বরিশালে বৈশাখের প্রথম দিনে বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনেই বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছিল উৎসবের ঢল। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমিয়েছে বরিশাল নগরীর বিনোদন কেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন, এড্যামস পার্ক, বেলস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, এবং রূপাতলী আবদুর রব সেতু এলাকায়। সকাল থেকেই এসব স্থানে মানুষের ঢল নামে। বিকেল গড়াতেই বেড়ে যায় ভিড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নগরীর ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা স্কুলছাত্রী তানিশা বলে, আমরা প্রতি বছর বৈশাখে বের হই। এই বছর বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। খেতে পেরেছি পান্তা-ইলিশ, আর চুড়ি-ফিতা কেনাকাটাও করেছি।

রূপাতলীর বাসিন্দা এবং সরকারি কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন,সারা বছর কাজের ব্যস্ততা থাকে। আজ পরিবারকে সময় দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারা অনেক মজা করছে। প্রশাসনের নিরাপত্তাও ভালো ছিল।

নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও স্বেচ্ছাসেবকদের টহল ছিল দিনভর।

বরিশালে এমন প্রাণবন্ত নববর্ষ উদযাপন অনেকদিন পর দেখা গেল। তারা চান, প্রতিবছরই যেন এমন নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বৈশাখ পালন করা যায়। পহেলা বৈশাখের আনন্দে এদিন যেন পুরো বরিশালই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে।




পটুয়াখালী জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত বাউফলের মফিজুল ইসলাম

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসের পারফরম্যান্স বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাউফল মডেল থানার মোঃ মফিজুল ইসলাম।

মাদক উদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তার এই কৃতিত্ব স্বীকৃত হয়। দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে জেলার মাসিক সভায় প্রশংসিত হন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনোয়ার জাহিদ (বিপিএম) এর হাত থেকে এসআই মফিজুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ মাননীয় পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ স্যার, বাউফল সার্কেল স্যার এবং অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন স্যারের প্রতি, যাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছি।”

তার এই অর্জনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেমন গর্বিত, তেমনি এলাকাবাসীর মাঝেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডাক সেবার সেবায় গতি আনবে ই-বাইক




মুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে  যেকোনো প্রজাতির মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় সরকার জেলেদের মাথাপিছু ৭৮ কেজি করে চাল দেবে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, ভোলা জেলায় সমুদ্রগামী জেলেদের সংখ্যা মোট ৬৫ হাজার। এসব জেলে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন সমুদ্রে মাছধরা থেকে বিরত থাকবেন। এসময়টাতে সরকার তাদের মাথাপিছু ৭৮ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতিবারের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর বিধি ৩ এর উপবিধি (১) এর দফা (ক) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সরকার, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল হতে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোনো প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।’

 

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সমুদ্রে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও মৎস্য বিভাগের টাস্কফোর্স তাদের টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।




বাউফলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, দুইজন গুরুতর আহত

টুয়াখালীর বাউফলে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইব্রাহীম মৃধা (৩২) ও ফিরোজ ফকির (৩৫) নামের দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাংড়া গ্রামের চুন্নু গাজির (৩৮) সঙ্গে একই এলাকার ছালম মৃধা (৬০) ও কালাম মৃধার (৫৫) মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। থানার আদেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে চুন্নু গাজি ফসল রোপণ করেন। আজ সকালে চুন্নু ও তার পরিবারের সদস্যরা জমিতে গিয়ে ফসল তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ ছালম ও কালাম মৃধা পক্ষের নেতৃত্বে আলাল উদ্দিন (৪০), আনিচ (৩৫), রমিজ (২৫), রিয়াজ (২২), রাব্বি (২৩), ফিরোজ গাজি (৩৮), রাসেল (৩২), সাইফুল (২৮)সহ ১৫-২০ জন তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইব্রাহীম মৃধা ও ফিরোজ ফকিরকে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার যুথি জানান, ইব্রাহীমের হাতের কবজি ভেঙে বের হয়ে গেছে এবং ফিরোজের পা ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে, যা গুরুতর। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বসতঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রাহাত (২৮)ও লামিয়া (২১) নামের স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাহাত পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন। তার পিতা স্বপ্নন হাওলাদার। স্ত্রী লামিয়া গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলাতেন।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পর্যন্ত ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে ওই দম্পতির নিথর দেহ। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি পারিবারিক কলহ চলছিল বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে। সেই কলহ থেকেই এমন ট্র্যাজেডি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,
প্রাথমিকভাবে আমরা এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পেছনে যদি অন্য কোনো কারণ থেকে থাকে, তা খতিয়ে দেখা হোক।




কুয়াকাটা সৈকতে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখলেন পর্যটকরা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে বছরের প্রথম দিনেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি এই সৈকতে একসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ পর্যটকদের কাছে বরাবরের মতোই বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।

সোমবার (১ বৈশাখ) সকালে কুয়াকাটার আকাশে ভেসে ওঠা নতুন বছরের প্রথম সূর্য দেখতে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ভিড় করেন সৈকতে। তারা বছরের প্রথম আলোকে সাক্ষী রেখে এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কারও কারও চোখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস, আবার কেউবা নিরবে উপভোগ করেছেন সেই স্নিগ্ধ সকাল।

তবে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম উপস্থিতি থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাংলা ১৪৩১ সালের শেষ সূর্যাস্ত এবং বাংলা ১৪৩২ সালের প্রথম সূর্যোদয় এক নজরে দেখতে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটক আসবেন— এমনটাই ছিল তাদের আশা। বাস্তবে সেই সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মোঃ মানিক মিয়া বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে কুয়াকাটা এসেছি। নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন বছরের শুরু এ এক অনন্য অনুভূতি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম।”

প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে কুয়াকাটা হয়ে ওঠে ভ্রমণপ্রেমীদের মিলনমেলা। তীব্র গরম, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা সময়ের কষ্ট উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে আসে এই সমুদ্রসৈকতে। ভোরবেলার শান্ত বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দ, আর সূর্যের প্রথম রশ্মি— সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মুহূর্ত।

স্থানীয় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও এই দিনে বাড়তি কর্মব্যস্ততায় থাকেন। তবে তারা আশা করছেন, সামনে আরও বড় কোনো উৎসব কিংবা ছুটির দিনে পর্যটকদের আগমন বাড়বে।

নববর্ষের প্রথম দিনে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকেই নতুন উদ্যমে বছরের সূচনা করেছেন। কুয়াকাটার এই দৃশ্য, অনুভূতি আর পরিবেশ সবার মন ছুঁয়ে গেছে— এমনটাই জানিয়েছেন অনেক পর্যটক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার




ওআইসির শ্রম সংবিধিতে বাংলাদেশের স্বাক্ষর 




পবিপ্রবিতে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) কর্মকর্তা কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং বাস ড্রাইভার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরদিনই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে পবিপ্রবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয় প্রতিবাদ মিছিলটি। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষার দিন কর্মকর্তাদের অসদাচরণের তদন্ত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস স্টাফদের হেনস্তা বন্ধ, বহিরাগতদের বাসে যাতায়াতের সুযোগ বন্ধ, টাকার বিনিময়ে সিট বরাদ্দের অভিযোগ, বাসে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন সংরক্ষণ, এবং ‘ডিরেক্টর অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ পদ চালু করা।

আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী অমিয় জামান বলেন, “আমাদের একজন নারী সহপাঠীকে বিনা কারণে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুধু অপমানজনক নয়, বরং একটি ভয়ানক দৃষ্টান্ত। আমরা আর চুপ থাকতে চাই না।”

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী ফাতেমা জাহান মেঘলা বলেন, “বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন না থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের সিট দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়।”

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “তোমাদের সব দাবিই যৌক্তিক। অনেক দিন ধরেই এসব অভিযোগ শুনছি। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, “ঘটনার পরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। তার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন বাস ড্রাইভারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যেন সত্য উঠে আসে, সে জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল (শনিবার) পটুয়াখালী থেকে ক্যাম্পাসমুখী একটি বাসে একজন নারী শিক্ষার্থী ও কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। একইদিন বাবুগঞ্জ থেকে ক্যাম্পাসমুখী বাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এক বাস চালক। এই ঘটনাগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম