বিএনপির নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা!

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৪ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। এখন সময় গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

আমির খসরু আরও বলেন, বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে জনগণকে জানিয়ে দেয়, ক্ষমতায় এলে শুরুতে কী কী করবে। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী একটি দল হিসেবে বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও বাস্তবধর্মী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে কি কি লক্ষ্য পূরণ করা হবে, তা নির্বাচনের আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই সময়ের জন্য একটি অ্যাকশন-ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে বিএনপির পদক্ষেপগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূলত প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট প্রস্তাবের ওপর বিএনপির মন্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত এবং সীমিত পরিসরে।




বাউফলে যুবলীগ নেতার হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ জনের দণ্ড, অধিকাংশই আসামি বর্তমান হত্যা মামলারও

পটুয়াখালীর বাউফলে দশ বছর আগের একটি আলোচিত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ ও মদনপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের ১ মে বিকেলে বাউফলের মদনপুরা গ্রামে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে শাহিনকে (৪০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সন্ত্রাসীরা। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধা ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপর ১০ আসামিকে ৯ ও ৬ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মনিরুল ইসলামকে ২০১৫ সালে হত্যাচেষ্টার ৯ বছর পর, ২০২4 সালের ৫ আগস্ট রাতে আবারও ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধাও হামলার শিকার হন—দুই পা ও দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পৃথক একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যার অধিকাংশ আসামি ২০১৫ সালের মামলারও অভিযুক্ত।

বাদী মোসলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, “২০১৫ সালে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেই কাজটাই তারা ২০২৪ সালে শেষ করেছে। এখন আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এলাকায় ফিরতে পারছি না। আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফরিদ হোসেন জানান, মামলাটি শুরুতে বাউফল থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে বাদীর আপত্তির ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। ২০১৬ সালে পিবিআই ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। শুনানি শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলো, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন মনিরুল হত্যার চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী ও পরিবার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো

কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। গাড়ি থেকে নামতেই তার দিকে ছুটে আসে এক ছিন্নমূল শিশু। পায়ে হাত দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলে ওঠে, “স্যার, আমার জন্য দোয়া কইরেন।”

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম শিশুটির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে তার সহকারীর দিকে ফিরে টাকা দিতে বলেন। সহকারী মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট বের করতেই শিশুটি পিছু হটতে থাকে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে টাকা নিতে রাজি হয়নি।

“না, না স্যার, টাকা নিমু না। আপনি শুধু দোয়া কইরেন,” — শিশুটির এই জবাবে অভিভূত হন উপস্থিত সকলে। পাশে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাও শিশুটিকে টাকা নিতে অনুরোধ করেন, কিন্তু শিশুটি অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে তার অবস্থানে অনড় থাকে।

পরে এক সাংবাদিক শিশুটিকে প্রশ্ন করেন, কেন সে টাকা নিল না। উত্তরে শিশুটি বলে, “উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না!? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো। দোয়া করলে চলতে পারবো, টাকা নিলে ২ দিনে শেষ হয়ে যাইতো।”

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই এই ছিন্নমূল শিশুর সরলতা ও আত্মমর্যাদাবোধে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক ছিন্নমূল কিশোর পথে নেমেছিল। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে তারা ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনের সামনের সারিতে অবস্থান নেয়। আন্দোলনে প্রায় ১৬০ জন ছিন্নমূল কিশোর নিহত হয়েছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, এই শিশুদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর আজকের ঘটনাটি তাদের মানবিক ও নৈতিক চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নাম না-জানা ছিন্নমূল শিশুটির প্রতি ভালোবাসা এবং উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপস্থিত সকলেই।




পটুয়াখালীর আউলিয়াপুরে ডেভিল হান্ট অভিযানে মহিলা মেম্বারের জামাতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১১ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মহিলা মেম্বারের জামাতা ও স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

বুধবার (৪ জুন) দুপুরে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে আটক হন মো. লোকমান মৃধা, যিনি ইউনিয়ন আওয়ামী শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত নারী সদস্য হেপি বেগমের জামাতা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের আওতায় একাধিক স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একাধিক সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং মো. লোকমান মৃধাকে আটক করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. লোকমানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলমান এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মাঝে এই ঘটনা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, গ্রেপ্তারের বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই করে দেখা দরকার।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলায় সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ডেভিল হান্ট’ নামক বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের

দেশের বাইরে অবস্থানরত এক কোটি ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর বনানীতে ‘শেরাটন ঢাকা’ হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা দিয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে লড়াই করেছেন, অথচ তারা এখনও এনআইডি এবং ভোটার তালিকা থেকে বঞ্চিত।”

তিনি বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভোটাধিকার দিতে হবে। এখানে কোনো ছাড়ের প্রশ্ন নেই। এটা সদিচ্ছার বিষয়, দীর্ঘসাধনার নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন দলটির আমির। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের মাধ্যমে তারা দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছেন। এখন দ্রুত প্রতীক ফেরত পাওয়ার আশা করছেন তারা।

হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আগের নিবন্ধন বাতিলকে ‘বেআইনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভোজসভায় বক্তব্য দিয়ে আমাদের প্রতীক খেয়ে ফেলা হয়েছে। এটি ছিল এখতিয়ার বহির্ভূত ও অন্যায্য।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কোনো পক্ষপাত চাই না, চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করে তারা যেন দায়িত্ব পালন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যুবসমাজকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়োজনের বিষয়ে তাদের অবস্থান হলো, “আগে বেসিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আমরা ৪১টি সুপারিশ দিয়েছি, যেখান থেকে পাঁচটি প্রধান সংস্কার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”

তিনি জানান, সংস্কারের কাজ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করা গেলে, নির্বাচনের পথ সুগম হবে। তবে এর আগে “সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি এবং অবৈধ ভোটার ছাঁটাই ও বৈধ ভোটার অন্তর্ভুক্তি” নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




ঈদ সামনে রেখে আন্দোলন শিথিল, শপথ না হলে ফের মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ইশরাকের

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলন সাময়িকভাবে শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে নগর ভবনে আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক ঘোষণায় ইশরাক বলেন, “ঈদ সামনে রেখে আজ থেকে আন্দোলন শিথিল থাকবে। তবে দাবি আদায় না হলে ঈদের পর ফের আন্দোলনে নামবে ঢাকাবাসী।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানান, “অনতিবিলম্বে শপথ আয়োজন করা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই শপথের আয়োজন করবেন।”

এর আগে সকাল থেকেই ডিএসসিসির নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন কর্পোরেশনের কিছু কর্মচারী ও ইশরাকের সমর্থকরা। ‘ঢাকাবাসী’র ব্যানারে তারা মূল ফটক ও বিভিন্ন বিভাগে তালা লাগিয়ে দেন, ফলে নাগরিক সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে। ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি’র সব ধরনের সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ফল বাতিল চেয়ে ৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। চলতি বছরের ২৭ মার্চ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের পর ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেয়।

পরে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু শপথ গ্রহণের আগে গত ১৪ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘আইনি জটিলতা’র কথা বলে এখনো শপথ আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে।

এই অবস্থায় ডিএসসিসির কার্যক্রম অচল করে আন্দোলন শুরু করেন ইশরাক সমর্থকরা। তবে ঈদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানালেন ইশরাক, যদিও দাবি আদায় না হলে ঈদের পর ফের কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।




পটুয়াখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার নারায়ণগঞ্জের অপহৃত ব্যবসায়ী

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ব্যক্তি হলেন নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার মিম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ (৪৫)। তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকও।

উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ জানায়, সোহাগকে ইলেকট্রিক শক ও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তার গাড়ির ভিতরেই তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই আরও একটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত অপহরণকারীরা এবং তার ব্যক্তিগত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি তার নিতাইগঞ্জ অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তুলারাম কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার গাড়ি থামিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তাকে মারধর করে চোখ, মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। সন্ত্রাসীরা তার শরীরে বারবার ইলেকট্রিক শক দেয়, এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে তার জ্ঞান ফেরে। তখন তিনি নিজেকে একটি গাড়ির ভেতরে বাঁধা অবস্থায় পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাটে দেখতে পান। কোনোরকমে স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য চান। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পটুয়াখালী পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে অপহরণকারীরা নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বালির মাঠে গাড়ি রেখে একটি আলাদা গাড়িতে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা দুটি গাড়ির একটি ছিল ভিকটিমের, অন্যটি অপহরণকারীদের হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, একটি দল ওইদিন সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী সোহাগের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে পটুয়াখালী আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গাড়ির ভেতর থেকে মো. সোহাগকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি আরও বলেন, অপহরণের পেছনে ভুক্তভোগীর ড্রাইভারের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, কারণ ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।

এ ঘটনায় পটুয়াখালীতে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তবে যেহেতু ভুক্তভোগী ও মূল ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জে, তাই বিস্তারিত তদন্তের দায়িত্ব সেই জেলার পুলিশের ওপর থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় স্টুডিও উচ্ছেদ, ক্যামেরাম্যানদের বিক্ষোভ

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে স্টুডিও মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেল ৫টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াছিন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এ অভিযান। অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সব স্টুডিও থেকে ক্যামেরা, মনিটর, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কিবোর্ড, মাউস, ল্যাপটপ, আইপিএসসহ নানা ইলেকট্রনিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামালগুলো তালিকাভুক্ত করে থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং প্রতিটি স্টুডিও মালিককে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া শেষ হলে মালিকেরা তাদের মালামাল ফেরত পেতে পারেন।

তবে অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় ক্যামেরাম্যান ও স্টুডিও মালিকরা। অভিযানের পরপরই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা বলেন, অভিযান চালানোর আগে তাদের কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি অনেক দোকানের তালাও ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

স্টুডিও মালিক সাইকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কোনো নোটিশ না দিয়েই স্টুডিও থেকে লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তালা ভেঙে এভাবে জিনিসপত্র নেওয়ার মানে কী? আমরা কি অপরাধী?”

একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মো. হাসান আল আউয়াল নামের আরেক মালিক। তিনি বলেন, “আমরা সরকারি নিয়ম মানি, কিন্তু আগে জানালে অন্তত মূল্যবান মালামালগুলো বৃষ্টি থেকে রক্ষা করা যেত। গাড়িতে ওঠাতে গিয়ে অনেক জিনিসপত্র ভিজে গেছে, এগুলো নষ্ট হলে আমরা পথে বসে যাবো।”

অন্যদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “কুয়াকাটা সৈকতে ক্যামেরাম্যানরা পর্যটকদের ছবি তুলতে পারবেন, কিন্তু কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্টুডিও চলবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং কুয়াকাটা বিচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও জানান, স্টুডিও মালিকদের আগে থেকেই একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত না করে বিভিন্ন মহলের উসকানিতে নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেছেন, তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান ইউএনও।

এ ঘটনায় কুয়াকাটার পর্যটন খাত ও সংশ্লিষ্ট ফটোগ্রাফি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নৌবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পটুয়াখালীতে

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের সেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে আয়োজন করেছে একটি দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) ‘নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বানৌজা ‘শের-ই-বাংলা’ ঘাঁটির ব্যবস্থাপনায় লালুয়ার ‘উত্তর লালুয়া ইউ সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ মাঠে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসক দল, যারা লালুয়া ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে আগত প্রায় ৩ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। শুধু চিকিৎসা নয়, রোগীদের দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধও, যা ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

সাধারণ জ্বর-সর্দি কিংবা উচ্চরক্তচাপ থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদেরও যথাযথ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা ক্যাম্প চলাকালীন রোগীদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বলছেন, এমন সেবামূলক উদ্যোগ যেন আরও বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য এটা অনেক বড় আশীর্বাদ।”

নৌবাহিনীর এই ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত থাকায় এই ক্যাম্প গুলো সেখানকার মানুষের কাছে অনেক বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সরাসরি চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকের সঙ্গে অসদাচরণ, দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

পটুয়াখালীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক জিনাত জাহানের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সদর থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) কনস্টেবল জয় দাস ও আবু বকরকে এই সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সাজেদুল ইসলাম সজল। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে লাইনসে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২ জুন) পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন জিনাত জাহান। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রোববার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোবাইলের সিম চুরির একটি ঘটনায় তিনি সদর থানায় যান। সেখানে দায়িত্বে থাকা সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য আবু বকর ও জয় দাস তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর উল্টো তাঁকে নিয়ে উপহাস করা হয় এবং দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রেখে কোনো সহায়তা না করে উপেক্ষা করা হয়।

পরে এসআই ইসরাইল এসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন বলে অভিযোগে জানান জিনাত জাহান। তিনি বলেন, “আমি থানায় গিয়েছিলাম আইনি সহায়তা নিতে, কিন্তু সেখানে পুলিশ সদস্যদের এমন আচরণে আমি মর্মাহত হয়েছি। এজন্য পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছি।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম