তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দুঃখপ্রকাশ: “আঘাত পেলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা কাউকে আঘাত করলে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনা করবে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে জবি শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধানে ভিসি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, “গত পরশু রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগের পর আমি তাদের গতকাল রাত ৯টায় বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। কিন্তু তারা সকালেই আন্দোলনে অংশ নেয় এবং যমুনার কাছে পৌঁছে যায়।” তিনি জানান, আন্দোলনের দিন দুপুর থেকেই উপাচার্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তিনটি টকিং পয়েন্ট ঠিক করে কাকরাইল মোড়ে শিক্ষকদের সঙ্গে উপস্থিত হন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে কথা বলার সময় একটি গ্রুপ স্লোগান দিতে শুরু করে। তখন তিনি পূর্বনির্ধারিত বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশি বাড়াবাড়ি এবং উসকানিমূলক ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিভাগীয় তদন্তের কথা বলতে চেয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় একজন শিক্ষার্থী বোতল নিক্ষেপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
ঘটনার পর হতাশা নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় উপাচার্যসহ অন্যদের সঙ্গে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন বলে জানান তিনি। “গত এক সপ্তাহ ধরে একটি দলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে হত্যার হুমকি আসছিল। তাই এই ঘটনার পেছনে সেই দলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অনুমান করেছিলাম,” বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, পরে একটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা, দাবি পূরণের রোডম্যাপ এবং পুলিশি হামলার বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দেন।
পোস্টে তিনি জবি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের দাবিকে “ন্যায্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “আশা করি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জবি থেকে দুইজন শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এই আত্মত্যাগের পটভূমিতেই আমি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চেয়েছি।”
সবশেষে তিনি জানান, “গতকাল রাতেই আমি ডিএমপি কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”








