এবারের কোরবানির ঈদে দেশের মধ্যে পর্যাপ্ত পশু, আমদানি হবে না

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, চলতি বছর কোরবানির ঈদে দেশের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গবাদি পশু রয়েছে। তাই বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। রবিবার (৪ মে) সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা এবং সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী কোরবানির ঈদে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি গবাদি পশু থাকবে, যার মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৫১২টি পশু অন্তর্ভুক্ত। কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় পশু সরবরাহের পরেও প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার অতিরিক্ত গবাদি পশু দেশে থাকবে।

এছাড়াও, নিরাপদ, মানসম্মত এবং পর্যাপ্ত প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরও জানান, এবারে কোনোভাবেই অবৈধ পথে গবাদি পশু আমদানির সুযোগ দেয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে, মিয়ানমার থেকে অবৈধ পশু প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।

এছাড়া, কোরবানির পশু সরবরাহের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রেন চলবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৯টি পশুর হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম এবং দুইটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাংলাদেশিদের ইউএই ভিসা দেওয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভিসা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল-হামৌদি। তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।

রোববার (৪ মে) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এসব তথ্য জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলগুলোর জন্য বাল্ক ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুততর করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।”

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা আবেদন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে মার্কেটিং ম্যানেজার ও হোটেল কর্মীদের জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৫০০টি ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে, আরও ১ হাজার ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ভবিষ্যতে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ যেসব মানবিক ও জরুরি ভিসা মামলার সুপারিশ করছে, সেগুলো বিশেষ বিবেচনায় দেখা হচ্ছে।”

বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ইউএই রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনার যে প্রস্তুতি চলছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“রাজনীতিকরণের ফলে সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত” : তথ্য উপদেষ্টা

রাজনীতিকরণের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণমাধ্যম এবং এর মূল ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা—এ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

রোববার (৪ মে) ঢাকার ধানমন্ডিতে ‘Brave New Bangladesh: Reform Roadmap for Press Freedom’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এই আয়োজনে ইউনেসকো ঢাকা অফিস, টিআইবি ও সুইডেন দূতাবাস যৌথভাবে অংশ নেয়।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “স্বৈরশাসনের সময় মিডিয়ার ভূমিকা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” তিনি বেতার, বিটিভি ও বাসসকে একত্র করে জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, “বেশিরভাগ গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দেয় না। সরকারি বিজ্ঞাপন ও সংবাদপত্রের লাইসেন্স মূল্য নির্ধারণে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা এখনো হামলা, গালাগালি ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভব নয়।”

সেমিনারে আরও উঠে আসে—পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মডেলে গণমাধ্যম পরিচালনার প্রস্তাব, অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে বিজ্ঞাপন নেওয়ায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত গণমাধ্যমের কারণে সংকট তৈরির বিষয়গুলো।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস বলেন, “ভুল তথ্য মোকাবেলায় এআই ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এখনো সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

নোয়াব সভাপতি ও টাইমস মিডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেন, “নির্বাচনের সময় সাংবাদিকতা স্বাধীন হলেও রাজনৈতিক সরকার আসার পর তা সংকুচিত হয়। প্রেস কাউন্সিল পঙ্গু, মফস্বলে সাংবাদিকরা ভয়ের পরিবেশে কাজ করছেন।”

এছাড়াও এএফপির ব্যুরো চিফ শেখ সাবিহা আলম, বিজেসি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক রাজা, এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সেমিনারে বক্তব্য দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ এবং শিক্ষকদের অপমান—এই তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সুজয় শুভ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নানান দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি। ভিসি সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। উল্টো তিনি শিক্ষার্থীদের মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে নাম বাদ দিতে মুচলেকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নতুন স্বপ্ন ও অগ্রগতির নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টামাত্র। ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর একমাত্র অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অপসারণের ভাষা ছিল অশোভন। এ নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেও রাজি হননি।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন:
দফা এক দাবি এক, ববি ভিসির পদত্যাগ”,
এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই কবে যাবি”,
এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়”।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির নীতিনির্ধারণী ভূমিকা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরিফুজ্জামান মাহিন (২৮) নামের এক তরুণ চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে রোববার সকালে তিনি মারা যান।

নিহত মাহিন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ও সৈয়দ শাহ আলমের ছেলে। তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিতেন। এছাড়াও তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ভুরঘাটা এলাকায় একটি ক্লিনিকে রোগী দেখে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বার্থী এলাকায় একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, “দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বৃষ্টিতেও থেমেনি পটুয়াখালীতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

স্নাতক সমমানের স্বীকৃতি দাবিতে টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজপথে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন পটুয়াখালীর নার্সিং শিক্ষার্থীরা। ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ এবং ‘ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি’ কোর্সকে স্নাতক পর্যায়ের (ডিগ্রি পাস) সমতাভুক্ত করার দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস ইউনিয়ন (বিডিএসএনইউ), পটুয়াখালী জেলা শাখা।

রবিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। টানা এক ঘণ্টা ধরে চলে এই কর্মসূচি, যাতে অংশ নেয় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, তিন বছর অধ্যয়ন ও এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ শেষে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করলেও এখনো তাদের ডিগ্রিকে স্নাতক সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। তারা এটিকে অন্যায় এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই ধরণের শিক্ষাগত মান ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, যা পেশাগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা তৈরি করছে।

গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজিম, শফিকুল ইসলাম, মাসুম, ইমরান হোসেন ও শাইফুলসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাদিয়া বেগম, লাইজু আক্তার, মেহেরীন মীম, মরিয়ম জাহান ও আফরিন জাহান তিথী। আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরো পড়ুন : প্রবাসী মনিরের লাশ ফিরে এলো দুমকিতে, স্ত্রীর কান্নায় ভারী আকাশ-বাতাস

আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি দ্রুত দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে ইউপি সদস্যের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, লুট ২.৮৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী জাফর সিকদার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং পেশায় একজন ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি জানান, “রাতের অন্ধকারে মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল হঠাৎ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখে তারা পুরো ঘর তছনছ করে। তারা আমার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।”

ডাকাতির সময় বাড়ির সদস্যরা চরম আতঙ্কে ছিলেন বলে জানা গেছে। ডাকাতেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেয় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু লুট করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রোববার ভোরে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন মোছলেউদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামে এক শ্রমিক।

রবিবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনের অংশে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়।

নিহত মোছলেউদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক মিলে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছিলেন। কাজের এক পর্যায়ে মোছলেউদ্দিনের পা পিছলে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উদ্ধার অভিযানে নামে এবং বরিশাল ডুবুরি দলের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালের নদীপথে নেই নির্দেশনা বাতি, রাত্রিকালীন নৌযান চলাচলে চরম ঝুঁকি

বরিশালের নদীপথে নেই পর্যাপ্ত নৌপথ নির্দেশনা বাতি। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় যাত্রীবাহী নৌযানগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চুরি ও যন্ত্র বিকলের কারণে অধিকাংশ নির্দেশনা বাতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও নৌযান চালকদের।

বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথে রয়েছে অসংখ্য চর ও সংকীর্ণ পথ। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় স্থাপন করা হয়েছিল ১৩৮টি নৌপথ নির্দেশনা বাতি। এর মধ্যে রয়েছে ৪০টি বয়া ও ৯৮টি বিকন বাতি।

কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের তথ্য অনুযায়ী, এসব বাতির অধিকাংশই এখন আর সচল নেই। বড় একটি অংশ চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি অসাধু জেলে গোষ্ঠী বাতি চুরির সঙ্গে জড়িত।

নৌপথে চলাচলকারী চালকেরা বলছেন, এই অবস্থায় রাতে চলাচল করা রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারে চর দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

“বাতি না থাকায় চর দেখা যায় না। ছোট একটি ভুলেই বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। আমরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকি, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা তো বলাই বাহুল্য,” — জানান এক লঞ্চচালক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের নৌপথ নির্দেশনা বিভাগের পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, বাতি চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটি ঘটনারও কোনো সমাধান হয়নি।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি। স্থানীয় পুলিশ ফোর্সকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন,আসন্ন কোরবানির ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করা হবে। বিকল বাতিগুলো সংস্কার ও নতুন বাতি স্থাপন করা হবে।”

উল্লেখ্য, প্রতিটি বয়ার বাজারমূল্য ২৬ থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং প্রতিটি বিকনের দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ এই মহামূল্যবান যন্ত্রপাতি নিরাপত্তার অভাবে আজ অকার্যকর ও অদৃশ্য হয়ে গেছে।

নদীবেষ্টিত বরিশালে নৌপথ যেন প্রাণরক্ষার চেয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি করে তুলছে। রাতের অন্ধকারে নির্দেশনা বাতি ছাড়া নৌযান চালানো একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বৈশাখী ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলে বোরো ধানের সর্বনাশ

বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন পানিতে ভাসছে। বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে পাকা বোরো ধান, সবজির খেত, কলাবাগান ও বসতবাড়ি।

বিশেষ করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্য রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক শাহিদুল ইসলামের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। তিনি জানান, প্রায় ৭৫ মন ধান পানিতে ডুবে গেছে। ধান কাটার আগেই মাঠে ঢুকে পড়ে বৃষ্টি ও পানি। অসহায়ভাবে তিনি শুধু দেখেছেন তার একমাত্র অবলম্বন ধ্বংস হয়ে যেতে।

কৃষক শাহিদুল বলেন, “আমার সব শেষ। ধান উঠাতে পারলাম না, এখন সব পঁচে যাচ্ছে। এই ফসলেই সংসার চলতো, এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”

শুধু ধান নয়, ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে বাবুগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় কলাবাগান ও বিভিন্ন সবজির খেতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়িও বিধ্বস্ত হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে বোরো ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ৮১ হাজার ৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখনও প্রায় ৬০ ভাগ ধান মাঠেই রয়ে গেছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব ভালো ধান ঘরে তুলে ফেলতে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারের সহায়তা ছাড়া কৃষকদের পক্ষে সম্ভব হবে না।”

কয়েকদিন আগেও যে মাঠে ছিল সবুজের হাসি, আজ সেখানে শুধু কৃষকের কান্না। লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি নিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /