সাংবাদিক ছাঁটাই হয়নি, গণমাধ্যম স্বাধীন: প্রেস সচিব

গত ৯ মাসে কোনো সাংবাদিককে ছাঁটাই বা গণমাধ্যম বন্ধ করেনি সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় এবং সংবাদপত্রের কার্যক্রমে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করছে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণমাধ্যমের হালচাল” শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হলেও সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। তবে সেই প্রতিবাদকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

তিনি জানান, সরকার গত ৯ মাসে কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেনি এবং সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার মতো কোনো ঘটনাও ঘটায়নি। কেউ হুমকির শিকার হলে সরকারকে তা লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাংবাদিকতার নীতিগত অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত মতাদর্শের জায়গা থেকে নয়, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা হওয়া উচিত।”

এ সময় তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের জন্য স্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান হত্যা মামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, “২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে হত্যা মামলার তথ্য রয়েছে, তার দায় সরকার নেয় না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মেঘনার ভাঙনে বিপর্যস্ত ভোলার শিবপুর, হুমকিতে শহর রক্ষা বাঁধ

ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বাঁধের ভেতর ও বাইরের শত শত পরিবার। নদী থেকে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের দূরত্ব কমে এসেছে মাত্র ৫৫ মিটারে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইসগেট, মাছঘাটসহ প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। গত কয়েক মাস ধরে আগ্রাসী হয়ে ওঠা মেঘনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় বাজার, ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “নদীটা আগেও ছিল, তবে এত কাছে না। এখন তো ঘরের সামনেই চলে এসেছে। জমি রক্ষা হবে কিনা, বুঝতে পারছি না।”
সত্তরোর্ধ্ব মো. সিরাজ বলেন, “ঘরের পাশেই এখন নদী। জমি কিনে অন্য জায়গায় যাওয়ার সামর্থ্য নেই।”
অপর এক কৃষক মঞ্জুর আলম জানান, “চাষের জমিই সব। এটা চলে গেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
বিধবা আনোয়ারা বেগম বলেন, “ভাঙনে একাধিকবার ঘর হারিয়েছি। এখন আবার নতুন করে সব সরাতে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদী ভাঙন প্রতিরোধে শুধু কিছু জিওব্যাগ ফেলে দায়সারা করছে। কিন্তু অল্প সময়েই তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন ও মো. ফারুক বলেন, “প্রতিবার জিওব্যাগ ফেলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। আমরা এবার স্থায়ী সিসি ব্লকের দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে পাউবো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, “বর্তমানে দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে, যার মধ্যে আধা কিলোমিটার ভয়াবহ। আপাতত ৬০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বাকি অংশের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী সিসি ব্লকের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করা হবে।”

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন, যা কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘মহার্ঘ ভাতা’ সংস্থানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে গত ডিসেম্বরে সাত সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পর্যালোচনা শেষে গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করে। তখন সরকার পিছিয়ে এলে এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভাতা দিলে আগামী অর্থবছরে বাড়তি কত খরচ হবে, সেই হিসাব-নিকাশও কষছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বৈঠক হবে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা জনপ্রশাসন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ।

সূত্র বলছে, যদি প্রস্তাব অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।

জানা গেছে, অর্থ বিভাগের খসড়ায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবও রয়েছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার চাকরিজীবীদের কয়েক দফায় পদোন্নতি দেওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

গত জানুয়ারি থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সে অনুযায়ী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকটকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগের সামালোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা। এমন প্রেক্ষপটে তখন মহার্ঘ ভাতা দেওয়া থেকে সরকার সরে এলেও এখন নতুন করে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ হুঁশিয়ারি অন্তর্বর্তী উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের’ বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুর ২টায় সড়কপথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে স্বাগত জানান। প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করানো হয় এবং সেখানেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “যারা গণতন্ত্রবিরোধী, যাদের অবস্থান ফ্যাসিস্ট চিন্তাধারার পক্ষে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সহনশীলতা দেখানো হবে না। আমি জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করি এবং তা বাস্তবায়ন করব।”

◾ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

অন্তর্বর্তী উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, আমি সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করব। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতাগুলোর সমাধান নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।”

তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

◾ পূর্বের উপাচার্যের পদত্যাগ

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন। এরপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




 জবি শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ কেন? প্রশ্ন রিজভীর

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কড়া সমালোচনা করে বলেন, “একদিকে এনসিপি নেতাদেরকে সাদরে বরণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ চালানো হচ্ছে — এটা কেমন দ্বিচারিতা?”

তিনি বলেন, “জবি শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের আবাসন সমস্যার সমাধান চাইতে যায়, তখন তাদের ওপর চালানো হয় লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড। অথচ কয়েকদিন আগেই এনসিপি নেতাদের যমুনার দিকে যাত্রায় সম্মান জানানো হয়েছে।”

রিজভী আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে থাকা লোকদের আচরণে পক্ষপাতদুষ্টতা স্পষ্ট। যাদের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য সমর্থন দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না।”

◾ শাহরিয়ার সাম্য হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য

রিজভী তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। সাম্য ফেসবুকে জাতীয় সংগীতের পক্ষে পোস্ট দিয়েছিল। এটাই কি তার মৃত্যুর কারণ?”

তিনি আবরার হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও দেশের স্বার্থ নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

◾ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ

রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে শান্তির পতাকা উড়বে, রক্তপাত নয়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছাত্র নিহত হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব হচ্ছে সকল ছাত্রের প্রতি সমান আচরণ করা, রাজনৈতিক বিভেদ নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যদি প্রশাসনিকভাবে রাজনৈতিক চিন্তা দর্শনের প্রভাব পড়ে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর কখনো শান্তি ফিরে পাবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না: দশমিনায় চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়ার পদত্যাগ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ মিয়া রাজনৈতিক জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করে ঘোষণা দিয়েছেন—“আর কখনো আওয়ামী লীগের নাম মুখেও নেবো না।”

বুধবার (১৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণাটি দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল আজিজ মিয়া বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।”

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদুল আজিজ মিয়া। তিনি দীর্ঘদিন দলীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আবদুল আজিজ মিয়াও কিছু সময়ের জন্য আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে আবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বিভিন্ন সময় অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করতেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দশমিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ব্র্যাক ‘শিখা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক পরিচালিত ‘শিখা’ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশালে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব লুসিকান্ত হাজং।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিভিন্ন দপ্তরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপ-পরিচালক (মহিলা ও শিশু, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন), জেলা শিক্ষা অফিসার, পরিবহন শ্রমিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

চার বছর মেয়াদি ‘শিখা’ প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। বরিশালসহ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহী মিলিয়ে ছয়টি জেলায় এটি কার্যকর করা হবে। এর আওতায় ২৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক কারখানা, গণপরিবহন ও কমিউনিটিতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, যৌন হয়রানি, বুলিং, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো এবং রেসপন্স ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এছাড়া, শিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের পথের ঝুঁকি ম্যাপ তৈরি, প্রতিরোধ কমিটি শক্তিশালী করা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে নীতিগত কাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা সমন্বয়ক বিভাস চন্দ্র তরফদার, রোড সেইফটি প্রোগ্রামের প্রজেক্ট লিড মোহাম্মদ নাজমুল হক, টেকনিক্যাল ম্যানেজার মো. তৌহিদুর রহমান, প্রজেক্ট অফিসার মায়িশা খান, অনিক বিশ্বাস, কিশোর মিস্ত্রি এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা। সভা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক শিখা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মায়িশা খান।

‘শিখা’ প্রকল্পটি বরিশাল জেলার স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবে। এর মধ্যে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে বাড়ি ফেরা : বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৬ মে

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানিয়েছেন,
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগামী ১৬ মে থেকে শুরু হচ্ছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাস মালিকদের সংগঠন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে’র টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ওই দিন থেকে।

তিনি বলেন, যাত্রীরা ওই দিন থেকে বাসের টিকিট অনলাইন ও সরাসরি কাউন্টারে—দুই ভাবেই কিনতে পারবেন। তবে কিছু পরিবহন সংস্থা শুধু অনলাইনের মাধ্যমেই টিকিট সরবরাহ করবে।




বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি, আগৈলঝাড়ায় ধানের স্বর্ণালী মৌসুম

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। চলতি মৌসুমে সঠিক কৃষি পরামর্শ, উন্নত বীজ ও সারের ব্যবহার এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ, কিন্তু চাষ হয়েছে ৯৫১০ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৫ হাজার মেট্রিক টন থাকলেও ফলন ধরা হচ্ছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন চাল। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ, আর বাকি ধান কাটার কাজ শেষ হবে ২৩ মে’র মধ্যে।

ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৬, ১০০, ১০১ এবং বিনা-২৫ সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। এই ধানগুলোতে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে এখন হাসি।

স্থানীয় কৃষক আজাহার জানান,“সেচে কিছুটা সমস্যা হলেও ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ধান সময়মতো ঘরে তুলতে পারবো। বাজারে দাম ভালো পাব বলে আশা করছি।”

কৃষক আবু ফজল বখতিয়ার বলেন,“ফলন ভালো হয়েছে, তবে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি হওয়ায় কিছুটা ব্যয় বেড়েছে। তবুও লাভ থাকবে।”

নারী কৃষক মাহমুদা বেগম বলেন,“দুই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে এবার খুব খুশি। গরম ও শ্রমিক সংকট থাকলেও ধান ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলে পরের বছর আরও জমিতে চাষ করবো।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযূষ রায় বলেন, “কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। খালে পানি না থাকায় কিছু এলাকায় সেচে সমস্যা হয়েছিল। ফলে কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষতি কম হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হলে উৎপাদন আরও বাড়বে।”

সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ায় বোরো মৌসুম কৃষকদের জন্য বয়ে এনেছে স্বস্তি, সফলতা এবং সম্ভাবনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভুল চিকিৎসায় রোগীর ১৮টি দাঁতে পচন! তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

আমতলীর এক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ১৮টি দাঁতের পচনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দন্ত চিকিৎসক সোনিয়া আফরিন তালুকদারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগী রুমা আক্তার। তিনি চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, বরগুনার আমতলী পৌরসভার ছুরিকাটা এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ রুমা আক্তার গত দুই বছর ধরে তালুকদার ডেন্টাল কেয়ারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার অভিযোগ, শুরু থেকেই চিকিৎসক সোনিয়া ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি দাঁতের অবস্থা খারাপ হওয়ায় রুমা ঢাকার পিজি হাসপাতালে দন্ত বিশেষজ্ঞ ডা. এম.এ সরোয়ারের শরণাপন্ন হন। সেখানেই ধরা পড়ে তার ১৮টি দাঁতে পচন ধরেছে। এর মধ্যে দুইটি দাঁত ফেলে দিতে হয় এবং বাকি ১৬টির চিকিৎসা চালু রয়েছে।

ডা. সরোয়ার ওই রোগীর চিকিৎসার বিবরণ দিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন, যেখানে রুমার দাঁতের ক্ষতির বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই রুমা আক্তার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।

রুমা বলেন,“গত দুই বছর ধরে সোনিয়া আফরিনের চিকিৎসায় ছিলাম। তিনি ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন। আমার ১৮টি দাঁত নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক সোনিয়া আফরিন দাবি করেন,“আমি যথাযথ চিকিৎসাই দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান,“অভিযোগের প্রেক্ষিতে চিকিৎসক সোনিয়াকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি কী উত্তর দেন, তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি এখন অভিযোগের তদন্তের দিকেই।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /