বাউফলে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে ছাই গোয়ালঘর, প্রাণ গেল গরু-ছাগলসহ শতাধিক প্রাণীর

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে একটি গোয়ালঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে দুটি গরু, দুটি খাসি ছাগল ও অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি পুড়ে মারা গেছে। ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে।

অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির মালিক ও অটোরিকশা চালক নিজাম উদ্দিন (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে তার মুখমণ্ডল, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে।

নিজাম উদ্দিন জানান, গভীর রাতে গোয়ালঘর থেকে গবাদিপশুর ডাক শুনে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান গোয়ালঘরে আগুন লেগেছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে চেষ্টা করলেও মুহূর্তেই আগুন গোয়ালঘর গ্রাস করে। আগুনে পুড়ে মারা যায় দুটি গরু, দুটি ছাগল ও অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এর আগেও তাদের বাড়িতে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এ আগুন লাগিয়েছে। আগুনে তাদের সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা।

বাউফল থানার ওসি আখতারউজ্জামান সরকার জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার আশ্বাস দেন তিনি।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর করমজাতলায় জিও ব্যাগ ধসে আতঙ্কে নদীতীরবর্তী মানুষ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার করমজাতলা এলাকায় রাবনাবাদ নদীর পাড়ে জরুরি ভিত্তিতে স্থাপিত জিও ব্যাগ ও টিউব মাত্র চার মাসেই ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমের আগেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত উপকরণগুলো ছিল নিম্নমানের এবং অনেক টিউব ছিল পুরনো ও ছেঁড়া, যার ফলে দ্রুত ধস দেখা দিয়েছে।

করমজাতলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “টিউবগুলো বসানোর সময়ই আমরা দেখেছি অনেকগুলো ছেঁড়া ছিল। নিচে জিও ব্যাগ না থাকায় সাপোর্টও ছিল না। বর্ষা এলেই বড় বিপদ হতে পারে।”

রফিকুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “নদীতে ড্রেজিংয়ের কারণে ভাঙন আরও বেড়েছে। কিন্তু জরুরি কাজেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পাউবো সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার ৫৪/এ পোল্ডারের ১৩.০০ কিমি থেকে ১৪.১২০ কিমি পর্যন্ত—মোট ১,১২০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও টিউব বসানো হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলাপাড়া।

তবে পাউবো’র উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যা রতন সরকার বলেন, “স্পটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, মাটি সংকট ছিল, আমরা অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করে কাজ করেছি। নিম্নমানের ব্যাগ বা ছেঁড়া টিউব ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “স্থায়ী প্রটেকশন না দিলে এই জায়গা নিরাপদ হবে না। ব্লক বসানোর প্রয়োজন রয়েছে।”

পাউবো’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, “এটা খুবই ক্রিটিক্যাল জায়গা। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, রাবনাবাদ নদীর ভাঙন নিয়ে তারা প্রতিবছরই আতঙ্কে থাকেন। বছর বছর জরুরি কাজ হলেও, স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। এবারও জরুরি কাজ ভেঙে পড়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে করমজাতলা ও আশপাশের গ্রামগুলো যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন  ৭টি আইন সুপারিশ করা হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে 




আজ এক ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন পৌনে ৪ লাখ শিক্ষক




পটুয়াখালীতে বিয়ের আলোচনায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বৃদ্ধের

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে একটি বিয়ের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বারেক ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩ মে) জোহরের নামাজ শেষে স্থানীয় মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, নামাজ শেষে আজহার খানের বড় ছেলে আব্দুর রহমানের বিয়ের বিষয়ে মেয়েপক্ষ বারেক ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি শান্তভাবে উত্তর দেন। কিন্তু বারেক ফকিরের কথায় রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এরপর তার ভাই আরিফ লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বৃদ্ধকে গুরুতর আহত করেন।

তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রবিবার (৪ মে) দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে বিকেল ৫টার দিকে বারেক ফকির মারা যান।

নিহতের ছেলে সুমন ফকির বলেন, “আমার বাবা অত্যন্ত সৎ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। শুধুমাত্র একটি বিয়ের আলোচনায় মতামত দেওয়ার কারণেই রহমান ও আরিফ মিলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়ি ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমি চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন কেউ ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা ঘটাতে সাহস না পায়।”

ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযানে নেমে অভিযুক্ত আজহার খানকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক গ্রামে ছিলেন তিন জমিদার, ছিল না কোনো বিরোধ  হারিয়ে যাচ্ছে চাঁদশীর ইতিহাস

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামে এক সময় সহাবস্থান করতেন তিনজন প্রভাবশালী জমিদার—অন্মিকা চরন গুহ, কেদারনাথ বসু ও অন্যদা বসু। তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না, বরং ছিল আন্তরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এবং দেশভাগের পর তারা দেশত্যাগ করলে তাদের সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দখলদারদের কবলে।

প্রবীণরা জানান, ১৯৪৮ সালে দেশভাগের পর জমিদাররা ভারতে পাড়ি জমালে তাদের সম্পত্তি দখল করে নেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিদার বাড়ি, দালান-কোঠা, মন্দির ও দীঘি দখল করে নিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে মূল্যবান সব নিদর্শন।

উত্তর চাঁদশী গ্রামের এই জমিদার একটি পঞ্চরত্ন সমাধী নির্মাণ করেছিলেন বাংলা ১৩১৮ সালে। বর্তমানে এই সমাধীটিও ধ্বংসপ্রায়, তার ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার। প্রায় ১১ একর জমিতে ছিল তার বাড়ি, দাওয়াখানা, দুর্গা মন্দির ও বিভিন্ন পুকুর। এলাকাবাসীর মতে, গুহ বাড়ির দীঘি এবং অনুষ্ঠানপূর্ণ জীবনযাপন আজ কেবল স্মৃতি।

তার বাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে, তবে জীর্ণ অবস্থায়। ছিল বৌঠাকুরানীর দীঘি, দুর্গা পূজার আয়োজন, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারা। তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র বসু মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। তার অবর্তমানে কেয়ারটেকার জিতেন্দ্র নাথের পরিবার এখন ওই বাড়িতে বসবাস করছে।

তার নাতী তপন বসু এখনও বাস করছেন বিশাল অট্টালিকায়। তিনি জানান, দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তাদের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায় এবং তার ভাইবোন শহীদ হন। কিন্তু আজও তারা শহীদ পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি। সেই দুঃখ নিয়েই তিনি এখনো জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আগলে রেখেছেন।

চাঁদশী গ্রামের এই তিন জমিদার ছিলেন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের মধ্যে ছিল বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং সম্মানবোধ। আজ দখলদারদের অবহেলায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এই সমৃদ্ধ ইতিহাস ধ্বংসের মুখে। একসময়কার ঐশ্বর্যপূর্ণ জমিদার বাড়িগুলো এখন শুধু দুঃখের ইতিহাস আর বিলুপ্তপ্রায় স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ডায়াবেটিসবান্ধব ব্রি ধান-১০৫ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী ব্রি ধান-১০৫ এখন বরিশালের কৃষকদের মাঠেও সাফল্যের মুখ দেখছে। আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এই নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রী) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১০৫ হচ্ছে দেশের প্রথম কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সম্পন্ন ধান, যা বিশেষভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। বরিশালে এই জাতের ধান এ বছর প্রথমবার চাষ করা হয়েছে এবং কৃষকরা এর উৎপাদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বরিশাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশিক ইকবাল খান জানান, “ব্রি ধান-১০৫-এর আন্তর্জাতিক গ্লাইসেমিক ভ্যালু ৫৫-এর নিচে। ফলে এই চালের ভাত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে ধানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”

চাষের অনুমোদন পাওয়া ব্রি ধান-১০৫-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৮ টন হলেও সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে ফলন হতে পারে ৮.৫ টন পর্যন্ত। এই ধানের জীবনকাল ১৪৮ দিন। কৃষকরা জানান, প্রথমবার চাষ করেই তারা ভালো ফলন আশা করছেন, ফলে ভবিষ্যতে এ ধানের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের মতে, ধানটি শুধু লাভজনকই নয়, জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা যেহেতু দিন দিন বাড়ছে, তাই এমন ধানের উৎপাদন বাড়লে তা খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষাতেও অবদান রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পানীয়

প্রচণ্ড গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ পানীয় নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মের দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকেন, তবে প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য কিছু প্রাকৃতিক, চিনিমুক্ত ও পুষ্টিকর পানীয়ের বিকল্পই হতে পারে সেরা সমাধান।

নিচে এমন কয়েকটি পানীয়ের তালিকা দেওয়া হলো, যেগুলো গরমে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য উপযোগী:

🔹 ঘোল:
প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এই পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। দুধ বা পাতলা দই দিয়ে তৈরি ঘোলে থাকে কম শর্করা এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এতে ভাজা জিরা গুঁড়া, এক চিমটি লবণ, ধনেপাতা বা গোলমরিচ মিশিয়ে স্বাদে ভিন্নতা আনা যায়।

🔹 ডাবের পানি:
স্বল্প ক্যালোরি এবং স্বাভাবিকভাবে চিনিমুক্ত এই পানীয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট শরীরকে ঠান্ডা রাখে ও হাইড্রেটেড থাকতে সহায়তা করে। তবে দিনে পরিমিত পরিমাণেই পান করা উচিত।

🔹 আমলকির রস:
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আমলকি রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাজা আমলকি থেকে রস বের করে পানি মিশিয়ে পান করলে শরীর থাকবে সতেজ। চাইলে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।

🔹 শসা-পুদিনা ডিটক্স ওয়াটার:
এক জগ পানিতে পাতলা করে কাটা শসা ও পুদিনা পাতা দিয়ে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এই ডিটক্স ওয়াটার শরীরকে শীতল রাখবে, হজমে সাহায্য করবে এবং গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তা যেন চিনিমুক্ত, প্রাকৃতিক এবং শরীরের জন্য উপকারী হয়। তাই সতেজ ফল বা ভেষজ উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বর্তমানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

রোববার (৪ মে) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এ (বিইউপি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে, তবে সেটি তখনই সম্ভব যখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে, যেখানে তারা অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা কি তাদের আবার সেই নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে পারি?”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি শুধু একটি রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এটি নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় এবং এই ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কার্যকর ফল দিচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, “বছরের পর বছর আলোচনার পরও একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমার কখনোই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল না। এমনকি অং সান সু চির নেতৃত্বেও সেখানে ছিল একটি আধা-সামরিক শাসন। বর্তমানে দেশটি পুরোপুরি গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এবং মূল শক্তিগুলো হলো সামরিক জান্তা, আরাকান আর্মি এবং জাতীয় ঐক্য সরকার (NUG)। কোনো স্থায়ী সমাধানের জন্য এই তিন পক্ষের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে আরাকান আর্মির, যারা বর্তমানে রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিশ্বে অন্যান্য সংকটের মধ্যেও যেন রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব হারিয়ে না ফেলে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মারা গেছেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ (৪ মে) রবিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ইবনে সিনা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পরিবারে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার দুই ছেলে এবং তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন এবং পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। ৬ জানুয়ারি তার জুনিয়র আইনজীবীরা তাকে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে সংবর্ধনা প্রদান করেছিলেন।

১৯৪৯ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা আব্দুর রাজ্জাক ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগ এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী হন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে থাকার সময় তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার পর “আমার বাংলাদেশ” (এবি) পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হন, যদিও পরবর্তীতে সেই পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেন।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এবং তার অবদান বাংলাদেশের আইনি পরিসরে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /