ভুয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান আইএসপিআরের

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর লোগো ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছড়ানোর ঘটনায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা সশস্ত্র বাহিনীর নাম ও লোগো অপব্যবহার করে মনগড়া বার্তা তৈরি করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “ভুয়া ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। দেশবাসীকে অনুরোধ করছি—এসব গুজবে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না। সত্যতা যাচাই করুন, সচেতন থাকুন।”

আইএসপিআর আরও জানান, এ ধরনের তথ্য প্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জনগণকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




জুলাইযোদ্ধা মো. হাসানের মৃত্যু, মরদেহ আসছে শনিবার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া মোহাম্মদ হাসান (২৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাইল্যান্ডে মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে দেশটির একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত সহকারী ডা. মাহমুদুল হাসান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসানের মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

হাসানের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে, যেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ পাঠানো হবে নিজ জেলা চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় গত বছরের ৫ আগস্ট ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে মোহাম্মদ হাসান পুলিশের গুলিতে মাথায় আহত হন। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়, সেখানে তিনি দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

গত ১০ এপ্রিল হাসানকে লাইফসাপোর্ট থেকে সরিয়ে সাধারণ শয্যায় স্থানান্তর করা হলেও ২৫ এপ্রিল অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পুনরায় লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

মোহাম্মদ হাসান ছিলেন একজন হাফেজ, যিনি হিফজ শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। একাদশ শ্রেণির ছাত্র হাসান সামাজিক অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, যে কারণে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, “হাসান ভাই একটু আগে মারা গেছেন। তিনি আহত হওয়ার পর থেকে কলি আপু তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত ছিলেন। কলি আপু বলছিলেন, তার অবস্থা ভালো নয়। ভাবছিলাম দেশে এলে দেখা করব। কী বলব এখন!”


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




ড. ইউনূসকে পদত্যাগ না করার আহ্বান এবি পার্টির

দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগ না করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, “বর্তমানে জাতির মধ্যে যে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে তার অন্যতম কারণ হলো দায়িত্বশীল মহলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। ড. ইউনূসের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।”

মঞ্জু আরও বলেন, “বিগত কয়েক মাস ধরে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেনাপ্রধানের কথিত বক্তব্য, ছয় উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি, যমুনা অবরোধসহ নানা আন্দোলনের ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।”

এবি পার্টি মনে করে, এসব পরিস্থিতি সমাধানে পদত্যাগ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করাই একমাত্র যুক্তিযুক্ত ও দায়িত্বশীল পন্থা।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টার একপাক্ষিক তৎপরতায় জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি অহেতুক বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সেনাপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু এটি কোনো সরকারি সূত্র থেকে নয়, তাই বিভ্রান্তি বাড়ছে। সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে যদি ভিন্নমত থাকে, তবে তা সঠিক উপায়ে জনসমক্ষে পরিষ্কার করা জরুরি।”

এবি পার্টি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দ্রুত সংলাপের আয়োজন করা এবং জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো। জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন কেউ বিভ্রান্তি তৈরি না করে সে বিষয়েও সকল পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মঞ্জু।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হেলাল উদ্দিন ও দিদারুল আলম, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, সেলিম খান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, গাজী নাসির প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নারী কমিশন বাতিলসহ হেফাজতের ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তরে শুক্রবার (২৩ মে) জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন এবং বিক্ষোভ শেষে একটি মিছিল বের করার ঘোষণা দেন।

হেফাজতের চার দফা দাবি হলো:

  1. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল
  2. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং জুলাইয়ের অন্যান্য ঘটনার গণহত্যার বিচার
  3. হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার
  4. ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “নারী সংস্কার কমিশন ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাই এটিকে বাতিল করতে হবে। আমরা দেশের যুব সমাজকে আহ্বান জানাই, নৈতিকতা ও ইসলামী চেতনাকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হোন।”

এদিকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ নামের আরেকটি সংগঠনও একই দিনে কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও আরাকানের স্বাধীনতার দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী দলগুলো আবারও রাস্তায় সক্রিয় হচ্ছে এবং নানা সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধ

বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ২০২৫-২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবার রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্নতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে আছেন:

  • জহির উদ্দিন স্বপন – সাবেক এমপি, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
  • অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল – জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংগঠক
  • আকন কুদ্দুসুর রহমান – জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক
  • ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান – সাবেক নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা

এদের অধিকাংশই মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় পেরিয়ে এখন মানুষের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করবো।”

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রার্থী হওয়া মেহেদী হাসান রাসেল আবার মনোনয়ন পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

বরিশাল-১ আসনের প্রায় তিন লাখ ভোটারের মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ এবার মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এক তরুণ ভোটার মো. হাসান বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে ভয়হীনভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করা যাবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরলে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




চলাচলের পথ বন্ধ করে খাম্বা বসানোর প্রতিবাদে বাউফলে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া বন্দরের নূরবাগ এলাকায় ১৩টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে বৈদ্যুতিক খাম্বা বসানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সিনেমা হল রোডের নূরবাগ এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা গত ৩০ বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ করে আমাদের চলাচলের পথটি বন্ধ করে খাম্বা বসানোর চেষ্টা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আমরা গৃহবন্দি হয়ে যাব। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে না, শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারবে না।”

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় তারা পথটি সচল রাখতে জমির বাজার মূল্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূল্য পরিশোধ করতেও প্রস্তুত। তবে কোনো আলোচনা ছাড়াই এভাবে চলাচলের পথ বন্ধ করা অমানবিক।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চয়েত বলেন, “এভাবে মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান চাই। ইউএনও মহোদয়ের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা সম্ভব।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জমির মালিক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “আমার জমিতে খাম্বা বসানো হচ্ছে। এতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। যারা বাধা দিচ্ছেন, তারা বেআইনি কাজ করছেন।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে সরকারি জমি দখলে সোহেল দেওয়ানের কারাদণ্ড ও জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি পুনরায় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মোঃ সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, কলাপাড়ার নতুন বাজারের সিকদার বুটিকস্ হাউজের সামনে যে সরকারি খাস জায়গাটি আগেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই স্থানটি আবারো দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেন মোঃ সোহেল দেওয়ান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযানে নামে প্রশাসন।

ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই দিনের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল, তবে তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডটি মওকুফ করা হয়।

উল্লেখ্য, সোহেল দেওয়ান কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে প্রশাসন। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক।

এদিকে, প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, সরকারি জায়গা রক্ষায় এ ধরনের কঠোর আইন প্রয়োগে জনসচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি দখলদারদের দৌরাত্ম্যও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে রাখাইনদের গুরুদক্ষিণা উৎসব

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘গুরুদক্ষিণা উৎসব’ উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলতলী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মীয় আয়োজন শুরু হয়।

উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই কলাপাড়া ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার রাখাইন উপাসক-উপাসিকারা বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা গুরু ভক্তি ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং দিনের সূচনা করেন প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে।

এরপর আয়োজনে অংশ নেন পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সবচেয়ে প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় সঙ্গরাজ, ভান্তে উইকুইনন্দা মহাথের মহোদয়। তাকে গুরুদক্ষিণা প্রদান করে রাখাইনরা তার কাছ থেকে আর্শীবাদ গ্রহণ করেন। এ সময় পেছনের সব ভুল ও দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একে অপরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা, যা রাখাইন সমাজে আত্মশুদ্ধি ও সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে ছিল আহার প্রদানের আয়োজন, ধর্মীয় আলোচনা, ভিক্ষুদের দান প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মত নানা আয়োজনে মুখর ছিল পুরো বিহার এলাকা। রাখাইন নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেয় এই মহোৎসবে, যা ছিল এক চমৎকার মনোজ্ঞ দৃশ্য।

রাখাইন সমাজের নেতারা জানান, বর্ষাবাস শুরু হওয়ার আগেই প্রতিবছর এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি তারা বিপুল শ্রদ্ধা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন। এটি রাখাইন সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়রা মনে করেন, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পালন করা সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মার্কিন সেনা নিয়ে যা জানা গেলো

মার্কিন সেনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন সেনাদের কিছু ছবি ছড়িয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রশিক্ষণের জন্য মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের একটি দল বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানহারুল ইসলাম বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে।” মার্কিন সেনারা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানান তিনি।

এবার কক্সবাজারে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত।

আজ ভারতের গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কক্সবাজারে মার্কিন সেনা উপস্থিত। এই আবহে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা রাখাইনের মানবিক করিডোর নিয়ে জোর জল্পনা চলছে বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান ঠিক কী? এই নিয়ে গতকাল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। আর জবাবে রণধীর সংক্ষিপ্ত জবাব দেন, “সব ঘটনার ওপরেই তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয় এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




মৃতপ্রায় কচ্ছপখালী খাল, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কচ্ছপখালী স্লুইস গেট থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি বর্তমানে কার্যত মৃতপ্রায় এক জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। বহু বছর ধরে খনন না হওয়া, অবৈধ দখল, বাঁধ, পুকুর ও ঘের গড়ে ওঠা এবং জরাজীর্ণ ব্রিজ-কালভার্টের কারণে খালটির প্রাকৃতিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। অথচ এই খালটি একসময় কৃষি সেচ, মাছ চাষ এবং বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

বর্তমানে খালের দুই পাশে জমে থাকা কাদা এবং আবর্জনায় তা ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি খালের জমিতে পুকুর ও ঘের তৈরি করে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার খালের ভেতরে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, যা পানির স্বাভাবিক গতিকে পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে। বছরের পর বছর সরকারি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় খালটি হারিয়েছে তার নাব্যতা ও পরিবেশগত গুরুত্ব।

খালের উপর নির্মিত আয়রন ব্রিজ ও কালভার্টগুলো ভেঙে পড়লেও আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি। কিছু স্থানে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, ফলে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। খালে এখন শুধু দুর্গন্ধযুক্ত স্থির পানি, কাদা আর আগাছা—যা একে মৃত জলাশয়ে পরিণত করেছে।

এই অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার কৃষকেরা। সেচের পানি না থাকায় অনেক জমি অনাবাদি পড়ে আছে। যেসব কৃষক পাম্প দিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করেন, তাদেরকে অনেক খরচ বহন করতে হয়, তাও প্রয়োজন মতো পানি মেলে না। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বহু বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম দুর্ভোগে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক জামাল হোসেন বলেন, “এই খালটাই এক সময় আমাদের ফসলের প্রাণ ছিল। এখন পানি চাইলে পাম্প দিয়ে অনেক খরচ করে আনতে হয়, তাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আর বর্ষায় তো বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে যায়।”
আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, “খালের পাশে যারা বসতি গড়েছে, তারা প্রতিবছর বৃষ্টির সময় আতঙ্কে থাকেন। পানি জমে ঘর ভাসে। খাল খনন না হলে মুক্তি নেই।”

এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, অবিলম্বে খালটির পূর্ণাঙ্গ খনন শুরু করতে হবে। খালের দুই পাশে যেসব অবৈধ বাঁধ, পুকুর ও ঘের রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা জরুরি। একইসঙ্গে ধসে পড়া ব্রিজ ও কালভার্ট পুনঃনির্মাণ করে খালের পানিপ্রবাহ এবং এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে সচল করতে হবে।

তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যাতে করে এই খালকে কেন্দ্র করে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে আবারও সুস্থতা ফিরে আসে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম