নুরের হুঁশিয়ারি: মানবিক করিডরের নামে ‘খাল কেটে কুমির’ আনবেন না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত মানবিক করিডরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মানবিক করিডরের আড়ালে যেন দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র না ঘটে এবং “খাল কেটে কুমির” যেন না আনা হয়।

শনিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগ বাসস্ট্যান্ডে গণ-অধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুর বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যাদের উৎখাত করা হয়েছে, সেই চাঁদাবাজ ও দখলদারদের প্রভাব এখনো সর্বত্র বিদ্যমান। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ও সমিতি ভেঙে দিতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। মানবিক করিডরের নামে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।”

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ নেতা হতে পারেন না। কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে হবে না, আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।”

অন্য বক্তারা বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করে রাজনীতি করা চলবে না। সংস্কারের নামে বহুত্ববাদ কিংবা পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাজনীতি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও বলেন, “শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছে দিল্লির দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, কিন্তু সেই সুযোগে আমেরিকার তাঁবেদারি মেনে নেওয়া যাবে না।”

গণ-অধিকার পরিষদের নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান জানান।




কুয়াকাটা সৈকতে পবিপ্রবির পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের হাতে সৈকত পরিচ্ছন্নতার দৃপ্ত বার্তা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আজ বিকেলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওশানোগ্রাফি (আইএমএফও)’ ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

পরিবেশপ্রেমী তরুণদের নেতৃত্বে অংশগ্রহণকারীরা সৈকতের প্লাস্টিক, পলিথিন, পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে অপসারণ করেন। কর্মসূচির সময় সৈকতে এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়—কেউ বালুর নিচ থেকে প্লাস্টিক তুলছেন, কেউ শিশুদের ফেলে যাওয়া খেলনা আলাদা করছেন, কেউ আবার জালের গিট খুলছেন নিঃশব্দে। এই কর্মযজ্ঞ যেন নীরবে বলে যাচ্ছিল—”এই সমুদ্র আমাদের, আমরাই নেব তার দায়িত্ব।”

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “সমুদ্রের ডাক শুধুই নয়নাভিরাম প্রকৃতির নয়, এটি এক নৈতিক আহ্বান। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে সাড়া দিয়েছে, তা শুধু প্রশংসনীয় নয়, তা উপকূলীয় সচেতনতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, “শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সংলাপে শিক্ষা পরিপূর্ণতা পায়। পবিপ্রবির এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “কুয়াকাটা শুধু পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই সৈকতের রক্ষা আমাদের জাতিগত দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা সেই বার্তা নিয়েই এগিয়ে এসেছে।”

কর্মসূচি শেষে এক সচেতনতামূলক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যের কারণে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকিতে পড়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সচেতনতা ও নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান, আরটিসি পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মামুন-উর-রশিদ, রেজিস্ট্রার ও আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, ইএসডিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মুহসিন হোসেন খান, মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ইনোভেশন সেন্টারের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আবু ইউসুফসহ আরও অনেকে।

পবিপ্রবির আইএমএফও কেবল একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পরিবেশ-সচেতন সমাজ গড়ার এক প্রাণন্ত সেতুবন্ধন। আজকের কর্মসূচি আবারও প্রমাণ করল—তারা শুধু সমুদ্র নিয়ে পড়ে না, বরং সমুদ্রকে হৃদয়ে ধারণ করে ভালোবাসে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ চান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার (১৭মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এনডিএমের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “পরিস্থিতি অযথা ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন। জনগণের ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না।”

তিনি জানান, বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বহুদিন ধরেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে বরং এটিকে “অল্প সংস্কার বনাম বেশি সংস্কার” শর্তের মধ্যে আটকে দিয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে।

তিনি বলেন, “মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন না করলে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন—সেই তালিকা সরকার এখনো দিতে পারেনি। এতে প্রশ্ন জাগে সরকার কি তাদের প্রতি উদাসীন, না কি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “করিডোর কিংবা বন্দর দেওয়া না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের নয়। এই সিদ্ধান্ত আসবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থেকে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি সংস্কার শুরু করায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে বিশাল রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, মহাসচিব মমিনুল আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




কুয়াকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ১৬ জেলে আটক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৬ জন জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৭ মে) দুপুরে ফাতরার বনসংলগ্ন সাগর থেকে তিনটি মাছধরা ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনটি ট্রলারের মালিককে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অভিযানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা মুচলেখা দেন যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা আর সাগরে মাছ শিকার করবেন না। এরপরই ট্রলারসহ জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কিছু জেলে গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে জেলেদের আটক করা হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়কালে প্রতি বছরই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময় সকল ধরনের মাছধরা ট্রলার ও জেলেদের সাগরে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এরপরও কিছু জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করছে, যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামীদিনগুলোতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না— যোগ দিতে হবে প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিক

বিএনপি

আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও যারা বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য—এমন ব্যক্তিরা বিএনপিতে যোগ দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে দলভুক্তির ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়িতে দলীয় কার্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে ‘সদস্য নবায়ন’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “দীর্ঘ সময় পর আমাদের সামনে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ এসেছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে বিএনপিকে আরও সংগঠিত করতে হবে। বিএনপিতে যোগ দেওয়া গর্বের বিষয়। এজন্য সদস্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপ দৃশ্যমানভাবে অনুষ্ঠান করে করতে হবে—মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে, ফেসবুকেও তুলে ধরতে হবে।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “সদস্য সংগ্রহে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাদের দলে নেওয়া যাবে না। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে ও ভোট কমে যেতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মীদের বিএনপিতে নেওয়া যাবে না। তবে যারা আওয়ামী লীগপন্থী ছিল কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেনি, বরং আড়ালে সহযোগিতা করেছে—তাদের বিএনপিতে আসায় কোনো বাধা নেই। তবে কাউকে গোপনে দলে ভেড়ানো যাবে না—দলে যোগ দিতে হলে সেটা হতে হবে প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।




মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি, পটুয়াখালীতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত—কেবল মাত্র ১২০ টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বিনিময়ে তদবির ও উৎকোচ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২১ জন তরুণ-তরুণী। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে দশটায় পটুয়াখালী পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার জাহিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নতুন চাকরি পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। সবার চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু আর মুখে প্রশংসার ছাপ। কারণ, তারা জানতেন—এই নিয়োগে ছিল না কোনো আর্থিক লেনদেন, ছিল না কোনো রাজনৈতিক তদবির বা পরিচয়। শুধু যোগ্যতা, মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতেই অর্জিত হয়েছে চাকরিটি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিয়োগ দিয়েছি। যার যোগ্যতা ছিল, সেসব তরুণ-তরুণীরাই সুযোগ পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারগুলোতে এখন হাসি ফুটছে। পুলিশে এমন নিয়োগ পদ্ধতি অব্যাহত থাকবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

চাকরি পাওয়া এক তরুণ বলেন, “আমার বাবা একজন দিনমজুর। কখনো কল্পনাও করিনি, পুলিশে চাকরি করতে পারব। আজ এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে।”

এই নজিরবিহীন উদ্যোগ শুধু পটুয়াখালী নয়, বরং দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও হয়ে উঠতে পারে অনুকরণীয় উদাহরণ। সাধারণ মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে—সরকারি চাকরি মানেই তদবির বা ঘুষ নয়, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেও সম্ভব নতুন জীবন শুরু করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত, আহত ২

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শাহারিয়া আজাদ তালহা (২০)। তিনি গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম বার্থী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, তালহা ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে বার্থী বাজার যাচ্ছিলেন। পথে একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তালহা প্রাণ হারান। তার সঙ্গী হিমেল গোমস্তা ও শাহীন মাল গুরুতর আহত হন।

আহত হিমেল গোমস্তা (পিতা: নুর আলম গোমস্তা) এবং শাহীন মাল (পিতা: সোহেল মাল) একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”

নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির পিকআপ ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশের দীর্ঘতম হবে ভোলা-বরিশাল সেতু, ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রায় ২৫ লাখ মানুষের স্বপ্ন বাস্তব হতে যাচ্ছে। দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে সরাসরি সড়কপথে সংযুক্ত করতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু—যা হবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।

প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

ভোলার জীবনযাত্রায় আসবে আমূল পরিবর্তন: 

সেতুটি নির্মাণ হলে ভোলাবাসীর জীবনযাত্রায় আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে ভোলার সঙ্গে দেশের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা নৌপথ। ফলে সন্ধ্যার পর বরিশাল কিংবা অন্য কোথাও যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়েছে জেলার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির চৌধুরী, তালহা তালুকদার, মঞ্জুর আলম ও সুমা বেগম বলেন, “গ্যাসসমৃদ্ধ ভোলা জেলায় বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই শুধু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে। সেতু হলে এখানকার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।”

যাত্রা হবে সহজ, সময় কমবে ঘন্টার পর ঘন্টা:

গাড়িচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “এখন বাস বা ট্রাক নিয়ে বরিশাল যেতে ভেদুরিয়া-লাহারহাট ফেরি ধরতে হয়, তাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে। সেতু হলে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই ভোলা থেকে বরিশাল যাওয়া সম্ভব হবে।”

বরিশালের বাসিন্দা হলেও ভোলায় কর্মরত ইলিয়াস, সাহাবুদ্দিন ও আকবর বলেন, “সন্ধ্যার পর বরিশালে জরুরি প্রয়োজনে ফিরতে হয়রানির শেষ থাকে না। এই সেতু আমাদের মতো কর্মজীবীদের জন্য আশীর্বাদ হবে।”

শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা :

সচেতন নাগরিক মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “পদ্মা সেতু হওয়ার পরও ভোলা এখনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অথচ এখান থেকে গ্যাস, ধান, গম, ইলিশ যাচ্ছে সারা দেশে। কিন্তু বিনিময়ে উন্নয়ন আসছে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু হলে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে অর্থনীতি।”

জাপানি কোম্পানির আগ্রহ, শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, “সেতুটি নির্মাণে জাপানি কোম্পানি ‘মিয়াগাওয়া’ আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী ২৫ বা ২৬ মে প্রধান উপদেষ্টা জাপান সফরে গেলে, সেই সময়ই এই প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু এই সরকারের মেয়াদেই শুরু হতে পারে। জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক দূর এগিয়েছে।”

বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সেতু হতে পারে এটি:

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেছেন, “ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু দেশের দীর্ঘতম নয়, নির্মিত হলে এটি বিশ্বের দীর্ঘ সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, “সেতুটি হবেই, তবে সময়সীমা এখনো নির্দিষ্ট নয়।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে ১০০ বিঘায় তিল ও মধু চাষে চমকপ্রদ সাফল্য

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০০ বিঘা জমিতে তিল ও মৌচাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আধুনিক পদ্ধতিতে তিলের সঙ্গে মধু উৎপাদনের সমন্বয়ে এই চাষাবাদে শুধু জমি নয়, কৃষকের মুখেও ফুটেছে সাফল্যের হাসি।

গৌরীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে মাথা নুয়ে থাকা তিলের সাদা ফুলের পাশে বসানো হয়েছে ১৩০টি মৌচাক। সেখানে প্রতিনিয়ত মৌমাছিরা ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে তৈরি করছে খাঁটি মধু। মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

তিলের সঙ্গে মধু—দ্বৈত সাফল্য

স্থানীয় ৫০-৬০ জন কৃষক মিলে এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তারা বারি-৪ জাতের উন্নত তিল চাষ করেছেন, যেখানে প্রতি বিঘায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রিতে লাভ হচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

একইসাথে বরগুনা থেকে আনা পাঁচজন মৌচাষি এই জমির পাশে ১৩০টি মৌবক্স স্থাপন করেন। সুইডেন প্রবাসী আরিফুল ইসলামের বাড়ির পাশে বসানো বক্স থেকে ৮ মন মধু উৎপাদন করে ইতিমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায়। খরচ বাদে মুনাফা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

কৃষকের অভিজ্ঞতা ও আশাবাদ

স্থানীয় কৃষক বাবুল হাওলাদার বলেন, “গত বছর অল্প জমিতে তিল চাষ করে লাভবান হই, এবার আরও অনেক কৃষককে নিয়ে ১০০ বিঘায় চাষ করেছি। মধু উৎপাদন বাড়তি আয় এনে দিচ্ছে।”

একইভাবে কৃষক মো. শাজাহান জানান, “আমরা প্রথমে এক বিঘায় প্রদর্শনী চালাই, সফলতা পেয়ে এবার ১০০ বিঘায় চাষ করেছি। তিলের পাশাপাশি মধুও বিক্রি হচ্ছে।”

মৌচাষি শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, “১৩০টি মৌবক্সে ৮ মন মধু পেয়েছি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার, লাভ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী সাফল্য। শুধু তিল বিক্রি থেকেই প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হবে, এর সঙ্গে মধু উৎপাদনের বাড়তি মুনাফা তো আছেই। আমরা আগামী বছর এই চাষ পদ্ধতি পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে হাসনাত আব্দুল্লাহর হুঁশিয়ারি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ মে) কুমিল্লায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে এক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমরা ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির দাস হতে চাই না। মানবিক করিডর নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পরিষ্কার জবাব দিন।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে থাকা কিছু শক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব সম্পদ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা উচিত।

এছাড়া, কুমিল্লার আন্দোলনকারীদের কোনো বিতর্কিত কাজে জড়িত না হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি আহত ও শহিদ পরিবারের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আমাদের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট হলে পতিত শক্তির সুবিধা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয় স্বার্থে, কুমিল্লার রাজনীতি, অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেই এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই কুমিল্লা বিভাগ হবে, ইনশাল্লাহ।” তিনি বলেন, “হাসিনা ও তার বাবা কুমিল্লার প্রতি রাত-দিনের দুঃস্বপ্ন ছিলেন। আবারও তারা ক্ষমতায় এলে কুমিল্লাকে একটি আলাদা রাষ্ট্র বানিয়ে দেবেন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /