গণহত্যার বিচারে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার এখন শুধু দাবি নয়, এটি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার—বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (২৬ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এ বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তদন্তকারী অফিস ও প্রসিকিউশন ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষ করে একটি মামলার ফরমাল চার্জ গঠন করে তা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, “ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান আসামি শেখ হাসিনার মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে অচিরেই।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালেই এই মামলার রায় পাব আমরা। গণহত্যার বিচার আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




‘কেএনএফ-এর ৩০ হাজার ইউনিফর্ম’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে সেনাবাহিনী

পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর জন্য ৩০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সোমবার (২৬ মে) সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা।

তিনি জানান, একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণে কেএনএফ-এর পোশাক তৈরি হয়েছে বলে যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটি ভিত্তিহীন নয়। “আমরা সংবাদটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খতিয়ে দেখতে শুরু করেছি। এই পোশাক আসলে কার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেটি এখন যাচাই করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা আরও বলেন, “কেএনএফ মূলত বম জাতিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে গঠিত একটি সশস্ত্র সংগঠন। কিন্তু বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। সে প্রেক্ষাপটে ৩০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরির বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক বিষয় এবং আমরা তা খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি।”

তিনি জানান, কেএনএফ-এর আক্রমণে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানিও ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পক্ষ বা সংযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই আমাদের সীমান্ত কম্প্রোমাইজ করিনি, করবও না। যতদিন শক্তি থাকবে, আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যাব।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরও বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে এবং সম্পূরকভাবে কাজ করছে। করিডর ইস্যু, সীমান্ত সুরক্ষা বা নিরাপত্তা—সবক্ষেত্রে আমরা একযোগে দায়িত্ব পালন করছি। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন যে, সরকার ও সেনাবাহিনী আলাদা অবস্থানে আছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক হাবিবুর রহমান এই আদেশ দেন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সদ্য স্থগিতকৃত যুগ্ম সদস্য সচিব মারজুক আব্দুল্লাহ বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়, যা আদালত মঞ্জুর করে তাকে দৃশ্যমান গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষ আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা খারিজ করেন। একইসঙ্গে কারাগারে ডিভিশনের বিষয়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিবেচনা করে জেল সুপার যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে রাতে রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৭ মে তাকে ভাটারা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে সেখানেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

জেবুন্নেছা আফরোজ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। তার স্বামী শওকত হোসেন হিরণ ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। ২০১৪ সালে হিরণের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জেবুন্নেছা এমপি নির্বাচিত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালের হাটে রাজা-বাদশার রাজত্ব

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বরিশালের কোরবানির হাটে সবার নজর কাড়ছে দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়—‘রাজা’ ও ‘বাদশা’।
বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার এমইপি এগ্রো ফার্মে আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা এই দুটি ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় হয়ে উঠেছে কোরবানির মৌসুমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

 রাজা-বাদশার ওজন ও দাম

  • রাজা: ওজন প্রায় ৭৫০ কেজি, দাম হাঁকা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা
  • বাদশা: ওজন প্রায় ৭০০ কেজি, দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা

ফার্ম মালিক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “রাজা ও বাদশা আমার সন্তানের মতো। দুই বছর ধরে লালন-পালন করছি। প্রতিদিন তাদের খাবার, গোসল, চিকিৎসা—সব কিছু সময়মতো করছি।”

দুটি ষাঁড়ই সবসময় একসাথে থাকে। আলাদা করলেই অস্থির হয়ে পড়ে।
রাজা কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের এবং সবচেয়ে পছন্দ করে বুটের ডাল। অপরদিকে, বাদশা শান্ত স্বভাবের এবং পছন্দ করে কাঁচা ঘাস

প্রতিদিন ফার্মে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। অনেকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। খামার যেন একপ্রকার মিনি প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে কোরবানির পশু প্রস্তুতির ধুম পড়ে গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর বিভাগের ৬টি জেলায় কোরবানির চাহিদা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫২টি, অথচ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩টি পশু। অর্থাৎ ৬০ হাজার ৪৯৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

বরিশাল প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, “এবার ৩৫০টির মতো কোরবানির হাট বসবে। ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাটে সক্রিয় থাকবে।”

এমইপি এগ্রো ফার্মের ইনচার্জ রাফিউর রহমান বলেন, “বিদেশি গরু আমদানি না হওয়ায় দেশি গরুর বাজার ভালো থাকবে বলে আশা করছি। আমরা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবান ও নিরাপদ পশু দিতে চেষ্টা করছি।”

বরিশালের হাটগুলো এখনও পুরোপুরি জমে না উঠলেও ক্রেতারা সুস্থ, দেশি ও পরিচর্যাপ্রাপ্ত পশুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




চলতি হজে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ঢাকা থেকে, বরিশাল সর্বনিম্ন

চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে অংশ নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন। অপরদিকে, বরিশাল বিভাগ থেকে যাচ্ছে সবচেয়ে কম হজযাত্রী।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা বিভাগ থেকে ৩৩,৩১০ জন হজযাত্রী যাচ্ছেন, যা দেশের মোট হজযাত্রীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগ থেকে হজযাত্রী সংখ্যা মাত্র ২,৩৪১ জন, যা মোটের ৩ শতাংশ

এছাড়া অন্যান্য বিভাগের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে:

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৪,১৯৩ জন (১৭%)
  • রাজশাহী বিভাগ: ১২,৫৯৮ জন (১৫%)
  • রংপুর বিভাগ: ৭,৭৭২ জন (৯%)
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ৫,৩৪৯ জন (৬%)
  • খুলনা বিভাগ: ৫,২৭১ জন (৬%)
  • সিলেট বিভাগ: ৩,১৪৮ জন (৪%)

মোট হজযাত্রী, ফ্লাইট ও ভিসার হালনাগাদ

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭,১০০ জন হজে যাচ্ছেন। এর মধ্যে:

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৫,২০০ জন
  • বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৮১,৯০০ জন

হজযাত্রী পরিবহনে ৩টি এয়ারলাইন্স অংশ নিচ্ছে:

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৮৫টি ফ্লাইট
  • সৌদি এয়ারলাইন্স: ৫৭টি ফ্লাইট
  • ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স: ২১টি ফ্লাইট

এখন পর্যন্ত সৌদি পৌঁছেছেন ৬২,৮৮৩ জন হজযাত্রী। মোট ফ্লাইট সংখ্যা ১৬৩টি। ইতোমধ্যে ৮৬,৯২৭টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যা শতভাগ।

বয়স, পেশা ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান

বয়স অনুযায়ী:

  • ১৮ বছরের নিচে: ৮০২ জন
  • ১৮-৪০ বছর: ৯,৮২২ জন
  • ৪০-৬০ বছর: ৪৭,৩০২ জন
  • ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে: ২৬,০৫৬ জন

লিঙ্গ অনুযায়ী:

  • পুরুষ: ৫৪,৪৭৩ জন
  • নারী: ২৯,৫০৬ জন

পেশাভিত্তিক পরিসংখ্যান:

  • গৃহিণী: ২৪,৯৩৯ জন (সর্বাধিক)
  • বেসরকারি চাকুরিজীবী: ১৪,৪৩৮ জন
  • ব্যবসায়ী: ১৪,২২৩ জন
  • কৃষক: ১১,৭১৯ জন
  • অবসরপ্রাপ্ত: ৪,২২০ জন
  • সরকারি চাকরিজীবী: ২,৯৮৮ জন
  • শিক্ষক: ২,৫৬৩ জন
  • ডাক্তার: ৮০০ জন
  • প্রকৌশলী: ৫৩৮ জন
  • ব্যাংকার: ৪৮৫ জন
  • শিক্ষার্থী: ১,৬৭১ জন
  • চাকরিহীন: ৫০৪ জন

 হজপথে মৃত্যু: এখন পর্যন্ত ১০ জন

চলতি হজে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন হজযাত্রী, যাঁদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • হাফেজ উদ্দিন (৭৩), জামালপুর
  • আল হামিদা বানু, পঞ্চগড়
  • ফয়েজ উদ্দীন (৭২), নীলফামারী
  • শাহজাহান কবীর, মোহাম্মদপুর
  • জয়নাল হোসেন (৬০), গাজীপুর
  • সাহেব উদ্দিন (৬০), রংপুর

হজ ফ্লাইট সময়সূচি

  • হজ ফ্লাইট শুরু: ২৯ এপ্রিল
  • শেষ ফ্লাইট: ৩১ মে
  • ফিরতি ফ্লাইট শুরু: ১০ জুন
  • শেষ ফিরতি ফ্লাইট: ১০ জুলাই

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধর্মীয় স্বাধীনতায় অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: অধ্যাপক ইউনূস

বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ মে), মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের (USCIRF) চেয়ারম্যান স্টিফেন স্নেকের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে, যেখানে দেশজুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের ১৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। আমরা এখানে সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে আগত সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো সাংবাদিক যেকোনো সময় বাংলাদেশে এসে বাস্তবতা যাচাই করতে পারেন। আমাদের কাছে লুকানোর কিছু নেই।”
এসময় তিনি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই সময়টিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অনেকাংশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।”

দক্ষিণ এশিয়ার কিছু গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক উৎস বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ‘উগ্র ইসলামপন্থী আন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, “আমরা দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছি। অথচ বাইরের প্রচারণা বাস্তবতার চেয়ে অনেক দূরে।”

স্টিফেন স্নেক জানতে চান, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী সম্পর্কে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জানান, “ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার রক্ষায় এই সংবিধান সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সংলাপ চলমান রয়েছে।”

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস জানান, জাতিসংঘ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠছে। তাদের আশার আলো দেখাতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকার ও সেনাবাহিনী সমন্বয়ে কাজ করছে: সেনা সদর

সরকার ও সেনাবাহিনী একযোগে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা। সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবেদনশীল করিডর ইস্যু
প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে করিডর বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা বলেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি জানান, করিডর ও বর্ডারে আরসা (ARSA)-র মুভমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা ইস্যু এবং একে অন্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী পরস্পরের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আমরা সরকারের নির্দেশেই কাজ করি এবং দেশের স্বার্থেই একযোগে কাজ চলছে।”

কেএনএফ ও বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম উদ্ধার
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের একটি কারখানায় ৩০ হাজার ইউনিফর্ম উদ্ধার এবং তা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম বলেন, কেএনএফ একটি বম-ভিত্তিক সংগঠন, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এর আক্রমণে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন। উদ্ধারকৃত ইউনিফর্মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১২ হাজার, তাই ৩০ হাজার ইউনিফর্ম কার জন্য তৈরি হয়েছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না।”

বর্ডার নিরাপত্তা ও মিয়ানমার পরিস্থিতি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো প্রায় বিলীন এবং রাখাইন রাজ্যের ৮৫-৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা একটি অস্বীকৃত সশস্ত্র গোষ্ঠী।

তিনি বলেন, “সীমান্তে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল স্বাভাবিক, তবে তা মানে এই নয় যে আমরা তাদের কার্যক্রম মেনে নিচ্ছি। বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।”

আরসা ও ছায়া যুদ্ধের শঙ্কা
সাম্প্রতিক সময়ে আরসা সদস্যদের ভারী অস্ত্রসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে অপারেশন চালানোর খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই সীমান্ত কম্প্রোমাইজ করিনি এবং করব না। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের শক্তি শেষ বিন্দু পর্যন্ত প্রয়োগ করব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি ছায়া যুদ্ধের মুখে রয়েছে—এমন আশঙ্কা বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়, তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।




ক্ষমতা ছাড়ার অঙ্গীকার ড. ইউনূসের, ৩০ জুনের পর এক ঘণ্টাও নয়

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে, সকলের সহযোগিতায় তিনি দেশ ও জাতিকে একটি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবেন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবেন যা দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে।

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মামুনুল হক বলেন, ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না এবং তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

তিনি জানান, বৈঠকে তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কারের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি, যা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এজন্য তারা সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন, কী কী সংস্কার হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন এবং শিগগিরই সুসংবাদ আসবে।

তৃতীয়ত, করিডরের বিষয়ে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মাধ্যমে কোনো দেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হবে না এবং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে তা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টা যেন দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন আলোচনা করেন—এ দাবি তিনি গ্রহণ করেছেন। শাপলা চত্বরের গণহত্যা নিয়ে তারা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নারী সংস্কার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত কোনো ইসলামী আইন কার্যকর করা হবে না—এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।

সবশেষে তিনি জানান, নির্বাচন যেন একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে জুনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




সারজিস আলমকে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ

হাইকোর্ট সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে লিখিতভাবে ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন এই নোটিশ পাঠান। এবং এটি অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জনান।

গত ২২ মে, হাইকোর্ট বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকার মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেয়। এর পর সারজিস আলম তার ফেসবুকে লেখেন, “মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কি?”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, সারজিস আলমকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নোটিশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী।




নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত ধারার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বিতর্কিত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের আদেশ আজ (২৬ মে) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেবেন।

গত ১৯ মে এই রিটের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত আজকের দিন আদেশের জন্য নির্ধারণ করেন।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রওশন আলী, আর কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

রিট আবেদনে নারী সংস্কার কমিশনের ২০২৫ সালের রিপোর্টের অধ্যায় ৩, ৪, ৬, ১০, ১১ ও ১২-তে উল্লেখিত কিছু সুপারিশকে ইসলামী শরিয়ত, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সংবিধান পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবী রওশন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সুপারিশ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • পুরুষ ও নারীর জন্য সমান উত্তরাধিকার প্রস্তাব, যা কোরআনের সুরা নিসা (৪:১১)-এর বিরোধী।
  • বহুবিবাহ নিষিদ্ধের প্রস্তাব, যা ইসলামী শরীয়ত ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রতিস্ঠিত ধর্মচর্চার স্বাধীনতার পরিপন্থি।
  • “মাই বডি, মাই চয়েজ” স্লোগানের অন্ধ সমর্থন, যা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করতে পারে বলে দাবি।
  • যৌনকর্মকে বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব, যা সংবিধানের ২(ক) ও ২৬ অনুচ্ছেদের বিরোধী।
  • লিঙ্গ পরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে ব্যবহৃত ভাষা, যা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়।

রিটে তিনটি মন্ত্রণালয় এবং উইমেন রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিতর্কিত সুপারিশসমূহ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট আজ এই বিষয়ে আদেশ দেবেন।