তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু ৬৫ শতাংশ ভোটাররা ভোট দিয়েছেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জকসু নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জুলফিকার মাহমুদ জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। ।

ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনই ভোট গণনার কাজ শুরু করব। প্রথমে ব্যালট পেপার ম্যানুয়ালি স্ক্রিনিং করে দেখা হবে, ব্যালটে ক্রস চিহ্ন ছাড়া অন্য চিহ্ন আছে কি না। ক্রস ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন কোনো প্রার্থী নামের পাশে থাকলে, ওই পদের ভোটটি বাতিল হবে।’

আজ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন।

সব কেন্দ্রের ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে। ভোট গণনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা করা এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি দেখানো হবে।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ দেশ

বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে নিজ ঘরেই মিলল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর আয়েশা আক্তার (১১) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। নিজ বাড়ির রান্নাঘরের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় লুকিয়ে রাখা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে বাবুল প্যাদার বাড়ি থেকে আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে নিজ ঘরের মধ্যেই এমন নির্মম চিত্রের মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

নিহত আয়েশা মাঝনেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করলেও কোনো তথ্য মেলেনি। নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

রোববার দুপুরে বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে রাখা বড় একটি বস্তার প্রতি পরিবারের এক সদস্যের সন্দেহ হয়। বস্তাটি খুলে দেখতেই ভেতরে পাওয়া যায় নিথর আয়েশার মরদেহ। মুহূর্তেই কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শিশুটিকে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি একটি নির্মম ঘটনা। কীভাবে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটে অংশ নিতে গত ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার দায়িত্ব প্রাপ্ত আসিফ মাহমুদ সজীব ।

পরদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আদিলুর রহমান খানকে, যিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।

গত দুই সপ্তাহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল হয়। একসঙ্গে এতজন কর্মকর্তাকে বদলি করা নিয়ে জনপ্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু নতুন উপদেষ্টা এসেছেন, স্বাভাবিকভাবে তিনি তাঁর মতো করে মন্ত্রণালয় সাজাবেন, যেমনটা আসিফ মাহমুদ সাজিয়েছিলেন। প্রশাসনে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সময়ে যাঁদের নামে অভিযোগ ছিল, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বদলির প্রজ্ঞাপনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি করে অন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বর প্রথম এ মন্ত্রণালয় থেকে দুজন উপসচিব নুরে আলম ও মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে বদলি করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিলে তাৎক্ষণিক এ মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এ দুই কর্মকর্তা এরই মধ্যে পরিকল্পনা বিভাগে যোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে আসিফ মাহমুদের একান্ত সচিব (পিএস) আবুল হাসানকে (যুগ্ম সচিব) গত ২৪ ডিসেম্বর বদলি করা হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। এ সময়ে বদলি করা হয় যুগ্ম সচিব মো. নাজমুল হুদা শামীম, যুগ্ম সচিব ওয়াহেদুর রহমান, যুগ্ম সচিব আল-মামুন, যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব আল-আমিন সরকার, যুগ্ম সচিব ফজলে আজিম, উপসচিব আকবর হোসেন, উপসচিব ইবাদত হোসেন, উপসচিব শাহীনুর আলম ও উপসচিব রবিউল ইসলামকে।

এদিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন অতিরিক্ত সচিব আকনুর রহমান, যুগ্ম সচিব রোকসানা খান, যুগ্ম সচিব হোসনা আফরোজা, উপসচিব নজরুল ইসলাম ও উপসচিব আশরাফুল আফসার।

বদলির বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে দুটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন, তাঁদের সরানো হচ্ছে।

তবে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ মন্ত্রণালয়ে আরও অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁরা অনেক দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, তাঁদেরও বদলি করা হবে।




বছর জুড়ে ডেঙ্গুর তান্ডব,শতকোটি টাকা ব্যয়েও কমেনি মশার দাপট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: গেল বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই নগরবাসীকে ডেঙ্গুর আতঙ্ক আর মশার অসহনীয় যন্ত্রণাতেই দিন কাটাতে হয়েছে।কোটি কোটি টাকা ব্যয়, একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করেও মশার উৎপাত ঠেকাতে পারেনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি সমস্যা নয়। এটি সারা বছরের নগর সংকটে রূপ নিয়েছে। অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়ের অভাব এবং দায়সারা কার্যক্রম চলতে থাকলে চলতি বছরেও একইভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। কার্যকর পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের নজরদারি ও নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন।

সর্বপরি আমরা যদি আমাদের শহরকে নিজ উদ্দোগে পরিস্কার না রাখি তাহলে কোন কাযক্রম সফল হবে না

গত বছরের শুরুতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শত শত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। এ সময় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লার্ভা ধ্বংস ও মশার উৎসস্থল শনাক্তকরণ। কিন্তু সিটি করপোরেশনগুলো সেই জায়গায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপরিষ্কার ড্রাম, টব, ছাদ ও নির্মাণস্থলে জমে থাকা পানিই এডিস মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন একই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। অথচ বিকল্প ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

মশা নিয়ন্ত্রণে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মোট ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১১০ কোটি টাকা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। বিগত ১০ বছরের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। গত এক দশকে মশা মারতে দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি ৫৬০ কোটি এবং ডিএসসিসি ২৭০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

ডিএনসিসি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ১১.৯৫ কোটি), ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩.২৫ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ১৬.৮৫ কোটি), ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ১৭.৫০ কোটি), ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২১ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ১৭.৫০ কোটি), ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৯.৩০ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ৫৮ কোটি), ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭০ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ৫০.৫০ কোটি), ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৫ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ৫১.৫৩ কোটি), ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৬ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ৫২.৫০ কোটি), ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৪.৫০ কোটি টাকা (সংশোধিত বাজেট ৮৭.৫০ কোটি) এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়।

অন্যদিকে, ডিএসসিসি গত ১০ অর্থবছরে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা মশক নিধনে বরাদ্দ দেয়। যার মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১২.৫০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১.৫০ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫.৬০ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৬ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২.৭৫ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০.০২ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩১.০২ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৮.৮৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৪.৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মশা মারতে প্রতি বছর বাজেটে শত কোটি টাকা খরচ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মশার উৎপত্তিস্থল খুঁজতে আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় শহর জুড়ে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এডিস মশার প্রজননস্থল এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত টায়ার, কমোড ও অন্যান্য পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার উদ্যোগও নেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু সবকিছু ব্যর্থ করে দিয়ে স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল মশা।




জামায়াত আমির ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন,

বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন ভূমিকা রেখেছেন।

ইতিহাসে তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল।

জাতির জন্য অবদান রাখলে সবার জন্যই এমন সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে  জানতে চাওয়া হলে ,  জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেন।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে না মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের।

তবে আজ বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মাধ্যমিকে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ছয় কোটি বইয়ের কাজ এখনো বাকি।

তবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির সব বই পৌঁছে গেছে। তাদের সবাই বছরের প্রথম দিনই বই পাবে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও বছরের প্রথম দিন সব নতুন বই দেওয়ার রীতিতে ছেদ পড়ে। সব শিক্ষার্থীর বই পেতে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নালন্দা ছায়ানট স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে প্রায় ৯ কোটি এবং মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে প্রায় ২১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শতভাগ বই ছাপা শেষ হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে তা পৌঁছে গেছে। তবে মাধ্যমিকে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এখনো ছয় কোটি বইয়ের কাজ বাকি।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, এ বছর বইয়ের মানের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ নজর দিয়েছি। ফলে অনেক বই ছাপা হওয়ার পরও সেগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক প্রেসকে আমরা নতুন করে ভালো মানের কাগজ কিনতে বাধ্য করেছি। শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ভালো মানের বই পাবে শিক্ষার্থীরা। মান যাচাইয়ে কঠোর হওয়ার কারণেও বই ছাপার কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। নয়তো এত দিনে আরো বইয়ের কাজ শেষ হয়ে যেত।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ২ সেপ্টেম্বর, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ৪ সেপ্টেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তিপত্রের শেষ সময় ছিল ৪ ডিসেম্বর। তবে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এর আগেই চুক্তিপত্র শেষ করে। ফলে তারা এরই মধ্যে তাদের শতভাগ বই সরবরাহ করেছে। তবে সক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারে শেষ সময়ে চুক্তি করে। তারা এখনো তাদের সব বইয়ের কাজ শেষ করতে পারেনি।




খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন ৩২টি দেশের কূটনীতিকরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিক ,রাস্ট্রদুত ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা  যোগ দেন।

জানাজায় অংশ নেয়া  কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ অন্তত ৩২ জন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি।

এছাড়া রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রিড রেংলিও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

নেদারল্যান্ডস, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, ইতালি, সুইডেন, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো, ইরান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, কাতার, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সিমোন লসন পার্চমেন্টও জানাজায় অংশ নেন।