বিনিয়োগ সম্মেলনের সাফল্য অর্জিত না হলে তা দু:খজনক

বিনিয়োগ সম্মেলনের সাফল্য অর্জিত না হলে তা দু:খজনক হবে, এমনটি জানিয়েছে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)। দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, মধ‍্যম আয়ের দেশ হবার পরিকল্পনা থেকে সরে না আসলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে কোনো ফলপ্রসূ সুবিধা পাবে না।

রোববার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার বিজয় নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের নভেম্বরে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চায়, তবে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না যদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনা হয়।”

তিনি আরও বলেন, গত রেজিমের দেওয়া মিথ‍্যা তথ্যের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা আনা জরুরী।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান এই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিনিয়োগ সম্মেলন সফল করার জন্য দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় বাজারের সক্ষমতা, অবকাঠামোগত সুবিধা, কর-ভ‍্যাট সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা দরকার।

মঞ্জু আরও জানান, “এলডিসি গ্রাজুয়েশন যদি চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এবি পার্টি মনে করে যে, সরকারকে এই উদ্যোগ স্থগিত রাখতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, অ‍্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রেমের ফাঁদে ব্যবসায়ী খুন, প্রেমিকা ও তার পিতা গ্রেফতার

বরিশালের কলেজ এভিনিউতে আলোচিত ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রেমিকা হাফিজা বেগম শান্তা (৩১) এবং তার বাবা শওকত হোসেন মোল্লা (৬৩) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৩ এপ্রিল) বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর আগে, ৯ এপ্রিল কলেজ এভিনিউর জিমি ভবনের দোতলায় নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ জানায়, মাসুদুর রহমানের সঙ্গে শান্তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের আড়ালে শান্তা তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতেন। ঘটনার দিন বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মাসুদুর রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে শান্তা ও তার সহযোগীরা মাসুদুরকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা মাসুদুরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ভাই কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা সুরতহাল, ময়নাতদন্ত, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মামলাটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মূল রহস্য উদঘাটন করেছে।

বর্তমানে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিল্পখাতে গ্যাসের নতুন মূল্যহার, বাড়ল ১০-১২ টাকা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। নতুন শিল্প গ্রাহক ও অনুমোদিত লোডের চেয়ে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য গুণতে হবে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্লান্টে এই হার আরও বেশি—৩১.৭৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৪২ টাকা।

রোববার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এ গ্যাসদর ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্যান্য সদস্য মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও শাহীদ সারোয়ার।

নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা যারা অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদেরকে এখন ৩০ টাকার বদলে ৪০ টাকা প্রতি ঘনমিটারে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হবে। এই নতুন মূল্যহার চলতি এপ্রিল মাস থেকেই কার্যকর হবে।

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্লান্টের জন্যও বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। এখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ৪২ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩১.৭৫ টাকা। তবে অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশের কম গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আগের দামই বহাল থাকবে, অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার ৩১.৫০ টাকা।

যেসব পুরাতন শিল্প গ্রাহক অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশের বেশি গ্যাস ব্যবহার করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন মূল্যহার প্রযোজ্য হবে—ঘনমিটারপ্রতি ৪০ টাকা। তবে ৫০ শতাংশের কম ব্যবহার করলে তারা আগের মতোই ৩০ টাকা হারে বিল পরিশোধ করবেন।

মাঝারি শিল্প খাতে গ্যাসের দামও ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত লোডের অতিরিক্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ১০ টাকা বেশি বিল গুনতে হবে।

এই মূল্যবৃদ্ধি শিল্পখাতে ব্যয় বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকার বলছে, বাজার সমন্বয় ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

পটুয়াখালীর মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চার সন্তানের জননী অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে (৩০) নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা সেলিম খাঁ (৩৫)। শুক্রবার দুপুরে বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারধরের ফলে তার ডান চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি মামলায় গত দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ সময় চার সন্তানকে নিয়ে তিনি মৎস্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। স্বামী জেলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী সেলিম খাঁ তাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে সেলিম খাঁ তার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সেলিম পালিয়ে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই নারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একা ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিল সেলিম খাঁ। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ উচ্ছ্বাসের সাথে আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। বাসস

এ উপলক্ষে ডিএমপি কিছু ট্রাফিক নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ শনিবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়,ডাইভারশন/ব্যারিকেড পয়েন্টসমূহ: ১৪ এপ্রিল সোমবার ভোর ৫টা হতে রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের নিম্নলিখিত এলাকাসমূহে সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাস্তা বন্ধ/রোড ডাইভারশন দেয়া হবে:

১। বাংলামোটর ক্রসিং/নেভি গ্যাপ ২। পুলিশ ভবন ক্রসিং ৩। সুগন্ধা ক্রসিং ৪। কাকরাইল চার্চ ক্রসিং ৫। কদম ফোয়ারা ক্রসিং ৬। হাইকোর্ট ক্রসিং (পূর্ব ও দক্ষিণ) ৭। দোয়েল চত্বর ক্রসিং ৮। রোমানা ক্রসিং ৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ১০। জগন্নাথ হল ক্রসিং ১১। ভাস্কর্য ক্রসিং ১২। নীলক্ষেত ক্রসিং ও ১৩। কাঁটাবন ক্রসিং।

গাড়ি চলাচলের দিকনির্দেশনা:

রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডাইভারশন পয়েন্টসমূহ ব্যতীত নিম্নলিখিত রাস্তাসমূহে যানবাহন চলাচল করবে। যানবাহন চলাচলের রাস্তাসমূহ নিম্নরূপ :

১। মিরপুর-ফার্মগেট হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর ক্রসিং বামে মোড় নিয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

২। গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং-হাইকোর্ট ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা ক্রসিং-ইউবিএল ক্রসিং- নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

৩। সায়েন্সল্যাব ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন মিরপুর রোড দিয়ে আজিমপুর ক্রসিং-চাঁনখারপুল ক্রসিং-বকশীবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

গাড়ি পার্কিং স্থানসমূহ:

১। নেভি গ্যাপ হতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত।

২। মৎস্যভবন ক্রসিং হতে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

৩। শিল্পকলা একাডেমি গলি (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

৪। কাঁটাবন ক্রসিং হতে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে পলাশী ক্রসিং পর্যন্ত।

৫। দোয়েল চত্বর ক্রসিং হতে শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং পর্যন্ত।

৬। আব্দুল গনি রোড।

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।




বরিশালে কমদামে বিক্রি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও জমি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বরিশালে দলটির নেতাদের বাড়ি ও জমি কম দামে বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও পলাতক থাকার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র।

সূত্র জানায়, বরিশালে আওয়ামী লীগের অন্তত তিন নেতা ও একজন সাবেক আমলার সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী খায়রুল ইসলামের সাত একরের বাগানবাড়ি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিমের ‘বেগম ভবন’, ব্যারিস্টার শাহাজান ওমরের রাজকীয় ডুপ্লেক্স, এবং নীরব হোসেন টুটুলের ১০ তলা ভবনের ফ্ল্যাট ও জমি।

জাহিদ ফারুক শামিমের বেগম ভবন:: 
নবগ্রাম রোডে অবস্থিত বেগম ভিলাটি প্রায় তিন কাঠা জমির ওপর গড়া পাঁচতলা ভবন। এটি ছিল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ২০২৩ সালের শেষ দিকে নির্মাণ শেষ হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনকারীদের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ভবনটি আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি হয়।

ব্যারিস্টার শাহাজান ওমরের বাড়ি::
ব্র্যান্ড কম্পাউন্ড এলাকার তিনতলা বিশিষ্ট এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি ৫০ শতক জমির ওপর অবস্থিত। অপসোনিন কোম্পানি লিমিটেডের কাছে এটি হস্তান্তর হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়িটির নিরাপত্তা এখন কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে।

নীরব হোসেন টুটুলের ফ্ল্যাট:: 
নাজিরপুল এলাকার ১০ তলা বাড়ির অধিকাংশ ফ্ল্যাট ও সামনের জমি ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

খায়রুল ইসলামের বাগান বাড়ি:: 
রূপাতলীর গ্যাস টারবাইন সড়কের প্রান্তে অবস্থিত প্রায় সাত একর জমির আলোচিত বাগান বাড়িটি এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে বিক্রির চুক্তিতে পৌঁছেছে। শতকোটি টাকার এই সম্পত্তি খুব কম দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করছে সূত্রগুলো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই এসব সম্পত্তি বিক্রির আলোচনা চলছিলো। রাজনৈতিক পালাবদলের এই বাস্তবতায় নেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিলিস্তিন সংকটে সক্রিয় পদক্ষেপ চায় জনগণ: রহমাতুল্লাহ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার নৃশংসতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম বরিশাল শাখা আয়োজিত এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে যে বর্বরোচিত হামলা চলছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপরাধ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ সরকারের কাছ থেকে শুধুমাত্র বিবৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী একটি দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চাই।”

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছে। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী হলেও, এই সংকটে নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখা উচিত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন, জাহিদুর রহমান রিপন, স্বাধীনতা ফোরামের মহানগর শাখার সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব, ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর ইসলাম উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আনোয়ার হোসেন টিটু, তারিক সুলাইমান, এবং ছাত্রদল নেতা আসিফ আল মামুন।

সমাবেশ থেকে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সমাজকে ফিলিস্তিনের পক্ষে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লোকদেখানো ড্রেজিংয়ে দক্ষিণের নৌপথ বন্ধের মুখে

বরিশাল-ঢাকা নৌপথসহ দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো এখন নাব্য সংকটে। খনন কার্যক্রমের এক বছর না ঘুরতেই আবারও ডুবোচর দেখা দিচ্ছে কীর্তনখোলা নদীতে। লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, লোকদেখানো ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে নদীপথে চলছে দুর্ভোগ, আর নৌযানগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।

লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, প্রতি বছর ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না। খননের বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশই আত্মসাৎ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ড্রেজিং বিভাগ। এতে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো একে একে অচল হয়ে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা, গজারিয়া, বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট-লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন নদীপথে শুকনো মৌসুমে পানি তলানিতে নেমে যায়। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বরিশাল নৌবন্দরেও একই রকম নাব্য সংকট বিরাজ করছে।

ঢাকা, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, প্রতিবছরই ড্রেজিং করা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। বরং ডুবোচরে লঞ্চ আটকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে নৌযাত্রীদের পাশাপাশি লঞ্চ মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “আগে ড্রেজিংয়ের সময় বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি রাখা হতো। এখন তা বাদ দিয়ে একচেটিয়াভাবে খনন কাজ করছে ড্রেজিং বিভাগ। ফলে চাহিদা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না, বরং সরকারি অর্থ লোপাটের পথ খুলে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভাটায় এক ফুট বালি কাটে আর জোয়ারে এসে মাপে পাঁচ ফুট—এভাবেই বিল উঠানো হয়। নদীর বালি নদীতেই পড়ে থাকে।”

লঞ্চমালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট আক্কাস সিকদারও ড্রেজিং কার্যক্রমের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। তাই একে একে বন্ধ হচ্ছে দক্ষিণের নৌপথ। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ডুবোচর খননের বিষয়টি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশীদ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখন সব কিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। আগের পরিস্থিতি কেমন ছিল জানি না, তবে সামনে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি নিয়ে ড্রেজিং করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদীতে জমি বিরোধে ভাসুর নিহত, অভিযুক্ত ছোট ভাইয়ের স্ত্রী

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হামলায় দেলোয়ার হোসেন ফকির (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন ফকির ওই গ্রামের মৃত সোহরাফ হোসেন ফকিরের ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহতের ছেলে ফরসাল ফকির জানান, তার ছোট চাচা জাহাঙ্গীর হোসেন ফকিরের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার ছোট কাকি সুরমা আক্তার সাথী ও চাচাতো ভাই জাহিদ হোসেন মিলে দেলোয়ার ফকিরের ওপর হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার মারা যান বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ফকির। তিনি বলেন, “বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।”

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরও দুইজন। মৃতরা বরগুনা জেলার বাসিন্দা, একজন নারী (৩৬) ও অপরজন পুরুষ (৪০)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই সর্বোচ্চ ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ৬ জন, জেলা পর্যায়ে ৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন।

চলতি বছর (২০২৫) এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন এবং এপ্রিলে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন। একই সময়ে দেশে মোট ২,০৭৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ১,৯৫৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

পূর্বের বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১,৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন।

বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ বাড়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে জানানো হয় স্থানীয়ভাবে এডিস মশার বিস্তার। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “২০২১ সালে বরিশালে প্রথম ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। সে সময় আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাইরে থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন। কিন্তু এখন প্রায় সবাই স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন। অর্থাৎ এডিস মশা এখন বরিশাল অঞ্চলে স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সমন্বিত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং সর্বস্তরের জনসচেতনতা।”
বর্তমানে আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানান তিনি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম