ভোলায় ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচিতে মানুষের ঢল, রাজপথ মুখরিত শ্লোগানে

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ভোলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল গণজমায়েত ও মিছিল। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভোলা শহরের হাটখোলা জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার

সমাবেশে ভোলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে যোগ দেন। শহরের প্রতিটি রাস্তায় ছিল মানুষের স্রোত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ইসরায়েল নিপাত যাক, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করো’—এই সব শ্লোগানে মুখরিত করে রাখেন গোটা শহর।

আয়োজক সংগঠন প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা জানায়, কর্মসূচিকে সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে তারা জেলার ২৫টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে মসজিদ ও পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তাদের একত্র প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি রূপ নেয় একটি স্মরণকালের সেরা জনসমাবেশে।

শহরের প্রতিটি সড়কে মানুষের ঢল, হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, ফিলিস্তিনের পতাকা—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটি পরিণত হয় এক গণআন্দোলনের রূপে। বক্তারা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু একটি রাষ্ট্রের দাবি নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।”

এই সমাবেশ ভোলা জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রীসহ তিনজন আটক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেত্রীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া ছাত্রী টিকলি শরিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদিও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অনুমোদিত কোনো কমিটি নেই, তবে তিনি সেখানে সংগঠনের পক্ষে গোপনে তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, টিকলি শরিফের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে। ছাত্রদল দাবি করেছে, টিকলি গোপনে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি জানার পর কয়েকজন ছাত্রদলকর্মী তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আটকের সময় তার সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী—মামুন ও তরিকুল। তারাও পুলিশের হাতে সোপর্দ হন।

ঘটনার বিষয়ে টিকলি শরিফ বলেন, “আজ আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। লাইব্রেরিতে পড়ালেখা শেষে সন্ধ্যায় বাইরে বের হলে কয়েকজন জুনিয়রের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে চা খেতে গেলে সেখান থেকেই আমাকে আটক করা হয়।”
সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে যে কেউ ভালোবাসা থেকে কোনো সংগঠনের হয়ে কাজ করতে পারে।”

এদিকে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সদস্য মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “টিকলি ক্যাম্পাসে ফিরে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি জানার পর জুনিয়ররা তাকে আটক করে প্রক্টরের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনি বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলি এবং অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দিই। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী পুলিশ গ্রহণ করবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আলোচনায় সন্তুষ্ট নয় বিএনপি




কলাপাড়ায় রাতে আগুন, পুড়ল বিএনপি অফিসসহ ৫ দোকান

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়সহ পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে, তখন হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয় বাজারের এক প্রান্তে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, আগুনের সূত্রপাত ঘটে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় থেকে। সেখান থেকে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। আগুনে দুটি মুদি দোকান, একটি রেস্টুরেন্ট, একটি কীটনাশক বিক্রির দোকান এবং কার্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়। পলকেই ছড়িয়ে পড়া আগুনে দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছুই আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়। টানা এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুনের ভয়াবহতা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমার সব পুঁজি ছিল দোকানে। একরাতেই সব শেষ হয়ে গেল। নতুন করে কীভাবে শুরু করব জানি না।”

ঘটনার পর পুরো বাজারজুড়ে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে। আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হতে পারে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রিপোর্ট আসলেই বিস্তারিত জানা যাবে।”

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

##########
মো: আল-আমিন




রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে স্পষ্ট হবে সরকার কতটুকু সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারবে : প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিকদলগুলোর সংলাপ শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে অন্তর্বর্তী সরকার কতটুকু সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারবে।বাসস

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘রাজনৈতিকদলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন বিশদ সংলাপ করছে। এই সংলাপ শেষ হলে রাজনৈতিকদলগুলো একটা ঐকমত্যে পৌঁছাবে, তখন স্পষ্ট হবে কতটা সংস্কার আমরা করব এবং কতটা সংস্কার পরবর্তী সরকার করবে।’

প্রেস সচিব মনে করেন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিকদলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের ওপর।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।




শুধু নির্বাচনসহ  আরও অনেক বিষয়ে কথা হবে : বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বিএনপির নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুনির্দিষ্ট করে জানতে চাইবেন কবে নাগাদ নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ বা পথনকশা কবে ঘোষণা করা হবে। উপদেষ্টার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে না পারলে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে পারে।প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে শুধু জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট পথনকশার দাবি নয়, এ–সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিষয়ে কথা বলবে বিএনপি।

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এ বৈঠক হবে। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেফাইল ছবি

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা হয়। সেখানে বৈঠকের আলোচ্য সূচি এবং নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়ের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণার দাবি নিয়ে আলোচনা হয়।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, সরকারের উপদেষ্টাদের বিভিন্ন রকম বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকারের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কোনো প্রস্তুতি দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে, এখনো সংসদীয় আসনবিন্যাসের বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বিষয়টি এখনো সেভাবেই পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ইসি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করে। বর্তমান ইসি সেটি আবার নির্বাচন কমিশনের অধীন রাখার প্রস্তাব করে। এই প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদনও করে। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনোই অগ্রগতি নেই।

এ ছাড়া বিএনপির নেতারা মনে করেন, প্রশাসনের সর্বস্তরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও সুবিধাভোগীরা এখনো বহাল আছে। এত দিন যাঁরা বৈষম্যের শিকার, তাঁদের এখনো পদায়ন করা হচ্ছে না। এ বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলবে বিএনপি।

সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিভিন্ন রকম বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে স্পষ্ট হতে চাইবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আগেরবারের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তাঁর সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তখন এ বক্তব্যে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তখনই তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছিলেন, প্রতিশ্রুত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এর পথনকশা যথাযথভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে, যাতে নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, তখন প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে ‘দ্রুত’ নির্বাচন বা চলতি বছরের ‘জুন-জুলাইয়ের মধ্যে’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিএনপি সরে আসে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাঁর আগের অবস্থানের হেরফের দেখছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। প্রধান উপদেষ্টা সাম্প্রতিক একাধিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। দলটি মনে করছে, নির্বাচন পেছানোর ভাবনায় ষড়যন্ত্র আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ  বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তিনি সব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এর ব্যতিক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টাদের কয়েকজনের যে বক্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের যে পোস্ট, তাতে করে মনে হচ্ছে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়াস অব্যাহত আছে। বৈঠকে আমরা জানতে চাইব, তিনি কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের নির্দেশনা দেবেন।’




ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোডম্যাপ অনুযায়ী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করবে তা রোডম্যাপে উল্লেখ নেই। বাসস

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রোডম্যাপ এর কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন মনে করে, ডাকসু প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদেরও ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ আছে। সে কারণেই বর্তমান প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন সম্পাদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ এবং অগ্রগতি সংবলিত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হলো।

গণমাধ্যমে পাঠানো রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়, ডাকসু নিয়ে অংশীজনদের আলোচনা শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে।

একই মাসে ডাকসু সংশোধিত গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে তা ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছে পাঠানো হয়। এর আগে এ বিষয়ে ছয়টি সভা করা হয়। এই গঠনতন্ত্র এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি মাসে ‘ডাকসু ইলেকশন কোড অব কনডাক্ট রিভিউ কমিটি’ করা হয়। তারা সাতটি সভা করে। এটিও চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন তা সিন্ডিকেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, মে মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। একই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন। এরপর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে।




এক লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ঐকমত্যের পথ : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

জাতীয় সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসলে তা একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, বরং একই লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা। তাই টেবিলের দুই প্রান্তে থাকলেও আমরা আসলে এক পক্ষ—যেখানে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার।

রাজধানীর সংসদ ভবনের এল.ডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বাংলাদেশ)- এনডিএম-এর বৈঠকে আলোচনার শুরুতেই অধ্যাপক রীয়াজ এসব কথা বলেন। আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আলোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই আমরা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারি। যেভাবে অতীতে আমরা সম্মিলিতভাবে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পেরেছি, ঠিক সেভাবেই এই ঐক্য অটুট রেখে সংস্কারের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।

এদিন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির মহাসচিব মোমিনুল আমিন, ভাইস-চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার সাহিদুল আজমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধান, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট কমিশন। এসব কমিশনের দেওয়া সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪টি দলের কাছ থেকে মতামত পাওয়া গেছে এবং ৯টি দলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৭ এপ্রিল বিএনপির সঙ্গে তাদের পরবর্তী আলোচনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

এই সব তথ্য আজ কমিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনা ও  সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি




বরগুনায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ ৬ জন যুবক কারাগারে

বরগুনার সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাদকসেবী সন্দেহে আটক ছয় যুবকের ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আদালত পরবর্তী নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। বরগুনা সদর থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা পরিষদের ভেতর থেকে ৬ জনকে আটক করে। রাতেই তাদের ডোপ টেস্ট করা হলে সকলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—

  • মোহাম্মদ মিঠুন (২৭), পিতা: মো. দেলোয়ার হাওলাদার, ঠিকানা: ঢলুয়া, সদর
  • মাহমুদুল হাসান (৪৩), পিতা: মৃত আব্দুল মালেক মিয়া, ঠিকানা: শাহাপট্টি
  • মো. সোহাগ (৪৪), পিতা: মো. আলি আকবর, ঠিকানা: পশ্চিম বরগুনা
  • মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), পিতা: তোফায়েল মিয়া, ঠিকানা: ডিকেপি রোড
  • মো. ফারুক (৩৮), পিতা: মৃত আবুল হোসেন
  • শহিদুল ইসলাম (৩৬), পিতা: মৃত শানু মিয়া, ঠিকানা: কলেজ রোড

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “ছয়জনের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

এ ঘটনায় বরগুনায় আবারও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম