চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে তারেক রহমান, দিলেন আর্থিক সহায়তা

গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার ‘জুলাই যোদ্ধা’ যারা বর্তমানে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসব আহত যুবকদের কাছে।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। তারা ‘বিষপান’ করা আহত চারজনের সঙ্গে দেখা করে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান।

প্রতিনিধিদল চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং জানান, তারেক রহমান সব সময় তাদের পাশে আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ ও ফরহাদ আলী সজীব।

এছাড়াও ছিলেন—
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ড্যাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ছাত্রদল ও শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৫ মে) দুপুরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার যুবক— শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন তাহের—বিষপান করেন। পরে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে শুল্ক আলোচনায় সুবিধা নিতে তুলা ও জ্বালানি তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। জাপানে ‘নিক্কেই এশিয়া ফোরাম’-এ অংশ নিতে গিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান, তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির প্রস্তাব দিয়েছি। এতে করে শুল্ক ইস্যুতে আলোচনায় আমাদের অবস্থানও শক্ত হবে।”ড. ইউনূস জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ মধ্য এশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তুলা আমদানি করে। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনতে আগ্রহী ঢাকা। “তুলা আমদানির উৎস যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তুলা আমদানির পরিমাণ ৩৬১ মিলিয়ন ডলার । বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করে, যার প্রায় ১২.৫ শতাংশ সমগ্র আমদানির অংশ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। তারা আমাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও চিন্তা করছে বাংলাদেশ, যদিও এ ক্ষেত্রে দেশটি এখনও মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর।তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে আলোচনার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। শুল্ক কতটা কমানো যাবে, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়ে প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা এটিকে হুমকি হিসেবে দেখছি না। বরং সুযোগ হিসেবে দেখছি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য।” তবে ড. ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের অধিকার কংগ্রেসের। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া দেশেই ১১-১২ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে লুটপাট হয়েছিল, যার একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই অর্থ দুটি ফান্ডে রাখা হবে ,একটি শিক্ষা খাতে, অপরটি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার জন্য। পাশাপাশি এই টাকা দিয়ে গরিব মানুষকে উদ্যোক্তা বানানো হবে, যাতে তারা নিজের জীবন বদলে ফেলতে পারে।”




চন্দ্রদ্বীপে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে মধ্যস্থল চায় এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফলের নবগঠিত ১৫ নম্বর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন নির্মাণে সবার জন্য সুবিধাজনক একটি মধ্যবর্তী স্থানে ভবন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দিয়ারা কচুয়া চর মিয়া জান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান ইউপি ভবনটি ইউনিয়নের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ বাসিন্দাকে সেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ভবনটি যদি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়, তাহলে সবার জন্য সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও কার্যকর হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি সামশুল হক হাওলাদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল খান, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারসহ আরও অনেকে।

এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকরাও মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি সংহতি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গর্ভধারণ ছাড়াই দুধ দিচ্ছে বাছুর, চাঞ্চল্য বরিশালে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় গর্ভধারণ ছাড়াই মাত্র ১১ মাস বয়সী একটি বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে—এমন অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩-৩.৫ কেজি দুধ দিচ্ছে এই বাছুরটি।

উজিরপুর উপজেলার মুন্সীরতালুক গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গরু পালন করে আসছেন। তবে এমন ঘটনা এবারই প্রথম দেখলেন। প্রায় দশদিন আগে সকালে গরুর ঘরে সামান্য পরিমাণ দুধ পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে অবাক হন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাছুরটির ওলান ফোলা দেখে হাত দিয়ে নারাচারা করতেই দুধ বেরিয়ে আসতে থাকে।

প্রথমদিকে তারা দুধটি ফেলে দিতেন, তবে এখন নিয়মিত দুধ দোহন করে পরিবারের সদস্যরা ও আশেপাশের মানুষ সেটি পান করছেন। অনেক কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন গরুটিকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন। এমনকি কুসংস্কার থেকে কেউ কেউ মানত করে দুধ কিনেও নিচ্ছেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করায় তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থানীয় সাংবাদিক সৈকত বাড়ৈ বলেন, “গর্ভধারণ ছাড়া গরু দুধ দিতে পারে—এটা শুনেছি কিন্তু কখনো নিজের চোখে দেখিনি। এটা সত্যিই আশ্চর্যের।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার বলেন, “ঘটনাটি বিরল হলেও একেবারে অস্বাভাবিক নয়। হরমোনের তারতম্যের ফলে এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তন হতে পারে। এটি কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুধ পুষ্টিকর ও নিরাপদ। দুধ পান করতে কোনো সমস্যা নেই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নিম্নাঞ্চলের বহু জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া নদীগুলো:

  • বরিশালের কীর্তনখোলা নদী: ২৩ সেন্টিমিটার উপরে
  • ঝালকাঠির বিষখালী নদী: ২৩ সেন্টিমিটার উপরে
  • ভোলার দৌলতখানে সুরমা-মেঘনা নদী: ২৪ সেন্টিমিটার উপরে
  • তজুমদ্দিনে সুরমা-মেঘনা নদী: ১২ সেন্টিমিটার উপরে
  • ভোলা খেয়াঘাটে তেতুলিয়া নদী: ৩৬ সেন্টিমিটার উপরে
  • বরিশালের হিজলা নদী: ৫২ সেন্টিমিটার উপরে

পানি বাড়ার ফলে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় জনগণকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার কোনো স্থায়ী প্রভাব দেখা যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আপিল রায়ের পর: সিইসি

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র পদ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের রায় এখনো হাতে পাইনি। যখন রায় হাতে পাব, তখন সেটি পরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

রায় সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে আসা তথ্য দেখে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে, সকালে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বিকেলে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে আসার পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখতে পাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এখনো প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে এক গভীর বেদনার স্মৃতি নিয়ে। শুধু আমাদের পরিবার নয়, সমগ্র জাতি সেই দিনটি হারিয়েছিল এক দূরদর্শী দেশপ্রেমিক নেতাকে।”

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম উল্লেখ করে বলেন, “যে চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এই দেশের অঙ্গ করে গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ। তিনি ছিলেন এক সফল, সৎ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।”

খালেদা জিয়া আরও বলেন, “যে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে শহীদ জিয়া জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তার দেখানো পথ অনুসরণ করে শিগগিরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি দলের সব স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।




উপদেষ্টা পরিষদে পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয় এবং সেখানে পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত ব্যক্তিরা আছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। আরেকজন উপদেষ্টা ২০ বছর বিদেশে ছিলেন, এখন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দেশে এসেছেন। এছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন যারা ফ্যাসিবাদী আচরণে লিপ্ত।”

তিনি বলেন, “যদি সত্যিকার সংস্কার চান, তাহলে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শুরু করুন। সরিষার ভেতরে ভূত রেখে সংস্কার সম্ভব নয়। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে সকল সংস্কার সম্ভব। আপনি যদি না পারেন, আমাদের বলুন—আমরাই করে দেব।”

তার বক্তব্যে উঠে আসে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মেধার মূল্যায়নের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান মেধাবীদের এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন। এখন তারেক রহমান ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার’ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই চর্চা আবার শুরু করেছেন।”

শ্বেতপত্র বিষয়ে সালাহউদ্দিন দাবি করেন, “৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে—এসব তথ্য শ্বেতপত্রে রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন আমাদের রাজনৈতিক পাঠ্যপুস্তক হওয়া উচিত। ৬৬ শতাংশ সামরিক বুলেট ব্যবহার হয়েছে—এসব তথ্য জানা জরুরি।”

তিনি ভবিষ্যতের রাজনীতি বিষয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, “শুধু আবেগনির্ভর স্লোগানে রাজনীতি চলবে না। ভবিষ্যতের রাজনীতি নিয়ে ব্যাপকভাবে সেমিনার আয়োজন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিসিবিতে নেতৃত্ব সংকট, অনড় ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নেতৃত্ব ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গভীর সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে সরে যাওয়ার চাপ থাকলেও, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি পদত্যাগ করছেন না।

সূত্র বলছে, গতকাল রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ফারুক আহমেদকে অনুরোধ করেন পদ ছাড়ার জন্য। তবে ফারুক আজ জানিয়েছেন, পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। তার বক্তব্য, “সরতে বলেছে, কিন্তু কেন সরতে হবে তা বলা হয়নি।”

মাত্র ৯ মাস আগে ফারুককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় বর্তমান সরকার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে। হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। ইতোমধ্যে জানা গেছে, সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নতুন সভাপতি হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বোর্ডের কাউন্সিলর ও পরিচালক বানাতে হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং আইনি জটিলতায় ভরা।

বর্তমানে বিসিবির দুই এনএসসি পরিচালক—ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বুলবুলকে আনতে হলে এদের একজনকে সরাতেই হবে, যেটা এখন প্রধান সংকটের কারণ। ফারুক সরতে রাজি নন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বারবার বলে এসেছে, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে এই কারণে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। তাই জোর করে ফারুককে সরানোর চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মহলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

বিসিবির বোর্ড সভা আগামী শনিবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সভাপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ফারুক যদি নিজে পদত্যাগ না করেন, তাহলে অক্টোবরের আগে সরকারও তাকে সরাতে পারবে না—এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান।

ফারুকের স্থানে বুলবুল আসলেও, সেটি হবে এনএসসি কোটায় তৃতীয় পরিবর্তন। এতে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠছে—একই মেয়াদে কতোবার পরিচালক বদলানো যাবে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এক অনিশ্চিত পথে। বোর্ডের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা না ফিরলে, আইসিসির নজরদারির ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের ক্রিকেট।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলাদেশীদের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, জাপানকে জানারও একটি দ্বার উন্মোচন করবে।”

সেমিনারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়:

  1. বিএমইটি ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ)
  2. বিএমইটি, এনবিসিসি (জাপানের ৬৫টি কোম্পানির ফেডারেশন), ও জেবিবিআরএ (জাপান-বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি)

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।”

জাপানি প্রতিনিধি মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো তাদের নিয়ে আগ্রহী।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা জানান, তাদের ফেডারেশন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, বাংলাদেশিদের জাপানে কাজের সুযোগ বাড়ছে, তবে ভাষাশিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।

জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি জানান, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমিক সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারে।