পটুয়াখালীতে পুকুরে ডুবে শিশু সুমাইয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের পুকুরে গোসলে নেমে সুমাইয়া জাহান (৮) নামে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। সোমবার (১৯ মে) দুপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া পটুয়াখালী শহরের চকবাজার এলাকার মেসার্স কবির টেলিকমের মালিক সাইফুল ইসলাম কবির হাওলাদারের কন্যা। সে রোজ গার্ডেন কেজি স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুল শেষে বাসায় না গিয়ে সুমাইয়া একাই জেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে যায়। বাঁধানো ঘাট থেকে পুকুরে লাফ দিলেও আর উঠতে দেখা যায়নি তাকে। আশেপাশে থাকা এক শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং কিছুক্ষণ পর পানির নিচ থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশু সুমাইয়ার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা। স্থানীয়রা জানান, পুকুরে কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে সাংবাদিককে জেল দেওয়ার হুমকি ইউএনওর

পটুয়াখালীর বাউফলে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবং কালের কণ্ঠের পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি এ এইচ এম শহীদুল হক (এমরান হাসান সোহেল)-কে প্রকাশ্যে জেল দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে বাউফল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পটুয়াখালী কার্যালয় এবং বাউফল দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করা হলেও ইউএনওর সঙ্গে বারবার যোগাযোগে ব্যর্থ হন আয়োজকেরা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রবিবার ইউএনও’র কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করা হয়। তিন দিনই ইউএনও অফিসে অনুপস্থিত থাকেন এবং ফোন কলেও সাড়া দেননি।

শেষবার রোববার সন্ধ্যায় ফোন দিলে ইউএনও ফোন রিসিভ না করে তা কেটে দেন বলে জানান কমিটির সভাপতি। পরদিন সোমবার যখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান, তখন তিনি সেখানে আসেন এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কেন তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা জানতে চান।

জবাবে প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বলেন, “একাধিকবার অফিসে গিয়েছি, কিন্তু পাইনি। ফোনও করেছি, আপনি রিসিভ করেননি।” এরপর ইউএনও আমিনুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আমি কারো ফোন ধরতে বাধ্য না। আমাকে চিঠি দিতে হবে। আমরা এমন চাকর যে মালিককে জেলে ভরে দিতে পারি।”

সাংবাদিক এমরান হাসান সোহেল বলেন, “প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের ব্যবহার কেবল আমার সঙ্গে নয়, কারও সঙ্গেই শোভন নয়। এটি চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ।”

বিষয়টি নিয়ে বাউফল ইউএনও আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানটি নির্দিষ্ট একটি স্কুলে করা হয়েছে। চাইলে উপজেলা পরিষদে করাও যেত। তাছাড়া এসব দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি আগের সরকারের আমলের। বর্তমানে এসবের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও আচরণে হতবাক সাধারণ মানুষ। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ইউএনও’র শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ব্যক্তিগত মামলার দায় নেবে না জেলা কমিটি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বরিশালে একটি ব্যক্তিগত মামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনোভাবেই সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিল না এবং ব্যক্তির দায় জেলা কমিটি বহন করবে না।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ। তিনি বলেন, “১৪ মে সংগঠনের একজন সদস্য সচিব মারজুক আবদুল্লাহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে নিরাপরাধ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যা আমাদের অজানা ছিল। এ মামলার দায় জেলা কমিটি নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার ঘটনায় বিএম কলেজে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা পূর্বপরিকল্পিত। একটি কুচক্রী মহল শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে এবং আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলাকারী নেতাকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ সময় সাব্বির হোসেন দাবি করেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কখনোই চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নয়। যদি কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ মেলে, সংগঠন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই যোদ্ধা নামের একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশালের কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব্বির বলেন, “আমরা এই তালিকার বিষয়ে অবগত নই। বরিশালের সাংবাদিকরা সবসময় আমাদের আন্দোলনে পাশে ছিলেন। সাংবাদিকদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা চলছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র সুমি হকসহ অন্যান্য জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে ঘরে ফেরা সহজ করতে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস ৩ জুন থেকে শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৩ জুন থেকে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের নির্ধারিত বাস ডিপোগুলো থেকে চালু হচ্ছে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থা। আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত এই সার্ভিস চলমান থাকবে।

বিআরটিসি জানায়, ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করবে বিআরটিসির বাস।

প্রধান রুটগুলো হলো:

  • উত্তরবঙ্গ: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, গাইবান্ধা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী।
  • দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, ভাঙ্গা, কুয়াকাটা, মাদারীপুর।
  • মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল: ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ভোলা।
  • বিশেষ সংযোগ রুট: আরিচা, পাটুরিয়া, মাওয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, চিলমারী, পাটগাতী।

বাস রিজার্ভেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাস ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিআরটিসি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর সরবরাহ করেছে। বিস্তারিত তথ্য যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে নিতে পারবেন।

বিআরটিসি যাত্রীদের এই বিশেষ সেবা গ্রহণে আগ্রহী সবাইকে নির্ধারিত সময়েই টিকিট সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।

বিঃদ্রঃ বাস রিজার্ভেশন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নির্ধারিত ডিপো অফিসে যোগাযোগ করুন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ব্যাটারি রিকশা বিরোধী চালকদের প্রতীকী অবস্থান

বরিশাল মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী সমাবেশ করেছেন প্যাডেলচালিত রিকশাচালকরা। সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে টাউন হলের সামনে রিকশা সারিবদ্ধ করে অবস্থান নেন চালকরা এবং সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, নগরীর লাইন রোড, কাটপট্টির মুখ, জেলখানার মোড়, কাকলির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশা যাত্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। তারা বলেন, “সারাদিন রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে ১০০ টাকা রোজগার করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি।”

চালকরা অভিযোগ করেন, ব্যাটারি চালিত এসব রিকশার কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, তারা অবৈধভাবে চলাচল করে শহরে যানজট সৃষ্টি করছে এবং অদক্ষ চালকদের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে, প্যাডেল রিকশাচালকদের বেশিরভাগের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বক্তারা অবিলম্বে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধের আহ্বান জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. কামাল সরদার, শেখ ওমর আলি, নাজমুল খালেক, মোজ্জামেল ও সিদ্দিক ফরাজিসহ আরও অনেকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসের চারপাশে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা সক্রিয়: ফারুকের অভিযোগ”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আশপাশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

সোমবার (১৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফারুক বলেন, “করিডোর ও নির্বাচন ইস্যুতে বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ড. ইউনূসের চারপাশে হাসিনার দোসররা ভিড় জমাচ্ছেন। করিডোর দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি নির্বাচিত সরকারের এখতিয়ার।”

তিনি বলেন, করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদ থেকেই হওয়া উচিত।

বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে একটি গভীর চক্রান্ত চলছে। “কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সংগঠিত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—ড. ইউনূসকে কাউকে সংগঠিত করার জন্য ক্ষমতায় বসানো হয়নি,” বলেন তিনি।

ফারুক জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।”




ঈদের আগে ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

আজ সোমবার (১৯ মে) ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রগতি সরণি, মিরপুর রোড, সাতরাস্তা, এয়ারপোর্ট রোড, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রিং রোড, সাতমসজিদ রোড, মাহবুব মোর্শেদ সরণি, এ কে খন্দকার সড়ক এবং মহাখালী থেকে গুলশান-১ সড়কসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসকের নির্দেশনার পর ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলীরা সংশ্লিষ্ট সড়কসমূহে মেরামত কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঈদের আগে এসব কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মেরামতের আগে ও পরে ফুটপাতের ছবি সংযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।




অর্থ উপদেষ্টার কক্ষে বিক্ষোভ ; ১০ দিনের আলটিমেটাম সচিবালয় কর্মকর্তাদের

সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয় ভাতা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ১১ নম্বর ভবনের সামনে মিছিল করে তারা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

অভিযানকারীদের নেতৃত্ব দেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর। তার সঙ্গে অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিল ও অবস্থান চলাকালে তারা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে রাতও কাটাবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সংযুক্ত পরিষদের নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন এবং ৭ নম্বর ভবনের সামনে কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সভাপতি বাদিউল কবীর।

তিনি বলেন, “সচিবালয়ে রেশন ও ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমরা দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু বিষয়টি এতদিন উপদেষ্টার কাছে পৌঁছায়নি। আজ কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে।”

বাদিউল কবীর জানান, উপদেষ্টা বলেছেন, “সচিব আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এখন আমি আপনাদের কথা শুনেছি। আমাকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিন। আমি বিষয়টি কেবিনেটে তুলবো এবং আজই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে সময় দিয়েছি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে, পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।”

এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবির বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




পটুয়াখালীতে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার চেয়েও বেশি

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ১৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ। জেলার আটটি উপজেলার প্রতিটিতে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা কোরবানির সময় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গবাদি পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১টি। অন্যদিকে জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ১৮৮টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭১১টি। গরুর মধ্যে রয়েছে ৫৭ হাজার ৭টি ষাঁড়, ১৬ হাজার ৯৫৩টি বলদ, এবং ৯ হাজার ৭৫১টি গাভি। এছাড়াও রয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬টি মহিষ, ৩৯ হাজার ১২১টি ছাগল এবং ৬ হাজার ৮৪৩টি ভেড়া।

উপজেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৩২০টি, বাউফল উপজেলায় ২৬ হাজার ৮২৩টি, কলাপাড়ায় ২২ হাজার ১৮৯টি, গলাচিপায় ২৩ হাজার ২৭০টি, দশমিনায় ৮ হাজার ২২০টি, মির্জাগঞ্জে ১১ হাজার ৫৩৭টি, দুমকিতে ৯ হাজার ৬৯৪টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৯ হাজার ৩১৮টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকায় চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “জেলায় এবারের কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ১৮৩টি পশু। ফলে জেলার মানুষ নির্ভার থাকতে পারে।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, “জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চাঁদাবাজমুক্ত হাট নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”

এদিকে, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত হাটগুলোকে ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। হাটে যাতে কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় না করতে পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এবারের কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর পশু হাটগুলোতে একধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় হাসপাতালগামী সড়ক যেন মরনফাঁদ!

একটানা বৃষ্টির দিনে কলাপাড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালমুখী সড়ক যেন রোগীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের প্রায় দুইশ’ মিটার সড়ক বৃষ্টির পানিতে ডুবে জলকাদায় পরিণত হয়। কোথাও গর্ত, কোথাও রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। গর্তে জমে থাকা পানি ও কাদা একসাথে মিলেমিশে সড়কটিকে অচল করে ফেলেছে।

এই পথ দিয়েই প্রতিদিন শত শত রোগী, তাদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীরা যাতায়াত করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটির করুণ দশা যেন কোনোভাবেই কাটছে না। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে সংস্কার কাজ হলেও সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প কিছুদিন পরই আবার আগের মতো অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় সহ্যের সীমার বাইরে।

রাস্তার পাশে ডাব বিক্রি করা শাহজাহান হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগে। গর্তে গাড়ি আটকে যায়, কেউ কেউ আবার হাঁটতেও পারে না।” অটোরিকশাচালক সোহরাব হোসেন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী উঠাতে গেলে কেউ যেতে চায় না। গাড়ি ঝাঁকুনিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় তো মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।”

যদিও এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়, কয়েক বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে কলাপাড়া পৌরসভা। পৌর প্রশাসন মাঝে মাঝে কিছু কাজ করলেও তা টেকসই হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, কেবল উপরিভাগে মাটি ফেললেই হবে না, প্রয়োজন পরিকল্পিত ও স্থায়ী মেরামত।

কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এ রকম জরুরি সড়কটি পড়ে আছে ভয়াবহ অবস্থায়। শহরের প্রবেশ মুখেই যদি এমন দুরবস্থা হয়, তাহলে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?

স্থানীয়রা অবিলম্বে সড়কটি আধুনিক পদ্ধতিতে টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবার আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম