মরুভূমিতে উটকে সন্তান মেনে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন রুকিয়া

সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তের তপ্ত মরুভূমিতে উটের দল নিয়ে একাকী, নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল জীবন কাটাচ্ছেন এক নারী – রুকিয়া আল-রুওয়াইলি। শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ নয়, মরুভূমির নিঃসঙ্গতা আর উটের সঙ্গেই গড়ে তুলেছেন নিজের সংসার।

প্রায় ৭০ বছর বয়সী এই বিধবা নারী তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া উটগুলোকেই পরিবার ও সন্তান মনে করে আগলে রেখেছেন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে। স্বামীর সঙ্গে মরুভূমিতে পার করেছেন ২০টি বছর। তার মৃত্যুর পর আর শহরমুখো হননি।

রুকিয়া বলেন, “আমার কোনো সন্তান নেই। উটগুলোই এখন আমার সন্তান, আমার পরিবার। তারা আমার কণ্ঠ শুনেই দৌড়ে আসে। আমি তাদের ভাষা বুঝি, তারাও আমাকে বুঝে। এই টান রক্তের চেয়েও গাঢ়।”

শুধু উটের যত্ন নেওয়াই নয়, প্রতিদিন নিজেই পিকআপ ট্রাক চালিয়ে মরুভূমিতে যান, তাদের খাদ্য-পানির ব্যবস্থা করেন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই, বরং নিজেকে খুঁজে পান এই নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে।

তিনি বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে এই মরুভূমিতেই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে। শহরের কোলাহলে তার স্মৃতিগুলো হারিয়ে যাবে। তাই এখানেই থেকে গেছি। উট আর মরুভূমিই আমার ঘর।”

রুকিয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, এমন একটি উট যেন তার হয় যেটি বিক্রি করে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বলেন, “আমি কিং আবদুল আজিজ উট উৎসবের কথা শুনেছি। সেখানে উট বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকায়। আমি চাই, এমন একটি উট যেন আমার হয়।”

তবে তার বড় চাহিদা একটি নিজস্ব পানির ট্যাঙ্কার। মরুভূমিতে পানি সংকট ভয়াবহ। বর্তমানে একজন প্রতিবেশী দয়া করে তার পানির চাহিদা মেটান। রুকিয়া বলেন, “যদি কেউ আমাকে একটি পানি ট্যাঙ্কার উপহার দেয়, আমি তার জন্য আজীবন দোয়া করব।”

“মরুভূমির জীবন অর্ধেক হতাশা, অর্ধেক আশা”—এভাবেই নিজের জীবনকে ব্যাখ্যা করলেন রুকিয়া। তার এই অনন্য গল্প এখন সৌদির নানা প্রান্তে আলোড়ন তুলেছে। যেখানে সমাজে বয়স্কদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে রুকিয়া হয়ে উঠেছেন বিশ্বাস, ধৈর্য ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




তালতলীতে লবণাক্ততায় অনাবাদি ৯ হাজার হেক্টর জমি, ক্ষতি বছরে ১১৫ কোটি টাকা

বরগুনার তালতলী উপজেলায় লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাবে প্রতি বছর ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমি অনাবাদি থাকছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়জুড়ে ফসল আবাদ না হওয়ায় কৃষকদের বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা

উপকূলীয় এ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খাল ভরাট এবং পানির প্রবাহ না থাকায় মাটির লবণাক্ততা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ফলে শুকনো মৌসুমে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, উৎপাদন হচ্ছে না কোনো ফসল।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিক এলাহি জানান, ধান ও সবজির ক্ষেত্রে সহনীয় লবণমাত্রা যেখানে সর্বোচ্চ ৪-৮ ডেসিসিমেন (ডিএস/এম), তালতলীর জমিতে তা পৌঁছে যাচ্ছে ১২-১৬ ডিএস/এম-এ। কোথাও কোথাও এর পরিমাণ আরও বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিত ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. মৃন্ময় নিয়োগি বলেন, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আর্দ্রতা কমে মাটির উপরে লবণের আস্তরণ পড়ে, জমি ফেটে যায়। এ অবস্থায় কোনো ফসলই আবাদ করা সম্ভব হয় না। তিনি রিলে পদ্ধতিতে গম চাষ ও খাল পুনর্খননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পরামর্শ দেন।

১৯৬৭-৬৮ সালে নির্মিত অপরিকল্পিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কারণে উপজেলার খালগুলোতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ১৮৬টি খালের মধ্যে ৮৬টির অস্তিত্বই নেই। সেচ সংকটের কারণে উপজেলার ৯১টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ৪০টি গ্রামে শুকনো মৌসুমে কোনো ফসল আবাদ করা যায় না।

চাউলাপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “এনজিওর মাধ্যমে চাউলা খাল খননের পর সারা বছর ফসল ফলাচ্ছি। অন্য খালগুলোও খনন করলে কৃষকেরা উপকৃত হতো।”

১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে সিডর, আম্পান, রোয়ানু, রিমালসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তালতলীর জমিগুলোতে ঢুকে পড়ে নোনাপানি। এর ফলে বিশেষ করে পচাকোড়ালিয়া, নিশানবাড়িয়া এবং সোনাকাটা ইউনিয়নগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকার কৃষক কবির আকন বলেন, “নুন পানির কারণে জমি নষ্ট হইছে। বাইশ্যাকালে আমন লাগাই, আর হেই ধান দিয়া বছর চালাই। বাকি সময় কিনা খাই।”

শুকনো মৌসুমে কাজ না থাকায় অনেক কৃষিশ্রমিক ঢাকার ইটভাটা, নির্মাণ বা অন্য পেশায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষায় তারা আবার বাড়ি ফিরে আসেন।

নিন্দ্রা গ্রামের জামাল মোল্লা বলেন, “পানি নাই, কাজ নাই। শহরে গিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ করি। কৃষিই ছিল পেশা, এখন পেট চালাইতেই শহরে ছুটছি।”

নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “ভরাট খাল খনন করলে কৃষকরা আবার ফসল ফলাতে পারবে। সেচের জন্য পানি দরকার।”

পঁচাকোড়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, “আমার ইউনিয়নের ১২টি গ্রামে শুষ্ক মৌসুমে একরকম কিছুই হয় না। খাল খনন ছাড়া উপায় নেই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, “প্রতি বছর ছয় মাস জমিগুলো অনাবাদি থাকে। খাল খননই একমাত্র কার্যকর সমাধান।”

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির মাধ্যমে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সফল হলে সারা বছর ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“বিচারপতি মানিক মারা যাননি”গুজব উড়িয়ে দিল কারা অধিদপ্তর

কাশিমপুর কারাগার-২-এ বন্দি সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

সোমবার (২৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খণ্ডন করে জানায়—বিচারপতি মানিক সুস্থ আছেন এবং বর্তমানে কাশিমপুর কারাগার-২ এ রয়েছেন।

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, “বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এখনও জীবিত এবং সুস্থ আছেন। মৃত্যুর যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি মিথ্যা।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৩ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। বিজিবির হাতে আটক হওয়ার পর পরদিন ভোরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাবন্দি।

সাবেক এই বিচারপতির মৃত্যু সংক্রান্ত গুজব প্রসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোনো তথ্য যাচাই না করে তা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গণতন্ত্রের বিলম্ব মানেই সংকটের বিস্তার: আমীর খসরু

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেরি হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট আরও গভীর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, ততই সংকট ঘনীভূত হবে।”

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া গণমাধ্যম তার স্বাধীন ভূমিকা রাখতে পারে না। গণতন্ত্র ও মিডিয়া হাত ধরে চলে। যখন দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত থাকে, তখন মিডিয়ার ওপর চাপ বেড়ে যায়। অগণতান্ত্রিক শাসকেরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাংবাদিকদেরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে লড়াই করছি। মিডিয়ার স্বাধীনতাও এই আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

আমীর খসরু মনে করেন, সরকারকে সব সময় জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। “সরকার এমন হতে হবে যেটি জনগণের কাছে জবাবদিহি করে, যেটি মানুষের দিকে তাকায়, মানুষের দ্বারে গিয়ে উত্তর দেয়।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আখন, সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং ডিআরইউ-এর বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ।

১৯৯৫ সালের ২৬ মে যাত্রা শুরু করা পেশাদার সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবার ৩০ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো “ঐক্য ও সমৃদ্ধি”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিদেশি চাপ নয়, জনগণের ম্যান্ডেটেই আসবে নতুন সরকার: হাসনাত আবদুল্লাহ

বিদেশি শক্তির কাছে দেশ বন্ধক রেখে আর কেউ যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (২৬ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে এক পথসভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন আর কোনো বিদেশি প্রেসক্রিপশনের শাসনে পরিচালিত হবে না। দেশের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে এই মাটির মানুষের ভোটে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারবে না।”

তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় ঐক্যের পক্ষে। কোনো বিদেশি শক্তি বা দেশীয় ষড়যন্ত্র আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না। ধর্মীয় বিভাজন, উগ্রবাদী তকমা—এসব দিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। এই দেশে ভারতের প্রেসক্রিপশনে কোনো সাজানো নাটক আর চলবে না। জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে বিভাজনের ফাঁদে পা না দেয়।”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র চাই যেখানে সব ধর্ম, সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ থাকবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এনসিপি সাম্য, মানবাধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হোক। শাপলা চত্বর, পিলখানা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া জরুরি।”

হাসনাত বলেন, “আমরা নতুন সংবিধান চাই—যেটা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। বর্তমান সংবিধান জনগণের নয়, এটি একটি দলীয় দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটির পরিবর্তে স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান। বলেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য নির্বাচনের নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনই জাতিকে জানাতে হবে।”

এর আগে রাউজানের আরেক পথসভায় তিনি বলেন, “এই এলাকা থেকে অতীতে আন্দোলনের সময় অস্ত্র সরবরাহ করা হতো—এই অভিযোগ অনেকেই করেছেন। কিন্তু আমরা বলছি, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি ইঞ্চিও কারও ভয় পাওয়ার জায়গা নয়। বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করা মানুষদের কাছে পুরো দেশ সমানভাবে মূল্যবান।”

তিনি আরও বলেন, “রাউজানকে অতীতে ফ্যাসিবাদী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। বিচার বহির্ভূত সালিশ, নিপীড়ন, রাজনৈতিক দমন চলেছিল। কিন্তু আজ জনগণ জেগে উঠেছে।”

সভায় তিনি বলেন, “আসমানের নিচে যারা জুলুম চালায়, তারা যেন জানে—মজলুমের আর আল্লাহর মাঝে কোনো দেয়াল নেই। বিচার একদিন হবেই।”

সোমবার সারা দিন উত্তর চট্টগ্রামের চার উপজেলায়—রাঙ্গুনিয়া রোয়াজারহাট, রাউজান বাসস্ট্যান্ড, হাটহাজারী ডাকবাংলো এবং ফটিকছড়ির বিবিরহাটে একাধিক পথসভায় অংশ নেন তিনি। আবহাওয়াজনিত কারণে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের সভা বাতিল করা হয়।

এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মো. আতাউল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শুরু হচ্ছে স্বপ্নের ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবায়নের পথে ভোলা-বরিশাল সেতু। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এবং শেষ হবে ২০৩৩ সালের মধ্যে।

সেতুটি নির্মিত হলে ভোলা সরাসরি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা বদলে দেবে জেলার অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং মানুষের জীবনমান। বর্তমানে বরিশালসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে ভোলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। ভোলা থেকে বরিশাল যেতে লঞ্চে দুই ঘণ্টা, আর স্পিডবোটে ৪০ মিনিট সময় লাগে। যাতায়াত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ভোলা এক ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অঞ্চল হিসেবেই রয়ে গেছে।

সেতুটি ভোলার তেঁতুলিয়া ও বরিশালের কালাবদর নদীর উপর দিয়ে নির্মিত হবে। এটি হবে ১৬.৩৬৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের, যার মধ্যে মূল চার লেনবিশিষ্ট সেতু থাকবে ১০.৮৭৬ কিলোমিটার এবং বাকি অংশ হবে সংযোগ সড়ক। পাশাপাশি নদীশাসনের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৫.৫ কিলোমিটার এলাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেতুতে গ্যাস পাইপলাইন বসানোর ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে ভোলার গ্যাস দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা যায়।

ভোলাকে ঘিরে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর ২০২০ ও ২০২৪ সালে আবারও সমীক্ষা চালানো হয়। চলতি বছরেই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব (DPP) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল এরই মধ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ নিশ্চিত করেছেন, সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৬ সালেই শুরু হবে। এ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য জাপানের একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে কোরিয়া অথবা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে পারে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সেতুটি হলে তারা নতুন জীবন পাবে। কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য সহজে দেশের অন্য প্রান্তে পৌঁছানো যাবে। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তব রূপ পেলে আর্থিক, সামাজিক ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে এই অঞ্চলের।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার আর্থসামাজিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




নয় দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। নয় দফা দাবিতে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান, বিক্ষোভ মিছিল ও পথনাটকের আয়োজন করেছে।

সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা “শিক্ষার অধিকার, লড়াই করে নিতে হবে” স্লোগানে মুখর করে তোলে ক্যাম্পাস। তারা প্রতীকীভাবে কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতির কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং মানসিক চাপের প্রতিবাদে পথনাটক পরিবেশন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি হলো—কম্বাইন্ড পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল, অ্যাকাডেমিক স্বতন্ত্রতা প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি, সময়মতো ফলাফল প্রকাশ, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাব সুবিধা, ছাত্রাবাস উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা পরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।

এই নয় দফা দাবিতে তাঁরা কলেজের “অ্যাকাডেমিক শাটডাউন” ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লিটন রাব্বানী বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কলেজের দুটি বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং চলমান আন্দোলনে কলেজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




“নাগরিক সেবা বাংলাদেশ” চালু, জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা

সরকারি সেবা এখন আরও সহজলভ্য। “এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা”—এই স্লোগানে যাত্রা শুরু করল “নাগরিক সেবা বাংলাদেশ”। সোমবার (২৬ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির আওতায় গুলশান, উত্তরা এবং নীলক্ষেতে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুলশান ও উত্তরার কেন্দ্র চালু হয়েছে, শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে নীলক্ষেতেও।

প্রশিক্ষিত স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কর ফাইলিংসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দালালচক্র ও হয়রানি বন্ধে এটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। নাগরিকদের হেঁটে যাওয়ার দূরত্বে যেন সব সেবা মেলে, সেই লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি প্রবাসীদের জন্যও আলাদা সেবা কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেন।

সেবার মান বজায় রাখতে উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি এটিকে একটি “প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক আন্দোলন” হিসেবে অভিহিত করেন, যা সরকার ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে।

আইসিটি বিভাগের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, শূন্য বাজেটেই এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে, যা প্রমাণ করে — বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহারে দেশ এগোতে পারে। অব্যবহৃত পোস্ট অফিস ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে আধুনিক কো-ওয়ার্কিং স্পেসে রূপান্তর করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপে ২০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১০০ জন উদ্যোক্তা (৫০ জন নারী ও ৫০ জন পুরুষ) বাছাই করে প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সনদপত্র।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




‘গুম’ হচ্ছে শাসনের বর্বর উদাহরণ: তারেক রহমান

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ৬৬৬ জনেরও বেশি—এমন দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “এই সংখ্যা আমাদের হিসাবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। এদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ, কারও মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, আবার কাউকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

সোমবার (২৬ মে) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক ‘গুম সপ্তাহ’ উপলক্ষে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মে মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গুম সপ্তাহ’ পালিত হয়। বাংলাদেশেও বহু মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর দীর্ঘ বছরেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশে গুমের শিকার হয়েছেন মূলত বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এছাড়াও ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষও গুম হয়েছেন। এটি আওয়ামী শাসনামলের একটি বর্বর দুঃশাসনের উদাহরণ।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তিকে গুম করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকারি দফতরে বিক্ষোভের ডাক, নতুন চাকরি অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) দেশব্যাপী সকল সরকারি দফতরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।

সোমবার (২৬ মে) সংগঠনটির সভাপতি মো. বাদিউল কবীর এক বিবৃতিতে জানান, দেশের সব দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সকাল ১০টায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের বাদামতলায় একত্র হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

বাদিউল কবীর আরও জানান, এই কর্মসূচিকে সফল করতে রাতের মধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয় এবং গতকাল তা চূড়ান্তভাবে জারি করা হয়।

সরকারি কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন, নতুন এই অধ্যাদেশে ৪০ বছরেরও পুরনো কিছু ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ যুক্ত করে তাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তারা এই আইনকে ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /