বরগুনার নদীতে নিষিদ্ধ জালে পোনা নিধন, হুমকিতে মৎস্যসম্পদ

প্রতিদিন কোটি কোটি পোনা পাচার, প্রশাসনের অভিযানে সফলতা সামান্য
বরগুনার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে পোনা আহরণ চলছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় শতাধিক প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বংশবিস্তার। রাতের আঁধারে এসব পোনা পাচার হচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন হ্যাচারিতে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও জনবল সংকট ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের প্রভাবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
পোনা আহরণ এখন ‘মহোৎসব’:
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন শুধু পাথরঘাটা এলাকার নদীতেই কয়েক কোটি পোনা ধরা হয়। চরদুয়ানী, বাদুড়তলা, কাঁঠালতলী, রূপধনসহ নদীতীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। পোনার দাম মাত্র এক টাকা করে হলেও পাইকাররা এসব খুলনা-বাগেরহাটে মোটা দামে বিক্রি করে। মাসোহারার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।
মৎস্য কর্মকর্তা ও ট্রলার মালিকদের উদ্বেগ :
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “নিষিদ্ধ পোনা আহরণ মৎস্যসম্পদের ওপর বড় হুমকি। অভিযান চলছে, তবে জনবল কম থাকায় শতভাগ সফলতা সম্ভব হচ্ছে না।”
ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে মাছের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এখনই পদক্ষেপ দরকার।”
জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি প্রকট:
পোনা আহরণের ফলে মাছের ঘাটে মাছের উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানান চরদুয়ানী বাসিন্দা নুরুজ্জামান আলমাস। “আগে প্রতিদিন টনকে টন মাছ আসত, এখন অনেকে দিন ঘাটে এক বোতল পানিও পড়ে না,”—বললেন তিনি।
কোস্ট গার্ডের অভিযানেও ধরা পড়ে না মূল অপরাধী :
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ২০ লাখ পোনা ও ১৫ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই কঠোর নজরদারি, সচেতনতা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিলে এক দশকের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২৫








