গৌরনদী ভূমি অফিসে দালালমুক্ত সেবা, ফিরেছে জনআস্থা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিস এক সময় যেখান থেকে হয়রানি, দালাল চক্র ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ শোনা যেত, সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে অফিসটি এখন জনআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তনের মূল কারিগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন। সাত মাস আগে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। “এক দিনে আবেদন, এক দিনে নামজারি”—এই ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫০০’রও বেশি নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও অফিসকে সুশৃঙ্খল রাখতে নিয়মিত তদারকি, কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অনিয়মে জড়িতদের বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। এতে ভূমি অফিসের সেবাগ্রহীতারা এখন আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ছয়জন তহশিলদার ও দুইজন কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। দালালচক্র দমনে আটক করা হয়েছে ছয়জনকে, যাদের মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০ একর সরকারি জমি এবং রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকা

খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, “এক দালাল আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে পারেনি। এসিল্যান্ড স্যারের হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত পেয়েছি, নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে।”

সুন্দরদী গ্রামের স্বরস্বতি দাস বলেন, “আগে অফিসে দালাল ছাড়া কাজ হতো না, এখন আমরা সরাসরি এসিল্যান্ড স্যারের সাথে কথা বলেই সেবা পাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “গৌরনদী ভূমি অফিস এখন দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গর্ব করতে পারে। জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গৌরনদী ভূমি অফিস এখন জেলার অন্য অফিসগুলোর জন্য আদর্শ। এই পরিবর্তন একটি দৃষ্টান্ত, যা আমরা অন্য উপজেলাগুলোকেও অনুসরণ করতে বলি।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন জানান, “দালালদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে এবং অফিসকে সেবার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতেই কাজ করছি। দুর্নীতিতে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনা আদালতে বিচারক সংকট, ন্যায়বিচারে ভোগান্তি

বরগুনা জেলা জুড়ে আদালত ব্যবস্থা এখন তীব্র সংকটে। বিচারক ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থীকে নানান বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে শুধু মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে না, বরং জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও হুমকির মুখে পড়েছে।

জেলা আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অথচ ২১টি বিচারকের পদের মধ্যে ৬টি পদই শূন্য পড়ে আছে। বিচারকের অভাব এবং এজলাস সংকটের কারণে একই এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারকরা পালাক্রমে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি মানুষ আদালত সংশ্লিষ্ট কাজে বরগুনার আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। কিন্তু বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বারান্দা ও খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত মানুষ। তপ্ত রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে খোলা জায়গায়। আদালতের ভেতরে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে আইনজীবীদের জন্য।

দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারক না থাকায় মামলার জট বাড়ছেই। ২০০৭ সালে জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বেতাগীর জামাল ইবনে মুসা। ১৮ বছর পার হলেও আজও তার মামলার সুরাহা হয়নি। একই অবস্থা কাজল রেখার, যিনি ২০১২ সালে মামলা দায়ের করেছিলেন, এখনো কোনো নিষ্পত্তি পাননি।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, “বিচারক সংকটের কারণে মামলার জট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যত দ্রুত শূন্যপদ পূরণ হবে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।”

চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “বর্ষায় লোকজন ভিজে থাকে, গরমে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একটি ভবন হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”

চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন জানান, “প্রতিদিন এজলাস সংকট ও বিচারক সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, দাপ্তরিক কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। নতুন ভবন হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, “পার্শ্ববর্তী জেলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন থাকলেও বরগুনায় এখনো হয়নি। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বরগুনাবাসীর একটাই দাবি—বিচারক ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি: গ্রেফতার হতে পারে অভিযুক্তরা

পিরোজপুরে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী তামান্না ইসলামকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুর জেলা গণগ্রন্থাগারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম পিরোজপুর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা এবং পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন—পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী লুবনা ও নিলা এবং কদমতলা জর্জ হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম।

হুমকি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিল স্কুলের সহপাঠী ও জনতা:
বুধবার বেলা ১২টার দিকে তামান্না ইসলাম কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগারের সামনে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে পথ রোধ করে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনার প্রেক্ষাপটে জড়ো হয়ে যায়। পরে তামান্না তার মাকে ফোন করেন, যিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম বলেন, “আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলার কারণে লুবনা ও নিলা আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আজ তারা সরাসরি আমাকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।”

অভিযুক্ত লুবনা বলেন, “তামান্না আমার সম্পর্কে বাজে কথা বলছে, সে কারণে আমি তাকে সাবধান করতে বলেছি।”পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম হাওলাদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তামান্নার মা লিপি বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে তারই সহপাঠী। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম


 




পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি: গ্রেফতার হতে পারে অভিযুক্তরা

পিরোজপুরে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী তামান্না ইসলামকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুর জেলা গণগ্রন্থাগারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম পিরোজপুর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা এবং পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন—পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী লুবনা ও নিলা এবং কদমতলা জর্জ হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম।

হুমকি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিল স্কুলের সহপাঠী ও জনতা:
বুধবার বেলা ১২টার দিকে তামান্না ইসলাম কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগারের সামনে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে পথ রোধ করে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনার প্রেক্ষাপটে জড়ো হয়ে যায়। পরে তামান্না তার মাকে ফোন করেন, যিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম বলেন, “আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলার কারণে লুবনা ও নিলা আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আজ তারা সরাসরি আমাকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।”

অভিযুক্ত লুবনা বলেন, “তামান্না আমার সম্পর্কে বাজে কথা বলছে, সে কারণে আমি তাকে সাবধান করতে বলেছি।”পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম হাওলাদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তামান্নার মা লিপি বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে তারই সহপাঠী। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




ভোলায় ১০ বছর পর ডাকাতির ঘটনায় পিটিয়ে হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ২০১৫ সালে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ বছর পর আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি, আট আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ (১৪ মে, ২০২৫) দুপুরে চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সহকারী জজ সাখাওয়াত হোসাইন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন, যা রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ হিরন নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:

১. হাফেজ মনির উদ্দিন (ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, হাজী আ. লতিফ মিয়ার ছেলে)
২. জাভেদ মিয়া (প্রয়াত হাজী আবু তাহেরের ছেলে)
৩. মো. হাবিত (হাফেজ মনির উদ্দিনের ছেলে)
৪. মোস্তফা জমাদার টুটুল (উত্তর ফ্যাশনের শাজাহান মানিক জমাদারের ছেলে)

মনে করা হচ্ছে, মনির উদ্দিন ও টুটুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ফ্যাশন গ্রামে নুর উদ্দীনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতির ঘটনায় জাফর ইমাম স্বপন জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পরদিন, ২৫ এপ্রিল, স্বপন রিকশায় চড়ে নায়েবের পুল বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনির উদ্দিন এবং টুটুল তাকে আটক করে লতিফ মিয়ার হাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়, এবং নির্যাতনের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই স্বপন মারা যান।

এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানার তৎকালীন এসআই ছগীর মিয়া ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলার শুনানি শেষে, চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। জরিমানা না দিলে, তাদের আরও তিন মাস কারাবাস করতে হবে।

এ রায়ের মাধ্যমে ১০ বছর পর স্বপনের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে এবং বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ডলারের দাম ঠিক করবে ‘বাজার’: গভর্নর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুবাই থেকে অনলাইনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরবলেন,  মার্কিন ডলারের দাম এখন থেকে ‘বাজার’ ঠিক করবে,  ‘আশা করছি, দাম এখনকার দামের আশপাশে থাকবে।’

ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের দর–কষাকষি চলছিল। মূলত সে কারণে আইএমএফ ঋণের কিস্তি ছাড় করছিল না। এর মধ্যে গতকাল জানা যায়, বাংলাদেশ ডলারের বিনিময় আরও নমনীয় করতে রাজি হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে চলমান ৪৭০ কোটি ডলারে ঋণের দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড় করতে রাজি হয়েছে আইএমএফ। এরপর আজ গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের বিনিময় হার এখন থেকে ‘বাজার’ ঠিক করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার এখন ভালো সময়। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখন প্রবাসী আয় ভালো আসছে, রিজার্ভও স্থিতিশীল, উন্নতি হয়েছে লেনদেন ভারসাম্যের। আগামী জুন মাসের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার আসবে। এতে রিজার্ভ আরও বাড়বে। ফলে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার এটাই ভালো সময়।’

জানা যায়, আজ সকালে বাংকগুলোকে বাজারভিত্তিক দামে লেনদেন করতে বলা হয়েছে। তবে এখনকার দামের সঙ্গে যেন খুব বেশি পার্থক্য না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।




ফেসবুক-ইউটিউবসহ আওয়ামী লীগের সব প্ল্যাটফর্ম বন্ধের নির্দেশ




দুমকিতে  দুই পেশাদার ডাকাত অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ধরা পড়েছে দুই পেশাদার অস্ত্রধারী ডাকাত। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উপজেলার লেবুখালী এলাকার পায়রা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের নিয়মিত তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে আল আমিন দুয়ারি (৪৫) ও তারেক বেপারি (৪২) নামের দুই ডাকাত।

তল্লাশিকালে ওই দুই সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তাদের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ তখন তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করে দুইটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, পুলিশের ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ, তিন সেট বারবের পোষাক, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি, দুটি গাড়ির নম্বরপ্লেট, প্লাস, স্ক্রু ড্রাইভারসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

ধৃত ডাকাত আল আমিন দুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের মৃত বারেক দুয়ারির ছেলে এবং অপরজন তারেক বেপারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাশেম বেপারির ছেলে। পুলিশ জানায়, এদের বিরুদ্ধে বাউফল, নবীনগরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির মামলা রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “তল্লাশিকালে আমরা দুজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জব্দকৃত ৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ এতিমখানায় বিতরণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিবহন করা সামুদ্রিক ৩০ মণ মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘অন্তরা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।

জব্দ করা মাছের মধ্যে ছিল চিংড়ি, লইট্টা, পোয়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রজাতি। এসব মাছ কলাপাড়ার ধুলাসার এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা। জব্দকৃত মাছের বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

পরবর্তীতে মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। তবে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সামুদ্রিক মাছ পরিবহন না করার মুচলেখা দিলে বাস ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে সাগর থেকে মাছ আহরণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযান চলমান রয়েছে এবং অবরোধ শতভাগ সফল করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অনেক : প্রধান উপদেষ্টা