প্রধান উপদেষ্টা ও জামায়াত আমিরের আলোচিত বিষয়

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শনিবার (২৪ মে) বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে বৈঠকে দুটি বিষয় স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় জানানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়, “নির্বাচনটি এমন সময় হওয়া দরকার যাতে জনগণের বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি না হয়। আবার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তবে, সব সংস্কার এ সরকারের পক্ষে শেষ করাও সম্ভব নয়।”

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে জামায়াত কি কোনো সময়সীমা দিয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কোনো সময় দিইনি, তবে দুইটি সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করেছি। যদি সংস্কার দ্রুত শেষ হয়, তাহলে নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হতে পারে। আর সময় বেশি লাগলে রোজার পরপরই নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে এটিকে দীর্ঘায়িত করা হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না।”

বৈঠকে জামায়াতের দাবির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি আমাদের বক্তব্য গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমরা মনে করি, তিনি আমাদের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।”

সাংবাদিকরা বিএনপির দাবিকৃত তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াতের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “পদত্যাগ চেয়েছে বিএনপি, আর ফতোয়া দেবে জামায়াতে ইসলামী—এটা কি মানায়? যাদের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে, তারাই ব্যাখ্যা করবে। আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।”

বৈঠকে জামায়াতকে সরকারের ডাকার প্রসঙ্গেও ডা. শফিক বলেন, “আমাদের উপস্থিতি বিএনপির মতো না। আমরা নিজেরাই সময় চেয়েছিলাম। আমন্ত্রণ পেয়েছি ঠিকই, তবে আমরাই প্রথমে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের দলের কর্মসূচির কারণে নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পিছিয়ে রাত ৮টায় বৈঠক হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অবস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি বলেছেন, দেশ আমাদের সবার। আমি এমন একটি অর্থবহ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেটি সবাই গ্রহণ করতে পারে। আমি যেনতেন নির্বাচন দিতে চাই না।”

এই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী সুষ্ঠু নির্বাচন, সময়োপযোগী সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।




ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে বিএনপির আলোচনা

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (২৪ মে) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ এলেও বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু আগেই জানানো হয়নি। তবে বিএনপি অনুমানভিত্তিক একটি লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করে তা বৈঠকে উপস্থাপন করে এবং মূলত সেটিকে কেন্দ্র করেই আলোচনা এগোয়।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি উল্লেখ করে, গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। তারা অভিযোগ করে, গত সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—রাজনৈতিক ও পারিবারিক উভয়ভাবেই। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিচার দাবি করে বিএনপি জানায়, ভবিষ্যতে যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তবে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সেসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানায়। তারা মনে করে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস তারা পাননি। তাদের দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলেও উপদেষ্টা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নে বিএনপি জানায়, এ বিষয়ে মন্তব্য করার আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেলের বক্তব্যের অপেক্ষা করবেন তারা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, আলোচনা চলাকালে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। বিএনপি মনে করে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে বিচার বা নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তারা আশা করে, বর্তমান সরকার জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সময়োপযোগী সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করবে, যা ভবিষ্যৎ সরকারও বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সমানভাবে নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।




প্রধান উপদেষ্টার সাথে এনসিপির আলোচনা

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৪ মে) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতারা। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সরকার থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, ৩০ দিনের মধ্যে “জুলাই ঘোষণাপত্র” জারি করা হবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন এই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়, সে দাবি তারা জানিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা উভয় পক্ষ থেকেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে” আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া খুব ধীরগতিতে চলছে। নির্ধারিত সঞ্চয়পত্র এখনও অনেক শহীদ পরিবার পাননি এবং মাসিক ভাতা কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে, নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়ে দেন, ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, তারা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, বরং গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য এবং পদত্যাগ দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে এনসিপি মনে করে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের পদত্যাগের সম্ভাবনার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি চায় তিনি দায়িত্বে থেকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে কাজ করুন। তিনি কোনো দলের প্রতিনিধি নন বরং জনগণ ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার আহ্বানে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই দৃষ্টিভঙ্গি যেন বিবেচনায় থাকে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কেন সরকার এনসিপিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, মূলত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের জন্যই এ বৈঠক। তিনি জানান, ড. ইউনূস বৈঠকে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একটি নতুন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে কিছু পক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে, যা তার কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ইউনূস যেন রাজনৈতিক চাপ নয়, বরং জনগণ ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন।




ভোলা-পটুয়াখালী রুটে ফেরি চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ

ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চালুর সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার আবেদনের পর এবার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ইতোপূর্বে একটি অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রুট সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মতামত চাওয়া হয়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি ত্রি-বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সরেজমিনে ঘুরে রুটটির সম্ভাব্যতা যাচাই করবে এবং প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত পাঠাবে। এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী ঘোষেরহাট-হাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চালুর দাবি জানিয়ে আসছে।

অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তার আবেদনে জানান, ঘোষেরহাট এলাকা ভোলা সদর কিংবা বরিশাল শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানকার সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ইলিশসহ মৎস্য সম্পদ সরবরাহে তীব্র সমস্যা দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, দূরত্ব এবং যাতায়াতের জটিলতার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক মানুষ। পরিবহন ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, জেলে ও সাধারণ যাত্রীরা। ফেরি চালু হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে এবং দুই জেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, ঘোষেরহাট ও হাজিরহাট রুটটি চালু হলে শুধু ভোলা-পটুয়াখালী নয়, বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার সাথেও সরাসরি সংযোগ স্থাপন সহজ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ফেরি চালুর প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

অবশেষে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এলাকাবাসী আশায় বুক বেঁধেছে। তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার এই নৌপথে ফেরি চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন: “এখনো কোনো আশ্বাস পাইনি আর কোনো স্পষ্টতাও দেখছি না”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্টতা দেখতে পাচ্ছি না। উপদেষ্টা পরিষদের কোনো আশ্বাসও পাইনি। শনিবার (২৪ মে) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

নির্বাচন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা বিরক্ত স্বরে সালাহউদ্দিন বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে এমন কোনো কথা হয়নি। আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। হয়তো তারা তাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবে। আমরা সেটির অপেক্ষায় থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “এখন প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় নয়। আগে তারা সংবাদ সম্মেলনে কী বলেন, তা দেখা দরকার। এরপরই আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।”

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধকারী ব্যক্তিদের অপসারণের দাবিতে তারা লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছেন। “নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টার কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে— আমরা আগে যেমন জানিয়েছিলাম, এবারও তা লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।”

এই দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি মিলেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, মূলত তিনটি বিষয়—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “সংস্কারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং উনারাও একমত হয়েছেন যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ কাজ শেষ করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “বিচারব্যবস্থা আদালতের বিষয় এবং বিচারের আওতায় আনা নিয়েও কোনো দ্বিমত দেখা যায়নি। এমনকি ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন আয়োজন সম্ভব—এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।”

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, “আমরা বলেছি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশে চলমান নৈরাজ্য, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অনিশ্চয়তা দূর হবে। একটি ঘোষণাই দেশে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।




দলে ফিরলেন লিজা, সামলাবেন সাংগঠনিক দায়িত্বও

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নারী মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজাকে পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন।

শনিবার (২৪ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ১৭ মে একটি আদেশে ফাতেমা খানম লিজাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মাদক সেবন ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সে সময় সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে মুখপাত্র পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সংগঠনটি আবারও তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে সাংগঠনিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করেছে।




“জুলাই সনদ ও পুরনো নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নে সরকারের প্রতি নাহিদের আহ্বান”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত সকল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, ওই সময়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভোট হয়েছে রাতে, ডামি প্রার্থীদের মাধ্যমে। এসব নির্বাচন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শনিবার (২৪ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, তিনি যেন সব দায়িত্ব শেষ করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনও অনেক পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি এবং মাসিক ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়নি। দ্রুত এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও জানান, সরকারকে বলা হয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার প্রক্রিয়া, গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের একটি সমন্বিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। জুলাই মাসের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ আসতে পারে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জুলাইয়ের মধ্যে যেসব নির্বাচন হবে, সেগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে।




সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

শনিবার (২৪ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে এক অনির্ধারিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। শের-ই-বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করছে। তবে সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, তা দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব—নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এতে আরও বলা হয়, কোনো ধরনের অযৌক্তিক দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বা এখতিয়ার বহির্ভূত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।

উপদেষ্টা পরিষদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অগ্রসর করা এবং স্বৈরাচারকে রুখে দেওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনবে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

পরিশেষে, উপদেষ্টা পরিষদ জানায়, শত বাধা সত্ত্বেও গোষ্ঠীস্বার্থ উপেক্ষা করে সরকার তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি বিদেশি চক্রান্ত ও পরাজিত শক্তির ইন্ধনে সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলতে থাকে, তবে সরকার জনসমক্ষে সব কারণ তুলে ধরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।




নির্বাচনের সময় ও সংস্কারে স্পষ্টতা চায় জামায়াত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দুটি বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছি। প্রথমত, নির্বাচন কবে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। আপনার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে যেন বড় কোনো জনদুর্ভোগ না হয়, সেই বিবেচনায় একটি স্বস্তিদায়ক সময় নির্ধারণ করা দরকার।”

দ্বিতীয় বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে কিছু দৃশ্যমান সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসা প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। যদিও সব সংস্কার এখনই সম্ভব নয়, তবে অন্তত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।”

এসময় উপদেষ্টাদের পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।”

জামায়াতের এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




নির্বাচনী রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি বিএনপির

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির  নেতারা। শনিবার (২২ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-এর সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনার বিষয়বস্তু পূর্বে নির্ধারিত না থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দলটি একটি লিখিত প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং সেটি উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে—বিশেষ করে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই দাবি তোলা হয়।

বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি। তিনি জানান, বিচার অসম্পূর্ণ থাকলে, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। মোশাররফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন বিলম্ব হলে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাগমন ঘটতে পারে, যার দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।

বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বরং শুরু থেকেই দলটি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা জানান, আলোচনা হয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না মিললেও তারা অপেক্ষা করবেন সরকারের প্রতিক্রিয়ার জন্য।

আলোচনার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সরকার সংস্কারে ঐক্যমত তৈরি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া হবে বিচার বিভাগের মাধ্যমেই এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া সালাহউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ কয়েকজনের অপসারণের দাবি লিখিতভাবে ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।

বৈঠকের ফলাফলে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন জানান, দলের প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন।