বরগুনার খেয়াঘাটে হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীদের ক্ষোভ

বরগুনার ১৪টি খেয়াঘাটে হঠাৎ করে ভাড়া ২৫ শতাংশ বাড়ানোয় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রতিদিন খাকদোন, পায়রা ও বিষখালী নদী পাড়ি দিতে হাজার হাজার যাত্রীকে খেয়া ব্যবহার করতে হয়। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ায় যাত্রা এখন তাদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা পরিষদের অধীনে নতুন ইজারার আওতায় ২০ টাকার খেয়া ভাড়া বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে আগামী তিন বছর। অথচ জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমলেও ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে হতবাক সাধারণ মানুষ।

যাত্রীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ:

রাব্বি নামের এক যাত্রী বলেন, “মাত্র ১০ মিনিট লাগে নদী পার হতে, অথচ দিতে হচ্ছে ২৫ টাকা। এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক। আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।”

পুরাকাটা খেয়াঘাটের যাত্রী রিপন বলেন, “আগে যে খেয়া ১০ টাকায় পার হত, এখন সেটা ২৫ টাকা! এইভাবে তো আমাদের কষ্ট আরও বাড়ছে।”

ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন ঘাটে যাত্রীরা মানববন্ধন করেন এবং বরগুনা প্রেসক্লাবের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেন।

জেলা পরিষদ জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম রয়েছে। সর্বশেষ ইজারার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতার সঙ্গে সমন্বয় করে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “নিয়ম মেনেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি আয়ের টাকা দিয়ে খেয়াঘাটের উন্নয়ন করা হবে, যার সুবিধা ভবিষ্যতে যাত্রীরা পাবেন।”

তবে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, “খেয়া ঘাটে ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। আমরা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে ভাড়া কমানোর অনুরোধ জানাবো।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালের প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড: ফি বাড়লেও বাড়েনি সুবিধা

বরিশাল শহরের বান্দ রোডে অবস্থিত ‘প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড’ শিশুপার্কে বাড়ানো হয়েছে প্রবেশ ও রাইডের ফি, তবে বাড়েনি সেবার মান কিংবা রাইডের সংখ্যা—এমন অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীরা। একইসঙ্গে, কর্মচারীরাও দুর্ব্যবহার, অস্বচ্ছ নিয়োগ ও ন্যায্য বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

২০০১ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের জমিতে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন প্রতিষ্ঠা করেন প্ল্যানেট ওয়ার্ল্ড। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন তাঁর স্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ। বর্তমানে পার্কটির পরিচালনায় রয়েছেন সালাউদ্দিন কবির ও মহসীনা শহীদ নীলা।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে পার্কটির নতুন পরিচালনার অধীনে প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা এবং প্রতিটি রাইডের ফি ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দর্শনার্থীদের মতে, কোনো নতুন রাইড সংযোজন বা সেবার মানোন্নয়ন হয়নি।

দর্শনার্থী আসমা আক্তার বলেন, “রাইডের দাম বাড়লেও সুবিধা নেই। তবুও বাচ্চাদের নিয়ে আসতেই হয়।”

অন্যদিকে, পার্কের পরিচালক নীলা দাবি করেন, “রাইড বাড়ানো হয়েছে,” যদিও এই দাবি দর্শনার্থীরা মেনে নিচ্ছেন না।

পার্কে কর্মরত ৩৬ জন কর্মচারীর নেই কোনো নিয়োগপত্র, নেই নির্ধারিত ছুটি কিংবা নির্ভরযোগ্য ওভারটাইম সুবিধা। বেতনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। কর্মচারীরা জানান, সর্বনিম্ন বেতন ৬ হাজার টাকা, আর ওভারটাইম প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫০ টাকা।

এক কর্মচারীর ভাষায়, “আমাদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ছাঁটাই করা হয় কথায় কথায়। অথচ নতুন দু’জন নারীকে নিয়োগপত্রসহ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের বেতন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।”

পরিচালক সালাউদ্দিন কবিরের বিরুদ্ধে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির অভিযোগও তুলেছেন কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁর পিস্তলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

ম্যানেজার সোহরাব আলী দাবি করেছেন, “বেতন বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। নিয়োগপত্রের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।”

তবে পরিচালক কবির একাধিক অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ওরা পার্টটাইম কর্মী, তাই নিয়োগপত্রের দরকার নেই। সবকিছুর খরচ বেড়েছে, তাই ফিও বাড়ানো হয়েছে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “পার্কের দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত এবং কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে আমরা যথাযথ তদন্ত করব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

শনিবার (২৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি দাবিগুলোর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সম্প্রতি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকারকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এতে মানসিক চাপে পড়ে সে আত্মহত্যা করে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যমান কম্বাইন্ড পরীক্ষাপদ্ধতির চাপে ধ্রুবজিৎ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তারা বলেন, ২০১৬ সালের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রযুক্তি ইউনিটের আওতাভুক্ত সকল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে চালু হওয়া কম্বাইন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এতে মানসম্মত শিক্ষা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির অন্যতম হচ্ছে—স্বতন্ত্র পরীক্ষাপদ্ধতি, মানসম্মত শিক্ষা, একাডেমিক স্বকীয়তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।

প্রতীকী প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী সীমান্ত, শাওন মাহমুদ, শাওলী ঘোষ, শুভ ও ফাহিম ভূঁইয়া প্রমুখ। তারা বলেন, “আমরা চাই একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষা পদ্ধতি এবং গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে আমরা বাধ্য হব।”

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে মার্চ ফর ইউনূস

ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবিতে শাহবাগে 'মার্চ ফর ইউনূস'

ঢাকার শাহবাগে ‘মার্চ ফর ইউনূস’ নামে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজকরা ‘আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন’ স্লোগান তুলে ধরেছেন।

আজ শনিবার (২৪ মে) বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে সমবেত হয়েছেন, যেখানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের ছবি রয়েছে ।

বিক্ষোভের মূল দাবি হলো, ড. ইউনূসকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখা এবং নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করা। বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের আগে সংস্কার জরুরি ।

ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তার সমর্থকরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা তাকে পদত্যাগ করতে দেবেন না ।

বিক্ষোভের ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




ঈদ হাট মাতাবে রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির হাটে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত পটুয়াখালীর কলাপাড়ার তুলাতলির বিখ্যাত ৩১৩ ডেইরি ফার্মের তিন রাজপুত্রসদৃশ গরু—রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক। এই তিনটি গরু শুধু আকার-আকৃতি বা ওজনেই নয়, নামেও হাটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গরুগুলোর মালিক মুফতি হাবিবুর রহমান মেসবাহ জানান, গরুগুলো তার খুব আদরের পোষা প্রাণী। নিজ হাতে লালন-পালন করে গরুগুলোর শারীরিক গঠন এমন রাজকীয় রূপ নিয়েছে যে, হাটে উঠার আগেই ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে। এদের মধ্যে রাঙ্গা দুদুর বয়স প্রায় ৩ বছর এবং ওজন ২০ মণ, যার জন্য তিনি দাম হাঁকিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। একই বয়সের কালা পাহাড়ের গায়ে একটু বেশি মাংস থাকায় এর দামও রাখা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। আর বয়সে ছোট হলেও রাজা মানিকের ওজন প্রায় ১৫ মণ, যার দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। তিনটি গরুর সম্মিলিত মূল্য ৪৩ লাখ টাকা।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—কেউ যদি তিনটি গরুই একসঙ্গে কিনে নেন, তাহলে তাকে ফ্রিতে ওমরা হজ করিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেসবাহ। তার ভাষায়, “ক্রেতার প্রতি ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই তিনটি গরু আমার পরিবারের অংশ, তাদের জন্য যা করিনি, এমন কিছু নেই।”

৩১৩ ডেইরি ফার্মের অধিকাংশ ষাঁড় শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের বলে জানান তিনি। এগুলো বিশেষ পরিচর্যা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গরুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে অত্যন্ত যত্ন সহকারে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে যাতে কোনো রোগবালাই ছাড়াই সুস্থ গরু ক্রেতারা কিনতে পারেন।

প্রতিটি ঈদেই হাটে নজর কাড়ে কিছু বিশেষ গরু, আর এবার পটুয়াখালী হাটের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে রাঙ্গা দুদু, কালা পাহাড় ও রাজা মানিক। এদের দাম, গঠন ও মালিকের ঘোষণাই যেন এই ঈদে কোরবানির হাটকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ড. ইউনূসের পদত্যাগ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সালাউদ্দিন আহমেদ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়টি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। বিএনপি তার পদত্যাগ দাবি করেনি বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।

শুক্রবার (২৩ মে) এক বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন,“ড. ইউনূস যদি পদত্যাগ করতে চান, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিএনপি কখনও তার পদত্যাগ দাবি করেনি। আমরা কেবলমাত্র চাই, তিনি নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করুন এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।”

তিনি আরও বলেন,“নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার সময় এখনই। যদি তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে রাষ্ট্র অবশ্যই বিকল্প খুঁজে নেবে। কারণ এই পৃথিবীতে কেউই অপরিহার্য নয়।”

সালাউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেন,“তিনি একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জাতিকে উপহার দেবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে যে অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিসেম্বর-জুনের মধ্যেই নির্বাচন, একদিনও পিছনোর সুযোগ নেই: রিজওয়ানা হাসান

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর বাইরে একদিনও এগিয়ে বা পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শুক্রবার (২৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান,“শুধু নির্বাচন নয়, আমাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। কিন্তু বাস্তবে আমরা সব দায়িত্ব পালন করতে পারছি না, কারণ দেশের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত জটিল হচ্ছে।”

রিজওয়ানা হাসান অভিযোগ করে বলেন,“আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের দাবি আদায়ের নামে রাস্তা আটকে দিচ্ছে। ফলে যান চলাচল অচল হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।”

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি আরও বলেন,“প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে। এর একদিনও এদিক-সেদিক হওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। তাই এই বিষয়ে অনর্থক আলোচনা করার অবকাশ নেই।”

তিনি এও যোগ করেন,“আমরা যদি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি, তবে দায়িত্বে থাকা যৌক্তিক। কিন্তু সেটা যদি না পারি, তাহলে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়াই ভালো।”

বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠের বাস্তবতায় তার প্রতিফলন এখনও স্পষ্ট নয় বলেও অনেকেই মনে করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশে আবার ‘এক-এগারো’র ছক আঁকা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ব্যাহত করে দেশে আবার একটি ‘এক-এগারো’ পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাহিদ লেখেন,“বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম পথে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশকে বারবার বিভাজনের চেষ্টা করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করা হয়েছে। এবার আবার এক-এগারোর বন্দোবস্তের পাঁয়তারা চলছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন,“আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকেই বিদেশী প্রভাব, বিশেষ করে দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে—যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর থেমে যায়।”

নাহিদ ইসলাম দেশপ্রেমিক, সংস্কারপন্থী ও ধর্মপ্রাণ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন,“ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেনাবাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,“অধ্যাপক ইউনূসকে সংস্কার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাজনৈতিক দায়িত্ব নিতে হবে। আগামী নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই সনদ রচিত হতে হবে এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একসাথে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। নির্ধারিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হার্ভার্ডের মামলা

বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি করা হয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে), মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, এখন থেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না। পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার না করলে তাদের ভিসা বৈধতা বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ মে) বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় হার্ভার্ড।

হার্ভার্ড তার অভিযোগে বলে,“আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছাড়া হার্ভার্ড, হার্ভার্ড নয়।”

মামলায় দাবি করা হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর এক-চতুর্থাংশকে কার্যত বাদ দেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্তে।

হার্ভার্ড আরও জানায়, তারা শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানাবে।

গত ১৬ এপ্রিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং তাদের পাঠক্রম সংক্রান্ত বিস্তারিত চায়। এই তথ্য না দিলে ভর্তি নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে “বেআইনি ও বৈষম্যমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করে হার্ভার্ড জানায়, এটি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং বৈশ্বিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


 




ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE)-এর সঙ্গে করা ২১ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

শুক্রবার (২৩ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এই খবর প্রকাশ করে জানায়, বাতিল হওয়া চুক্তিটি ছিল ৮০০ টন ওজনের সমুদ্রগামী টাগবোট নির্মাণ সংক্রান্ত, যা ২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটি ভারতের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ঋণ প্রকল্পের অধীনে প্রথম বড় অর্ডার ছিল।

সম্প্রতি GRSE এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ-কে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি বাতিল করেছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলতি মে মাসে নয়াদিল্লি বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি স্থলবন্দরে বাংলাদেশি ভোগ্যপণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারত থেকে সুতা রপ্তানি বন্ধ করেছে এবং ভারতও তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুনভাবে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তি বাতিল তারই এক বহিঃপ্রকাশ।


📌
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /