দুমকিতে ইউপি সদস্য ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল গ্রেফতার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বাবুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।

জানা গেছে, জাহিদুল ইসলাম বাবুল মুরাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি এবং একই ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।

গ্রেফতারের পেছনের কারণ হিসেবে জানা গেছে, ২০২২ সালে সারাদেশে বিএনপির ডাকা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুমকিতে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই সময় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর, গত বছরের ৭ নভেম্বর মো. মোর্তুজা বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দুমকি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামিদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম বাবুলও ছিলেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং বাবুলকে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে তার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: একমাসেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় মাফিয়া বেগম (১৬) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর একমাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করায় বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নিহত মাফিয়ার স্বজনরা। মানববন্ধনে অংশ নেয় প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

গত ২০ মার্চ রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার পান্জুপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে মাফিয়াকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে মাফিয়ার পরিবারের অভিযোগ, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

মাফিয়ার ভাই বনি আমিন বলেন, ‘আমার বোনকে প্রথমে নির্যাতন করা হয়, এরপর গলা টিপে হত্যা করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বোনের মরদেহ হাসপাতালে রেখেই স্বামী মেহেদী হাসান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। আমরা মামলা করতে গেলে মহিপুর থানা পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। পরে ১ এপ্রিল মামলা নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশকে লোকেশন দিয়েছি। তারপরও অজ্ঞাত কারণে আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা চাই আমার বোনের হত্যাকারীরা শাস্তি পাক।’

জানা যায়, মাত্র চার মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মাফিয়া বেগমের সঙ্গে একই এলাকার কুদ্দুস হাওলাদারের ছেলে মেহেদী হাসানের (২২)। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন মাফিয়ার পরিবার।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুয়াকাটা প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে রাখাইন মার্কেট রোডে অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ৪-৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের আগে কাউকে অহেতুক হয়রানি করা যাবে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি এবং দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এদিকে, এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা দ্রুত বিচার না হলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গৃহবধূর নির্মম মৃত্যুর বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে রহস্যজনকভাবে ১৯ মাসের শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের তাতেরকাঠি গ্রামে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আয়শা নামের শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মা মীম আক্তার (২০) জানান, তার মেয়ে আয়শা খেলার সময় বিছানা থেকে পড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার এই বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. শাম্মী ইসলাম তরণ জানান, শিশুটির শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলো বিছানা থেকে পড়ে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক মনে হয়নি। বরং চিহ্নগুলোর ধরন ও অবস্থান তার মায়ের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় চিকিৎসা দল থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

শিশুটির মা আরও বলেন, তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় নওগাঁ সদর উপজেলার রোনান সাহেদ (২৪) নামের এক দিনমজুরের সঙ্গে। স্বামী বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন এবং মাঝে মধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দেন। বিয়ের কিছুদিন পর শাশুড়ি বিদেশে চলে গেলে তিনি বাবার বাড়ি বাউফলের তাতেরকাঠি গ্রামে চলে আসেন। দেড় বছর আগে সেখানে জন্ম হয় আয়শার।

এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বলছেন, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এই ঘটনায় এলাকার মানুষজনের মধ্যে শোক এবং উদ্বেগের পাশাপাশি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঝাড়ু মিছিলে থেমে গেল সড়ক নির্মাণ, জেগে উঠেছে প্রশাসন

নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করে কাজ বন্ধ করে দিলো তালতলীর সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবার গণবিক্ষোভে নামেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, এবং অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম।

বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের মালিপাড়া থেকে নয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে মেসার্স এনামুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মাণ শুরুর পর থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছিল নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকাবাসী ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভে নামেন এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

বিক্ষোভের জেরে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর মান পরিদর্শন করেন। তিনি নমুনা সংগ্রহ করে ইটের গুণগত মান পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনামুল এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল বলেন, “আমি এখনো কোনো লিখিত নোটিশ পাইনি, তবে জেলা অফিস থেকে মৌখিকভাবে ইট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাই সম্মানের খাতিরে আমরা তা করছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঠিকাদারকে লিখিতভাবে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি সেটা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত না হলেও এ বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা রয়েছে।”

তবে সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই তৎপরতা চলমান থাকলে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমে লাগাম টানা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গ্যাস সংযোগ ও উন্নয়ন দাবিতে ভোলায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, ইন্ট্রাকোর গাড়ি আটকে দিলেন

ভোলায় ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনসহ পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছাত্র ও জনতা। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতা ইন্ট্রাকো গ্যাস কোম্পানির একটি গ্যাসবাহী গাড়ি আটকে দেয় এবং বিক্ষোভ শুরু করে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন রহিম ইসলাম, আতাউর রহমান আরিফ ও মো. রাজু। তারা বলেন, “ভোলার মাটির নিচে গ্যাসের বিশাল মজুদ থাকা সত্ত্বেও এখানকার মানুষ এখনো গৃহস্থালির কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে না। এছাড়া গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানাও গড়ে ওঠেনি। বারবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানালেও সরকার কর্ণপাত করেনি।”

তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ
২. গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন
৩. ভোলা-বরিশাল সংযোগ সেতু নির্মাণ
৪. পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন
৫. স্থানীয় উন্নয়নে গ্যাস রাজস্বের ন্যায্য অংশ বরাদ্দ

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, এসব দাবি পূরণ না হলে ভোলা থেকে কোনোভাবেই গ্যাস বহন করতে দেওয়া হবে না।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ইন্ট্রাকো কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।”

রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতা গ্যাসবাহী গাড়িটি আটকে রেখেছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিডিআর হত্যাকাণ্ডবিষয়ক তথ্য দিতেগণবিজ্ঞপ্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিডিআর হত্যাকাণ্ডবিষয়ক জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রমে সহায়ক তথ্য দিয়ে কমিশনকে সাহায্য করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।বাসস

প্রায় ১৬ বৎসর পূর্বে সংঘটিত ঘটনার তথ্য উদ্ঘাটন জটিল হলেও কমিশন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে যাতে করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।

কমিশন নজিরবিহীন লোমহর্ষক পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ওই ঘটনা বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সাক্ষ্য আহ্বান করেছে। যে পদ্ধতিতে তথ্য দেওয়া যাবে: ওয়েবসাইটের মাধ্যমে bdr-commission.org, ই-মেইলের মাধ্যমে: comission@bdr-commission.org। এছাড়াও কমিশনে হাজির হয়ে। তাছাড়া কুরিয়ার ও ডাকযোগেও সহায়তা করা যাবে। ঠিকানা: বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম), নতুন ভবন (৭ম তলা), ড. কুদরত-এ-খুদা সড়ক (সায়েন্স ল্যাবরেটরি রোড), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫। কমিশনকে ঢাকার বাইরে অথবা বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী তথ্যদাতার বাসায় যেয়ে বা অন্য যেকোনো স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হলে উল্লেখিত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

হটলাইন (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা: ০১৭৬৯-৬০০২৮১)। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এই বিষয়ে সহায়তাকারী ব্যক্তিবর্গের পরিচয়ের গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

তথ্যদাতা তার নাম, ফোন, ই-মেইল, ঠিকানা সাবমিট করবেন ওয়েবসাইটে। এর আগে তথ্যের প্রকৃতি নির্বাচন করতে হবে-বেঁচে ফিরে আসা শহীদ পরিবারের ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি, অন্যান্য সাক্ষী বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি, প্রিন্ট মিডিয়া (খবরের কাগজ), ইলেকট্রনিক মিডিয়া (ইমেজ, ভিডিও, অডিও, নিউজ পেপার) মোবাইল কল রেকর্ড, মোবাইল ম্যাসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের স্বাক্ষরিত এই গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তর, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও প্রকৃত ঘটনার স্বরূপ উদঘাটন, ঘটনায় রুজুকৃত দুটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত, ঘটনার ষড়যন্ত্রকারী, ঘটনার সহযোগী, ঘটনার আলামত ধ্বংসকারী, ঘটনার সংঘটনকারী এবং ঘটনার অপরাপর সংশ্লিষ্ট বিষয় ও অপরাধীদের এবং সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সংস্থা, বিভাগ, সংগঠন চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী কিছু কিছু বিদেশি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এই প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখা হয়েছে। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে পিলখানা হত্যাযজ্ঞ নিয়ে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। কমিশন সকল তথ্য সংগ্রহ এবং পর্যালোচনা করেছে।

কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে এবং কোন প্রকার চাপ বা প্রভাব মুক্ত অবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১৬ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার যে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। কমিশন তাদের তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তদন্ত কমিশন তাদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তপ্রক্রিয়ায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক, জামালপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি মির্জা আজম, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের তৎকালীন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ শামসুল আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মঈন ইউ আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহহার আকন্দ, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তাদের সময়সূচি ফোন, ই-মেইল বা চিঠির মাধ্যমে কমিশনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যার সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বরে সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশন অফ ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ এর অধীনে মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমানকে (অবসরপ্রাপ্ত) সভাপতি করে ‘পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের’ বিষয়ে ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন করা হয়। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এই জাতীয় স্বাধীন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনকে সময়সীমা উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধি বিষয়ে বলা হয়েছে, ১. ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দফতর, পিলখানায় সংঘটিত ঘটনার প্রকৃতি ও স্বরূপ উদঘাটন করা।

২. ঘটনাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটনকারী, সহায়তাকারী, ষড়যন্ত্রকারী, ঘটনার আলামত ধ্বংসকারী, ইন্ধনদাতা এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয়সহ দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের (ব্যক্তি/ গোষ্ঠী/ সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/ বিভাগ/ সংগঠন) চিহ্নিত করা। ৩ হত্যাকাণ্ডের সময় ও হত্যাকাণ্ডের আগে/পরে সংঘটিত অপরাধের উদঘাটন, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করা। ৪. হত্যাকাণ্ডসহ সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের (ব্যক্তি/গোষ্ঠী/সংস্থা/প্রতিষ্ঠান/বিভাগ/সংগঠন) চিহ্নিত করা।

৫. হত্যাকাণ্ডসহ সংঘটিত অপরাধে দায়েরকৃত মামলা এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্তদের অপরাধ অক্ষুণ্ন রেখে সংশ্লিষ্ট মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি- এমন প্রকৃত অপরাধীদেরকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা। ৬. তদন্ত কমিশন বাংলাদেশের যে কোনও স্থান পরিদর্শন এবং সন্দেহভাজন যে কোনও ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিল ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি।




ডিসেম্বরই শেষ সময়’, যুগপৎ সঙ্গীদের সঙ্গে বসছে বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির লিয়াঁজো কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তবর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে এবার যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসছে বিএনপি।

(১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, লিয়াঁজো কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বৈঠক করবেন ১২ দলীয় জোট ও এলডিপির সঙ্গে। বিকেল ৩টায় ১২ দলীয় জোট ও সন্ধ্যা ৭টায় এলডিপির সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।

১৬ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। সেখানে তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে দাবি জানান। কিন্তু সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ না জানিয়ে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে বিএনপিকে জানায়। সরকারের এই অবস্থান নিয়ে পাল্টা নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানায় বিএনপি।




ভ্রমণপিপাসুদের তৃপ্তির ঠিকানা এখন পায়রার ‘ম্যাজিক চা’

পটুয়াখালীর লেবুখালীর পায়রা সেতুর পাশে নতুন করে যোগ হয়েছে এক চমকপ্রদ ভ্রমণ গন্তব্য—‘ম্যাজিক চা’। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে পায়রা পয়েন্ট মার্কেটে গড়ে উঠা এই ব্যতিক্রমধর্মী চায়ের আসর এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। শুধু চা নয়, এখানে মিলছে অনন্য পরিবেশ, মনভোলানো দৃশ্য আর চায়ের প্রতিটি চুমুকে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

পায়রা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মানুষগুলো এখন আর শুধু ব্রিজে নয়, কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন ‘ম্যাজিক চা’ স্পটে। চায়ের স্বাদের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি মশলাদার পানও—যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘পাহাড়ি পান’ ও ‘আগুন পান’ নামে। পাহাড়ি পান বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় আর অনন্য স্বাদের আগুন পান বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

তিনটি স্বাদের চা পাওয়া যাচ্ছে এখানে—স্পেশাল মালাই (৫০ টাকা), রেগুলার ও মিনি চা (২০ টাকা)। তবে দামের চেয়ে চায়ের স্বাদ, পরিবেশনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। নদী, সেতু আর প্রকৃতির নিসর্গে ঘেরা পায়রা পয়েন্ট এখন যেন হয়ে উঠেছে এক খোলা বাতায়ন—যেখানে প্রতিটি চুমুকে লুকিয়ে আছে স্বাদ, গল্প আর আবেগ।

দোকানিদের ভাষ্যমতে, এই চায়ের বিশেষত্ব হলো প্রতিটি কাপে তারা দিচ্ছেন একধরনের ভ্রমণের অনুভূতি। কেউ উপভোগ করছেন ঘন দুধের মালাই চা, কেউবা ঝাল-মিষ্টি মশলার মিশেলে তৈরি স্পেশাল ম্যাজিক চা। অভিনব পরিবেশনা আর অতিথি আপ্যায়নের ধরন চা প্রেমীদের কাছে এটি করে তুলেছে অবিস্মরণীয়।

ঢাকা, বরিশাল, খুলনা সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা কুয়াকাটার পথে কিংবা ফেরার সময় থেমে যাচ্ছেন এই স্পটে। অনেকেই বলছেন, শুধু চা নয়, প্রকৃতির মাঝে বসে চায়ের স্বাদ গ্রহণ করা যেন হয়ে উঠেছে জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

একজন পর্যটক বলেন, “পায়রা সেতু দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে ‘ম্যাজিক চা’ খেয়ে মনটাই ভরে গেল। এমন স্বাদ, এমন পরিবেশ জীবনে প্রথম!”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ব্যতিক্রমী চা-উদ্যোগ পায়রা সেতুর সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। এর মাধ্যমে যেমন বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ, তেমনি উন্নয়ন হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিরও। পায়রা সেতু যেমন যাত্রীদের পথ সুগম করেছে, তেমনি তার ছায়ায় গড়ে ওঠা এই ‘চায়ের শহর’ হয়ে উঠছে হৃদয়ের নতুন ঠিকানা—যেখানে এক কাপ চা মানেই শত গল্পের শুরু।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৯ মাস পর কবর থেকে শহীদ ইমনের মরদেহ উত্তোলন

ভোলার আলীনগরে দাফনের ৯ মাস পর শহীদ ইমনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ। ঢাকার উত্তর বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

মরদেহটি ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

নিহত ইমন সাচিয়া গ্রামের দিনমজুর নান্টু মিয়া ও পোশাক শ্রমিক কুলসুম বেগমের ছেলে। গত বছরের ২০ জুলাই দুপুরে ইমন ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকার জামতলা মেইন রোডে গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২১ জুলাই মরদেহ ভোলায় এনে দাফন করা হয়।

শহীদের মা কুলসুম বেগম গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ৯২ জনকে অভিযুক্ত করেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় রাখাইনদের জলকেলি উৎসবে নতুন বছর ১৩৮৭ কে স্বাগত

পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে রাখাইন সম্প্রদায় নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছর ১৩৮৭ কে বরণ করে নিচ্ছে। পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী তিন দিনের ‘সাংগ্রাই’ বা ‘জলকেলি উৎসব’। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট মাঠে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম।

শত বছরের পুরনো এ উৎসব শুরু হয় সকাল বেলা বুদ্ধস্নানের মধ্য দিয়ে। এরপর দিনভর চলেছে নাচ-গান ও জলকেলি। রাখাইনদের এই ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন নৃত্য পরিবেশনায়। এরপর একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন তারা।

রাখাইন তরুণ মিঠুসে জানান, “পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই আমাদের এই উৎসব। এখানে তরুণদের পানি কিনে নিতে হয়, তবে তরুণীরা সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এমং তালুকদার বলেন, “আগে এই উৎসব প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় হতো। এখন আর্থিক সংকটে সব জায়গায় হয় না। কুয়াকাটায় এই আয়োজন করতে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। অনুদান সংগ্রহ করে আমরা উৎসবটি আয়োজন করছি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ চাকমা, পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কুয়াকাটা রিজিয়ন; সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন সাদেক; মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম; কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার; কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক ফ্রান্সিস বেপারী; বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ইউএনও রবিউল ইসলাম বলেন, “এই জলকেলি উৎসব রাখাইনদের শতবর্ষী ঐতিহ্যের অংশ। কলাপাড়া উপজেলার ২৮টি রাখাইন পাড়ায় যারা বসবাস করছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

উৎসবটি শুধু রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পর্যটকরাও অংশ নিয়ে উপভোগ করছেন এ রঙিন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম