বরগুনার খেয়াঘাটে হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীদের ক্ষোভ

বরগুনার ১৪টি খেয়াঘাটে হঠাৎ করে ভাড়া ২৫ শতাংশ বাড়ানোয় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রতিদিন খাকদোন, পায়রা ও বিষখালী নদী পাড়ি দিতে হাজার হাজার যাত্রীকে খেয়া ব্যবহার করতে হয়। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় যাত্রা এখন তাদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা পরিষদের অধীনে নতুন ইজারার আওতায় ২০ টাকার খেয়া ভাড়া বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে আগামী তিন বছর। অথচ জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমলেও ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে হতবাক সাধারণ মানুষ।
যাত্রীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ:
রাব্বি নামের এক যাত্রী বলেন, “মাত্র ১০ মিনিট লাগে নদী পার হতে, অথচ দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা। এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক। আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।”
পুরাকাটা খেয়াঘাটের যাত্রী রিপন বলেন, “আগে যে খেয়া ১০ টাকায় পার হত, এখন সেটা ২৫ টাকা! এইভাবে তো আমাদের কষ্ট আরও বাড়ছে।”
ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন ঘাটে যাত্রীরা মানববন্ধন করেন এবং বরগুনা প্রেসক্লাবের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেন।
জেলা পরিষদ জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম রয়েছে। সর্বশেষ ইজারার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতার সঙ্গে সমন্বয় করে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “নিয়ম মেনেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে খেয়াঘাটের উন্নয়ন করা হবে, যার সুবিধা ভবিষ্যতে যাত্রীরা পাবেন।”
তবে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, “খেয়া ঘাটে ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। আমরা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে ভাড়া কমানোর অনুরোধ জানাবো।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /









