ঝালকাঠিতে তিল চাষে সাফল্যের পথে চাষিরা

ঝালকাঠির চাষিরা এখন আশাবাদী—তিল চাষ বাড়িয়ে বদলে দেবেন নিজেদের ভাগ্য। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং কম পরিচর্যার ফসল হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে তিল চাষে। লাভ বেশি হওয়ায় এ কৃষি খাতে ফিরছে নতুন প্রাণ।

চলতি ২০২৫ মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কাঠালিয়া উপজেলায় তিল চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর, নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর, রাজাপুরে ১১০ হেক্টর এবং কাঠালিয়ায় সর্বোচ্চ ১৬৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, দেশি জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ জাতের তিল আবাদ করে তারা সফল হয়েছেন। ফসল বপনের তিন মাসের মধ্যেই চাষিরা তিল ঘরে তুলতে পারেন। তিল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই খুব কম হয়, ফলে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এতে উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসে।

নলছিটি উপজেলার চাষি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “তিল চাষে পরিশ্রম কম, আবার লাভ অনেক বেশি। প্রতিবছর আবাদ বাড়াচ্ছি। আশাবাদী, তিলই আমাদের নতুন ভরসা হয়ে উঠবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “তিল চাষ সম্প্রসারণ হলে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

তিল চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির চাষিরা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। সহজ চাষাবাদ এবং বাজারে ভালো দামের কারণে এ ফসল হতে পারে আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সের ৫ যাত্রী নিহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুর ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত হন, বাকি চারজন মারা যান ঢাকায় নেওয়ার পথে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাম্বুলেন্সের এক যাত্রী স্বর্ণা আক্তার জানান, দক্ষিণবঙ্গ থেকে একজন রোগীকে ঢাকার গ্রীন রোডের সিটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সটির চাকা পাংচার হয়। ফলে গাড়িটি এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে এসে অ্যাম্বুলেন্সটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নারী। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

এই দুর্ঘটনা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশের ৮০% আমড়ার জোগান বরিশাল থেকেই

সারা দেশের আমড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বরিশাল বিভাগ। ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) স্বীকৃতি পাওয়া বরিশালের এই মৌসুমি ফল এখন শুধু একটি স্বাদযুক্ত খাদ্য নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১,৮৫৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়। এখান থেকে বছরে প্রায় ২৪,৬৮৪ মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়। উৎপাদনের দিক থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী শীর্ষে থাকলেও, সবচেয়ে বেশি জমিতে আমড়া চাষ হয় ঝালকাঠিতে।

জেলাভিত্তিক প্রধান উৎপাদন এলাকা:

  • পিরোজপুর: ৮,৬৭৭ মেট্রিক টন
  • ঝালকাঠি: ৪,৫৭৮ মেট্রিক টন
  • পটুয়াখালী: ৩,৯০০ মেট্রিক টন
  • বরিশাল: ৩,৩৮৪ মেট্রিক টন
  • ভোলা: ২,৮৯০ মেট্রিক টন
  • বরগুনা: ১,২৫৫ মেট্রিক টন

বরিশালের বানারীপাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী ও বাকেরগঞ্জ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন অঞ্চল। স্থানীয় চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, তার ৩ হাজার গাছ থেকে তিনি গত মৌসুমে ৬০ লাখ টাকার বেশি আমড়া বিক্রি করেছেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালের আমড়া রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে মাত্র তিন ঘণ্টায়। এছাড়াও সড়কপথে দেশের প্রায় সব বড় শহরে পৌঁছাচ্ছে বরিশালের আমড়া।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, “বরিশালের মাটি ও পানি আমড়া চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এখন এটি চাষিদের জন্য একটি লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। GI স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও বরিশালের আমড়ার পরিচিতি বাড়বে।”

গত ৩০ এপ্রিল বরিশালের জেলা প্রশাসকের হাতে আমড়ার GI সনদ তুলে দেওয়া হয়, যা এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




অবশেষে শুরু হচ্ছে বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ

বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প অবশেষে শুরু হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রাথমিক পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ১,৮৫৭ কোটি টাকার মধ্যেই ফরিদপুর থেকে বরিশালের লেবুখালী পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাজটি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতায় ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। যদিও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন না দেওয়ায় আপাতত বরিশাল বাইপাস এবং কুয়াকাটা অংশ বাদ রেখে সীমিত পরিসরে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে।

জরুরি এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আছে:

  • ফরিদপুর থেকে বরিশাল মহানগরীর গড়িয়ারপাড় পর্যন্ত
  • দপদপিয়া সেতু পার হয়ে পায়রা সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক

বরিশাল সড়ক জোনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে বরিশাল বাইপাসের জন্য বরাদ্দ বাদ পড়ায় ভবিষ্যতে সেটির জন্য আলাদা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই প্রকল্পের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার পরিবহন সংযোগ এই মহাসড়কের ওপর নির্ভর করে। পদ্মা সেতুর সুফল পেতে হলে ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে উন্নয়ন করতেই হবে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ, দুর্ঘটনা এবং ধীরগতি পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) সহায়তায় ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে ১,৮৫৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হলেও নির্ধারিত ২০২১ সালের সময়সীমার মধ্যেও অর্ধেক জমির অধিগ্রহণ হয়নি।

অধিগ্রহণের জটিলতা, বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের ধীর গতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। এডিবিও নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দাবি করেছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতিকে আরও ধীর করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদী, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রূপে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএনপিতে কারা যোগ দিতে পারবেন জানালেন : রিজভী

আওয়ামী লীগ থেকে আসা এবং দলটির দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও বিএনপির সদস্য হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, “আগামী ১৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। যারা আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার আমলে বহু মানুষ বিএনপিতে যোগ দিতে সাহস পাননি। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। দেশজুড়ে বিএনপির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”

রিজভী দাবি করেন, এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্য হলো এক কোটি নতুন কর্মী দলভুক্ত করা। দেশের সব বিভাগীয় শহরে একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রমনা বটমূলে বোমা হামলা রায়ের পরবর্তী অংশ ঘোষণা ১৩ মে

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন)  রায় ঘোষণা শুরু করেন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এবং বেলা একটার দিকে আদালত পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ১৩ মে ধার্য  করেন ।

বেলা সোয়া একটার দিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ এজাহার, অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের দিকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের বাকি অংশ ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

আজ শুরুতে আদালত বলেন, আজ ঘটনা ও সাক্ষী পর্যালোচনা করা হবে। বাকিটা (রায়) পরবর্তী তারিখে হবে।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘তাহলে রায়ের আদেশ অংশ (সিদ্ধান্ত) আজ হচ্ছে না?’

তখন আদালত বলেন, ‘আজ আদেশ অংশ হচ্ছে না।’ এরপর রায় ঘোষণা শুরু হয়।

এর আগে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর গত ৩০ এপ্রিল বিষয়টি আদেশের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিন ধার্য করেন। এ অনুসারে মামলাটি রায়ের জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১৬৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। এ ঘটনায় করা মামলা রমনায় বোমা হামলা মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়।

মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ। দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।

রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুফতি হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। তবে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের।

কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে, যা ২০১৪ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি করা হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। হত্যা মামলায় পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল ২০১৬ সালে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে প্রথম শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিও শুরু হয়। পরে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় আট আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠলেও শুনানি শেষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কার্যতালিকায় ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এই মামলায় আজ রায় দেওয়া শুরু হলো।




সরকার এখন পর্যন্ত কী কী বিচার ও সংস্কার করেছে, প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহ




রমনা বটমূলে ছায়ানটের বোমা হামলা মামলার রায় মঙ্গলবার

২০০১ সালে ছায়ানটের আয়োজিত বাংলা নববর্ষের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রমনা বটমূলে ঘটে যাওয়া বোমা হামলার মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী মঙ্গলবার, ১৩ মে

বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার রায় পড়া শুরু হয়। আদালত জানিয়েছেন, রায় পড়া শেষ করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে ১০ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।

এই হামলার মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার একটি আদালত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করলে বিষয়টি বিচারাধীন থাকে।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আসামিপক্ষের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও এস এম শাজাহান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বিদেশে পাড়ি জমালেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

জনতার অভ্যুত্থানের ৯ মাস পর দেশ ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে তিনি থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। এর আগে রাত ১১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশ ছাড়ার অনুমতি পান।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, তিনি থাই এয়ারওয়েজের **TG 340** ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নামও উল্লেখ করা হয়। মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ৪ আগস্ট কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, গুলি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ১২৪ জনের নাম রয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আবদুল হামিদ বাংলাদেশের ১৭তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এবং ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার এবং ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নবম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /**

 




 শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা নেই, সংঘর্ষ-আন্দোলনে বিপর্যস্ত শিক্ষা

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রায় নয় মাস পার হলেও শিক্ষাঙ্গনে এখনো ফিরে আসেনি স্বাভাবিক পরিবেশ। বরং একের পর এক সংঘর্ষ ও আন্দোলনে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু পাবলিক নয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিভিন্ন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনেক ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অতিরিক্ত প্রকাশ ঘটছে। এর ফলে তারা জড়াচ্ছে মব জাস্টিস ও সংঘর্ষে।

গত নয় মাসে অন্তত ১৯টি সংঘর্ষ, ৯টি আন্দোলন ও ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শিক্ষাঙ্গনে। শুধু ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজেই ১৩ বার সংঘর্ষ হয়েছে। এপ্রিলেই ঢাকার দুটি কলেজে সংঘর্ষ হয়েছে তিনবার। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল সংঘর্ষ হয় ধানমণ্ডিতে, যেখানে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ায়।

এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিএম কলেজ, কুয়েট, চট্টগ্রাম কলেজ, প্রাইম এশিয়া, বুটেক্স, ঢাকা পলিটেকনিকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।

সম্প্রতি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (UIU) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চাপে উপাচার্য ও ১২ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

প্রাইম এশিয়ায় ছুরিকাঘাতে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাও শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দুর্বলতা তুলে ধরেছে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হন।

কুয়েটে ছাত্র বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলন চলে। সেখানে ২১ এপ্রিল থেকে ৩২ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করলে, সরকারের পক্ষ থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি শিক্ষাঙ্গনে বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা কাঠামোর দুর্বলতায় শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে প্রায়ই।

শিক্ষাবিদদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশও ভূমিকা রাখছে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আস্থার সংকট শিক্ষাঙ্গনের সবচেয়ে বড় সমস্যা। শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের শিকার হওয়ায় সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এটি সমাধানে কাজ করছে ইউজিসি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংঘাত বন্ধে দায়িত্বশীল হতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /