শহীদ জসিম ও লামিয়ার পরিবারের পাশে বিএনপি, চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক অনুদান প্রদান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২৪ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ যুবদল নেতা জসিম ও তাঁর মেয়ে লামিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের চিকিৎসক ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ডা. মো. মহিবুল্লাহ (রুবেল)।

বর্তমানে লামিয়ার ছোট বোন শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লামিয়ার বোনের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন ডা. মহিবুল্লাহ। এসময় হাসপাতালের আরএমও ডা. মশিউর রহমান এবং দায়িত্বরত নার্সদের সাথেও তিনি কথা বলেন।

ডা. মহিবুল্লাহ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রত্যেক জেলায় নিপীড়িত নারী ও শিশুদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী জেলায় আমরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তায় নিয়োজিত আছি। একইসঙ্গে পরিবারটির জন্য ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জানা যায়, ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ হওয়া যুবদল নেতা জসিমের মৃত্যুর পর তাঁর কন্যা লামিয়া গণধর্ষণের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকেই লামিয়ার মা ও ছোট বোন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিএনপির স্বাস্থ্য সহায়তা সেল এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

২৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এই চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডা. মো. মহিবুল্লাহ, যিনি বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মো: আল-আমিন



তালতলীতে কিশোরীকে রাতভর গণধর্ষণ, ভাবিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনার তালতলীতে পাশের বাড়ির ভাবির সহযোগিতায় এক কিশোরীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইব্রাহিমসহ তার চার বন্ধু। দীর্ঘ পাঁচদিন থানায় ঘুরেও মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ। পরে জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর ওসি শাহজালাল মামলা গ্রহণ করেন।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) তালতলী থানা পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে। এসময় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, নিশানাবাড়ি ইউনিয়নের তাঁতিপাড়া এলাকার রিনা বেগম তার আত্মীয় ইব্রাহিমের সঙ্গে এক কিশোরীর বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২২ এপ্রিল রাতে কিশোরী ও তার মাকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন রিনা। পরে কিশোরীর মায়ের অজান্তে কিশোরীকে ইব্রাহিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইব্রাহিম কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে নকরী খেয়াঘাট এলাকার একটি মাছের ঘেরে নিয়ে গিয়ে রাতভর গণধর্ষণ করেন। তার সঙ্গে আরও চারজন সহযোগী ছিল।

পরদিন সকালে দুইশ’ টাকা ভাড়া দিয়ে কিশোরীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না হলে মামলা নথিভুক্তই হতো না। এখন তিনি দোষীদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

তালতলী থানার ওসি মো. শাহজালাল বলেন, “গণধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাছের সাথে শত্রুতা! বিষ প্রয়োগে ৮৪ হাজার পোনা নিধন

ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক মাছ চাষির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮৪ হাজার কৈ মাছের পোনা মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমুদ্দিন বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত রুপা মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের সাথে জড়িত। তিনি মানিক ফরাজির কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য কিছু জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। লিজ নেওয়া জমির ১২ শতাংশ এলাকায় তার একটি হ্যাচারি রয়েছে।

এক মাস আগে ময়মনসিংহ থেকে আনা ৮৪ হাজার কৈ মাছের রেনু পোনা তিনি হ্যাচারিতে ছাড়েন। হঠাৎ করে রবিবার রাত থেকে পুকুরের মাছ মারা যেতে শুরু করে। সকাল হলে দেখা যায়, সব মাছ পানিতে ভেসে উঠেছে।

আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী নুরুদ্দিন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছেন। স্থানীয়রা রাতের বেলা নুরুদ্দিনকে পুকুরের পাশে দেখতে পেয়েছিলেন। এর আগেও নুরুদ্দিন বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ নষ্ট করেছিলেন বলে জানান আলমগীর। থানায় অভিযোগ দিয়েও ন্যায় বিচার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নুরুদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ক্যামেরা দেখে পালিয়ে যান।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনজ কুমার সাহা জানান, খবর পেয়ে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। কী কারণে মাছ মারা গেছে তা পানি পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়, তবে ভোলায় পরীক্ষা করার মেশিন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কীর্তনখোলা নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন গ্যাসটারবাইন এলাকায় অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ এবং নদী ভাঙন রোধে টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বরিশালের ব্যস্ততম সদর রোডে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন রাতে কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িঘর, কৃষিজমি ও স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, রুপাতলী ধান গবেষণা রোড থেকে গ্যাসটারবাইন পর্যন্ত দ্রুত একটি টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বক্তারা আরও জানান, বারবার অভিযোগ দিয়েও সুফল মিলছে না। বরং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ড্রেজিং কার্যক্রম বেড়েই চলেছে। ফলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে নার্সিং শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে যানজট

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সকে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) সমমানের দাবি জানিয়ে বরিশালে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

সরকারি ও বেসরকারি সাতটি ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা সাদা অ্যাপ্রোন পরে, মাথায় সবুজ ও গোলাপি ওড়না বেঁধে এক কাতারে বসে স্লোগান দেন। হাতে ছিল ব্যানার ও কালো পতাকা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, ডিপ্লোমা কোর্সের স্বীকৃতি সংকটের কারণে পেশাগত জীবনে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত এই ডিপ্লোমাগুলোকে স্নাতক সমমানের স্বীকৃতি দিয়ে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় পুরো এলাকার পরিবেশে অস্বস্তি নেমে আসে।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেন।

উল্লেখ্য, সারাদেশেই নার্সিং শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বরিশালের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনকে আরও বেগবান করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পটুয়াখালীতে মাকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই এলাকায় মাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুত্র মোঃ খোকন হাওলাদার ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টিআইসি গেইটের বিপরীত পাশে আল-বারাকা বাস কাউন্টারের সামনে ময়মনসিংহ রোড থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ, যা সোমবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে কোনো এক সময়ে নিজ ঘরে নামাজরত অবস্থায় রিজিয়া বেগম (৫৫) হত্যার শিকার হন। ঘটনার সময় তার স্বামী খালেক হাওলাদার বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। নিহত রিজিয়া বেগমের ভাই বাদী হয়ে পরদিন ১১ মার্চ পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৫/১২৬) দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে মাঠে নামে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।

পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন তার মাকে হত্যার পেছনের কারণ হিসেবে পারিবারিক অশান্তি, মায়ের একাধিক অবৈধ সম্পর্ক, নিজের বোনের মৃত্যুকে দায়ী করেন। খোকন জানান, মায়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।

হত্যার আগের দিন খোকন গাজীপুর থেকে রওনা হয়ে পটুয়াখালী পৌঁছে হেতালিয়া বাঁধঘাট মসজিদে বিশ্রাম নেন। এরপর খাটাসিয়া বাজারে ইফতার করে বাড়ির পেছনের বিলের পাশে অবস্থান নেন। বাবার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে খোকন খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে নামাজরত মাকে কাঠের ভারী তক্তা দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে রিজিয়া বেগমের হাত ভেঙে যায়। একাধিক আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বাসায় থাকা দা দিয়ে তার মায়ের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেন এবং পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর খোকন আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালের উন্নয়নে ছয় লেন সড়ক ও মীরগঞ্জে সেতু নির্মাণের দাবি ব্যারিস্টার ফুয়াদের

বরিশাল বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এবি পার্টি। সোমবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকায় নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

স্মারকলিপিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর পর ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় বা আট লেনের মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বরিশাল শহর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জকে যুক্ত করতে মীরগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ বা সুগন্ধা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ জরুরি।”

এছাড়া ফেরীঘাট ইজারা না দিয়ে স্থানীয় জনগণকে হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি। ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ যেন সুলভমূল্যে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়—এই দাবি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মিত হলে মীরগঞ্জ ফেরীর সুবিধা বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে স্থানান্তরের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়:

বরিশালের সড়ক ও মহাসড়ক মেরামত ও উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।

গ্রামীণ জনপদের ভাঙাচোরা রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার।

পর্যটন ও মৎস্য শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে অর্থনীতির উন্নয়ন।

বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

অনাদায়ী কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহণ।

আলোচনা শেষে উপদেষ্টারা বরিশালের সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে যৌক্তিক দাবিগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) গাজী নাসের, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং বরিশাল সোসাইটির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ খান নোমান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বাবুগঞ্জে পানির সংকটে নাজেহাল জনজীবন, অমৃত গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানি শূন্য হয়ে পড়ার পেছনে দায়ী অমৃত গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সাতমাইল এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন থেকে অমৃত গ্রুপের অবৈধ পানি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অমৃত গ্রুপ বাবুগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে খনিজ পানি বোতলজাত করে বাজারজাত করছে। এতে হিজলা, খাতিয়া, রহমতপুর, মেখিয়া, চাঁদপাশা, মাধবপাশা, পাংশা, গড়িয়ার পাড় ও ক্যাডেট কলেজ এলাকার পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে গেছে।

বর্তমানে গভীর নলকূপের মাধ্যমেও অনেক এলাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। মসজিদ-মাদ্রাসাসহ জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“ভোর ৪টায় উঠেও টিউবওয়েলে পানি পাই না। অথচ আমাদের এলাকার পানি চুরি করে অমৃত গ্রুপ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। আমরা আর সহ্য করবো না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনে নামবো।”

এসময় বাবুগঞ্জ এলাকার গৃহিণী মিসেস নাসরিন আক্তার বলেন,
“গ্রামের মানুষ এখন পানি কিনে খাচ্ছে। খনিজ পানি আমাদের মৌলিক অধিকার। অথচ তা বাণিজ্যিকভাবে লুটপাট করা হচ্ছে। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, আমরা নিজেরাই রাস্তায় নামবো।”

 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি জাতীয় সম্পদ। কোনোভাবেই ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানায় যেতে পারে না। অবৈধ পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের জনক্ষোভ সৃষ্টি হবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মুফতী ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসা আটকে আছে কোথায়?

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসার পথ এখনো আটকে আছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা মামলা করে মেয়র পদে বসতে পারলেও বরিশালে ফয়জুল করীমের বিষয়টি ঝুলে আছে আদালতে। একদিকে শুনানির তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব—দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচন ঘিরে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীমের জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে যে, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল বরিশালের আদালতে মামলা করেন তিনি। শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, সেদিন শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ৫ মে নির্ধারণ করে, ফলে বিষয়টি আরও বিলম্বিত হয়।

সরকারি উপদেষ্টার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক:: 

সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার একটি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এক গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের প্রার্থীদের আদালতের মাধ্যমে মেয়র পদে বসানোর পক্ষে নন। তাঁর মতে, এতে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত বাধার কারণেই ফয়জুল করীমকে মেয়রের চেয়ারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিক্ষোভ ও দাবির ঝড়:: 

ইতোমধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুফতী ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একে ইসলামী আন্দোলনের প্রতি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে দেখছেন।

নতুন মামলা, নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:: 

এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) একই নির্বাচন নিয়ে আদালতে নতুন করে মামলা করেছেন। যিনি নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

বর্তমানে মুফতী ফয়জুল করীম ও তার অনুসারীরা ৫ মে’র শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেদিন আদালত হাতপাখার পক্ষে রায় দেবে এবং এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। যদি এমনটা হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে মুফতী ফয়জুল করীম হবেন প্রথম কোনো আলেম মেয়র।


মো: তুহিন হোসেন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম /




বরগুনায় শেকলে বন্দী জেলেদের জীবন: দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে হাজারো মৎস্যজীবী

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা শত বছরের পুরনো দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে পড়েছেন, যা তাদের জীবনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তারা আজও অর্থনৈতিক মুক্তি পায়নি। দাদন প্রথার কারণে তাদের আয় এবং জীবনযাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, যা এক ধরনের শেকল হিসেবে তাদের জীবনকে বাঁধিয়ে রেখেছে।

বরগুনার প্রায় ৯৫% জেলে এই দাদনের শেকলে বন্দী। যদিও তারা বছরে কোটি টাকার মাছ ধরেন, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। এই প্রথা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করে, এবং অনেকেই পেশা ত্যাগ করার চিন্তা করছেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলের জীবনে টিকে থাকা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে মহাজনের চক্র—এই দুটি কারণে তারা দিশেহারা। এদের মুক্তির জন্য প্রয়োজন টেকসই ও ন্যায়সংগত মৎস্যনীতি এবং সরকারি সহায়তা, যাতে তারা দাদনের খুঁটিনাটি থেকে মুক্তি পেতে পারে।

দাদন প্রথার ফলে, জেলেরা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে মাছ ধরেন, এবং বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট আড়তে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে তাদের লাভ কমে যায় এবং তারা ন্যায্য দাম পায় না। বরগুনার ৭২ বছরের জেলে মো. আলম ফিটার বলেন, “এত বছরেও কিছুই পাল্টায়নি জীবনে। প্রতি বছর ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়, আর দাদনের বোঝা বহন করতে হয়।”

ট্রলার মালিকরা জানাচ্ছেন যে, দাদন প্রথার কারণে তাদের ক্ষতিও হয়, কারণ অনেক সময় জেলেরা আনা মাছের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এনে দিতে পারেন না। এমনকি জেলেদের অপহরণের মতো ঘটনা ঘটলেও, ট্রলার মালিকরা চাঁদা দিয়ে তাদের মুক্ত করেন, তবে জেলেরা কখনো সেই টাকা শোধ করতে পারেন না।

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, “সাগরে মাছ কমে যাওয়ায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা লোকসানে পড়ছেন, এবং ব্যাংক বা এনজিও ঋণ না দেওয়ার কারণে দাদনই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অর্থনীতিবিদ ড. শহিদুল জাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যদি রিফাইন্যান্স ফান্ড গঠন করে, তাহলে উপকূলীয় জেলেদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব, যাতে তারা মহাজনের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে মাছ শিকার করতে পারে।”

বরগুনা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন জানান, “জেলেদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করছে, কিন্তু নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই সমস্যা তুলে ধরব।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “দাদন প্রথা বন্ধে কার্যকরী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে জেলেরা সরকারি সহায়তা পেতে পারে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /