চলমান অস্থিরতায় পদত্যাগের ইঙ্গিত ড. ইউনূসের, আলোচনায় মিললো সংকটের বার্তা

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাহিদ। পরে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস নিজের দায়িত্ব পালনে সংকটে পড়েছেন বলে মনে করছেন।

নাহিদ বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে এই অবস্থায় থাকা অর্থহীন।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব তাকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে ফেলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি ড. ইউনূসকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। “আমি বলেছি, দেশের ভবিষ্যৎ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে আপনি শক্ত থাকুন। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলুন।”

তিনি আরও বলেন, “স্যার বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা না দেয়, তাহলে তিনি কেন থাকবেন? তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন।”

এদিকে, বিএনপি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের—পদত্যাগ দাবি করে। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানেরও অব্যাহতি চায় দলটি।

বিএনপির এ দাবির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির এক শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে ‘বিএনপির মুখপাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে তাদেরও পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে।

এদিকে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অতীতে বিভাজনমূলক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার এমন মনোভাব দেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।




দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ড. ইউনূসকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান নিজে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর জামায়াত আমির মত দেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার উচিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা।




ভারত থেকে বাংলাদেশি ফেরত পাঠাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে দিল্লি

ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে জাতীয়তা যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে ২ হাজার ৩৬০ জন ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে, যাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় তারা। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ২০২০ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জসওয়াল আরও বলেন, “শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো নাগরিককে আইন অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ বিদেশিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। গত মাসে গুজরাটে এক হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তপথে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সহায়তায় শুধু গত কয়েক সপ্তাহেই প্রায় ৩০০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন। বিশেষ করে ৭ থেকে ৯ মে-র মধ্যে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।




গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটে সেনানিবাসে আশ্রয়: কারা কারা ছিলেন তালিকায়

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হামলা, অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।

এই অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আইএসপিআরের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী তখন আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় প্রদান করে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি এবং ৫১ জন পরিবারের সদস্য (স্ত্রী-সন্তান) রয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী ১-২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তবে, তাদের মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনানিবাসে আশ্রয়গ্রহণকারীদের বিষয়ে তথ্য জানায় এবং ওই সময় ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংস্থাটি বলেছে, মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আইএসপিআর আরও একবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক দল, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। হাইকোর্টের আদেশ শোনার পর দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টে একটি “ভুয়া রিট” করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলন স্থগিতের পেছনে জনদুর্ভোগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ইশরাক। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাধারণ জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আন্দোলন শুরু করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করেছে এমন কর্মসূচি নিতে।”

তবে ইশরাক স্পষ্ট করে দেন, সরকারে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধির পদত্যাগ দাবি থেকে বিএনপি সরে আসছে না। তিনি বলেন, “তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে অটুট। আদালতের রায় ও শপথ আলাদা বিষয়। দাবি এখনও বহাল রয়েছে।”

ইশরাক আরও বলেন, সরকার যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে শুক্রবার সকালে আবারও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন সফল করতে তৃণমূলের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থিত একটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল আইনি ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “আপনার আশপাশে থাকা কুলাঙ্গারদের চিহ্নিত করে অপসারণ করুন, এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল থেকে কাকরাইলে অবস্থান নিয়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে তার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের, যারা নির্বাচিত সরকারের দাবি ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে সরব ছিলেন।




বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক এমপি শম্ভুকে

বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও বিস্ফোরণের মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ মে) বরগুনার আদালত এই আদেশ দেন।

সেদিন শম্ভুকে আদালতে হাজির করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কেউ ডিম নিক্ষেপ করেন, আবার কেউ স্লোগানে মুখর করে তোলেন চত্বর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে। এতে জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের ১৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়।

আদালতে শম্ভুর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে বরগুনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




টেকসই উন্নয়নে দরকার প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্প্রীতি: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রকৃত টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। পরিবেশবান্ধবতার নাম করে ‘সবুজ প্রলেপ’ দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাজের হবে না।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘হারমনি উইথ নেচার অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) প্রতিবেদন যদি সাধারণ মানুষের ভাষায় প্রকাশ না করা হয় বা জনগণের সঙ্গে শেয়ার না করা হয়, তাহলে সেটার কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। জনগণের মতামত শুধু শোনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াটাই আসল কাজ।”

রিজওয়ানা হাসান বলেন, পরিবেশবিদদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দূরত্ব বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। প্রকল্প অনুমোদনের সময় পরিবেশের দিকগুলো উপেক্ষা করা হয়—এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। পরিবেশকে ‘পরে ভাবার বিষয়’ ভাবলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি জানান, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সব EIA প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আনে। জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করতে হবে। “অভিযোগের জবাব দান কোনো দয়া নয়, এটা আমাদের দায়িত্ব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া প্রকৃত পরিবেশ রক্ষা সম্ভব না,” বলেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, “পরিবেশ বিষয়টি কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সব সংস্থার সমন্বিত দায়িত্ব হওয়া উচিত। প্রশাসনিক সমন্বয় ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ অসম্ভব।”

তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বায়ু, নদী এবং জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে। প্রকৃতিকে উন্নয়নের কেন্দ্রে না রাখলে আমরা টেকসই অগ্রগতি অর্জন করতে পারব না।”

এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ইউএনডিপি প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, বিশিষ্ট বন্যপ্রাণি জীববিজ্ঞানী ড. মো. আলী রেজা খান, এবং অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. সোহরাব আলী।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঐক্যের বার্তা দিলেন মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ব্যক্তির আবেগ, আদর্শ বা সম্মানের চেয়েও দেশের গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে ঐক্য এখন সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যেকোনো বিভাজনমূলক বক্তব্য বা শব্দচয়ন অতীতে আমার কাছ থেকে হয়ে থাকলে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশ এবং এর সার্বভৌমত্ব রক্ষা।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারে আমার দায়িত্ব শেষ পর্যায়ে। এই সময়ে আমি চাই—সব ধরনের অভ্যুত্থানপন্থী শক্তিকে সম্মান ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে কাজ করতে। পুরনো বিভেদকামী শ্লোগান কিংবা নেতিবাচক তকমাবাজি পরিহার করতে হবে। এগুলো সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে।”

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শত্রুরা এখন আগ্রাসী ও সংগঠিত। তারা আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাই যারা জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন—তাদের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষা ধৈর্য, ঐক্য ও দূরদর্শিতার।”

মাহফুজ আলমের এই স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাঁর বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“পুশ-ইন ইস্যুতে দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে ঢাকা”

নভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বন্ধে দেশটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এভাবে পুশ-ইন করাটা সঠিক নয়—এমন বার্তা দিল্লিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দিল্লির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন নিয়ম বহির্ভূত কিছু না ঘটে।”

তৌহিদ হোসেন আরও জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে।

ভারতীয় ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের পুশব্যাক বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা সাধারণত পুশব্যাক করি না। তবে যাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে।”

এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনেক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। সেগুলোর কিছু দুই পক্ষের সম্মতিতে, আবার কিছু নির্দিষ্ট শর্তে বাতিল করা যায়। তবে এই মুহূর্তে আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবকিছু নিয়ম মেনেই এগিয়ে নেওয়া।”

ভারত সরকার কি নিয়ম লঙ্ঘন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিয়মকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেউ সরাসরি স্বীকার করে না যে সে নিয়ম ভাঙছে। আমাদেরকেই সবদিক বিবেচনায় রেখে এগোতে হয়।”

এদিকে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্যে আমদানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, “বাণিজ্য উপদেষ্টা বিষয়টি দেখছেন এবং আমরা বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে টেকআপ করছি। ইতোমধ্যে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এমপি ও সিনেটরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “চিঠিটি এখনো আমার নজরে আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে অনেক কিছু আসে—আমরা বিষয়টি পরে দেখব।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শতাধিক চুক্তি রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখনো কোনো চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেইনি। তবে প্রতিটি চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা করছি এবং সময়মতো সেগুলো ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।”