মাছের ঘাটের ইজারা দ্বিগুণ, দুশ্চিন্তায় বরিশালের বাজার

বরিশালের শহীদ জিয়া পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের ইজারার মূল্য হঠাৎ দ্বিগুণ করায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

রবিবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির সিকদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালে ঘাটটির ইজারার সর্বনিম্ন দর ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ দর ছিল ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫ সালের জন্য নতুন করে সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তারা মনে করছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ঘাটে মাছের আনয়ন কমে যাবে, যার প্রভাব পড়বে বরিশালের বাজারে। এতে মাছের সরবরাহ সংকট এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ইজারা নীতিমালায় থাকা সরকারি রেট অনুযায়ী টনপ্রতি আদায় হওয়ার কথা ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ মণপ্রতি প্রায় দেড় টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মণপ্রতি ১০০ টাকা—যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইজারা মূল্যের এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুধু ইজারাদারের মুনাফা নিশ্চিত করে না, বরং মাছের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বরিশালের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ হয়। তাই ইজারার বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে নেবেন সাধারণ ভোক্তার কাছ থেকে, ফলে বাড়বে মাছের দাম।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তারা বিকল্প ঘাট ব্যবহারের দিকে যেতে বাধ্য হবেন, যা শহীদ জিয়া মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ইজারার মূল্য নির্ধারণ হয় বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইজারাদারদের প্রতিযোগিতার কারণেও মূল্য বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, কেবল মূল্য বৃদ্ধিই নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতার অভাব ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন। তাই তারা চায়, ঘাট ইজারায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং সরকারি রেট সিস্টেম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হোক।

এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী কবির কাজী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গরমে রাস্তার পাশের শরবতে সর্বনাশ!

গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়, যা শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণে পানি ও শরবত পান করা খুবই জরুরি। তবে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে পাওয়া শরবত অনেকেই খেয়ে থাকেন, কিন্তু এই শরবত আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

রাস্তার পাশে শরবত: বিপদ কি না?

গরমের সময় রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় লেবু, বেল, কাঁচা আমের শরবতসহ নানা রকম শরবত। সস্তা হওয়ায় এগুলো তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা এসব শরবতকে বিপদজনক বলে দাবি করেছেন। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এসব শরবত তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার না করা, বরফের অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার এবং অপরিষ্কার উপকরণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ফল এবং চিনি ব্যবহার করে যদি শরবত তৈরি করা হয়, তবে তা উপকারী। কিন্তু ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবতগুলিতে এই স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাব থাকে। ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর বরফ

অনেক জায়গায় দেখা যায়, শরবত তৈরির জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয়, তা মাছের বাজার থেকে আনা হয়। মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বরিশালের সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর শরবত ও খাবার খেয়ে মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, বমি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি সকলকে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গরমে শরীরে পানি ঘাটতি পূরণের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি পান করার কথা বলেছেন।

রিক্সাচালক ও পথচারীরা জানান, তারা তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের শরবত পান করে থাকেন। তবে তারা কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না, শরবতের পানি ও বরফ কতটা নিরাপদ। এক রিক্সাচালক বলেন, “তৃষ্ণা পেলে শরবত খাই, ভালো-মন্দ চিন্তা করার সময় নেই।”

গরমের সময়ে শরবত পান করতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, তবে আমাদের সকলেরই উচিত এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত থেকে দূরে থাকা। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা, ব্যস্ত জেলেরা 

ভোলার জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন, কারণ খুব শীঘ্রই শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার জন্য দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চললে তারা আবার নদীতে নামবেন এবং জাল-নৌকা মেরামত করছেন গত কয়েকদিন ধরে। এই সময়ের মধ্যে অনেক কষ্টে জীবন কাটানোর পর, তারা আশা করছেন ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হলে ঋণ শোধ করার সুযোগ পাবেন।

মার্চ এবং এপ্রিল মাসে, সরকার জাটকা সংরক্ষণ লক্ষ্যে ভোলার নদীর ১৯০ কিলোমিটার জলসীমায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল। নিষেধাজ্ঞার সময়কালে প্রায় ৩ লাখ জেলে, যার মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন নিবন্ধিত জেলে, বেকার হয়ে পড়ে। এই সময় সরকার ৮৯ হাজার ৬০০ হতদরিদ্র জেলের জন্য চাল বরাদ্দ করেছিল, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে বেশিরভাগ জেলে সেই চাল পাননি।

ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের চরফ্যাশনের সামরাজ এলাকায় জেলেরা একত্রিত হয়ে জাল মেরামত ও নৌকা সংস্কার করছেন। পুরোনো নৌকা পুনরায় সংস্কার এবং নতুন নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকার নতুন আলকাতরা মাখানোর সময় এক ঝাঁজালো গন্ধ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে, অনেক জেলে পুরোনো জাল তুনছেন, আর অন্যদিকে নতুন সুতায় শক্তপোক্ত করার কাজ চলছে।

জেলেরা জানাচ্ছেন, ১ মে থেকে তারা ইলিশ ধরতে নদীতে নামবেন এবং নিজেদের নতুন জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলে ভালো মাছ ধরতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ঋণ শোধ করতে পারবেন। অনেক জেলে জানিয়েছেন, গত দুই মাস বেকার থাকার কারণে তারা ঋণের বোঝা বাড়িয়ে ফেলেছেন।

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বরাদ্দ করা চালের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রভাবশালী নেতারা তা আত্মসাৎ করেছেন এবং স্থানীয় কিছু কর্মীকে প্রদান করেছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার দেব এসব অভিযোগের বিষয়ে জানান, “যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোলার জেলেরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের চাল বরাদ্দ আশা করছিলেন, কিন্তু তাতে অনিয়মের কারণে তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য আড়তদার শাহাবউদ্দিন ফরাজি বলেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি হওয়া উচিত ছিল।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত: আসিফ মাহমুদ

সরকার দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এটি সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।

আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, পিএসসি নিয়ে সর্বশেষ ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘসূত্রিতা, অনিয়ম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরও উন্নতির জন্য সরকার দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। ছাত্রদের দাবিগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।”

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “ছাত্রদের দাবিগুলো সবসময় আমার কাছে প্রথম প্রাধান্য পায়। কুয়েটের আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের প্রতিনিধি দলকে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্মারকলিপি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি এবং নিয়মিত আপডেট রাখার চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করা সবসময় ফলপ্রসূ নয়। তবে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, আমি তা করে যাচ্ছি এবং সামনে আরও করব, ইনশাআল্লাহ।”

আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন যে, বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের বর্তমান প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সামনের কয়েক মাসে আরও অন্তত ১০ হাজার নতুন নিয়োগ হবে।

অপরদিকে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে শহীদ জসিম ভাইয়ের মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনি। তিনি জানান, “ভোর ৫ টায় তাদের না পেয়ে ফিরে এসেছি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের খবরটি সঠিক নয়, তারা সিআইডিতে রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা চলছে।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “পিএসসি একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের দাবিগুলো ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং আমি আবারও এ বিষয়ে কথা বলব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।

বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




সেবা বিঘ্নে টিভিতে স্ক্রল বাধ্যতামূলক: উপদেষ্টার কড়া নির্দেশ

বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক বা মেট্রোরেলের যাত্রী ও গ্রাহকসেবা যদি বিঘ্নিত হয়, তবে সেই তথ্য অবিলম্বে টেলিভিশনে স্ক্রল হিসেবে প্রচার করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

রোববার (২৭ এপ্রিল) উপদেষ্টার দফতর থেকে এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বলা হয়, যেকোনো ধরনের সেবা বিঘ্নের ঘটনা টিভিতে স্ক্রল হিসেবে প্রচার করা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে সেবা স্বাভাবিক হলে তা জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ নির্দেশনার পেছনে রয়েছে গত শনিবার দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট—প্রথমটি মেট্রোরেলের চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকা এবং দ্বিতীয়টি খুলনা অঞ্চলে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কিংবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে অবহিত করেননি। পরবর্তীতে উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই বিষয়টি জানতে পারেন।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এমন অব্যবস্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণকে অবহিত না করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া চলবে না।” নির্দেশনায় সাফ জানানো হয়, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি দায়, এটি দয়া নয়।”

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




জুলাই আন্দোলনে শহীদের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শেখেরটেকে ভাড়া বাসা থেকে জুলাই আন্দোলনে শহীদ জসিম উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া (১৭)–এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে শেখেরটেকের ৬ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লামিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শহীদ জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই কালাম হাওলাদার। তিনি জানান, ঘটনার সময় বাসায় অন্য কেউ ছিল না। ফাঁস দেওয়া অবস্থায় লামিয়াকে দেখতে পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় লামিয়া। ঘটনার পর সাহসিকতার সঙ্গে নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। তবে মামলার পর থেকে মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছিলেন এই কলেজছাত্রী।

লামিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, এলাকাবাসী ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে বলছেন, ধর্ষণের ঘটনার পর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হয়তো এমন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। তবে তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের দানা বাঁধছে। অনেকেই এ ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে লামিয়ার মৃত্যুর পেছনে সম্ভাব্য চাপ, ভয়ভীতি অথবা অন্য কোনো অপরাধী চক্রান্তের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাঁধঘাট এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মো. সরোয়ার তালুকদার (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মৃত সরোয়ার তালুকদার, আলতাফ তালুকদারের ছেলে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে সরোয়ারের চাচাতো বোন মাহিনুর বেগম ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় মাহিনুর তার বাবা ইউনুস তালুকদারকে খবর দেন। পরে ইউনুস তালুকদার এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে খুলে সরোয়ারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে অবহিত করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেছেন। সরোয়ারের মৃতদেহের অবস্থা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় অধিবাসী শরীফ মাতব্বর বলেন, সরোয়ারের মরদেহ যেভাবে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং তার পা ভাঁজ হয়ে খাটের সঙ্গে লেগে ছিল, তা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকাজুড়ে নানা গুঞ্জন চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুবসমাজের ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী শহরের মল্লিকা পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রতিনিধি সভা। শনিবার, (২৬ এপ্রিল)  দিন ব্যাপি আয়োজিত এই সভায় সংগঠনের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল রহমান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় উপকমিটির সদস্য সৈয়দ রাসেল মুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহ আলম শিকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান সাদ্দাম মৃর্ধা, যুগ্ম সদস্য সচিব শিল্পিক রানি, যুগ্ম আহ্বায়ক উর্মি ইসলাম এবং পটুয়াখালী পৌর অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কালাম সিকদার।

এছাড়াও জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন, যারা সংগঠনের আগামী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ রাসেল মুন বলেন,
“বাংলাদেশের যুব সমাজ দেশের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ হলো এমন একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যুবকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস সংগ্রাম করা হয়। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও সমতা ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা অপরিহার্য।

আমরা বিশ্বাস করি, যুবসমাজের শক্তি দিয়েই আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো। যুব অধিকার পরিষদের প্রতিটি সদস্যকে আরও নিষ্ঠাবান হয়ে সংগঠনের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে শুধু রাজনৈতিক শক্তি অর্জন নয়, বরং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা। আগামী দিনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

সভায় উপস্থিত নেতারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। তরুণদের নেতৃত্বে সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বাউফলে গরুর লাম্পি স্কিন রোগে বিপর্যস্ত কৃষক-খামারিরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর জন্য ভয়াবহ ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ। গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে বেসরকারিভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বাছুর, যা খামারিদের জন্য আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই রোগে আক্রান্ত গরুদের শরীরে প্রথমে জ্বর হয়, খাবারে অরুচি দেখা দেয়, মুখ ও নাক দিয়ে লালা পড়ে, পা ফুলে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়ার উপর গুটি দেখা দেয়। কিছুক্ষেত্রে ক্ষত স্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়। রোগটি মূলত মশা-মাছি জাতীয় বাহকের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এবং দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে।

বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা। আতঙ্কে কৃষক ও খামারিরা ছুটছেন উপজেলা পশু হাসপাতাল কিংবা গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পর্যাপ্তভাবে মিলছে না।

বড় ডালিমা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, “চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় আমি একটি গাভি পালন করছিলাম। কিন্তু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাছুরটি মারা গেছে। পশু হাসপাতাল থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

পূর্ব কালাইয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি পশু চিকিৎসকরা কোনো খোঁজ রাখেন না। বাধ্য হয়ে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। ভুল চিকিৎসায় আমার বাছুরটি মারা গেছে।”

এছাড়া ধানদী এলাকার খামারি নিজাম উদ্দিন বলেন, “তিন বছর ধরে খামার করছি। কিন্তু কখনো কোনো সরকারি চিকিৎসক আমার খামারের খোঁজ নেয়নি।”

চর কালাইয়া ও বড় ডালিমা এলাকার আরও অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তা না পেয়ে তারা ফার্মেসি ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু রায়হান বলেন, “আমাদের পশু হাসপাতাল খোলা রয়েছে। সবার জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। যারা হাসপাতালে না এসে ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন, তারাই প্রতারিত হচ্ছেন। ফোন দিলেই আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভ্যাকসিন ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আরও সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম