বরিশালে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন, নদী-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে

বরিশালে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের সবগুলো নদী ও নালার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও পানি জমে গেছে।

বিশেষত, বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচলও দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। নদী বন্দরে ২ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিপদে পড়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ কিলোমিটার।

বরিশাল শহরসহ অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বগুড়া রোড, মুন্সির গ্যারেজ, শীতলাখোলা মোড়, জিয়া সড়কসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে গেছে। যার ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বগুড়া রোডের বাসিন্দা মিসবাহ হোসেন জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়ে গেছে, এবং টানা বৃষ্টির ফলে বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক শেখ বলেন, তার দোকানে পানি ঢুকে গেছে এবং মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নগরবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনা তীরবর্তী হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, কলাপাড়া, গলাচিপা, বাউফল, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, স্বরূপকাঠি, ভান্ডারিয়া, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যে অর্থনীতির সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা ও দক্ষ জনশক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ চুক্তি’ এবং অপরটি ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’।

‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বাজেটরি সাপোর্ট প্রদান করা হবে। এই ঋণের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করা। চুক্তিটি ৬০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ সহ সহায়তা প্রদান করবে, যার মাধ্যমে সরকারকে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে।

ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জেডএস স্কলারশিপ: উচ্চশিক্ষার সুযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য

অন্যদিকে, ‘২০২৫ সালের জেডএস স্কলারশিপ নিয়ে অনুদান চুক্তি’ প্রোগ্রামের আওতায়, ৩৩ জন সরকারি কর্মকর্তা জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নির্ধারণে অবদান রাখবেন।

প্রোগ্রামের আওতায় ৬০৬ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৪.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থায়ন করা হবে এবং ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯১ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা জেডএস স্কলারশিপ লাভ করেছেন।

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: ইউক্রেন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন

ইউক্রেন সংকটের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার এখন ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালীকরণে উন্নয়ন নীতি ঋণ’ চুক্তির মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে, বাংলাদেশ এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ (ই/এন) স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষ জনশক্তির বিকাশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




রাঙ্গাবালীতে পানি বন্দি দুই লাখ মানুষ

বৈরী আবহাওয়ায় টানা দুই দিন ধরে পটুয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে সব ধরনের লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অন্তত দুই লাখ মানুষ দ্বীপের ভেতরেই আটকে পড়েছেন। বুধবার (২৮ মে) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি শুক্রবার (৩০ মে) পর্যন্তও অব্যাহত থাকায় মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা যেমন থমকে গেছে, তেমনি বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি যোগাযোগ। এদিকে গত তিনদিন ধরে পুরো উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা মানুষকে আরও বড় দুর্দশায় ফেলে দিয়েছে।

রাঙ্গাবালী মূলত সমুদ্র ও নদীবেষ্টিত একটি দুর্গম দ্বীপ। এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা জলপথ। কলাপাড়া বা গলাচিপা হয়ে এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হয় নৌপথে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই দ্বীপের মানুষ এখন ‘বন্দি’ অবস্থায় রয়েছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই অবস্থা যেন এক ভয়াবহ যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে রাঙ্গাবালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় মানুষকে গুরুতর অসুস্থতা বা জটিল সমস্যায় পড়লে জেলা শহর পটুয়াখালী বা নিকটবর্তী গলাচিপায় নিতে হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো ধরনের যানবাহনই চালু না থাকায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া এখন একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. কাশেম মিয়া জানান, ‘গতকাল আমার ছোট ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বরিশাল নিয়ে যেতে চাইলেও কোনো ট্রলার বা স্পিডবোট পাওয়া যায়নি। অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছি।’

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারণ বাইরের কোনো পণ্য দ্বীপে প্রবেশ করতে পারছে না। যদিও এখনো সম্পূর্ণ সংকট দেখা না দিলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আবহাওয়া আরও দুই-একদিন এমন থাকে, তাহলে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্যে ঘাটতি দেখা দেবে। ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা বলছেন, পণ্যের চাহিদা থাকলেও যোগান না থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উপজেলার প্রতিটি বাজার কার্যত অচল হয়ে গেছে। ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুধসহ নানা খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক সেবাদানকারী দোকানগুলোও বন্ধ। বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিদিন নানা ধরনের কাজ করি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সব বন্ধ। ল্যাপটপে সীমিত সময় কাজ করা গেলেও প্রিন্টার চালাতে পারছি না। দোকান খোলা থাকলেও লাভ হচ্ছে না।’

বাড়িঘরে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেক গৃহিণীও। পূর্ব বাহেরচর গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করি। ফ্রিজে রাখলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার কিনতে হবে, অথচ বাজারে জিনিসপত্রের দামও বেশি।’

বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ, কর্মজীবীরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। এক কথায়, পুরো রাঙ্গাবালী যেন অচল হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় চলাচল চালু হবে। জরুরি প্রয়োজনে নৌপুলিশ বা কোস্টগার্ডের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এখনো সক্রিয়। ঝোড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নদীপথে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতও জারি রয়েছে।

উপজেলার এই বিচ্ছিন্নতা একবারেই তাৎক্ষণিক নয়, বরং এটি অবকাঠামোগত দুর্বলতার দীর্ঘমেয়াদি ফল। স্থলপথ না থাকায় একটি সাধারণ দুর্যোগও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা, শিক্ষা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে না পারায় রাঙ্গাবালীর জনগণ নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এখন প্রয়োজন দ্বীপাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের।

 

####
মো: আল-আমিন



সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননায় ড. ইউনূস

বিশ্বখ্যাত নোবেল বিজয়ী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাপানের সোকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।

শুক্রবার (৩০ মে) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই ডিগ্রি প্রদান করে, সামাজিক উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।

এই উপলক্ষে টোকিওর সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন এবং ড. ইউনূসের অবদানকে আন্তর্জাতিকভাবে অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেন।

জানা যায়, অধ্যাপক ইউনূস ২৭ মে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছান। সফর শেষে আগামীকাল (৩১ মে) সকালে তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিও ত্যাগ করবেন এবং সিঙ্গাপুর হয়ে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সকল দলই চায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন: এলডিপি মহাসচিব

এলডিপি মহাসচিব

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, দেশে মাত্র একটি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্য সত্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, অন্তত ২০টি নিবন্ধিত দলসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়। এলডিপিসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলো স্পষ্টভাবে এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে আর কোনো টালবাহানার সুযোগ নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণ আর কোনো ব্যাখ্যা শুনতে চায় না—জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসন করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু বাস্তবে সরকার সেই দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতায় থাকার পথ মজবুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৯ মাসে সরকার কী ধরনের সংস্কার করেছে? বরং দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা ও গ্রামীণফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ করা হয়েছে। এমনকি স্টারলিংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের অংশীদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। এগুলো কী আদৌ কোনো প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কার?

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন, তা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য যথেষ্ট। এই ৩১ দফা কেবল বিএনপির একক উদ্যোগ নয়—এটি গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। এই দফাগুলো বাস্তবায়ন করলে আর আলাদা করে সংস্কারের প্রয়োজন থাকবে না।

এলডিপির মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটিই কথা বলছে—তা হলো অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি বলেন, “যত মামলা, হামলা, গুম, খুন—সবই হয়েছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে। এখন আর সময়ক্ষেপণ বা দ্ব্যর্থহীন অবস্থান চলবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে—এটাই জনগণের চূড়ান্ত প্রত্যাশা।”

 

 

 

 




ডক্টর ইউনূস ছাড়া সবাই ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়: মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশের জনগণ চায় ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন হোক, এবং সেই দাবি আদায় করেই ছাড়বে। যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হয়, তাহলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা আব্বাস এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “একজন বিদেশি ব্যক্তিকে দেশে এনে তথাকথিত রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই সংস্কারের নামে এখন নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা বলছি, একটি দল নয়—একজন লোকই নির্বাচন চায় না, আর তিনি হলেন ড. ইউনূস।”

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ সময় বলেন, “সমগ্র জাতি এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের প্রত্যাশা, খুব শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে।”




জাতীয় ঐক্যে বাধা হয় এমন মন্তব্য করা উচিত নয় : আজহারুল ইসলাম

জাতীয় ঐক্য গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, যা বিভাজন সৃষ্টি করে।”

দীর্ঘ ১৪ বছর পর কারামুক্ত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মহানগর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বুলবুল নিজেই।

আজহারুল ইসলাম বলেন, “জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দ্বীনের দাওয়াত ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, দেলাওয়ার হোসেন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান, শামসুর রহমান, অধ্যাপক মোকাররম হোসেন খান, মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ডা. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসান, ডা. আতিয়ার রহমান, নূর নবী মানিক, শেখ শরিফ উদ্দিন, সৈয়দ সিরাজুল হক, আমিনুর রহমান, শাহিন আহমেদ খান, শরিফুল ইসলাম এবং প্রচার ও মিডিয়া সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।




বিসিবিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, কাউন্সিলর হলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদের পরিচালক পদে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বুধবার রাতে এনএসসি এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, ৮ পরিচালকের অনাস্থা ও বিপিএল সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফারুক এনএসসি থেকে মনোনীত হলেও পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হননি। গঠনতন্ত্রে সভাপতির অপসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট নিয়ম না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিসিবির সভাপতি হতে হলে পরিচালক হওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে ফারুক পরিচালকের পদ হারালে সভাপতির পদেও থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ অবস্থায় নতুন গুঞ্জন উঠেছে—সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে। ইতোমধ্যে তাকে এনএসসির নতুন কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এনএসসির সচিব মো. আমিনুল ইসলাম এনডিসি বলেন, “শেখ হামিম হাসানের পরিবর্তে বুলবুলকে কাউন্সিলর করা হয়েছে।”

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এনএসসি পাঁচজন কাউন্সিলর মনোনয়ন দিতে পারে এবং কাউন্সিলরদের পরিবর্তন করতে হলে বিসিবির বোর্ড সভার অনুমোদন প্রয়োজন। বুলবুলকে পরিচালক করা হলে তিনিও সভাপতি পদের উপযুক্ত হয়ে উঠবেন। তবে তা নির্ভর করছে পরবর্তী বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও সভাপতির ওপর, যিনি সভাটি পরিচালনা করবেন।




পটুয়াখালীতে গভীর নিম্নচাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩ গ্রাম প্লাবিত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের ভয়াবহ প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় জনপদ। টানা তিনদিন ধরে চলা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে গলাচিপা উপজেলার পানপট্রি বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়েছে। নদীর পানি হুহু করে ঢুকে প্লাবিত করেছে তিনটি গ্রাম। একই সময়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার মধ্য চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বেড়িবাঁধও ধসে যায়, যার ফলে পুরো চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জোয়ারের পানির উচ্চতা দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীরবর্তী শত শত পরিবার বিপাকে পড়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে যেসব পরিবার বসবাস করছিল, তাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। ইতোমধ্যে শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবনে ভেসে গেছে বহু মাছের ঘের ও পুকুর। জেলেরা জানিয়েছেন, তিন দিনের টানা বর্ষণ ও নদীর পানি বৃদ্ধি তাদের জীবিকা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহরের অবকাঠামোতেও দেখা দিয়েছে ক্ষয়ক্ষতি। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের লাগোয়া নতুন নির্মিত সীবিচ সড়ক উদ্বোধনের আগেই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙে পড়েছে। এতে জনমনে উদ্বেগ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই এলাকায় আরও টেকসই এবং স্থায়ী বাঁধ ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের এখনই প্রয়োজন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হাসান বলেন, “আমরা পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রাঙ্গাবালী উপজেলায় তিনটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত লোকজনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন দুর্যোগ আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল এখন বারবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একটাই দাবি—আরও টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে মৎস্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপকূলীয় মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—প্রতিবার দুর্যোগ আসলে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়া হয়, ত্রাণ দেওয়া হয়, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না কেন?

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হলে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন ঘোষণার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর রমনা ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না করায় দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের জবাবদিহিহীনতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিনিয়োগ থমকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারের ব্যাপারে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তাহলে ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব। এটি সরকারের জন্য কোনো জয় বা পরাজয়ের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের বিজয়ের সুযোগ।

আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ হলেও জবাবদিহিমূলক নয়। জনগণের সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রশাসননির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।

বক্তব্য শেষে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং রুহুল কবির রিজভী।