গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব চায় বিরোধী জোট: এনসিপির প্রস্তাব

ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে এমন প্রস্তাব তুলে ধরেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, “বর্তমানে সংসদীয় কমিটিতে সরকারদলীয় সদস্যের সংখ্যাধিক্য থাকে। এতে করে ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী বিরোধী জোট, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হোক।”

তিনি আরও জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এখনো কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, “এখানে অস্পষ্টতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।”

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসলিম জারা। তিনি বলেন, “সংরক্ষিত আসনের প্রচলিত পদ্ধতি নারীর ক্ষমতায়নের জন্য যথাযথ নয়। আমরা চাই ৩০০ আসন বাড়িয়ে ৪০০ করা হোক, যেখানে ১০০ আসনে নারী প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এতে করে নারী নেতৃত্ব তৃণমূলে গড়ে উঠবে।”

সংরক্ষিত আসন প্রসঙ্গে সারজিস আলম আরও বলেন, “এই আসনগুলো প্রায়ই পুরস্কার বা সান্ত্বনা স্বরূপ দেওয়া হয়, যোগ্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে নয়। এটি নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নে অন্তরায় সৃষ্টি করে।”

এনসিপি মনে করে, প্রতিনিধিত্বমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি গড়তে প্রয়োজন বৃহত্তর রাজনৈতিক সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 ঈদযাত্রায় ঢাকাগামী ৯ ট্রেন থামবে না বিমানবন্দর স্টেশনে

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদের আগাম চাপ সামাল দিতে ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকায় প্রবেশের সময় বিমানবন্দর স্টেশনে আর যাত্রাবিরতি করবে না

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি, রংপুর, চিলাহাটি ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস—এই ৯টি ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে না থেমে সরাসরি ঢাকা পৌঁছাবে।

এছাড়া সুন্দরবন, মধুমতি, বেনাপোল, জাহানাবাদ, রূপসীবাংলা এক্সপ্রেস এবং নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনগুলো এবার ঢাকা রেলস্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাবে।বিনা টিকিট যাত্রী নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে GRP, RNB, বিজিবি, র‍্যাব ও স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। স্টেশনে প্রবেশে টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, চলন্ত ট্রেন ও লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩ জুন থেকে জয়দেবপুর-ঢাকা ও বিমানবন্দর-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না। একইভাবে ঢাকা থেকে এই রুটগুলোতেও টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে।

এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী চাপে বাড়তি সেলুন কার যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঈদের আগে-পরে ১০ দিন এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আন্দোলনে অচল পল্লী বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কায় গ্রামাঞ্চল

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশনের চলমান আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত ২১ মে থেকে শুরু হওয়া টানা অবস্থান কর্মসূচি এবং কর্মবিরতির কারণে অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

চট্টগ্রাম পবিস-২ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিডারসহ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর মিলেছে। কর্মীরা লাইনের ত্রুটি মেরামতে অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে জানান, কর্মীরা দায়িত্ব পালন না করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিলেট পবিস-১ ও ২ সহ একাধিক সমিতিতে গণছুটির খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, আরইবি-পবিসের দ্বৈত ব্যবস্থাপনা বাতিল, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে তাঁরা অনড়। এমনকি প্রয়োজনে ঈদও শহীদ মিনারে পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

বিদ্যুৎ বিভাগ ২৮ মে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তা একপাক্ষিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের মতে, আলোচনা না করে কমিটি গঠন বর্তমান সংকট আরও ঘনীভূত করেছে।

এছাড়া, ৩১ মে থেকে জরুরি অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইল ফোনগুলোও জমা দেওয়া হয়েছে অফিস প্রধানদের কাছে, যা আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সবশেষ ৩ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলন আগামীকালও চলবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দায় তারা নেবে না, বরং এটি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দায়িত্ব।

পবিস টাঙ্গাইলের এক লাইন শ্রমিক সানোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের দাবিগুলো উপেক্ষা করে একতরফা কমিটি গঠন করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।” দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে গ্রামের অনেক এলাকায় লম্বা সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




‘এক মাসেই সম্ভব সব সংস্কার’, বললেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমদ

“এমন কোনো সংস্কার নেই, যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সংবিধান ছাড়া অন্যান্য সকল সংস্কার নির্বাহী আদেশ বা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব। আমরা বৈঠকে সেটাই তুলে ধরেছি। তাই নির্বাচন ডিসেম্বরের পর হওয়ার কোনো যুক্তি নেই।”

সংস্কার কমিশন নিয়ে বিএনপির অবস্থান
সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি তিন দিন ধরে সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং লিখিত মতামতও জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রস্তাবই গ্রহণ করব, যা জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করবে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে সহায়ক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নীতিতে এসব সংস্কার গৃহীত হলে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মতামত
ডিসেম্বরেই নির্বাচন সম্ভব—এমন বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচনের আগে জরুরি সংস্কারগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলও ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন চায়।”

প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি তিনি কারও প্রতি পক্ষপাত দেখাবেন না। জাতি তার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করে।”

সংবিধান সংশোধনী ও ঐকমত্যের সম্ভাবনা
বিএনপি নেতা জানান, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য সম্ভব। “একটি সম্মিলিত সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব সংস্কার নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।”

শেষে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আন্তরিক হলেও সময় অনেকটাই পেরিয়ে গেছে। এই জুন মাসের মধ্যেই একটি সম্মিলিত প্রস্তাবনা তৈরি করা সম্ভব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র দাবি, আদালতে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন

গৌরনদী পৌরসভার বৈধ মেয়র হিসেবে নিজেকে দাবি করে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। সোমবার (২ জুন) দুপুরে বরিশালের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই আবেদন করা হয়।

আবেদনকারী শরীফ জহির ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার আবেদন গ্রহণ করে আদালতের বিচারক মো. ইউনুস খান শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।

কি বলা হয়েছে মামলার আবেদনে?
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারিছুর রহমান ও তার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করেন এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে কারচুপি করে প্রকৃত বিজয় ছিনিয়ে নেন। ফলস্বরূপ, শরীফ জহির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং ওই দিন বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

পুনঃনির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:
এরপর ২০২৪ সালের ২৬ জুন গৌরনদী পৌরসভায় উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএম জয়নাল আবেদীনকে হারান। তবে ৫ আগস্টের পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকেও অপসারণ করা হয়।

মামলা করতে এত দেরি কেন?
এ বিষয়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান জানান, “হারিছুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে আমি দীর্ঘদিন মামলা করতে পারিনি। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছি বহুবার।” তিনি আরও বলেন, “আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মে মাসে মূল্যস্ফীতির হালকা কমতি, স্বস্তিতে ভোক্তারা

দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে কিছুটা কমেছে। এক মাস আগের তুলনায় কমেছে খাদ্য ও অখাদ্য উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির হার। ফলে সামান্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ জনগণ।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এ চিত্র দেখা গেছে।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরভিত্তিক তথ্য:

  • গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
  • শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং অখাদ্য খাতে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্যের দাম কমায় এ পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে এখনও মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কলাপাড়ায় মহাসড়ক দখল করে বসানো পশুর হাট বন্ধ করলো প্রশাসন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসানো একটি পশুর হাট বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাটটি উচ্ছেদ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক। এ সময় অভিযান কাজে সহায়তা করেন কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি দল।

জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালীরা প্রতিসপ্তাহের সোমবার ওই স্থানে পশুর হাট বসিয়ে আসছিলেন। হাটটি ইজারাবিহীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি মহাসড়ক দখলের কারণে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হতো।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক বলেন, “মহাসড়ক দখল করে হাট বসানো আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সরকার রাজস্ব হারায়। তাই হাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অবৈধ হাট বসালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, নিয়মবহির্ভূত হাট বন্ধ হওয়ায় যানজট ও জনদুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম, গ্রেফতার ২

পটুয়াখালীর দুমকিতে আধিপত্য বিস্তারের পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে আবদুল কাদের (১৯) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মনির হোসেন ও মহিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ মে) রাত ৮টার দিকে চরবয়েড়া গ্রামের হোসেন মৃধার ছেলে কিশোর আবদুল কাদের বোর্ড অফিস ব্রিজের পাশের এক চায়ের দোকানে বসে ছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাসিব ও আনোয়ারের নেতৃত্বে ৫-৬ জন কিশোর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছুরি, চাপাতি ও ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত কিশোর কাদেরকে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে হাসিব, আনোয়ারসহ ৬ জনকে আসামি করে দুমকি থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ও মহিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।