কুয়াকাটায় কার্পেটিংয়ের নামে অনিয়ম, টিকবে না এক বছরও অভিযোগ স্থানীয়দের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়ম মেনে প্রাইম কোট না দিয়ে ধুলাবালির ওপর সরাসরি কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা এক বছরও টিকবে না।
জানা যায়, এলজিইডির বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রস্থ নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটার হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এই সড়ক উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে আসছে বহুদিন ধরে। তবে বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজে মান রক্ষা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মনির হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “যেভাবে কাজ হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা চাই টেকসই রাস্তা।” একই অভিযোগ করেন পাঞ্জুপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ নাঈম, যিনি বলেন, “প্রাইমকোট ছাড়া কার্পেটিং করা হচ্ছে। কোনো ফিনিশিং নেই। এই রাস্তা এক বছরও টিকবে না।”
স্থানীয় হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, “অনিয়ম দেখেও সংশ্লিষ্টরা চুপ করে থাকেন। আমরা চাই কুয়াকাটার স্বার্থে একটি মানসম্মত রাস্তা।”
তবে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও সাব-কন্ট্রাক্টর ফোরকান হোসেন দাবি করেন, কাজ এলজিইডি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
এদিকে এলজিইডি কলাপাড়া উপজেলার প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, “কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম পাওয়া গেছে। এসব ঠিক করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি এই প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ না রেখে যথাযথ মান বজায় রেখে কাজটি শেষ করা হোক, যাতে উপকূলবাসী ও পর্যটক উভয়েই দীর্ঘ মেয়াদে উপকৃত হন।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম









