বিটিভিতে রিপোর্টার হিসেবে বদলি করা হলো বেতারের ইঞ্জিনিয়ারদের!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নির্বাচনী সংবাদ কাভারেজে অস্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টেলিভিশন সাংবাদিকতার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বেতারের প্রকৌশলী ও অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রযোজক/রিপোর্টার হিসেবে বিটিভিতে বদলি করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টেলিভিশন শাখা থেকে গত ৬ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে এসব কর্মকর্তাকে বিটিভি, ঢাকা কেন্দ্রে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহসহ বার্তা শাখার দৈনন্দিন কাজ সুচারূপে সম্পন্নের জন্য বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের বেতনভাতাদি বিটিভি থেকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের বাণিজ্যিক শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) এস. কে. সিদ্দিক আহমদ, বহির্বিশ্ব শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুর রহমান, সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. বাকের মাহমুদ, মনিটরিং পরিদপ্তরের সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম এবং সেন্ট্রাল প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী বেতার প্রকৌশলী কে. এম. নাসিম মাহমুদ।

বাংলাদেশ বেতারের কুমিল্লা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. ইমরান হোসেন। বাংলাদেশ বেতারের রাঙামাটি শাখার উপসহকারী নির্বাহী নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কক্সবাজার কেন্দ্রের সহকারী বেতার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, টেলিভিশনে নির্বাচনী কাভারেজ একটি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল কাজ, যেখানে ভিজ্যুয়াল রিপোর্টিং, লাইভ কাভারেজ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বদলি হওয়া এসব কর্মকর্তার কেউই আগে টেলিভিশন রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেননি; তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ ছিল বেতারের প্রকৌশল, অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক কাজে।

বিটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ টেলিভিশন সাংবাদিক ও রিপোর্টার থাকার পরও কেন টিভি সাংবাদিকতায় অনভিজ্ঞ বেতারের কর্মকর্তাদের নির্বাচন কাভারেজের দায়িত্ব দেওয়া হলো- তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ মূল দপ্তর থেকেই বেতন ও ভাতা গ্রহণ করবেন এবং আদেশটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত সংবাদ কাভারেজের মান ও পেশাগত নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ- সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মিডিয়া অঙ্গনে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫: জামায়াত প্রার্থী রাখবে কি না, এখনো অনিশ্চয়তা

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক তর্ক ও আলোচনা চলছে। ইসলামী দলগুলোর জোটগত সমঝোতা, অতীত নির্বাচনী ফলাফল এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম উভয়েই বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি অ্যাডভোকেট হেলালকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কমিটির অন্য কোনো সদস্য এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে বরিশাল-৫ আসনে জামায়াত সরাসরি প্রার্থী দেবে কি না, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট হেলাল জানিয়েছেন,“ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ছাড়া আর কেউ একাধিক আসনে মনোনয়ন দাখিল করেননি। সুতরাং একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই থাকে। বরিশাল-৫ আসনটি জোট বিবেচনায় জামায়াতের দাবির মধ্যেই থাকবে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই আসনে প্রার্থী থাকবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত এককভাবে জামায়াতের নয়, পুরোপুরি জোটের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনকে ‘আমিরের আসন’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি এই আসনের পাশাপাশি আরও একটি আসনেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের বৃহত্তর স্বার্থে বরিশাল-৫ আসনে সরাসরি প্রার্থী না দেওয়াই কি বাস্তবসম্মত হবে—এ বিষয়ে জামায়াতের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের হেলালকে প্রার্থী করা হতে পারে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করিম ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১১.৩০% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন এবং ২০০৮ সালে ১১.৬০% ভোট পান। ২০১৮ সালে তিনি জামানত হারান। তবে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৩,৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইতিহাস বরিশাল সদর আসনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রায় ৫ হাজার ভোট পান, ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪ হাজার ভোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় এই আসনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসন ইসলামী জোট রাজনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী রাখবে নাকি জোটের স্বার্থে আসন ছাড়বে—এ সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের ছক: বরিশাল-৩ আসনে শঙ্কা প্রকাশ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে প্রকৃত অর্থে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং আগেভাগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে সেই নির্বাচন কখনোই ভালো হতে পারে না।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কোন ধরনের প্রচারণা আইনসম্মত এবং কোনটি নয়—সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬ মামলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গড় হিসাবে দেখা যায়, মামলা থাকা প্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও আইনজীবীদের বড় অংশের দাবি, এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা আইনের পথ মেনেই নির্বাচনে এসেছি। অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা মানেই কেউ ভোটের অধিকার হারাবে, এমন নয়।”

বরিশাল সদর আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলে থাকলেই মামলা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা আছে, তা দেখে চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। দেখতে হবে মামলার ধরন ও সত্যতা।”

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১১টি মামলা
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১টি মামলা
  • বরিশাল-৪: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে সর্বোচ্চ ৮৬টি মামলা
  • বরিশাল-৫ (সদর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৬: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের নামে ১২টি মামলা

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে—মোট ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামে—২৫টি।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত রাজনৈতিক চরিত্র। এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার অনেকগুলো আদালতে টেকে না।”

আরেক আইনজীবী শাহে আলম বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় মামলা ছিল দমন-পীড়নের বড় হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক, ভবিষ্যতে অনেক মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সরকারের সময় যাদের নামে মামলা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া। এগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মামলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই—যা আছে, তা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তাসনিম জারার পছন্দের মার্কা ফুটবল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: প্রার্থিতা ফিরে পাবার পর নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরেছেন তাসনিম জারা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনেই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রতীকের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

মনোনয়ন বাতিলের পরের এক সপ্তাহকে ‘ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন জারা বলেন, ‘দেশে-বিদেশে অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ দোয়া করেছেন, কেউ আবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞা।’

তাসনিম জারা বলেন, ‘জনসমর্থন নিয়েই নির্বাচনী মাঠে নামতে চাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবার প্রতীকের জন্য আবেদন করব। আমার পছন্দের প্রতীক ফুটবল।’

এ সময় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত শুনানিতে তার করা আপিল মঞ্জুর করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশন তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

এর আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।




যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমানে ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি অগ্রাধিকারকে সহায়তা করতে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধানের বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে। গতকাল ড. খলিলুর রহমান ও রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসা প্রস্তাবিত এক বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে উৎপাদিত বস্ত্রের বিপরীতে সমপরিমাণ (স্কয়ার মিটার ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য) তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যে এই সৃজনশীল ও পারস্পরিক লাভজনক ব্যবস্থাটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এতেএকদিকে যেমন বাংলাদেশের উৎপাদক ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল উৎপাদকদের সঙ্গেও সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ক আরো গভীর হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতি ও পারস্পরিক আস্থারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।




ভোলার বাজারে আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম, এক কেজি বিক্রি ২৮০০ টাকায়

ভোলার বাজারগুলোতে শীত মৌসুমে মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ নদীর মাছের দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইলিশ কেনা থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের জোগান থাকলেও দাম কমার বদলে আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। স্থানীয় নদী থেকেই আহরণ করা হলেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশসহ নদীর মাছের চড়া মূল্য

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে—

  • ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা
  • ৭০০–৯০০ গ্রাম ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,৪০০ টাকা
  • ৪৫০–৬০০ গ্রাম ইলিশ ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা

অন্যান্য নদীর মাছের মধ্যেও দাম বেশ চড়া। কোড়াল প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১,০০০ টাকা, আইড় ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা এবং নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

চাষের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে, শীত মৌসুমে পুকুর ও চাষের মাছের সরবরাহ বাড়ায় এসব মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

  • রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা
  • চাষের পাঙ্গাস ১৬০ টাকা
  • চাষের কই মাছ কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে

ক্ষোভ ও হতাশা ক্রেতাদের

বাজারে আসা ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ ইলিশ ভোলায় পাওয়া যায়, অথচ আমাদেরই এত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”

আরেক ক্রেতা সুমাইয়া ইসলাম জানান, আত্মীয় আপ্যায়নের জন্য ইলিশ কিনতে এসে বাজেটের বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুই মাছ কিনে ফিরেছেন।

সাধারণ ক্রেতা মো. মিলন মিঝিমো. হাসনাইন বলেন, “নদীর মাছ কিনতে এলেও দাম শুনে ইলিশ ছোঁয়াই যায় না। কোড়াল বা আইড়ও কিনতে সাধ্যের বাইরে।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

ইলিশ বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ঘাট থেকেই আমাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে কেজিতে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

পুকুরের মাছ বিক্রেতা মো. জসিম জানান, “শীতের কারণে চাষের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তাই এসব মাছের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতার আগ্রহ নদীর মাছের দিকেই বেশি।”

প্রশাসনের নজরদারি

ভোলার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত দাম নিলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা, চরম দুশ্চিন্তায় ভোলার কৃষকরা

ভোলায় কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ধানের চারা লাল, হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই চারা রোপণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বীজতলা নষ্ট হয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল রহমানমো. ইসমাইল জানান, তারা প্রত্যেকে ১৬ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে তাদের বীজতলার অধিকাংশ চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে দুই দফা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাঁচ-ছয় দিন আগে তৃতীয়বারের মতো বীজতলা তৈরি করেছেন তিনি। “এবারও যদি নষ্ট হয়, তাহলে ঋণের টাকা শোধ করাই অসম্ভব হয়ে যাবে,”—বলেছেন তিনি।

চারা সংকটে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক আনিছ ফরাজীমো. সবুজ জানান, এভাবে যদি বীজতলা নষ্ট হতে থাকে, তাহলে সামনে ধানের চারার মারাত্মক সংকট দেখা দেবে। এতে অনেক জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে না এবং কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলাসহ সারাদেশেই বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বোরো বীজতলা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় ৩ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের প্রায় ৮৭ হাজার প্রবাসীর ভোট পোস্টাল ব্যালটে

প্রবাসে অবস্থান করেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বিপুলসংখ্যক নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে মোট ৮৬ হাজার ৭১৬ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এই সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬৭ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৮০১ জন। এছাড়া নিবন্ধন করেও যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৩৭৫ জন প্রবাসী

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—

  • বরিশাল জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৮২৮ জন এবং নারী ৭ হাজার ৬৪৯ জন
  • ভোলা জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৪ হাজার ৮২৩ জন, পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী ১ হাজার ৯৬৯ জন
  • পিরোজপুর থেকে নিবন্ধন ১১ হাজার ৮৩৪ জন,
  • পটুয়াখালী থেকে ১১ হাজার ৭৫৪ জন,
  • বরগুনা থেকে ১১ হাজার ৩২৭ জন,
  • ঝালকাঠি থেকে ৭ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

সংসদীয় আসনভিত্তিক হিসাব

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৪,৫১৬ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৫,১০৯ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৪,৬৭২ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,৪৭৮ জন
  • বরিশাল-৫ (সদর): ৬,৭৩৭ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য পোস্টাল ভোটার

এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের আওতায় রয়েছেন ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ৭৫৪ জন এবং কারাবন্দি ৩৪৬ জন

নির্বাচন কমিশন জানায়, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হবে। ভোট প্রদান শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম