কলাপাড়ায় ছাত্রশিবির সভাপতির পদত্যাগ, নতুন নেতৃত্ব আসছে শিগগিরই

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২০ এপ্রিল) তিনি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সমর্থন সবসময়ই থাকবে ইনশাআল্লাহ। তবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা সংগঠনের ক্ষতির কারণ হতে পারে—এই উপলব্ধি থেকেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠন ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে এবং আমি অন্য যেকোনোভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তবে এ বিষয়ে মো. আবদুল্লাহর বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

জামায়াতে ইসলামী কলাপাড়া উপজেলা শাখার আমির মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “আবদুল্লাহর কিছু পারিবারিক জটিলতা রয়েছে। অনেক সময় ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া, বিয়ে, চাকরি বা ব্যবসার কারণে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হয়। সে দায়িত্বশীলভাবে পদত্যাগ করে ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে।”

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই কলাপাড়া উপজেলা শাখায় নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ধরিত্রী দিবসে যুবদের পরিবেশ কর্মসূচি

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে “পৃথিবীর জন্য যুব সচেতনতা থেকে কর্ম অভিযান” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে পটুয়াখালীতে। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে পরিবেশবান্ধব যুব কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এ আয়োজনটি বাস্তবায়ন করে ‘ফর দ্য লাইট’ প্রকল্প। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ও লাল সবুজ সোসাইটি।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সেলিনা আক্তার সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সচিব মো: জালাল উদ্দীন। আরও বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো: রায়হান, দ্যা আর্থ এর হেড অফ পার্টনারশিপ ডিপার্টমেন্ট প্রধান মোসলে উদ্দীন সূচকসহ অন্যান্য বক্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “এই পৃথিবী আমাদের সকলের। পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় যুব সমাজের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তব কর্মদক্ষতা ও উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।”

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ১২০ জন তরুণ, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভা শেষে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বরে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগৈলঝাড়ায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’: নিহত ১, আহত ৪

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাহেবের হাট সংলগ্ন ওরাভাশবাড়ী বাজার এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন র‍্যাব সদস্য রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম।

নিহত যুবকের মো. সিয়াম মোল্লা (২২)। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট গ্রামের বাসিন্দা এবং রিপন মোল্লার ছেলে। আহত গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হলেন রাকিব মোল্লা (২৭), একই এলাকার খালেক মোল্লার ছেলে। তারা দুজনেই পুলিশ সূত্রে ‘চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব-৮ এর একটি সিভিল টিম গোপনে মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সিয়াম ও রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে দুই র‍্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় মোহনকাঠী গ্রামের মোটরসাইকেল চালক হাসান মৃধা জানান, একটি ইজিবাইক থেকে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ সিয়ামকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তার মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। পরে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জাকিয়া রহমান জানান, তার বুকে গুলির চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর র‍্যাব, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এলাকা ঘিরে ফেলে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বরিশাল আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে র‍্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন। গুলিবিনিময়ের সময় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, র‍্যাব-৮ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ সিয়াম ও রাকিব নিজের দলের গুলিতেই আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।




কলাপাড়ায় ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্য। সোমবার দুপুরে উপজেলার আলীপুর বাজারের পুরাতন মাছ বাজার পট্টি এলাকার নিজ দোকানঘর থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি মজিবুর রহমান (৩০), যিনি আলীপুর বাজারের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান হাওলাদারের ছেলে এবং চার সন্তানের জনক। তিনি ওই বাজারে একটি ওয়াকশপের মালিক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো দুপুরের খাবার খেয়ে মজিবুর দোকানে যান। রাতে সাধারণত তিনি দোকানেই ঘুমাতেন, তাই পরিবারের সদস্যরা আর খোঁজ নেয়নি। সোমবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে দোকানের শার্টার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহিপুর থানা পুলিশ এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামতও জব্দ করা হয়।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একজন তরুণ ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেকেই বলছেন, মজিবুর ছিলেন মিশুক ও পরিশ্রমী, তার এমন পরিণতি মানতে পারছেন না কেউই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে নিজ বাড়িতে খুন হওয়া বৃদ্ধার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার এক নিস্তব্ধ রাত হঠাৎ করেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল। ৯০ বছর বয়সী এক নারীকে নিজ ঘরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শুধু হত্যা নয়, মৃত্যুর আগেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন চিকিৎসক ইমাম হোসেন সিকদার। তিনি জানান, মরদেহে ধর্ষণের আলামত স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার গভীর রাতে। বৃদ্ধার দূরসম্পর্কের নাতি মনির হোসেন (৪৮) হঠাৎই বৃদ্ধার ঘরে প্রবেশ করেন। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। পানি খাওয়ার অজুহাতে প্রথমে দরজা খুলতে বলেন। পুত্রবধূ রাজি না হলে পেছনের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে। এরপর শুরু হয় ভয়ঙ্কর দৃশ্য। টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন মনির। রাজি না হওয়ায় পুত্রবধূর স্বামীকে পিটিয়ে আহত করেন। ভয়ে তিনি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় নেন।

এরপরের চিত্র আরও ভয়াবহ। দীর্ঘক্ষণ পরে ঘরে ফিরে পুত্রবধূ দেখতে পান বৃদ্ধা বিবস্ত্র এবং নিথর। ধারণা করা হচ্ছে, মনির বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পরই হত্যা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মনিরকে আটক করে। পরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ মেলায় হত্যা মামলার সঙ্গে ধর্ষণের ধারাও সংযুক্ত করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল থেকে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমীন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রতিবেদন জমা দিলেই তা পুলিশকে হস্তান্তর করা হবে। পুত্রবধূর মতে, ঘটনার সময় মনির নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও হিংস্র।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক বৃদ্ধার জীবনের শেষ অধ্যায় এমন বর্বরতার মাধ্যমে রচিত হবে, তা কল্পনাও করেনি তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে গভীর রাতে আগুন, তিন ঘর ছাই

পটুয়াখালী শহরের ফৌজদারি পুল এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অ্যাডভোকেট চন্দন সোমাদ্দার ও তার পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক ঘরে। ঘুমন্ত মানুষ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচালেও কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।

স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা, কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় তা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। পরে খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই তিনটি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, বৈদ্যুতিক সামগ্রী থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পর্যন্ত সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়।

অ্যাডভোকেট চন্দন সোমাদ্দারের ভাই গৌতম সোমাদ্দার বলেন, “আমরা ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ আগুন দেখে প্রাণ নিয়ে বের হয়ে আসি। কিছুই বের করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে কেউ আমাদের ক্ষতি করার জন্য চারপাশে আগুন দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ রাজিব বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। তবে ঘরের সব মালামালই পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, চন্দন সোমাদ্দার ও তার পরিবার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুনের ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

জাতীয়করণসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট। রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মো. আল-আমিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান হিরনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. মোফাজ্জেল হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. ফোরকানসহ বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষক নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণসহ নানা দাবি নিয়ে আন্দোলন চললেও সরকার এখনো তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়নি। এর ফলে শিক্ষক সমাজ চরম হতাশায় ভুগছেন। তারা জানান, আগামী ১২ মে’র মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হলে ১৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ
২. রেজিস্ট্রেশন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে কোড প্রদান
৪. আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন
৫. অফিস সহায়ক নিয়োগ
৬. প্রাক-ইবতেদায়ী শ্রেণির অনুমোদন প্রদান

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে নাতি আটক

পটুয়াখালীর দুমকিতে অমানবিক ও মর্মান্তিক এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে নিজ ঘরে হামলার শিকার হন এক পরিবার। দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্ধ ও অসহায় এক বৃদ্ধা। ৮০ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতের ওই ঘটনায় আহত হন বৃদ্ধার ছেলে ওমর ফারুক ওরফে বাবুল খান। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মনির হোসেন নিহত বৃদ্ধার চাচাতো নাতি। সে তার নানা বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেও তার স্থায়ী ঠিকানা লেবুখালী ইউনিয়নের বাদশাবাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম হোসেন মিরা।

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত মনির প্রথমে বাবুল খানের স্ত্রী রশিদা বেগমের কাছে পানি চাইতে ঘরের দরজায় আসে। আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেলেও রশিদা দরজা খোলেননি। এরপর ঘরের পেছনের অংশ ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে মনির। প্রবেশ করেই সে টাকা দাবি করে, কিন্তু টাকা না পেয়ে বাবুল খানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এরপর ওই ঘরের ভেতর অবস্থান করা বৃদ্ধা পিয়ারা বেগমকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করে সে। ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধার নগ্ন দেহ উদ্ধার করা হয়, যাতে ধর্ষণের আলামতসহ শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রশিদা বেগম বলেন, “ওদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ ছিল না। গতকালও সে ভালোভাবে কথা বলেছে। কিন্তু তার আচরণ একটু অস্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। ঘর ভাঙার শব্দ পেয়ে আমি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় নিই।”

নিহতের স্বজনেরা অভিযুক্ত মনিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং বলেন, তার ছোট ভাইও মাদকাসক্ত, পরিবারটি আগেও নানা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল।

ঘটনার বিষয়ে দুমকি থানার পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ১৭ কাউন্সিলরের পদ শূন্যের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ, আদালতে মামলা

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ দাবি করে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বরিশাল সিটির ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত পুরুষ কাউন্সিলররা যৌথভাবে এ মামলা দায়ের করেন। তারা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (ওয়ার্ড-১), মো. কামরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-২), মো. মিজানুর রহমান (ওয়ার্ড-৩), মো. সেলিম হোসেন (ওয়ার্ড-৪), মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-৫), মো. রফিকুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৬), মো. জহিরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৭), মো. হাসান আলী (ওয়ার্ড-৮), মো. মজিবর রহমান (ওয়ার্ড-৯), মো. নাজমুল হক (ওয়ার্ড-১০), মো. মেহেদী হাসান (ওয়ার্ড-১১), মো. সাইফুল ইসলাম (ওয়ার্ড-১২), মো. জিল্লুর রহমান (ওয়ার্ড-১৩), মো. আলাউদ্দিন (ওয়ার্ড-১৪), মো. সোহেল রানা (ওয়ার্ড-১৫), মো. রবিউল ইসলাম (ওয়ার্ড-১৬) এবং মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-১৭)।

তাদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মো. মাহাবুবুল হক টুকু, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সানু এবং অ্যাডভোকেট সুজন হালদার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কাউন্সিলরদের কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এতে কাউন্সিলরদের কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে পদচ্যুত করা হয় বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষ বলছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ বাতিল করে জনগণের রায় ও সাংবিধানিক অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা আদালতের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন: প্রজ্ঞাপন বাতিল, কাউন্সিলরদের বহাল রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া।

মামলার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক টুকু বলেন, “এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি সংবিধান এবং স্থানীয় সরকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”

সিটি কর্পোরেশনের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তারা বিষয়টি আইনি দিক থেকে পর্যালোচনা করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এই মামলার রায় বরিশাল সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়া পৌরশহরে যানবাহনের জটলা, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে ধারণক্ষমতার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বেশি যানবাহনের চলাচলে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ অরাজকতা। অটোবাইক, মিশুক, অটোরিকশার পাশাপাশি ট্রলি, হামজা ও অন্যান্য কৃষিযানের দখলে শহরের সড়ক ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে জনভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।

শহরের প্রধান সড়ক ও উপসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য চলাচল হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ, যা শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

পূর্বে দিনব্যাপী ভারী মালবাহী ট্রাক শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বর্তমানে তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের পাশে শত শত মোটরসাইকেল নিয়মবহির্ভূতভাবে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে চলছে দোকানদারদের পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন। সব মিলিয়ে শহরজুড়ে চলছে নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলা।

কলাপাড়া পৌরসভার কর নির্ধারক রফিকুল ইসলাম জানান, “শহরে লাইসেন্সধারী যানবাহনের সংখ্যা প্রায় এক হাজার হলেও, বৈধভাবে নবায়ন করা হয়েছে মাত্র কয়েকশর। অথচ বাস্তবে দুই হাজারের বেশি যানবাহন চলছে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে।”

এ বিষয়ে ‘আমরা কলাপাড়া বাসী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ যানবাহন বন্ধ করে বৈধ যানবাহনের চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে সাধারণ মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে না।”

কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্তী আশ্বাস দিয়েছেন, “শহরের অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম