চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়।

ঘোষণার আগে একই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এতে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার, গৌরনদীতে দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকান বন্ধ রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাত্রলীগ সমর্থিত শামীম হাওলাদারকে আটক করতে পুলিশ বাজারে অভিযান চালায়। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবা ৭০ বছর বয়সী শাজাহান হাওলাদার খোকনকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া শাজাহান হাওলাদার খোকন সাদ্দাম বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি চার্চ অব বাংলাদেশ সাধু ফিলিপ গির্জার নৈশপ্রহরী হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

সাদ্দাম বাজারের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। শুধু তার ছেলে ছাত্রলীগ সমর্থিত—এই কারণে পুলিশ তাকে খুঁজতে এসে বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের জানামতে, তার কিংবা তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

তিনি আরও জানান, শাজাহান হাওলাদার খোকন বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের শাহেব আলী হাওলাদারের ছেলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তারা দোকান বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিখ হাসান রাসেল বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকনকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিষয়টির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুর্ভোগে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ

বিগত সরকারের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে বৈঠাকাটা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে এই ভয়াবহ অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির অধিকাংশ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ। নাজিরপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার বৈঠাকাটায় যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী, ভাঙছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল প্রশস্তকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে এই সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করে নেন।

বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয়-সাত বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। পাকা রাস্তা এখন গ্রামের মেঠোপথের মতো। কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়ায় পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ আজ অসহায়।”

অটোরিকশা চালক তরিকুল শেখ বলেন, “এই ১৭ কিলোমিটার পথ আগে আধা ঘণ্টায় পার হওয়া যেত। এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, রোগী পরিবহনে কেউ আসতে চায় না।”

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও, কাজ না করেই কীভাবে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলো—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং যেগুলো তদন্তাধীন, সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বানারীপাড়ায় অস্ত্রসহ আ.লীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন তারিকুল ইসলাম। তিনি সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ঘর তল্লাশি করতে চাইলে তারিকুল ইসলাম নিজেই আলমারি থেকে একটি অবৈধ পাইপগান, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি দেশীয় ধারালো ছেনা ও একটি রামদা বের করে দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মরক্ষার জন্য এসব অস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও সংরক্ষণের অভিযোগে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গাছবোঝাই ঠেলাগাড়িসহ আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে, দুই গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছবোঝাই একটি ঠেলাগাড়িসহ পুরোনো আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন যুবক আহত হয়েছেন এবং দুই গ্রামের মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামে, চুন্নু সরদারের বাড়ির সামনের আয়রন ব্রিজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ দিয়ে বড় গাছ বোঝাই একটি ঠেলাগাড়ি পার হওয়ার সময় হঠাৎ ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ে যায়। এতে গাছসহ ঠেলাগাড়িটি নিচের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ব্রিজ পার হচ্ছিলেন আরিফ নামের এক যুবক, তিনি আহত হন।

এই দুর্ঘটনার পর থেকে কটকস্থলসহ আশপাশের দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. চুন্নু সরদার বলেন, ‘ব্রিজটি অনেক পুরোনো ও দুর্বল ছিল। আগেই গাছ ক্রেতা মাসুদ সরদারকে এই ব্রিজ দিয়ে ভারী গাছ পরিবহন না করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধ অমান্য করেই গাছ পরিবহনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, নচেৎ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৪৮৯ উপজেলায় মোতায়েন থাকবে বিজিবি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দুয়ারে কড়া নাড়ছে  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশে নির্বাচনের আমেজ ।  আর এই নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতেই বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা মোতায়েনের আওতার বাইরে থাকবে।

বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সারাদেশে ইতোমধ্যে মোট ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণের চার দিন আগে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হবে এবং তা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে মোট প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৮ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য, ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

নির্বাচনকালে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও কোস্ট গার্ডও সহায়তা প্রদান করবে।

 




ভিপি পদে এগিয়ে রিয়াজুল, জিএস পদে আলীম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মধ্যরাতে পুনরায় ভোট গননা শুরু করে  আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে নির্বাচন কমিশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে চারটি বিভাগের (কেন্দ্র) ফলাফল ঘোষণা করছে।

ঘোষিত চার বিভাগের ফলাফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে এগিয়ে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৪২৮ ভোট।

চার বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব। তিনি পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৪১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা। তিনি পেয়েছেন ২০৬ ভোট।

সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৪০৮ ভোট। একই পদে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৩২২ ভোট।

নির্বাচন কমিশন জানায়, অন্য বিভাগগুলোর ফলাফল গণনা চলছে। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।




ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে বিটিআরসির নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে,  মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সেবা নিয়ে সবাইকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এতে বলা হয়, এনইআইআরসংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র বিটিআরসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।

বিভ্রান্তিকর কোনো লিংকের মাধ্যমে এনইআইআর সেবা গ্রহণে কোনো রকম ফি প্রদান করবেন না। বিনামূল্যে এনইআইআর সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম।

এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।




সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডুবোচর ও নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

ঘন কুয়াশা, ডুবোচর ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–বরিশাল নৌরুট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে অন্তত ২২টিতে পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ নৌপথজুড়ে সংকেতবাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কারের অভাব। ফলে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চালাতে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন চালকরা, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমেই ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীতে একাধিক লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।

একই রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে নোঙর করা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে লঞ্চটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওইদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেও একই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী এম খান-৭ঈগল-৪ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়, যদিও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে কুয়াশাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে। সেদিন ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জনের মৃত্যু এবং ৩১ জন নিখোঁজ হন। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি তীরে ভেড়াতে না পেরে মাঝনদীতে ভাসছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

লঞ্চযাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদ–এর আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, রাতের বেলায় নদীপথে চলাচলের জন্য বাঁক, চর ও ডুবোচর এলাকায় বয়া, সংকেতবাতি ও মার্কার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবহেলিত। নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, শীত এলেই নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশা এই নৌপথকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে ডুবে থাকা বা অর্ধডুবন্ত বাল্কহেড বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কুয়াশার মধ্যে বয়া ও বিকন বাতির অভাবে নৌযান প্রায়ই চরে আটকে যাচ্ছে।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, বাউফল, হিজলা ও মুলাদীসহ বহু নৌপথে বর্তমানে তীব্র নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও তাতে সংকেতবাতি জ্বলে না।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর রাতে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চটি মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এমভি অথৈ-১ লঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে ডুবোচরে আটকে ছিল।

ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, শীতকালে পানি কমা স্বাভাবিক হলেও এবার শীত শুরুর আগেই পানি নেমে গেছে। আগে নভেম্বর মাসে লঞ্চ ডুবোচরে আটকাত, এবার অক্টোবর থেকেই সেই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

নাব্য সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেরি চলাচলেও। বরিশালের মীরগঞ্জ–মুলাদী ফেরি রুটে নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নবনীতা বিশ্বাস জানান, হিজলা এলাকায় নাব্য সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। হাইড্রোলজি বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ) আব্দুস সালাম বলেন, চাঁদপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রয়োজনীয় স্থানে বয়া, মার্কার ও সংকেতবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫