ড. ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক শুরু

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এক উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে অংশ নিয়েছেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, এবি পার্টির মহাসচিব মুজিবর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

এছাড়া প্রথম দফার আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়কারী টিপু বিশ্বাস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফায় অংশ নেবেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে রয়েছেন—হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার এবং ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।

এ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 ভোলা-পটুয়াখালী রুটে ফেরি চালুর সম্ভাবনা, আশার আলো দেখছেন উপকূলবাসী

দক্ষিণ বঙ্গের উপকূলীয় দুই জেলা—ভোলা ও পটুয়াখালীর মধ্যে ফেরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে নেয়া এ পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট পর্যন্ত নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এই রুটে ফেরি চালুর দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি ইস্যু করা এক অফিসিয়াল চিঠিতে বিআইডব্লিউটিএ রুটটি সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় এবং ত্রি-বিভাগীয় একটি কমিটির মতামত চায়। এই কমিটিতে থাকবেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীরা। পরিদর্শনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তার আবেদনে উল্লেখ করেন, চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট এলাকাটি জেলা সদর ও বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে দূরবর্তী ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানকার মানুষের যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য, ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পরিবহন, চিকিৎসা বা শিক্ষা—সবক্ষেত্রেই সময় ও অর্থ ব্যয় বেড়ে যায় বহুগুণ।

তিনি আরও বলেন, “ফেরি চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবায় উপকূলের মানুষ আরও সহজে উপকৃত হতে পারবে।” এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তারা ফেরি সার্ভিসটি দ্রুত চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা এবং দ্রুত অগ্রগতি আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন চায় এবি পার্টি: মঞ্জু

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া জরুরি।

রবিবার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

মঞ্জু জানান, “আমরা বলেছি, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যথাসম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। তবে সেটা চাপিয়ে দিয়ে নয়, প্রধান উপদেষ্টা যেন সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করেন।”

ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেনজি, মাদ্রাসা ও পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল, তা ধরে রাখা যায়নি। বরং কিছু উপদেষ্টার কারণে ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে চারটি পক্ষ—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি।”

তিনি জানান, “আমরা উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছি। ইগো বা অহংকার আমাদের এই অবস্থায় এনে দিয়েছে।”

পদত্যাগ নয়, দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, “আপনার, আমার, আমাদের সবার পরাজয়ের সুযোগ নেই। সফল হতেই হবে। আপনি এখন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নির্বাচন ও সংস্কার সব অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই আপনাকে দায়িত্বে থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হলে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হতাশ, তবুও আমরা বলেছি হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান।”


এস. এল. টি. তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় জনগণ: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনগণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে পাবে।

রোববার (২৫ মে) বিকেলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কারে আমরা আন্দোলনরত দলগুলো অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করি, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হবে।”

বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।” তারেক রহমান মনে করেন, জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকারই এ ধরনের পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকলেও এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, না হলে তা কখনোই কার্যকর বা টেকসই হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ নিতে পারে যদি আমরা গড়িমসি করি। তাই গণতন্ত্রকামী জনগণের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নামছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “যদিও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে, তবে জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সময়ের দাবি।”

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাহদী আমিন, বিএলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাসানী জনশক্তির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 




ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র শঙ্কা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে ভরসাহীন উপকূলবাসী

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে—এমন পূর্বাভাসে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন বরগুনার উপকূলীয় জনসাধারণ। জেলার বহু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে রক্ষাহীন অবস্থায় রয়েছে, যা ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ আগামী ২৮ মে দুপুর নাগাদ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ইতোমধ্যে বরগুনায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় নিচু অঞ্চল ২ থেকে ২.৭ মিটার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে বড় বিপদের সম্ভাবনা :

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে নলটোনা, পালের বালিয়াতলী, কালমেঘা, রামনা ও কালিকাবাড়ী এলাকাগুলোর বাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। টেকসই ও পরিকল্পিত বাঁধ না থাকায় প্রতিবছরই এসব এলাকাতে নদীভাঙন এবং প্লাবনের শিকার হন সাধারণ মানুষ।

বিষখালী নদীর তীরবর্তী হরিণঘাটা ও জিনতলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর পানি ফুলে উঠেছে, স্থানীয়রা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন।

পাউবোর তথ্যে আরও উঠে এসেছে, জেলায় প্রায় ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১০টি পয়েন্টকে অতিমাত্রায় বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং আরও ৫০টি স্থানে মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এক পাউবো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পাইনি।”

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরগুনা জেলা শাখার কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, “ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র বিষয়ে এখন পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় কোনো ধরনের সংকেত দেওয়া হয়নি।” তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 দেশের স্বার্থে কাজ করুন, ব্যক্তির নয়: নবীন নাবিকদের প্রতি উপদেষ্টার আহ্বান

নবীন নাবিকদের দেশের জন্য নিষ্ঠাভরে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “আপনারা দেশের জন্য কাজ করবেন, কোনো ব্যক্তির জন্য নয়।”

রবিবার সকালে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এ-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, “বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের আদর্শ অনুসরণ করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে। আপনারাই ভবিষ্যতে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলবেন।”

এদিন ৪৬৩ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে। প্রধান অতিথি শাখাওয়াত হোসেন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব অর্জনকারী নাবিকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন নাবিকদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “এই তরুণ নাবিকরাই ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




এক পায়ে সংগ্রাম, ‘মামা জিলাপি’র গল্প

ভিক্ষা নয়—শ্রমই তার জীবনের মূলমন্ত্র। পা হারালেও থেমে থাকেননি বরিশালের হানিফ আকন। পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আজ ‘মামা জিলাপি’ নামে পরিচিত তিনি। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এই ৫০ বছর বয়সী মানুষটি এখন জিলাপি বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন।

২০১৯ সালে মাছ ধরতে গিয়ে পায়ে মাছের কাঁটা ঢুকে সংক্রমণের কারণে হানিফকে হারাতে হয় তার একটি পা। এরপর শুরু হয় দুর্দশা। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, সংসারে নেমে আসে অভাব। কিন্তু হানিফ ভিক্ষার পথ না বেছে নেন আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত।

সহায়তায় বদলে গেল জীবন :

হানিফের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘ইভেন্ট ৮৪’ নামক একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন। বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এবং ‘ইভেন্ট ৮৪’ এর অ্যাডমিন সাজ্জাদ পারভেজ তার পাশে দাঁড়ান। সংগঠনটির সহায়তায় হানিফ পান একটি ছোট দোকান, জিলাপি তৈরির সরঞ্জাম এবং পরবর্তীতে আইসিডিএ’র সহায়তায় দোকানে ব্যাটারি ও লাইট।

দোকানে দাঁড়িয়ে হানিফ প্রতিদিন নিজ হাতে তৈরি করেন সুস্বাদু জিলাপি। তার তৈরি জিলাপি খেতে স্থানীয়দের ভিড় লেগেই থাকে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে হানিফের সংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিজে গিয়ে তার দোকানে যান। পরে বরিশাল শিশু পরিবার (বালিকা দক্ষিণ) অফিসে হানিফ নিজে ভ্যানে করে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ডিসি নিজ হাতে জিলাপি তৈরি করে তাকে উৎসাহ দেন এবং শিশু পরিবারের সকল শিশুর জন্য জিলাপির ব্যবস্থাও করেন।

জেলা প্রশাসক হানিফের ঘরের জন্য টিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার জীবন সংগ্রামে বড় একটি সহায়তা হিসেবে যুক্ত হলো।

সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতায় ভেঙে পড়লেও হানিফ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সম্ভব সবকিছু। তিনি শুধু জিলাপি বিক্রি করছেন না—তিনি অনুপ্রেরণার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন বরিশালের মানুষের কাছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত আমি” চিরকুট লিখে মেডিক্যাল ছাত্রের আত্মহত্যা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব বাড়ৈ (২৩) অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে একটি চিরকুটে লিখে গেছেন—“নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত আমি। একটু বিশ্রাম চাই। ক্ষমা করে দিও। এত ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারলাম না।”

শনিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সজীব। পরদিন রোববার (২৫ মে) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের পারিবারিক শ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সজীব বাড়ৈ ছিলেন বাকাল গ্রামের বাসিন্দা, দুরারোগ্য ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত সুধীর বাড়ৈর ছেলে। তার বাবা একসময় আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরে “সাথী টেইলার্স”-এর মালিক ছিলেন, তবে অসুস্থতার কারণে বহুদিন ধরে কর্মক্ষম নন। সজীব ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতায় তিনি তার মেডিক্যাল পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সজীবের রুমমেট সুমন হালদার জানান, সজীব দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনার চাপ ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫০তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং তৃতীয় বর্ষে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে আটকে ছিলেন। তার সহপাঠীরা ইতোমধ্যে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপে গেলেও সজীব পিছিয়ে পড়েন, যা তাকে আরও ভেঙে দেয়।

গত ২২ মে দিবাগত রাতে সজীব নিজ শরীরে ক্লোনাজিপাম ও ফ্লুক্সেটিন গুঁড়া করে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করেন। সহপাঠীরা তা বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ফয়জুল বাশার বলেন, “সজীব মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি সম্পন্ন

কোরবানির পর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব ধরনের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২৫ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট, কাঁচা চামড়ার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিবারই আমরা দেখি অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবার আমরা চাচ্ছি, যারা চামড়া পায় তারা যেন ন্যায্য মূল্য পায়। এটি গরিবের হক—যারা এতিমখানা, মাদ্রাসা কিংবা দুঃস্থদের কাছে চামড়া দেয়, তাদের প্রাপ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

তিনি আরও জানান, চামড়া বিক্রিতে আদায় করা হাসিলের হার কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাংশ হাসিল বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা করেছি যেন এটি কমিয়ে ৩ শতাংশের মধ্যে আনা যায়। যদিও এবার সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

এ বছর রাজধানীর দুই পাশে মোট ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি হাটে চিকিৎসকের ব্যবস্থা থাকবে যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়। সেই সঙ্গে হাটে আগত মানুষ অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোরবানি সাধারণত তিনদিন চলে, তবে প্রথম দিনেই ৯০ শতাংশ কোরবানি সম্পন্ন হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি যেন বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়। তারা আশ্বস্ত করেছে—১২ ঘণ্টার মধ্যেই সব বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।




ইশরাক হোসেনের শপথ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

রোববার (২৫ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দাখিল করেন ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে গত ২২ মে ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর জন্য দায়ের করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন। আদালত বলেন, ওই রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ইশরাকের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার যদি এখন শপথ পড়াতে গড়িমসি করে, তবে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার দ্রুত শপথের ব্যবস্থা করবে।

এর আগে গত ১৪ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন, যাতে ইশরাকের শপথ ঠেকানো এবং তাকে মেয়র ঘোষণা করা বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়। ওই রিটে মামুনুর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আকবর আলী।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম সেই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেয় এবং ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে।

বর্তমানে ইশরাকের সমর্থকরা তাকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।