ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: বাস্তবায়নে শঙ্কা, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাস

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে এবং শিগগিরই রাষ্ট্রপতির অনুমতির পর এটি কার্যকর হবে। নতুন এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমাধান করা, তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু উদ্বেগ এবং শঙ্কা রয়েছে ব্যাংক খাতের মধ্যে।

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ার ও সম্পদ হস্তান্তরের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে। যদি ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতা ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

ব্যাংক খাতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, যদি এই আইনটির অপব্যবহার করা হয়, তবে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। ব্যাংকগুলোর আশঙ্কা যে, মালিকানা জোর করে নেওয়া হলে পুরো খাত ঝুঁকির মুখে পড়বে, বিশেষত যদি রাজনৈতিক প্রভাব এই আইনের বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করে।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘এটি ব্যাংক খাতের জন্য একটি প্রয়োজনীয় আইন, তবে সঠিক বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।’ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘এটি সরকারের উদ্যোগ, তবে প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ব্যাংক খাতের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এই আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্ক থাকবে এবং এটি শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি। সুতরাং, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর জন্য এটি কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করেছে এবং ব্যাংক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। সরকারের পাশাপাশি, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক থেকে তহবিল নেয়া হবে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কাজে লাগানো হবে।

তবে, এই আইনটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি আশা করা হচ্ছে, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োগের ওপর।

 

আল-আমিন



গণতন্ত্রের পথে ঐক্যবদ্ধ অগ্রযাত্রা : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন ঘটেছে এবং এতে গণতন্ত্রের প্রথম বিজয় অর্জিত হয়েছে। তবে এই অর্জনকে টেকসই করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশের মানুষ বারবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, কিন্তু তা এখনো পূর্ণ বাস্তবায়নে পৌঁছায়নি। তাই গণতান্ত্রিক ধারায় নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা এখন অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে স্বাধীনতার পর প্রথমবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে অন্যায়।” ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন সকলের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল এম. এল এর সভাপতি কমরেড হারুন চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি কমরেড আলি হোসেন, পিডিপি’র মহাসচিব হারুন আল রশীদ খান এবং সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. সামছুল আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

 

আল-আমিন



আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জানিয়েছেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক শেষে সোয়া ৯টার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসে সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তার ধারাবাহিকতায় ইলেকশন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘সে অনুযায়ী আমরা গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছি। আপনারা গেজেটের কপি বিজি প্রেস থেকে পেয়ে যাবেন।’




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ

বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) এই সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, “রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।”

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শনিবার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দলটির কোনো সভা, সমাবেশ বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না বলেও জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১২ মে) সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘এক দফা এক দাবি—ভিসি তুই কবে যাবি’ স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন। এর আগের দিন (১১ মে) শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ সকল শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। একই রাতে তারা মহাসড়কে মশাল মিছিল বের করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরিমনের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ লক্ষ্যে তারা শাটডাউন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, পরিবহন সেবা, লাইব্রেরি এবং মেডিকেল সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সুজয় শুভ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এখন উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

তিনি আরও বলেন, “এই আপসহীন লড়াইয়ে আজ ১২ মে থেকে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্দোলনরতরা জানান, উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

শাটডাউন চলাকালীন ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ, উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগানো ও সংবাদ সম্মেলনের মতো নানা কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে  গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল




জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধের দাবি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত বাকি ১৩ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ l

রোববার (১১ মে) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ এবং জি এম কাদেরসহ জাপার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি গণঅধিকার পরিষদের।




দাবদাহে দিশেহারা ঝালকাঠিবাসী, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

ঝালকাঠিতে টানা কয়েকদিন ধরে তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে বিরাজ করছে গরমের অসহনীয় চাপ।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড রোদ আর ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা।

আড়ৎদার পট্টির হ্যান্ডেলিং শ্রমিক রবিউল হোসেন বলেন, “কাজ না করলে বউ-সন্তান খাবে কী? কিন্তু রোদে মনে হয় কলিজাটা শুকায়া যায়।”

নির্মাণ শ্রমিক লতিফ মিয়ার ভাষ্য, “রোদে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে, কিন্তু রোজগার না করলে ঘরে হাঁড়ি চড়ে না।”

রাস্তায় চলাচলকারী ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রহিম বলেন, “শরীর দিয়ে পানির মতো ঘাম ঝরছে। রাস্তা যেন আগুন ছড়াচ্ছে। তবুও বের হতে হচ্ছে।”

এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা, বয়স্করা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে মানুষ।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিএম মেহেদী হাসান সানী বলেন, “তাপদাহে সুস্থ থাকতে হলে বিশুদ্ধ পানি বেশি করে খেতে হবে, দিনে অন্তত দুইবার গোসল করতে হবে এবং পাতলা ও হালকা রঙের কাপড় পরা উচিত।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর শরবত ও পানীয় থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘসময় এমন গরম থাকলে কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঝালকাঠিতে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল ৫ কৃষকের পানের বরজ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের গোপিনাথকাঠি গ্রামে দুর্বৃত্তদের লাগানো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পাঁচ কৃষকের পানের বরজ। রোববার (১১ মে) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—প্রিন্স মন্ডল, সুভাষ মিস্ত্রী, দিলীপ মিস্ত্রী, অনিক মন্ডল ও সুজন হাওলাদার। তাঁরা জানান, পাশাপাশি থাকা বরজগুলোতে হঠাৎ আগুন লাগতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করেন। পরে গ্রামবাসী ও মালিকরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বরজগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ঘটনার পর বিকেলে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন ও সমবেদনা জানান।

এ সময় অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক। দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা দরকার। প্রশাসনকে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।”

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে জেলা বিএনপি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যাবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে জমি দখল নিয়ে আ.লীগ নেতার পক্ষে বিএনপি নেতা জড়িত

বরিশাল মহানগরের কলেজসংলগ্ন এলাকায় জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জমি দখলের প্রতিবাদে শনিবার নগরীতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগকারী মেহেদী হাসান জানান, তাঁর পিতা শওকত হোসেনের নামে থাকা প্রায় দেড় একর জমি কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন দখলে নেন। জমি পুনরুদ্ধারের পর মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত জমি সংরক্ষণের দাবি জানালেও, গত শুক্রবার হঠাৎ বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতা—মাহফুজুর রহমান খান, জসিম উদ্দিন খান ও মশিউর রহমান মঞ্জু—প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে ওই জমিতে বালু ফেলতে যান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির বর্তমান দখল নিশ্চিত করতে এই অপচেষ্টা চালানো হয় মামুনের পক্ষে, আর এর বাস্তবায়নে বিএনপি নেতারা জড়িত। এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা সরে যেতে বাধ্য হন।

বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি নেতারা একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন,“আমি শুনেছি জমিটি স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুমের। জমি দখলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।”

অপর যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন,“যদি প্রমাণ হয় আমি জমি দখলে জড়িত, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

এদিকে, মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার শওকত হোসেনের ছেলে বলেন,“আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চলছে।”

অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন,“দলের কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে বিমানবন্দর থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। এসআই কিবরিয়া বলেন,“আমরা তদন্ত করছি। আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়াই উত্তম। কে বা কারা জমি দখলের চেষ্টা করেছে, তা তদন্তেই পরিষ্কার হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /