের আদলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই ব্যতিক্রমী আবিষ্কার ইতিমধ্যেই আলোচনার ঝড় তুলেছে।

মোস্তফা কামাল দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ইঞ্জিন মেরামতের সঙ্গে জড়িত। নিজস্ব ওয়ার্কশপ এবং একটি ছোট ডকইয়ার্ডে কৃষির যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে ট্রলার পর্যন্ত তৈরি করেন। তবে এবার নিজের খেয়াল থেকে তিনি বানিয়েছেন এমন এক নৌকা, যা দেখতে অনেকটা বিমানের মতো।

মোস্তফা জানান, “রাত জেগে কাজ করার সময় আকাশে উড়তে থাকা বিমান দেখে ভাবনা এলো, এমন কিছু বানালে কেমন হয়? আগে তো অনেক কিছু বানিয়েছি—এই সাহস থেকেই শুরু করলাম।”

নকশা থেকে শুরু করে প্রতিটি খুঁটিনাটি নিজেই তৈরি করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকায় ধীরে ধীরে কাজ করেছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। সব মিলিয়ে এটি বানাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। তবে তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে মাত্র দুই মাসেই এটি তৈরি করা সম্ভব হতো।

এই ‘বিমাননৌকা’ সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি। এতে রয়েছে ১৬ হর্স পাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন, ভেতরে ঠান্ডা রাখার জন্য দুটি ফ্যান, এবং আলোকসজ্জার জন্য এলইডি লাইট। পুরো প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দেড় বছর আগে এটি প্রথম ভাসানো হয় সন্ধ্যা নদীতে। এরপর থেকে তিনি নিজেই এটি চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। নৌকাটিতে ১০–১২ জন আরামসে চলাফেরা করতে পারেন, সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১৮ জন পর্যন্ত।

এই ব্যতিক্রমধর্মী নৌকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। অনেকে এসে চড়ছেন, আনন্দ নিচ্ছেন। মোস্তফা বলেন, “আমার নৌকায় উঠে পোলাপান শান্তি পায়, বিমানে উঠার মতো আনন্দ পায়। অনেকে তো বাড়ি ফিরে গিয়ে বলে, ‘বিমানে উঠছিলাম।’”

এমন এক সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে স্থানীয় উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নতুন নাম?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলা নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এবারের আয়োজনে ২৮ জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মধ্য শোভাযাত্রাটি ‘সকলের হয়ে উঠবে’ বলে মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবারের শোভাযাত্রা আনন্দময় হবে।




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই, তবুও আড়াই কোটি টাকার হোস্টেল

বরিশালের বাবুগঞ্জে নেই কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তারপরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবন দুটি পাঁচ বছরেও উদ্বোধন হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না থাকায় এসব অব্যবহারযোগ্য ভবন পড়ে রয়েছে অযতেœ। একটি আংশিক ব্যবহৃত হলেও অন্যটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুটি হোস্টেল ভবন করান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

২০১৮ সালে ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বাবুগঞ্জ হাই স্কুল (বালক) এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালিকা) এ দুটি হোস্টেল নির্মাণের অনুমোদন দেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার আবাসিক এ দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষে ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে কেবল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী মেনন এ ভবন দুটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, ভবন দুটি কোনো কাজেই আসছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোস্টেল দুটি নির্মাণের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, এগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এলাকায় এমন শিক্ষার্থী না থাকায় কোটি টাকার ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অপ্রয়োজনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, “এই ভবনগুলোর জায়গায় যদি কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি ক্লিনিক হতো, তাহলে এলাকার ছেলেমেয়েদের উপকার হতো। এখানে উন্নয়নের নামে যে কাজ হয়েছে, তা শুধু লোকদেখানো। আমাদের এলাকার মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।”

ভবন দুটি চালুর বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এ হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই। ফলে হোস্টেল দুটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম