“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব শেষ করেই বিদায় নিবে”, জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করে বিদায় নিতে হবে। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব কথা জানান।

সাকি জানান, বৈঠকে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গণতান্ত্রিক সংস্কারে যেতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারেরই।”

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছেন। “তাঁর ওপর যত চাপই থাকুক না কেন, ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।”

রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। এই দূরত্ব দূর করতে পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে।”

বৈঠকে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাকি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারপ্রক্রিয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যেহেতু ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়েছে, তাই এই সময়ের মধ্যে সকল আলোচনা ও ঐক্যকে একটি জাতীয় সনদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সাকি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগও সহজ হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করলে নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাকি বলেন, “এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কোনো একক পক্ষ যদি এর কৃতিত্ব দাবি করে, তবে সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”

বিএনপির তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ ইস্যুতে সাকি বলেন, “তিনজন উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। বাকি দু’জনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে তাদেরও সরে যাওয়া উচিত।”

গণসংহতি আন্দোলনের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনই মুখ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন পরে হলেও কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন সাকি।




দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান নুরুল হক নুরের

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনপূর্ব পটভূমি থেকে আসা এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

নুর বলেন, “যেসব উপদেষ্টার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের সরিয়ে দিলে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।”

তিনি আরও জানান, সরকার প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ওপর একটি মহল প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন।”

করিডর ইস্যুতে সরকারের প্রতি অবস্থান স্পষ্ট করে নুর জানান, “বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।”

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে নুর বলেন, “সরকার ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করলেও, এর মধ্যে রোজা, ঈদ, ইজতেমার মতো বড় বড় আয়োজন রয়েছে। তাই আমরা বলেছি, একটি নির্দিষ্ট মাস ঘোষণা করা হোক যাতে জনগণ প্রস্তুতি নিতে পারে।”

সরকার গঠনের সময় দেওয়া সমর্থনের বিষয়ে নুর বলেন, “নয় মাস আগে আমরা যে সমর্থন দিয়েছিলাম, এখন আর তা নেই।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে সহযোগিতা করবে, তবে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্টতা ও সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।




“আমি যতদিন আছি দেশের কোনো ক্ষতি হবে না “,ড. ইউনুস

জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তার উপস্থিতিতে দেশের কোনো অনিষ্ট হবে না। রোববার (২৫ মে) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, “আমি যতদিন আছি, দেশের অনিষ্ট হবে এমন কোনো কাজ হবে না, নিশ্চিন্ত থাকুন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন একটি বড় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রয়েছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা প্রচেষ্টা চলছে। এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মহা সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, “অভ্যুত্থানের কারণে আমরা একটি মহা সুযোগ পেয়েছি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে-বিদেশে আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাতে আমরা অগ্রসর হতে না পারি, সবকিছু ভেঙে পড়ে এবং জাতি আবার পরাধীনতার পথে ফিরে যায়।”

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, “সবাই একসঙ্গে বসায় সাহস পেয়েছি। যদি আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারি, আমি নিজেকে অপরাধী মনে করব।”

প্রসঙ্গত, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন নিরসনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ।




ড. ইউনুস ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০ জন নেতার সাক্ষাৎ ও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতারা ড. ইউনুসের নেতৃত্বে চলছে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. ইউনুস জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ জুনের পর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। এই ঘোষণা সব রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“ড. ইউনুসের নেতৃত্বেই ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে”,তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন যে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ শিগগিরই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দেখতে পাবে।

রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর রমনায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনপিপি’র সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ও সময় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। বিএনপির দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে যারা এসব সংস্কারের দাবিতে রাজপথে ছিলেন, তারা সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

আলোচনা সভায় বাজেট প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে হবে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতি ও এনবিআরের হঠাৎ সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার কারণে অর্থনীতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন জনগণ বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে নামলেও সেসব শোনার কেউ নেই।”

তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তুলে ধরে বলেন, “ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কার অপরিহার্য।”

তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকারই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। তিনি সতর্ক করেন, জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত না হলে যে কোনো সরকারই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে পারে। তাই নাগরিকদের উচিত সরকারের প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার ধারা অব্যাহত রাখা।

তিনি বলেন, “সরকার জনগণের করুণার পাত্র নয়, বরং জনগণের কথাই শোনার বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। এখানে সরকারের ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগের কোনো স্থান নেই।”

তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হয়তো নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতার সংকট নেই, কিন্তু জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। তাই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা জরুরি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে বা জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর বা টেকসই হতে পারে না।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর বৈঠক: নির্বাচন নিয়ে আশ্বাস, সংস্কারে উদ্বেগ

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ড. ইউনুস আশ্বাস দিয়েছেন—২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না, এর আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (২৫ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি সবাই সহযোগিতা করে, তবে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জাতিকে একটি গন্তব্যে পৌঁছে দায়িত্ব শেষ করবেন।”

তিনি আরও জানান, ইসলামী দলগুলোর পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে:

১. সংস্কার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দূর:
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেখা যায়নি। তাই তারা অনুরোধ করেছেন, সংস্কারগুলো যেন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।

২. অতীতের ঘটনার বিচার:
শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, অচিরেই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

৩. নারী সংস্কার কমিশন নিয়ে উদ্বেগ:
ইসলামী আইন ও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো পদক্ষেপ যেন না নেওয়া হয়, সেই দাবিও তুলেছেন নেতারা। তাদের মতে, জনমতের বিপরীতে কোনো আইন বাস্তবায়ন করা উচিত নয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেন, “আমরা আপনাকে জনগণের স্বার্থে এনেছি। আপনি যদি হাল ছেড়ে দেন, তবে আমরাও পরাজিত হবো। আমাদের কথা শুনে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন তিনি পথ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।”

জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “আমরা তাকে বলেছি, অনেক আশা নিয়ে জনগণ আপনাকে মঞ্চে বসিয়েছে। আপনিই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ দেখাতে পারেন।”

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, “আমরা একসাথে থাকলে স্বৈরতন্ত্র কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, তা যেন ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়।”

নেতারা আরও জানান, আগামী নির্বাচন যাতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সবশেষে ইসলামী নেতারা জাতিকে বিভ্রান্ত না করে নির্দিষ্ট নির্বাচনের সময় ঘোষণা, রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং ইসলামবিরোধী কোনো আইন যেন পাশ না হয়—সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা সম্ভব: নুরুল হক নুর

ছাত্র আন্দোলন থেকে আগত বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত উপদেষ্টারা যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর

রোববার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

নুর বলেন, “একটি মহল সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। আমরা উপদেষ্টাকে বলেছি, তিনি যেন সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের আস্থা নিয়ে কাজ করেন।”
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন।

নুর বলেন, “সরকার ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু সেটি অত্যন্ত অস্পষ্ট। রোজা, ঈদ, ইজতেমার মতো সময় এলে সমস্যার সৃষ্টি হবে। আমরা চাই, একটি নির্দিষ্ট মাস ঘোষণা করা হোক—যে মাসে নির্বাচন হবে।”

নুর জানান, উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা না এলেও প্রধান উপদেষ্টা স্বীকার করেছেন, বর্তমানে উপদেষ্টাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অনেক নতুন উপদেষ্টা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

নুর স্পষ্ট করে বলেন, “নয় মাস আগে সরকার গঠনের সময় আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আর সেই সমর্থন নেই। তাই আমরা দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছি। নতুন কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনার সময় এখন নয়।”

 




প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরে সম্ভাব্য ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ও ৫টি চুক্তি

সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ২৭ মে (মঙ্গলবার) জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এ সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সফরের সমন্বয় করছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সফরসূচি অনুযায়ী, ড. ইউনূস ২৯ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা
  • অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ
  • জ্বালানি খাতে সমঝোতা
  • বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগ

এ সফরে জাপান থেকে আরও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ (বিগ-বি) ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, এবং নতুন কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সফরকালে ড. ইউনূস জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাইকা এবং জেট্রো-র প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একইসঙ্গে তিনি একটি বিজনেস সেমিনারে অংশ নেবেন এবং সেখানে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।

  1. সম্প্রতি টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) ঋণ বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জাপানও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিইচি জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।




 এক মাস কেটে গেল, চাল পাননি ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

ভোলার সাগরগামী জেলেরা সরকারের ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে তীরে ফিরে এসেছেন অনেক আগেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার এক মাস পার হলেও এখনো তারা পাননি প্রণোদনার চাল। এতে করে জেলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৫ এপ্রিল, চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এই সময়টিতে জেলেদের দুই ধাপে ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কেউ একটি কেজিও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোলার দৌলতখানের সাগরগামী জেলে ফারুক মাঝি বলেন,“আমাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেগুলো দেওয়া হয় অন্যদের। প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছি।”

জেলে শহীদ মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সরকার বলছে অভিযান চলাকালীন চাল দেবে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেল, এখনো পাইনি। এনজিওর কিস্তির চাপ বাড়ছে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে আছি।”

একই রকম অভিযোগ কাশেম মাঝিরও:“সাগরে না যাইতে পারি, নদীতেও মাছ নাই। কিস্তির চাপ, ধারদেনায় জীবন অচল হয়ে গেছে। অনেকেই চুরি করে সাগরে যায় মাছ ধরতে। এভাবে চললে আমরাও বাধ্য হবো।”

অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান

জেলেদের দাবি, বহু প্রকৃত জেলে এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। আর তালিকায় না থাকলে বরাদ্দের চালও মিলছে না। তারা আরও বলেন, প্রণোদনার চাল ছাড়াও এই সময় এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ বা স্থগিত রাখা উচিত। নয়তো তারা চরম সংকটে পড়ে থাকবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান,“এবারই প্রথম প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল রেখে অভিযান ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনে কমানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত চাল বিতরণ শুরু হবে।”

বর্তমানে সরকারি হিসাবে ভোলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। যদিও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত সাগরগামী জেলের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। চাল বিতরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি করে মোট ৮৬ কেজি চাল পাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিজনের।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 এনবিআরের দাবিতে সরকারের সম্মতি, আন্দোলন স্থগিতের পথে কর্মকর্তারা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এতে করে আন্দোলন স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

রবিবার (২৫ মে) বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং দাবির অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তারা। এজন্য আপাতত আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এর আগে একই দিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদ জানায়, সোমবার (২৬ মে) থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও জরুরি পণ্য পরিবহন ব্যতীত কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

কর্মসূচি ঘোষণার সময় তারা চারটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করেন:

  1. অবিলম্বে জারি করা বিতর্কিত অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
  2. এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে।
  3. রাজস্ব সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সুপারিশ প্রকাশ করতে হবে।
  4. খসড়া সংস্কার প্রস্তাবনায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক রাজস্ব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সমস্যা ও বঞ্চনার প্রেক্ষিতে তারা যেসব দাবি তুলেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে এবং কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /